বেসরকারি খাতে তিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

0
31

অর্থ ডেস্ক: গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। এই উন্নয়নের পেছনে বেসরকারি খাতের অবদান ৭০ শতাংশের বেশি। তবে আগামী দিনে টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে এ খাতকে তিনটি বড়ো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এগুলো হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠোমোগত সংস্কার, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ।


বিশ্বব্যাংক ও এর সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) ‘বাংলাদেশ প্রাইভেট সেক্টর ডাইগোনস্টিক (সিপিএসডি)’ শীর্ষক এক যৌথ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এটি বুধবার প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আইএফসি টেকসই বেসরকারি খাত শীর্ষক এক ওয়েবিনার আয়োজন করে।


এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএফসির আঞ্চলিক অর্থনীতিবিদ জুলিয়া মিরুনোভা। আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস (পিডব্লিউসি) বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনার মামুন রশীদ প্রমুখ।


প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি খাতে ব্যবসার পরিবেশে বাংলাদেশ তলানিতে। গত পাঁচ বছর ধরে ‘বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান শেষের দিকে। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে এখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের আধিক্য, দুর্বল পুঁজিবাজার, করপোরেট সুশাসনের অভাব ও দুর্বল নজরদারির কারণে বেসরকারি খাতে সুষম উন্নয়ন হচ্ছে না।


এতে বলা হয়েছে, রপ্তানি আয়ের চালিকাশক্তি পোশাক খাত। এ খাতের অবদান মোট রপ্তানির ৮৫ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের ধারা ধরে রাখতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। শুধু পোশাক খাতনির্ভর রপ্তানি আয় টেকসই হবে না। নতুন নতুন খাতে জোর দিতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও ওষুধ। পাশাপাশি পোশাক খাতকে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিকায় করার পাশাপশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মীর ব্যবস্থা করতে হবে।


প্রতিবেদনে আর বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) তলানিতে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ৬ শতাংশ। নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে গড়ে এফডিআই হচ্ছে জিডিপির ২৫ শতাংশ। বিনিয়োগ বাড়তে বেসরকারি খাতকে কাক্সিক্ষত মানে নিয়ে যেতে হবে।


ওয়েবিনারে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ইকুইটিভিত্তিক বা কোম্পানিনির্ভর বাজার। কিন্তু অর্থায়নের উৎস হিসাবে পুঁজিবাজার ব্যবহৃত হয় না। বন্ডের মাধ্যমে কীভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করছে। শিগগিরই একটি শক্তিশালী বন্ডের বাজার বা ঋণনির্ভর তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলো বিনিয়োগ, অগ্রাধিকার বাজার সন্ধান, মেধাস্বত্ব আইন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে মসৃণ যাত্রা- এসব বিষয়ে কাজ করছে।


মামুন রশীদ বলেন, বেসরকারি খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারণ এতে ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়বে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কর খাতে সংস্কার আনা জরুরি।


মূল প্রবন্ধ আইএফসির আঞ্চলিক অর্থনীতিবিদ জুলিয়া মিরুনোভা বলেন, বেসরকারি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ প্রয়োজন। এজন্য বন্ডবাজার উন্নয়নে সংস্কার প্রয়োজন। এ ছাড়া তিনি আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here