মহাকাশ পর্যটন শিগগিরই

0
302

বিজ্ঞান ডেস্ক: গেল সপ্তাহে বেসরকারি উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ঘুরে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন নাসার দুই মহাকাশচারী। দু-তিন মাস তাঁরা মহাকাশ স্টেশনে ছিলেন। তাঁদের নিয়ে বেশ নিরাপদেই পৃথিবীতে ফিরে এসেছে এলন মাস্কের মহাকাশযান স্পেস এক্স। এদিকে এই সুখবরের পাশাপাশি ভার্জিন গ্যালাক্টিক নিয়ে এসেছে আরও এক সুখবর। আর তা হচ্ছে মহাকাশ পর্যটনের দরজা খুলে যাচ্ছে সবার জন্য।

দীর্ঘদিন থেকে মহাকাশ পর্যটন নিয়ে কাজ করছে ভার্জিন গ্যালাক্টিক। ভার্জিন গ্যালাক্টিক হচ্ছে মহাকাশ পর্যটনবিষয়ক একটি ব্রিটিশ ‘স্পেসশিপ’ সংস্থা। এর প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাজ্যের শিল্পপতি রিচার্ড ব্রনসন। ব্রনসন ২০০৪ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে মহাকাশ পর্যটনের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ পর্যটন। মহাকাশে পর্যটক টানার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি তারা তাদের নতুন মহাকাশযান বা ভিএসএসইউনিটি উদ্বোধন করেছে। প্রকাশ করেছে মহাকাশ পর্যটন যানটির ভেতরে যাত্রীদের বসার কেবিনটি কেমন হবে তার নকশা।

এই মহাকাশযানের কেবিনটিই পর্যটক টানার মূল আকর্ষণবিন্দু বলে মনে করছে ভার্জিন গ্যালাক্টিক। এর কেবিনটি অত্যন্ত বিলাসবহুল। এতে ৬ জন যাত্রী বসতে পারবেন। এ ছাড়া থাকবে দুজন পাইলটের বসার জায়গা। ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০ যাত্রী টিকিট কিনে ফেলেছেন। বুকিং দিয়ে রেখেছেন আরও ৪০০ যাত্রী।

সিএনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মহাকাশযানে রয়েছে ১৭টি জানালা। রয়েছে ১৬টি ক্যামেরা। রয়েছে একটি গোলাকার বড় আয়না। কেবিনে বসেই যাত্রীরা ভারশূন্য অবস্থায় নিজেদের আসনে থেকেই এই আয়নায় নিজেদের ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য দেখতে পারবেন। অবলোকন করতে পারবেন পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে মহাকাশের নানান দৃশ্য ও রহস্য। পৃথিবী থেকে ৬৮ মাইল উচ্চতায় পৌঁছে তাঁরা মহাকাশের একেবারে প্রান্তে ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন। তবে এই মহাকাশ ভ্রমণ শুধু ধনীদের পক্ষেই সম্ভব। কারণ, এর প্রতিটি টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। বাণিজ্যবিষয়ক পত্রিকা বিজনেস ইনসাইডার জানায়, বেশ কয়েকটি চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক ফ্লাইট মহাকাশ পরিভ্রমণ করলেও গ্যালাক্টিক ঠিক কবে যাত্রী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশে যাত্রা শুরু করবে, তার চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঠিক করেনি। তবে এ বছরের শেষে মহাকাশ পর্যটকদের প্রথম দল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যাত্রী নিয়ে মহাকাশযানটির নিউ মেক্সিকোতে সংস্থাটির স্পেসপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করার কথা। এর আগে ২০০৪ সালে যখন প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল ২০০৯ সালের মধ্যে যাত্রী নিয়ে মহাকাশ যাত্রা শুরু করার। কিন্তু নানা জটিলতায় তা বারবার পিছিয়েছে।

এদিকে রিচার্ড ব্রনসন বলেন, তাঁরা শুরু থেকেই চেষ্টা করছেন মহাকাশে ভ্রমণের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দিতে। তিনি আশা করছেন সে দিন আর খুব দূরে নয়, যে দিন সাধারণ মানুষ হরহামেশাই মহাকাশে যেতে-আসতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here