বিস্ময়কর প্রতিভা : নিকোলা তেসলা (তিন)

0
197

নিকোলা তেসলার বিস্ময়কর আবিষ্কার
নিকোলা তেসলার এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে যা জানলে তাকে ম্যাড সাইন্টিস্ট মনেই হতে পারে। ছাত্র অবস্থাতেই তাঁর আবিষ্কারগুলোর কারণে তিনি বিস্ময়কর ছাত্রের তকমা পেয়েছিলেন। অর্থায়ন থেমে না গেলে অনেকের ধারণা তিনি টাইম মেশিন বানিয়েই ফেলতেন।

তেসলার কিছু আবিষ্কার পৃথিবী ধ্বংসের ক্ষমতা রাখতে পারতো কিন্তু মানব কল্যাণের স্বার্থেই তিনি সেগুলো আবিষ্কারের পর নিজেই নষ্ট করে দিয়েছিলেন। আর কিছু আবিষ্কার অর্থ সংকটে মাঝ পথে থেমে যায়।
চলুন নিকোলা তেসলার বিস্ময়কর আবিষ্কারগুলো জেনে নেই –

আর্থকোয়েক মেশিন (Earthquake Machine)
১৮৯৩ সালে নিকোলা তেসলা এমন একটি মেশিন আবিষ্কার করেন যা দ্বারা বড় ধরনের ভূমিকম্প তৈরি করা যায়। যদিও তিনি ছোট পরিসরে এটি তৈরি করেছিলেন। তবে এটিকে বড় আকারে তৈরি করলে সারা পৃথিবীতেই ভূমিকম্প সৃষ্টি করা যেত। এটি ছিল মূলত একটি Oscillator যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘Tesla Oscillator’। তিনি মানুষের কথা ভেবে এই আবিষ্কারটি নিজের হাতে হাতুরি দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। ফলে আবিষ্কারটি চিরতরে হারিয়ে যায়।

অনেকের মতে হাইতিতে সংগঠিত হওয়া ভূমিকম্প তেসলার প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষেরই সৃষ্ট ।

আর্টিফিশিয়াল টাইডাল ওয়েভ (Artificial Tidal Wave)
সমুদ্রে বিশাল আকৃতির কৃত্তিম ঢেউ তৈরি করার প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছিলেন তেসলা। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুনামি আকারের ঢেউ তৈরি করা যেত। নিমিশেই শত্রুপক্ষের জাহাজকে ডুবিয়ে দেওয়া যেত।

আর্টিফিশিয়াল ওয়েভ বড় আকারের সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। ছবি প্রতীকী

থট ক্যামেরা (Thought Camera)
নিকোলা তেসলা এমন একটি ক্যামেরা কথা বলেছিলেন যা দিয়ে মানুষের চিন্তাশক্তিকে ডাটাতে কনভার্ট করে তা থেকে তথ্য আকারে স্ক্রিনে দেখাবে। কিন্তু ঐ সময়ের তুলনায় এই প্রজেক্টটি ছিলো কারো কল্পনারও বাইরে তাই এই প্রকল্পে অর্থায়ন সম্ভব হয়নি। অর্থের অভাবে প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করা যায়নি তা না হলে মানুষের কোন কিছুই গোপন থাকতো না। সঠিকভাবে অপরাধী শনাক্তে খুব কাজ দিতো এই প্রযুক্তি।

তেসলা চেয়েছিলেন এভাবেই প্রোজেক্টরের সাহাজ্যে দেয়াললে পর্দা বানিয়ে পড়বেন মানুষের মনের তথ্য ।

ইলেকট্রিক পাওয়ার্ড সুপারসনিক এয়ারশিপ (Electric Powered Supersonic Airship)
তিনি এমন একটি এয়ারশিপের ধারণা দেন যার গতি এতই বেশি হবে যে, মাত্র ৩ ঘন্টায় নিউইয়র্ক থেকে লন্ডন যাওয়া যাবে। এই আবিষ্কারটির মডেল ও সকল ডকুমেন্ট তাঁর মৃত্যুর পরে হারিয়ে যায়।

ফিলাডেলফিয়া এক্সপেরিম্যান্ট/প্রজেক্ট রেইনবো/টেলিপর্টেশন (Teleportation)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের একটি বিস্ময়কর প্রজেক্ট ছিলো এটি। নিকোলা তেসলাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তিনি যেন এমন একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন যা দিয়ে সাগরে আমেরিকার জাহাজকে অদৃশ্য করে দেয়া যায়। যেন শত্রুপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে। অবাক করা ব্যপার হলো এই প্রজেক্ট এ বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত আলবার্ট আইনস্টাইনকে তেসলার অধীনে একজন টিম মেম্বার করা হয়! ভাবা যায়?
একটি যুদ্ধ জাহাজকে সাগরে অদৃশ্য করে দিতে হবে এটা যাদুতে নয় কিংবা সিনেমার স্পেশাল ইফেক্ট এ নয়, সত্যিই করতে হবে। তেসলা বলে কথা, এমন একটি প্রজেক্ট শুরু করে সফলতাও পান তেসলা। প্রথমে পরীক্ষামূলভাবে একটি ছোট নৌকাকে তিনি সম্পূর্ন অদৃশ্য করে দেন! অদৃশ্য মানে অদৃশ্যই পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায় নৌকাটি।

