মহামারি থেকে বাঁচতে বাঁচাতে হবে প্রকৃতি

0
216

অনলাইন ডেস্ক: করোনার তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করে চলেছে পুরো পৃথিবী। এখন পর্যন্ত ২ কোটি ১৮ লাখের বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর করোনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ। করোনার কারণে বদলে গেছে রীতি-রেওয়াজ, মানুষের জীবনযাত্রা; থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা। করোনা ভাইরাস পৃথিবীবাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে কেমন বৈরী আচরণ করে সভ্যতার পথে হাঁটছে মানুষ। একারণেই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, প্রকৃতির সঙ্গে বৈরিতা করে, প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়নের সোপানে উন্নীত হতে গেলে বারবার ছোবল দেবে করোনার মতো মহামারি।

অনেক গবেষকই মনে করেন, চীন থেকে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের উৎসস্থল চীনের উহান শহরের আলোচিত এক কাঁচাবাজার। ঐ বাজারে বিক্রি হয় বাদুড়, প্যাঙ্গোলিনসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণির মাংস ও সামুদ্রিক প্রাণি। এ ধরনের কোনো বন্য প্রাণির শরীর থেকেই করোনা ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করেছে বলে আশঙ্কা করা হয়। এমনই একজন গবেষক ও নিসর্গবিদ এনরিক সালা, যিনি বর্তমানে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের হয়ে প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য কাজ করছেন। এনরিক সালাও মনে করেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। সমুদ্রের তলদেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও বিশেষ মনোযোগী হতে হবে।

২০২০ সালের কিছু গবেষণা পরিসংখ্যান তুলে ধরে এনরিক সালা বলেন, ‘আমাদের চারপাশে এমন অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণি রয়েছে, যারা পরজীবী ভাইরাস বহন করে। এদের অনেকের সংস্পর্শেই যেতে হয় মানুষকে। ইঁদুর, বাদুড়, প্যাঙ্গোলিন এবং অনেক সামুদ্রিক প্রাণির শরীরেই বেশি থাকে এ ধরনের পরজীবী ভাইরাস। প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের লক্ষ-কোটি জীবনের ওপর গবেষণা করে চলেছেন এনরিক সালা। মানুষের নানা রকম কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কোরাল প্রাচীরসহ অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ। এতে করে বদলে যাচ্ছে ইকোসিস্টেমও; যার প্রভাবে নানা ধরনের নতুন নতুন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া মানুষের সংস্পর্শে আসছে। তিনি মনে করেন, এভাবে চলতে থাকলে একসময় ধ্বংস হয়ে যাবে প্রকৃতি, যার মূল্য দিতে হবে মানব জাতিকেই। এখনই সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে হয়তো করোনা ভাইরাসের মতো আরো অনেক দুরারোগ্য রোগবালাই মহামারি নিয়ে হাজির হবে পৃথিবীতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here