ব্যবহার হচ্ছে না পর্যাপ্ত বেতার তরঙ্গ, হচ্ছে কলড্রপ

0
276

বিজ্ঞান ডেস্ক: সেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বেতার তরঙ্গ ব্যবহার না করার জন্যই মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবায় গ্রাহক সেবার কাক্সিক্ষত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আর বেতার তরঙ্গের উচ্চমূল্যের কারণেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ বেতার তরঙ্গ কিনতে পারছেন না অপারেটররা।

শনিবার ‘গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মান সম্মত টেলিকম সেবার জন্য পর্যাপ্ত তরঙ্গ বরাদ্দে প্রতিবন্ধকতা নিরসনে করণীয়’ শিরোনামে আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেছেন, সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বেতার তরঙ্গের দাম না কমালে বিটিআরসি’র পক্ষে কমানো সম্ভব নয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, জিএসএমএ’র সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফোর জি ব্যবহারে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে আছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। পর্যাপ্ত ব্যান্ড উইথ থাকার পরও দেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার মান এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় নিম্ন মানের, এটা মোটেও সুখকর নয়। তারা অব্যবহৃত বেতার তরঙ্গের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সেমিনারে বেতার তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম বিভাগের উপ পরিচালক ড. সোহেল রানা।

অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে আলোচনায় আরও অংশ নেন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মিত্র, কমিশনার (এসএম) মো. আমিনুল হাসান, ডিজি (স্পেকট্রাম) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম, মহাপরিচালক (এমঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহফুজ করিম, অ্যামটবের সভাপতি ও রবির সিইও মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ, টেলিযোগাযোগ খাত বিশেষজ্ঞ টি.আইএম নুরুল কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র সহযোগী অধ্যাপক খালেদ মাহমুদ, দৈনিক সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি রাশেদ মেহেদী, বাংলালিংকের চীফ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তৈমুর রহমান, এরিকসনের কান্ট্রি ম্যানেজার আব্দুস সালাম এবং বিটিআরসি’র সাবেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আবু সালেহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ইচ্ছে করলেই বেতার তরঙ্গে দাম কমানো বিটিআরসি’র পক্ষে সম্ভব নয়। দাম কমাতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। কখনো কখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে হয়। অতএব দাম কমানোর প্রসঙ্গ আসলে অর্থ বিভাগের কাছে আগে যেতে হবে। সরকারের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত দিলে তা অবশ্যাই বিটিআরসি বাস্তবায়ন করবে। বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান বলেন, যদি কেউ বাল্ক স্পেকট্রাম করে, সেই জায়গায় শুধু দাম কমানোর বিষয় বিবেচনা করা যাবে। এই বাল্ক মানে সম্পূর্ণ অংশ। পুরো স্পেক্ট্রাম কিনলে সরকার দাম কমাতে পারে। আংশিকের দাম কমাতে পারে না। আবার এখন দাম কমালে আগে যারা নিলামে বেমি দামে অংশ নিয়েছে তারা টাকা ফেরত চাইতে পারে এবং সেক্ষেত্রে একটা জটিলতা হতে পারে।

রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রথমে প্রয়োজনটা চিহ্নিত করতে হবে, সে অনুযায়ী ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে তা বিবেচনা করে একটি নীতি নির্ধারণ করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন মহামারি শুরুর পর মোবাইল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে চাপ বেড়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ঘানাসহ কয়েকটি দেশ বিনামূল্যে মোবাইল অপারেটরদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনা মূল্যে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করতে দিয়েছে। দেশেও মোবাইল অপারেটররা সেই আবেদন বিটিআরসি’র কাছে জানিয়েছিল। আবেদন গ্রহণ করা হলে মোবাইল অপারেটররা এই সংকটে আরও সুলভে উন্নতর গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে পারত।

বিটিআরসি’র পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় গড়ে ১৩ লাখ গ্রাহকের জন্য এক মেগাহার্ট জস্পেক ট্রাম ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি শীর্ষ অপারেটর ২০ লাখ গ্রাহকের জন্য এক মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করছে। অথচ অন্যান্য দেশে তিন থেকে চার লাখ গ্রাহকের জন্য এক মেগা হার্টজ বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনের তুলনায় কমবে তার তরঙ্গ ব্যবহার করে বেশী গ্রাহককে সেবা দেওয়ার কারণেই কলড্রপ, মোবাইল ইন্টারনেটে নিম্নগতির সমস্যা হচ্ছে। অথচ বিটিআরসি’র কাছে বর্তমানে ১৯০ মেগাগহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর উপায় বের করারও সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here