সাগরে জাহাজকে অদৃশ্য করে দেয়ার ভয়ংকর পরীক্ষা । ছবি – প্রতীকী

প্রথমে তিনি সফল হলেও এই প্রজেক্টের সম্ভাব্য ভয়াবহতার কথাও জানান। কারণ সমুদ্রগামী বড় যুদ্ধ জাহাজে মানুষের উপস্থিতিতে এই প্রযুক্তি এপ্লাই করলে জাহাজের ভেতরের মানুষের কথা ভেবে তিনি আতঙ্কিত হন।
শুরু হয় বড় জাহাজে এই প্রযুক্তি এপ্লাই করার প্রক্রিয়া। তেসলার নিষেধ সত্ত্বেও এটি করা হয়। অদৃশ্য হয় বড় জাহাজ তাও মানুষসহ। যখন এটিকে আবার দৃশ্যমান করা হয় তখন দেখা গেলো জাহাজের ক্রুদের বিগলিত লাশ, কেউ হয়ে গিয়েছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন। কোন কোন ক্রুকে জাহাজের দেয়ালে অর্থেক শরীর ঢুকে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।

তেসলা আগেই এই অবস্থার আশঙ্কা করেছিলেন। তাই ভয়াবহ এই প্রজেক্ট থেকে তেসলা অব্যাহতি নেন। আইনস্টাইনসহ অন্যান্যদেরকেও এ থেকে অব্যাহতি নেবার অনুরোধ করেন।

আন্টি গ্র্যাভিটি ফ্লাইং মেশিন (Anti-Gravity Flying Machine)

তেসলার ডিজাইন করা এন্টি গ্র্যাভিটি ফ্লাইং মেশিন ।


১৯১১ সালে নিউইয়র্কের একটি ম্যাগাজিনে নিকোলা তেসলা বলেন, তিনি একটি ফ্লাইং মেশিন নিয়ে কাজ করছেন যা দেখতে ইউএফওর মতো লাগবে এবং এটি যেকোনো দিকে যেকোনো গতিতে ছুটতে পারবে। এটি আকাশে ওড়ার সময় গ্রাভিটি শূণ্য হয়ে পরবে এবং বাতাসে স্থির অবস্থায় রাখা যাবে। কিন্তু এই মেশিনটিতে থাকবেনা কোনো পাখা থাকবেনা উইংস। তাঁর মৃত্যুর পরে সকল কিছু হারিয়ে যায় বা গোপন করে রাখা হয়।

টাইম মেশিন (Time Machine)
নিকোলা তেসলাই সর্ব প্রথম টাইম মেশিন নিয়ে কাজ করেছিলেন। অনেকেই ধারণা করেন তিনি টাইম মেশিন আবিষ্কারও করে ফেলেছিলেন।

কল্পিত টাই মেশিন ।

ডেথ রে/ডেথ বীম (Death Ray/Death Beam)
নিকোলা তেসলার আবিষ্কারের মধ্যে ভয়াবহ একটি আবিষ্কার হলো ডেথ রে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা দিয়ে ২৫০ মাইল দূর থেকে ১০ হাজার যুদ্ধ বিমানকে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। যা যে কোনো যুদ্ধ মুহুর্তেই শেষ করে দিতে পারতো। এটি তৈরি করেও তিনি মানুষের কল্যাণের কথা ভেবে নিয়েই ধ্বংস করে দেন।
এইধরনের আবিষ্কারের ফলে অনেকেই ভাবতো তেসলার এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগ আছে এবং তিনি এলিয়েনিদের সাথে নিয়ে কাজ করেন। তেসলার গবেষণাগারে আগুন লেগে অনেক ডকুমেন্ট পুড়ে যায়। তাই অনেক কিছুই হারিয়ে যায়।

তেসলার ভয়ঙ্কর ডেথ রে প্রযুক্তি ।

বিজ্ঞান জগতের অনেকেরই ধারণা তেসলার অনেক ডকুমেন্ট আমেরিকার কাছেই আছে। যেগুলো গবেষণা করে তাঁরা নতুন কিছু আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। ধারণা করা হয় এরিয়া ৫১ এ তেসলার ডকুমেন্ট নিয়ে এখনো গবেষণা করা হয়।

ইউএসএ তে যে ইউএফও দেখা গিয়েছিল তা কিন্তু পাখা ও ডানা বিহীন। তাই অনেকেরই ধারণা সেটি ছিল তেসলারই ডিজাইন করা এন্টি গ্র্যাভিটি ফ্লাউইং মেশিনের মডেল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা দেয়া আন আইডেন্টিফাইড ফ্লাইং মেশিন যা তেসলার ডিজাইনের অনুরুপ ।

হাইতিতে যা দিয়ে কৃত্তিম ভূমিকম্প তৈরি করা হয় বলে যে ধারণা রয়েছে তার মূলেও কিন্তু তেসলারই ডিজাইন করা আর্থকোয়েক মেশিনের মডেল বলে ধরে নেওয়া যায়। কারণ এই প্রযুক্তি তিনিই আবিষ্কার করেছিলেন।
১৯০৮ সালে তেসলা আবিষ্কৃত ডেথ রে প্রযুক্তির প্রথম পরীক্ষা করা হয় সাইবেরিয়ার তুঙ্গুস্কা (Tunguska) নদীর পাশে। এর ধ্বংস ক্ষমতা ছিল পারমাণবিক বোমার চেয়েও ভয়াবহ। এই পরীক্ষায় ৮০ বর্গমাইল বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

তুঙ্গুস্কা নদীর পাশে যেখানে পরীক্ষাটি চালানো হয়েছিলো তার বর্তমান ও তখনকার অবস্থা ।

বিজ্ঞানী হলেও সকল মানবিক গুণের অধিকারী নিকোলা তেসলা নিজেই নিজের ভয়ঙ্কর আবিষ্কারগুলো নিজ হাতে ধ্বংস করে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর ডকুমেন্টগুলো হাত করে আবার যদি তা নিয়ে গবেষণা করে আবার সেই সকল প্রযুক্তি ফিরিয়ে আনা হয় এবং মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় তবে তা মানব সভ্যতাকে ভয়াবহ বিপর্যয়ে ফেলবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here