বৈশাখ ও ঈদের ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা শেষ

0
367

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বর্ণালি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সীরা মেতে ওঠেন আনন্দ আয়োজনে। এদিন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বসে প্রাণের মেলা। এই উপলক্ষ্যে পোশাক-পরিচ্ছদের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। এবারও নিয়েছিলেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর নববর্ষ উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা যেসব আয়োজন করেছিলেন তা কোনো কাজে লাগছে না। বলা যায় করোনা ভাইরাসের আঘাতে বৈশাখের বাণিজ্য শেষ। একই অবস্থা হতে যাচ্ছে ঈদের বাজারে। দীর্ঘ লকডাউনের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের হাতে টাকা তেমন থাকবে না। যে কারণে ঈদের বাজারও মার খাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বৈশাখ উপলক্ষ্যে প্রধাণত পোশাক-পরিচ্ছদ ও ইলিশের বাজার চাঙা হয়। এর সঙ্গে মিষ্টি, খই-মোয়া, বাতাসার মতো বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাজারেও চাহিদা বেড়ে যায়। এসব মিষ্টির জন্য শখের হাঁড়ি বানান কুমোররা। আবার অনেকে বানান বাঁশের ডালি। সারাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ উপলক্ষ্যে হালখাতার আয়োজন করে। সম্প্রতি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও একধরনের হালখাতার আয়োজন করে আসছিল। এবারের বৈশাখে এর কোনোটাই আর হচ্ছে না। ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ। এদিন জনসমাগম এড়িয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আনন্দ-উৎসব করার কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। লোকসমাগম এড়াতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার টানা ছুটি ঘোষণা করেছে। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এর পরও করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে অনেকেই মনে করছেন না।

স্থানীয় বাজারের পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতর বিক্রেতাদের কাছে বড় আকর্ষণ। এই দুটি উৎসবকে কেন্দ্র করে সারাবছর প্রস্তুতি চলে। কারণ এ সময় ব্যাপক ব্যবসা হয়। ডিজাইন ও রং ঠিক করে ব্যবসায়ীরা আগে থেকে তৈরি করেন বিশেষ পোশাক। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, বাচ্চাদের জন্য নানা নকশা ও রঙিন পোশাকের আয়োজন থাকে দোকানগুলোতে। এ বছরও ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি শেষ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহরের মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ড, অনলাইনে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করা হয়েছে। এ রকম সময়ে দেশে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে সব আয়োজন মাঠে মারা গেছে। ছুটির কারণে পহেলা বৈশাখের আগে আর দোকানপাট খোলার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আবার মানুষও সতর্কতার জন্য বের হচ্ছে না। অন্যদিকে সবকিছু বন্ধ থাকায় অনেক মানুষের আয় নেই। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মী, নিত্যদিনের কাজের ওপর নির্ভরশীল মানুষ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারীদের আয় কমে গেছে অনেক। অনেকের আয় পুরোটাই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ঈদ উপলক্ষ্যে কেনাকাটাও কমবে। এটাই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশের পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফ্যাশন এন্টারপ্রেইনার বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা পোশাক-পরিচ্ছদ বিক্রি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরিতে সংযুক্ত আরও কয়েক হাজার মানুষ, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসে কাজ করছে। সংস্থাটির ধারণা বৈশাখ ও ঈদ উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা তিন হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করে। কাপড়, সেলাই, প্যাকেজিং, পরিবহন, বিজ্ঞাপন, কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ এ বিনিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে সরবরাহকারীদের বিনিয়োগও রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এই ব্যাপক বিনিয়োগ আটকে গেল। এসব প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। কারণ বৈশাখ উপলক্ষ্যে দোকানগুলোতে পণ্য তোলা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরের মার্কেটগুলো ও দোকানপাট টানা বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। আগামীতে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে অর্থাৎ ক্রেতারা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মার্কেটে আসবেন তাও স্পষ্ট নয়। দোকানগুলোর বেচাকেনা হলেই কর্মীদের বেতন ও সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ করেন ব্যবসায়ীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here