মহানবি (সা.)-এর সময়ের কুরআনের পাণ্ডুলিপি ব্রিটেনে!

0
555

অনলাইন ডেস্ক: ব্রিটেনে প্রাচীনতম পবিত্র কুরআন শরিফের পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায়ই সম্ভবত কুরআনের এই অংশ লেখা হয়েছিল। রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, হিজাজি লিপিতে লেখা এই পাণ্ডুলিপি প্রায় এক হাজার ৩৭০ বছরের পুরনো।

প্রায় ১০০ বছর ধরে এই পাণ্ডুলিপি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডবেরি রিসার্চ লাইব্রেরিতে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত বেশ কিছু পাণ্ডুলিপির সঙ্গে ছিল এই পাণ্ডুলিপিও। এতে ধুলো জমে ছিল। নিতান্ত কৌতূহলবশেই পিএইচডি গবেষক আলবা ফেদেলি পাণ্ডুলিপিটি হাতে নেন। পাণ্ডুলিপিটি দেখার পর তাঁর মনে সন্দেহ হয়। এর পরই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন অ্যাকসিলারেটর ইউনিটে পাণ্ডুলিপিটির পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, দুই পাতার পার্চমেন্টের ওপর লেখা পাণ্ডুলিপিটির বয়স প্রায় এক হাজার ৩৭০ বছর। ‘হিজাজি’ লিপিতে লেখা পৃষ্ঠা দুটি স্পষ্ট পড়াও যাচ্ছে। হিজাজি লিপি হলো, আরবি ভাষার পুরনো লেখ্য রূপ। মূলত ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দ সময় পূর্বে পশুর চামড়া বা পার্চমেন্টে লেখা হতো।

বার্মিংহামে প্রদর্শিত হচ্ছে সবচেয়ে পুরনো কুরানের পান্ডুলিপি।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন অ্যাকসিলারেটর ইউনিটের পরীক্ষায় দেখা গেছে, পাওয়া যাওয়া পৃষ্ঠা দুটিতে ভেড়া কিংবা ছাগলের চামড়ায় পবিত্র কুরআনের বাণীগুলো হাতে লেখা হয়েছিল। রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে পাওয়া ফলাফল নির্দিষ্টভাবে ঠিক কোন বছর পাণ্ডুলিপিটি লেখা হয়েছে, তা বলতে পারেনি। তবে এ ক্ষেত্রে ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই যে পাণ্ডুলিপিটির এই অংশ লেখা হয়েছে, তার সম্ভাবনা প্রবল বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এডওয়ার্ড ক্যাডবেরির আর্থিক সাহায্যে পাদ্রি অ্যালফন্স মিনগানা ১৯২০ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্থানীয় নানা বিষয়ের প্রায় তিন হাজার পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। সেগুলো বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে রাখা ছিল।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ওফাত লাভ করেন। গবেষকদের মতে, এর মানে যিনি পাণ্ডুলিপিটির এই অংশ লিখেছেন তিনি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে জীবিত অবস্থায় দেখেছিলেন। হতে পারে, তাঁর প্রচারও তিনি শুনেছেন। এমনও হতে পারে, এই ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিচিত ছিলেন।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিশ্চিয়ানিটি ও ইসলামের অধ্যাপক ডেভিড টমাস বলেন, ‘ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবি (সা.) আল্লাহর কাছ থেকে যেসব বাণী পেয়েছেন, সেগুলোই পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।’

তবে আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিটি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পরও লেখা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক টমাস। তিনি জানান, কুরআনের কিছু অংশ পার্চমেন্ট, পাথর, খেজুরগাছের পাতা ও উটের হাড়ে লেখা হয়েছিল। আর পুস্তক আকারে কুরআন লেখার কাজ শেষ হয় ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাণ্ডুলিপিটি সবার দেখার ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here