মানবসেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান আঁখি

0
164

খুলনা সংবাদদাতা: জাতিসংঘের ‘রিয়াল লাইফ হিরো’ খেতাবপ্রাপ্ত রূপসাচরের ১৭ বছরের কিশোরী আঁখি। বাবা মাসুদ মোল্লা অসুস্থ। আর মা আনোয়ারা বেগম শ্রমিকের কাজ করেন একটি মৎস্য কোম্পানিতে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে আঁখি দ্বিতীয়। খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের কিশোরী আঁখির বড়ো স্বীকৃতি মিলেছে বিশ্ব দরবারে। তিনি জাতিসংঘের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ খেতাব পেয়েছেন। বিশ্ব মানবিক দিবস উপলক্ষ্যে গত ১৯ আগস্ট জাতিসংঘ আঁখিসহ বাংলাদেশের চারজনকে ‘রিয়েল লাইফ হিরো’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। করোনার শুরুতে মাস্ক তৈরি করে স্বল্পমূল্যে বিক্রি ও দরিদ্রদের মধ্যে ফ্রি বিতরণের স্বীকৃতি হিসেবেই এ খেতাব মিলেছে তার। আঁখির এত বড়ো স্বীকৃতি পাওয়ায় খুশির আমেজ বিরাজ করছে তার দরিদ্র পরিবারে। বিবিসি থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসন থেকে তাকে অভিনন্দন জানানোসহ তার স্বপ্ন পূরণের আশ্বাসে আঁখিকে নিয়ে গর্বিত তার বাবা-মা।

আঁখির চোখে মুখে এখন মানুষের কল্যাণে কাজ করার স্বপ্ন। ভালো সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ভবিষ্যতে তিনি একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও ঝরেপড়া দরিদ্র শিশুদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ সেন্টার করার ইচ্ছা পোষণ করেছে।

খুলনা রূপসাঘাট পারে ছোট্ট একটা দোকানে মাস্ক, বিভিন্ন হস্তশিল্পের জিনিসপত্র রয়েছে। রয়েছে ছোটোদের খাবার। এ দোকানে বসে বেচাকেনা করেন আঁখির বাবা শারীরিকভাবে অক্ষম মাসুদ মোল্লা। এক সময় মৎস্য কোম্পানিতে (চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা) কাজ করতেন তিনি। আঁখির মা আনোয়ারা বেগম এখনো মৎস্য কোম্পানিতে কাজ করেন। বাবা-মা ও ভাই-বোনদের সঙ্গে আঁখিরা তার খালার জমিতে বসবাস করছেন। এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, রূপসা চরের আঁখি এখন রূপসা তথা খুলনাবাসীর গর্ব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here