মানব দরদী সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী

1
364
সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান সুচারুরুপে লক্ষ লক্ষ মানুষের তাবারুকের ব্যবস্থা করেন।

মানব সেবাই বড়ো ইবাদত। অর্থ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে, ক্ষুধার্তকে খাবার না দিয়ে শুধু মসজিদে গিয়ে নামাজ রোজা পালন করলেই তাতে আল্লাহ্ খুশি হন না, বরং মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন খুশি হন মানুষকে ভালোবাসলে, ক্ষুধার্তকে খাবার দিলে, অসুস্থ মানুষকে সেবা করলে, এক কথায় মানুষের শোক দুঃখে সমভাগী হলেই আল্লাহর দয়া ও রহমত লাভ করা সম্ভব। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখা ইসলামী গানে উল্লেখ করেছেন-
‘‘কারো মনে তুমি দিওনা আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে;
মানুষেরে তুমি যত কর ঘৃণা, খোদা যান তত দূরে সরে।’’

মানবজাতি আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাই মানুষের সেবা করলে মহান রাব্বুল আলামিন সন্তুষ্ট হন এবং ঐ বান্দার জন্য বিশেষ কল্যাণ ও রহমত দান করে থাকেন। কিতাবে বর্ণিত আছে- ইয়েমেনের এক মুচি, আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াফিক তার নাম, হজ পালনের জন্য দীর্ঘ দিন পর্যন্ত অর্থ জমা করার পরে যেদিন হজে যাবেন, সেদিনই পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে দেখেন, তারা খাদ্য না পেয়ে ক্ষুধার তাড়নায় মরা গাধার মাংস ভক্ষণ করছে। একথা শোনার পর মানব দরদী আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াফিক হজে যাওয়ার জন্য জমানো সমস্ত টাকা ঐ অভুক্ত প্রতিবেশীকে দান করে দেন। তার আর হজে যাওয়া হলো না। ঐ যুগের বিখ্যাত অলী হযরত ইবনে মুবারক আল্লাহর পক্ষ থেকে জানতে পারেন যে, এমন এক ব্যক্তির হজ আল্লাহ্ কবুল করেছেন, যিনি হজ করতে আসেননি। তিনি হলেন ইয়েমেনের সেই মুচি আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াফিক। হযরত ইবনে মুবারক মদিনায় রাসুলের রওজা শরীফ থেকে ইয়েমেনে গিয়ে সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিকে খুঁজে পান এবং তাকে হজ না করা সত্ত্বেও আল্লাহ্ তার হজ কবুল করেছেন, এই সুসংবাদটি তাকে জানালেন। এ বিষয়ে অনেক ঘটনা কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আসলে শুধু মানুষ কেন, কোনো সৃষ্ট জীবের প্রতি প্রেম ভালোবাসা দেখিয়ে তাঁকে আহার করালে তাতে আল্লাহ্ খুশি হয়ে থাকেন। কিতাবে আছে- বনি ইসরাঈল যুগে কোনো এক পতিতা নারী একটা কুকুরের বাচ্চাকে পানি পান করানোর কারণে আল্লাহ্ তার সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন। ঘটনাটি এরূপ- একবার একটা কুকুরের বাচ্চা পানির পিপাসায় ছটফট করছিল। একদল ধার্মিক লোক ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, তাদের কাছে পানি ছিলো, কুকুরের বাচ্চাকে পানি পান করাবে, এটা ঘৃণার কাজ মনে করে তারা চলে গেলো। ঐ পতিতা নারীর কুকুরের বাচ্চাটির প্রতি মায়া হলো। কিন্তু তার কাছে পানি নেই। তখন পাগলিনীর মতো ছুটতে ছুটতে বেশদূরে একটি পানির কূপ খুঁজে পেলো। পানি যে অনেক নীচে, সে কী করে পানি তুলবে, তাই নিজের ওড়না ছিড়ে রশি বানিয়ে পায়ের জুতার সাথে বেঁধে ঐ কূপ থেকে পানি তুলে বাচ্চা কুকুরটিকে খাওয়ালো। ফলে বাচ্চাটি বেঁচে গেলো। এমন সময় একটি গায়েবি আওয়াজ ভেসে এলো- আমার সৃষ্টিকে পানি পান করানোর জন্য তুই যে দয়া দেখিয়েছিস, সেজন্য আমি তোর সব গুনা ক্ষমা করে দিলাম। আর যারা ধার্মিক সেজে আমার সৃষ্টিকে ঘৃণা করে পানি থাকা সত্ত্বেও পান করায়নি, তাদের সমস্ত নেক তোর আমলনামায় লিখে দিলাম। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর সৃষ্টির প্রতি অত্যন্ত ভালোবাসা ছিলো। একবার কোনো এক সাহাবির একটা উট রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে তার মনিবের বিরুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে অভিযোগ জানায়। আল্লাহর রাসুল (সা.) উটের মালিককে ডেকে বললো- তুমি উটটি দিয়ে অনেক কাজ করাও কিন্তু ঠিকমত খেতে দাওনা। এটা চরম অন্যায়। তোমার উট আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছে। এরপর থেকে ঐ সাহাবি উটটিকে ঠিকমত খাবার দিতো। হযরত রাসুল (সা.)-এর চিরশত্রু একবৃদ্ধা রমণী, যে রাসুল (সা.)-এর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো, সেই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে হযরত রাসুল (সা.) তার সেবা করেছেন। এমন ঘটনা মানুষের বিবেককে নাড়া না দিয়ে পারে না। আমাদের সমাজে গরিব লোকদের কেউ সম্মান করে না। এটা যেনো ধনীদেরই প্রাপ্য অধিকার ।

