বিস্ময়কর প্রতিভা নিকোলা তেসলা (এক)

0
263
নিকোলাস তেসলা

কারো মতে তিনি বিজ্ঞান জগতের ‘সুপার হিরো’, কারো মতে বিজ্ঞান জগতের ‘ডার্ক নাইট’। কেউবা বলেছেন ‘ম্যাড সাইন্টিস্ট’। আবার কেউ বলেছেন তিনি এমন একজন, বিজ্ঞানেরই যাকে প্রয়োজন!

নিকোলা তেসলা ১৯৫৬ সালের ১০ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন । তিনি একজন সার্বিয়ান-আমেরিকান। অসামান্য প্রতিভাবান এই প্রকৌশলী ছিলেন তড়িৎ ও যন্ত্র প্রকৌশলী। তিনি আধুনিক পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ ও তারবিহীন তড়িৎ পরিবহন ব্যবস্থা আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।

নিকোলা তেসলা ১৮৭০ সালে প্রকৌশল ও পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যয়ন করেন যদিও তিনি ডিগ্রী না নিয়েই ১৮৮০ সালে বৈদ্যুতিক শক্তি শিল্পের কন্টিনেন্টাল এডিসনে কাজ শুরু করেন। তিনি ১৮৮৪ সালে নিউইয়র্কে চলে আসেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

তেসলা তাঁর অংশীদারদের আর্থিক ও বিপণন সহযোগিতায় নিউইয়র্কে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক এবং যাত্রিক ডিভাইস আবিষ্কার ও বিকাশ ঘটানোর জন্য লাইব্রেরি স্থাপন করেছিলেন ।

আজকের দিনে ড্রোনের খুব নামডাক হয়েছে, মানে মনুষ্যবিহীন বিমান যা মূলত মিলিটারি, উদ্ধারকাজ ও পণ্য পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয়। তেসলা সেই সময়েই সর্বপ্রথম ওয়্যারলেস নিয়ন্ত্রিত নৌকা তৈরী করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

তেসলা মূলত একজন উদ্ভাবক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর গবেষণাগারে তারকা ও ধনী পৃষ্ঠপোষকদের কাছে তিনি তাঁর আবিষ্কার প্রদর্শন করতেন। তিনি প্রদর্শনিতে পাবলিক বক্তব্যের জন্যেও খ্যাতি লাভ করেছিলেন ।

তেসলা নিজের নামে পেটেন্ট তৈরী ও তা বাজারজাত করতে টেসিলা যান্ত্রিক অসিলেটর/জেনারেটর বৈদ্যুতিক স্রাব নল এবং শুরুর দিকে এক্স-রে ইমেজিং নিয়ে একাধিক গবেষণা পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে তেসলা তারহীন আলো এবং বিশ্বব্যাপী তারহীন বৈদ্যুতিক শক্তি বিতরণের ধারণা সম্ভব করতে নিউইয়র্ক ও কলোরাডো স্প্রিংসে জুড়ে উচ্চ-ভোল্টেজ, উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির বৈদ্যুতিক গবেষণা করেন। ১৮৯৩ সালে তিনি ডিভাইসগুলির মাধ্যমে ওয়্যারলেস যোগাযোগের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছিলেন। তেসলা তাঁর অসমাপ্ত ওয়্যারডেনক্লাইফ টাওয়ার প্রকল্প আন্তঃমহাদেশীয় ওয়্যারলেস যোগাযোগ এবং পাওয়ার ট্রান্সমিটারে তাঁর চিন্তাগুলোকে বাস্তবে রূপান্তর করতে চেয়েছিলেন, দুর্ভাগ্যবশত কাজ শেষের আগেই প্রকল্পের তহবিল শেষ হয়ে যায় ।

ওয়্যারডেনক্লাইফের পরে ১৯১০ এবং ১৯২০-এর দশকে তেসলা বিভিন্ন আবিষ্কারের জন্য একাধিক পরীক্ষা- নিরীক্ষা করেন এবং বিভিন্ন মাত্রার সাফল্য পান।

নিকোলা তেসলা তাঁর উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগই গবেষণার কাজে ব্যয় করেন। শেষজীবনে নিউইয়র্কের বিভিন্ন হোটেলে দিনযাপন করতেন। মরণোত্তর তাঁর অনেক হোটেল বিল বকেয়া ছিল। ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here