মানতের বরকতে ক্যান্সার ভালো হলো

0
377

আশেকে রাসুল মো. শামীম, পিতা- নূরুল ইসলাম, গ্রাম- চরকালিবাড়ী, থানা- কোতয়ালী, জেলা- ময়মনসিংহ। তার মাতা মোসাস্মৎ নাজমা বেগম। একদিন হঠাৎ তার কাশির সাথে রক্ত বের হওয়া আরম্ভ হলো। এভাবে প্রতিদিনই প্রায় সময়ই কাশির সাথে রক্ত অল্প অল্প করে বের হতো। এতে করে তার মা ক্রমশই দুর্বল হয়ে পড়েন। সাংসারিক কাজ ঠিক মতো করতে পারছিলেন না। তার ছোটো বোনই সাংসারিক কাজ করতো। মা প্রায়শই শুয়ে থাকতেন। এভাবে ২-৩ মাস কেটে যায় কিন্তু তার মা কিছুতেই সুস্থ হচ্ছিল না। তখন তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জনৈক মহিলা ডাক্তারের কাছে তার মাকে নিয়ে যায়। চিকিৎসক তার মায়ের সমস্যার কথা শুনেন এবং কিছু টেস্ট করাতে বলেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার মায়ের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়।
পরদিন সন্ধ্যায় যখন সে তার মায়ের রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারকে দেখাতে যান, তখন ডাক্তার বললো, “আপনার মায়ের ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় এই রোগীর কোনোরূপ চিকিৎসা করা। আপনারা আল্লাহকে ডাকেন।” ডাক্তারের কাছ থেকে এ কথা শুনে তার হাত-পা অসাড় হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বুঝতে পারলেন তার গর্ভধারিণী মাকে আর বাঁচানো যাবে না। তিনি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বাসায় এসে সবাইকে ডাক্তার যা বলেছেন তা জানান। তার কাছ থেকে এই কথা শুনে তাদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। তখন তার দাদা তাকে দেওয়ানবাগ শরীফে মানত করতে বলেন। মো. শামীম তার দাদার পরামর্শে তার মায়ের জন্য দেওয়ানবাগ শরীফে মানত করে আজিজি করতে থাকে। কেননা, এই বিপদে মোর্শেদের সাহায্য ব্যতীত আর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। দাদার পরামর্শে তিনি মোরাকাবায় মোর্শেদের সাহায্য চাইতে শুরু করে। তার মহান মোর্শেদ সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) দয়াল বাবাজানের খেয়ালে মোরাকাবায় বসে দুচোখের পানি ফেলে কাকুতি মিনতি করে বলতে থাকে- “ওগো দয়াল দরদী বাবাজান! আপনি দয়া করে নিজগুণে আমার মাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি দয়া করে তাকে সুস্থ করে দিন। আমাদের এই কঠিন বিপদে আপনি দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন।” তিনি নিয়মিতভাবে মোরাকাবা করে দয়াল বাবাজানের অসিলায় দয়াময় রাব্বুল আলামিনের সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন। যে দয়াময় রাব্বুল আলামিনের দয়া ও শক্তি ছাড়া আমাদের চলার কোনো উপায় নেই। সেই দয়াময় রাব্বুল আলামিনের অপার দয়ার বদৌলতে তাঁর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) দয়াল বাবাজানের অসিলায় ৪/৫ মাসের মধ্যে তার মায়ের অসুস্থতা ধীরে ধীরে কেটে গেল। মা সুস্থ হয়ে উঠেন। সে তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে আবারও ক্যান্সারের টেস্ট করায়। কিন্তু টেস্টে কোনো ক্যান্সার ধরা পড়েনি। এ রিপোর্ট দেখে ডাক্তারগণ অবাক হয়ে যান। এটা কি করে সম্ভব! তারা তখন বুঝতে পারেন, আল্লাহ্র মহান অলীর দরবারে মানতের অসিলাতেই এ অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তাদের তখনও বিশ্বাস হ্িচ্ছল না যে, মৃত্যুপথযাত্রী ক্যান্সার রোগী কিভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হলো। যার কারণে তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে পুনরায় টেস্ট করায়। কিন্তু টেস্টে কোনো প্রকার ক্যান্সার ধরা পড়লো না। তখন তারা বুঝতে সক্ষম হন যে, মহামানবগণই পারেন এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here