আমাদের প্রিয় নবি হযরত রাসুল (সা.)-এর কাছে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোনো প্রভেদ ছিলো না। তিনি মানুষের মনুষ্যত্বের মূল্যায়ন করেছেন, সম্পদের নয়। গরিব ও ধনী সকলেই আল্লাহর সৃষ্টি। ধন-সম্পদের মালিক হয়ে আত্ম অহংকারী হওয়াকে আল্লাহ্ দারুণভাবে অপছন্দ করেন। হযরত রাসুল (সা.) যেমন মানুষের মধ্যে বৈমষ্য দূরীভূত করার শিক্ষা দিয়েছেন, অনুরূপভাবে রাসুল (সা.)-এর পরবর্তী বেলায়েত বা বন্ধুত্বের যুগেও তাঁর সিরাজাম মুনিরার ধারক ও বাহক অলী-আল্লাহ্গণও ধনী-দরিদ্র ব্যক্তিদের আলাদাভাবে দেখেন না। তাঁরা মানুষকে বিচার করেন তাদের আচরণ ও কর্ম দিয়ে। হযরত রাসুল (সা.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানও মানুষকে ধন সম্পদ দিয়ে বিচার করেন না। তিনি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষকেই সমান চোখে দেখেন। তার প্রমাণস্বরূপ সকল শ্রেণির মানুষকে তিনি আল্লাহ্ ও রাসুলের পরিচয় লাভের জন্য ক্বালব দেখিয়ে আল্লাহ্ নামের জ্বিকির জারি করে দিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, যে কোনো মানুষ বিপদে পড়ে তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তাকে সাহায্য করেন এবং বালা মুছিবত দূর করে দেন। এক্ষেত্রে কে ধনী আর কে দরিদ্র, তিনি তা মোটেই চিন্তা করেন না। আল্লাহ্র মহান বন্ধু, সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান স্পষ্ট করেই বলে থাকেন- আল্লাহ্ ইবাদত বন্দেগী দিয়ে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করেন না, মানব প্রেমই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহ্র প্রিয় হাবিব হযরত রাসুল (সা.) বলেছেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মানুষের ধন সম্পদ ও চেহারা সুরত দেখেন না, তিনি দেখেন মানুষের নিয়ত ও নেক আমল।” আল্লাহর প্রিয় নবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) প্রতিদিন তাঁর লঙ্গর খানায় সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ লোককে খাওয়াতেন। হযরত রাসুল (সা.)-এর উত্তরসূরী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানও প্রতিদিন তাঁর দরবার শরীফে সহস্রাধিক লোকের খাদ্যের ব্যবস্থা করে থাকেন।

