মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে ছাত্রীরা এগিয়ে

0
28


নারী ডেস্ক: মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে ছাত্রীদের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বিমুগ্ধ হওয়ার মতোই। সেটা শুধু নগর কিংবা শহরে নয় একেবারে গ্রামগঞ্জে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। করোনার দীর্ঘ সংক্রমণে জাতির মেরুদণণ্ড শিক্ষা বেহাল অবস্থায়। প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ১৮ মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কতখানি সম্ভব তাও প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও অগণিত ছাত্রছাত্রী একেবারে ঘরে বসে অলস সময় পার করেনি। তারা প্রযুক্তির বিশ্বে নতুন পাঠ গ্রহণের আওতায় এসে শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়েছে। তবে এই পাঠদান কর্মসূচী নিয়েও হরেক রকম প্রশ্নের অবতারণা হয়েছে। প্রথমত বাংলাদেশের সব অঞ্চল একই সঙ্গে এই কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেনি। ঘরে টিভি না থাকা থেকে শুরু করে বিদ্যুত এবং তথ্যপ্রযুক্তির ঘাটতিও নতুন কার্যক্রমের অন্তরায় হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক শিক্ষার্থীর পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ এবং যথেষ্ট জ্ঞানের অভাবে তথ্যপ্রযুক্তির বলয় সেভাবে সকলের জন্য অবারিত হয়নি। তারপরও করোনার মহাদুর্বিপাকে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা অশনিসঙ্কেত থেকে মুক্তি পাওয়ার চিত্রও উঠে আসতে সময় লাগেনি। এভাবে প্রায় দেড় বছর কাটানোর পর ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল- কলেজ খুলে দেওয়া হয়। সবার আগে সামনে এসে দাঁড়ায় বোর্ড পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনুপ্রবেশের ভর্তি পরীক্ষা। সেটা নিতে প্রস্তুতি শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু করা হয় ১৪ নভেম্বর তবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। আবশ্যিক বিষয় বাংলা ইংরেজি ও অঙ্ক বাদ দিয়ে। অর্থাৎ পাঠক্রমের বিভাগভিত্তিক বিষয় নিয়ে। শুধু তাই নয়, চতুর্থ বিষয়কেও এবার যুক্ত করা হয়নি। গত দেড় বছরে ছাত্রছাত্রীরাও শ্রেণি পরীক্ষা থেকে আরম্ভ করে বোর্ড কোনো পরীক্ষায় বসতে পারেনি। কিন্তু প্রতিবেদন জমা দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষা ব্যবস্থার এমন সব দোলাচলে করোনা সংক্রমণ নিম্নগামী হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে যায়। তবে প্রতিষ্ঠান খুলে যাবার পর ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ঝরে যাওয়ার দুর্বিসহ চিত্রও হতাশাব্যঞ্জক। শুধু তাই নয় নিবন্ধন করা অনেক শিক্ষার্থী বোর্ড পরীক্ষায় বসতেই পারেনি। সব ভাল যদি তার শেষ ভাল হয়। যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদের ফলাফল বিবেচনায় আশার আলো উঠে আসতেও দেরি হয়নি। পাসের হারও তাক লাগানোর মতো। বিভিন্ন বোর্ডের সামান্য ফারাক ছাড়া। আর মেয়েদের ফলাফলে এগিয়ে যাওয়ার চিত্রও স্বস্তিদায়ক।


বাগেরহাটের বেমর্তা ইউনিয়নের ‘উদ্দীপন বদর সামছু বিদ্যানিকেতনের মাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে ছাত্রীদের জোর কদমে এগিয়ে চলা সত্যিই বড়ো ধরনের সফলতা। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে ভালো রেজাল্ট করার কাতারে ছাত্রীদের অসামান্য কৃতিত্ব বিমুগ্ধ হওয়ার মতোই। তাছাড়া শতভাগ পাস করার ফলাফল সংশ্লিষ্টদের আনন্দে ভরিয়ে তোলে। বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন ছাত্রী যুথি আকতার, কাজল আকতার এবং মাহফুজ আকতার মিম। আর বাণিজ্য বিভাগে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম দুজনই মেয়ে সাবিয়া আকতার, শামীম আকতার, মানবিক বিভাগে দুটো মেয়েই সবার আগে। নাইমা আকতার, হেমলতা শিকদার। বেমর্তা ইউনিয়নের ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্দীপক বদর-সামছু বিদ্যানিকেতনের স্থান সবার উপরে। বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে নিরন্তর এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতও যুগের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে। আর নারীদের এগিয়ে যাবার চিত্রও আশাব্যঞ্জক। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে মর্যাদা পাওয়া বাংলাদেশ তার টেশসই লক্ষ্যমাত্রায় ছুটে চলেছে। সেখানে শিক্ষা এবং অর্ধাংশ নারীরাও অবিচ্ছিন্ন সুতায় গাঁথা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here