মহান মোর্শেদ অভাবমুক্ত হওয়ার সুসংবাদ দিলেন

2
545
সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজান।

আশেকে রাসুল মুহিউদ্দীন হায়দার খোকা। তিনি ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজানের কাছে তরিকার সবক গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতার দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রায়শ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে যুগের ইমাম হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজানের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসতেন। ঘটনাক্রমে একদা তিনি চরমভাবে অর্থনৈতিক সংকটে নিপতিত হন। অভাব-অনটন তাকে এমনভাবে পেয়ে বসে যে, আল্লাহ্র বিশেষ সাহায্য ব্যতীত তার চলার আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি অনন্যোপায় হয়ে, বিষয়টি তার দয়াময় মোর্শেদ যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীকে জানালেন এবং আল্লাহ্র সাহায্য প্রার্থনা করলেন।

মহান মোর্শেদ তার ব্যথায় ব্যথিত হলেন এবং দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহ্র সাহায্য প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি এবং তার স্ত্রী মহান মোর্শেদের নির্দেশ পালনে চেষ্টা করছিলেন। একদিন জোহর নামাজের সময় তার স্ত্রী বাসায় একা একা নামাজ আদায় করে অঝোর নয়নে কেঁদে কেঁদে আল্লাহ্র কাছে মুনাজাত করছিল এবং যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীর অসিলা ধরে অভাব মুক্তির ফরিয়াদ জানাচ্ছিল। হঠাৎ মুনাজাতরত অবস্থায়ই সে দেখতে পায়, একজন জ্যোতির্ময় মহামানব তার সামনে অলৌকিকভাবে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং তাকে দুটি তাবিজ দিয়ে বললেন-আপনি এগুলো যত্ন করে সাথে রাখেন, আপনাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ কথা বলেই জ্যোতির্ময় মহামানব চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যান।

বিষয়টি স্বপ্নের মতো হওয়া সত্ত্বেও মুনাজাত শেষে তার স্ত্রী সে জ্যোতির্ময় মহামানবের দেওয়া তাবিজ দুটি তার হাতের মধ্যে পেয়েছিল। অতঃপর তার স্ত্রী বিষয়টি তাকে ও তার ছেলে-মেয়েদের জানিয়ে তাবিজ দুটি সামনে হাজির করে। অভূতপূর্ব বিস্ময়কর এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে তারা সকলেই আশ্চর্য হয়ে যান। অতঃপর তিনি ও তার স্ত্রী আল্লাহ্র তরফ থেকে পাওয়া তাবিজ দুটি আদবের সাথে সংরক্ষণের লক্ষ্যে গলায় দিয়ে রাখেন। এ দিকে এ ঘটনার বেশ কিছুদিন পর একদিন মহিউদ্দীন হায়দার তার মোর্শেদ যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীকে তার বাসায় দাওয়াত করে তার গরিবখানায় তশরিফ নিতে বিনীত অনুরোধ করেন। দয়াল মোর্শেদ তার প্রতি সদয় হলেন এবং দয়া করে দাওয়াত কবুল করলেন। তিনি ও তার স্ত্রী আপ্যায়নের যথাসাধ্য ব্যবস্থা সম্পন্ন করলেন। দাওয়াত গ্রহণের সময়টি ছিল দ্বিপ্রহর। খাবার টেবিলে মহান মোর্শেদ দয়া করে তশরিফ নিলেন। এদিকে তার স্ত্রী যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীকে কখনো দেখেননি, শুধু নাম শুনে বিশ^াস করতেন। ফলে দয়াল বাবাজান যখন খাবার টেবিলে মহান মোর্শেদ দয়া কর তশরিফ নিলেন, তখন তার স্ত্রী পর্দার আড়াল থেকে তাঁকে দেখতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু কি আশ্চর্য! তার স্ত্রী যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীকে দেখামাত্রই শিশুর মত হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় মহিউদ্দীন হায়দার অন্দরমহলে ছুটে গেলেন। তিনি ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই তার স্ত্রী বলল- “আমাদের ভাগ্য খুলে গেছে, যে জ্যোতির্ময় মহামানব সেদিন অলৌকিকভাবে আমার সামনে হাজির হয়ে তাবিজ দিয়ে আমাদের অভাব দূর হওয়ার সুসংবাদ দিয়ে পুনরায় অলৌকিকভাবে অদৃশ্য হয়ে যান, তিনিই তো এই হুজুর! আমাদের কত বড়ভাগ্য যে, তিনি আমাদের মাঝে স্বশরীরে দয়া করে এসেছেন।” তিনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি বিষয়টি যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীকে জানালেন। এ ঘটনার পরে তাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়ে পরে। একে একে তাদের অভাব-অনটন দূর হতে থাকে। আকস্মিকভাবে স্বপরিবারে আমেরিকা যাওয়ার ভিসা পেয়ে গেলেন। অতঃপর মহিউদ্দীন সাহেব স্বপরিবারে আমেরিকায় চলে যান। মহান মোর্শেদের অপার দয়ায় তারা আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন, সেখানেই স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন এভাবে একে একে তার আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। মহান আল্লাহ্ তাঁর বন্ধু যুগের ইমামের বরকতে তাকে অভাবমুক্ত করে দেন।

আশেকে রাসুল মহিউদ্দীন হায়দার খোকা বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী হলেও প্রতিবছর বাংলাদেশে অন্তত একবার আসেন এবং যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীর সহবত লাভ করতে সচেষ্ট হন। এমনিভাকে আল্লাহ্র বন্ধু তাকে যে কেবল অভাবমুক্ত করেছেন তা নয়, বরং তার জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে এ মহামানবের দয়া, সাহায্য ও ছায়া। এ মহামানবের সান্নিধ্যে এসে আল্লাহ্ তাকে এ চিরন্তন সত্য উপলব্ধি করার সুযোগ করে দিয়েছেন যে, বিদ্যুতের শক্তি যেমন বাল্বকে অবলম্বন করে আলো বিতরণ করে, তেমনি নুরময় সত্তা আল্লাহ্ আদমরূপী মহামানবকে অবলম্বন করে তাঁর অপর দয়া ও অবারিত রহমত বিতরণ করেন।

পরিশেষে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা- হে দয়াময়! তোমার এ মহান বন্ধুকে ভালোবেসে তাঁকে স্মরণ করে আমরা যেন তোমার আলোর আশ্রয়ে থাকতে পারি। দয়া করে আমাদের সেই সুযোগ করে দাও।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here