মহাকাশ যুদ্ধে আসছে স্পেস ফোর্স

0
157
স্পেস যুদ্ধের কল্পিত চিত্র

করোনা যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগেও পৃথিবীর যুদ্ধ-সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশে গড়াবে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প মহাকাশকে ‘বিশ্বের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। সেই যুদ্ধে রাশিয়া ও চীনকে প্রধান দুই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে দেশটি। মহাশূন্যের লড়াইয়ে এ শত্রুকে মোকাবেলা করতে তাই আগেভাগেই ‘স্পেস ফোর্স’ তথা মহাকাশ বাহিনী গড়ছেন দেশটির নেতারা।

চলতি বছরের আগস্টেই ‘ইউএস স্পেস কমান্ড’ বা স্পেসকম নামে একটি বিশেষ বাহিনী প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের শতশত যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইট সুরক্ষায় কাজ করবে এই বাহিনী। প্রথম বছরই স্পেস ফোর্স বা মহাকাশ বাহিনীর জন্য চার কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই স্পেস যুদ্ধে শামিল হয়েছে ভারতও। ভারত মাটি থেকে ‘অ্যান্টি-স্যাটেলাইট তথা এ-স্যাট’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তিন মিনিটের মধ্যেই তা গুঁড়িয়ে দিতে পারে শত্রু দেশের স্যাটেলাইট। বিশ্বের আর মাত্র তিনটি দেশ যথা- আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন এই সক্ষমতা রাখে।

কক্ষপথ পাল্টে নানা রকম কাজকর্ম করতে পারে, অনেকগুলি টার্গেটকে ধ্বংস বা ক্ষতি করতে পারে, এমন ‘শিজিয়ান সিরিজ’-এর উপগ্রহ নিয়ে কাজ করে চলেছে চীন। ২০০৭ সালে তারা মাটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের একটি আবহাওয়া উপগ্রহ ধ্বংস করেছে নিজেদের। প্রযুক্তিগত সামর্থের প্রমাণ দিয়েছে। ৮৬৫ কিমি উচ্চতায় সেকেন্ডে ৮০০০ মিটার বেগে ছুটো চলা ওই উপগ্রহ লাখ দেড়েক টুকরো হয়ে মাটিতে এসে পড়েছিল
২০১৫ সালে রাশিয়াও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কৃত্রিম উপগ্রহকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত নিশানা বস্তু নিজের দেশের। কাল যে অন্য দেশের হবে না, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

বেশ কিছু উদ্দেশ্যে স্যাটেলাইট ধ্বংসের সক্ষমতা থাকায় মহাকাশ যুদ্ধের অস্ত্র বানানোর কাজ পুরোদমে শুরু করেছে রাশিয়া, চীন ও আমেরিকা। উপগ্রহ রক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে চলছে পরিকল্পনা। কৃত্রিম উপগ্রহ যেন ভবিষ্যতে পুরোপুরি ধ্বংস হতে যেতে না পারে তার জন্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন বলেছেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম উপগ্রহে অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা বসানো থাকবে। এতে কৃত্রিম উপগ্রহ চট করে ধ্বংস করাও সহজ হবে না। ভবিষ্যৎ যে কোনো যুদ্ধ নিশ্চিত ভাবেই পৃথিবী অতিক্রম করে মহাকাশেও ছড়িয়ে পড়বে। অবশ্য মহাকাশের অস্ত্র মানবজাতির জন্য যুদ্ধের নতুন অভিশাপ নিয়েই আসবে। মূলত ভূখণ্ডের ন্যায় মহাকাশ ও প্রভাব বিস্তারের একটি জায়গা হয়েছে অনেক আগেই। কারণ বিজ্ঞান প্রযুক্তি উন্নতির ফলে শুধু পৃথিবীই এখন হাতের মুঠোয় নয় মহাকাশেও চলে মানুষের রাজত্ব। আর এই রাজত্বে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে প্রতিযোগিতায় নেমেছে উন্নত বিশ্ব ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here