মানব সেবার গুরুত্ব এত বেশি যে, আমাদের প্রিয়নবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) স্বহস্তে অসহায় মানুষকে সাহায্য করেছেন। তিনি ফরমান- ‘‘তুমি জগতের সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়া করো, তাহলে মহাকাশের অধিপতি মহান আল্লাহ্ তোমাকে দয়া করবেন।’’ আমরা মনে করি দান করলে সম্পদের ঘাটতি পড়ে যাবে। মূলে এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। এ সম্পর্কে একটি ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। একবার রাসুল (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় কন্যা, খাতুনে জান্নাত হযরত মা ফাতেমা (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তাঁর স্বামী হযরত আলী (রা.) তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কী খেতে চান? হযরত ফাতেমা (রা.) স্বামীকে একটা আনার ফল আনতে বললেন। হযরত আলী (রা.) বাজারে গিয়ে একটা বড়ো সাইজের আনার ফল কিনে বাড়ীতে রওয়ানা করলেন। পথে একজন ভিক্ষুক হযরত আলী (রা.)-এর হাতে আনারটি দেখে বললো- আমার স্ত্রীর ভীষণ জ্বর। সে আনার খেতে চেয়েছে, কিন্তু আমার আনার কেনার মতো সামর্থ্য নেই। আপনি যদি আমাকে আনারটি দান করতেন, তাহলে আমার স্ত্রীর বাসনা পূর্ণ করতে পারতাম। একথা শুনে হযরত আলী (রা.) ঐ ভিক্ষুককে আনারটি দিয়ে দিলেন। বাড়ীতে এসে তিনি লজ্জায় আর মা ফাতেমার কাছে গেলেন না। হযরত ফাতেমা (রা.) বুঝতে পারলেন, নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে। যে কারণে তাঁর স্বামী হযরত আলী (রা.) তাঁর কাছে আসছেন না। তখন হযরত ফাতেমা (রা.) স্বামীকে তাঁর কাছে আসার জন্য বললেন। হযরত আলী (রা.) খালি হাতে স্ত্রীর সামনে হাজির হলেন এবং হযরত ফাতেমা (রা.)-কে আনার ক্রয় ও তা এক ভিক্ষুককে দান করার সব ঘটনা খুলে বললেন, স্বামীর মুখে সব ঘটনা শুনে হযরত ফাতেমা (রা.) বললেন- আপনি লজ্জা পাচ্ছেন কেন? আপনিতো আনারটি দান করে খুব ভালো কাজ করেছেন। এতে আমি অনেক খুশি হয়েছি। আমার দয়াল আব্বাজান বলেছেন- কোনো ব্যক্তি একটি জিনিস দান করলে, আল্লাহ্ তার বিনিময়ে তাকে ৭০টি দিয়ে থাকেন। একথা বলা শেষ হতে না হতেই, রাসুলের প্রিয় সাহাবি হযরত সালমান ফারসি (রা.) মা ফাতেমার গৃহের দরজার এসে ডাক দিলেন। হযরত আলী (রা.) দরজা খুলে দেখেন হযরত সালমান ফারসি (রা.)-এর মাথায় একটি বড়ো সাজি (বেতের পাত্র) তাতে ৭০টি আনার রয়েছে। এই পাত্রটি দিয়ে হযরত সালমান ফারসি (রা.) বললেন- একটি অচেনা লোক আমাকে এই পাত্রটি দিয়ে বললেন, শুনেছি মা ফাতেমা (রা.)-এর নাকি জ্বর হয়েছে, তাই তাঁর জন্য আমি এই আনার নিয়ে এসেছি। একথা শুনে হযরত মা ফাতেমা (রা.) হাসতে লাগলেন। হযরত আলী (রা.) দেখলেন, তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী, নবিনন্দিনী হযরত ফাতেমা (রা.) যা বলেছেন, অল্পক্ষণের মধ্যেই আল্লাহ্ তা বাস্তবায়িত করেছেন। আসলে অসহায় ও দরিদ্র ব্যক্তিকে দান করার যে কত বেশি ফজিলত, তা এই ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায়। আমাদের প্রিয়নবি হযরত রাসুল (সা.) তাঁর সাহাবাগণকে এই আদর্শ শিক্ষাটিই দিয়েছেন। আমরা যারা রাসুলের উম্মত বলে দাবীদার, আমাদের মধ্যে এই গুণটির অভাব রয়েছে। সমাজে একটি প্রচলিত কথা আছে- ‘যার আছে সে দিবে আর যার নাই সে নিবে’। হযরত রাসুল (সা.)-এর এই মহৎ গুণটি তাঁর উত্তরসূরী অলী-আল্লাহ্গণের মধ্যে পাওয়া যায়। আল্লাহর মহান বন্ধু, হযরত রাসুল (সা.)-এর সূযোগ্য উত্তরসূরী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানও দান করার ব্যাপারে অত্যন্ত মুক্ত হস্ত। তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে যেমন দান করেন, তেমনি মেহমানদারি করার ব্যাপারেও তাঁর সুনাম-সুখ্যাতি যথেষ্ট। এতটুকুই শেষ নয়, যখনই দেশে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে, আর মানুষ অর্থ ও খাদ্যাভাবে দারূণ কষ্ট পায়, আল্লাহ্র মহান বন্ধু, সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান তখন আর নীরবে বসে থাকতে পারেন না। তিনি অসহায় মানুষকে খাদ্য ও অর্থসহ নানান ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করে থাকেন। তিনি নিজে যেমন সারা বাংলাদেশে তাঁর অসহায় গরিব ভক্তদেরকে ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকেন। অপরদিকে দেশের অন্যান্য গরিবদেরকেও তিনি মুক্ত হস্তে ত্রাণ সাহায্য করে থাকেন। হাদিস শরীফে আছে- ‘আল খালকু আয়ালুল্লাহ্’। অর্থাৎ- সকল সৃষ্টিই আল্লাহর পরিবার। তাই আল্লাহর মহান বন্ধু, সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের প্রতি অতীব দরদী হিসেবে, তিনি মানুষের নানাবিধ দুর্যোগে তাদের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে নিজে উপস্থিত হয়েছেন এবং স্বহস্তে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ১৯৮৮ সাল এবং ১৯৯৮ সালের দুটি বন্যার কথা উল্লেখ করা যায়। তখন সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান সারা বাংলাদেশে ত্রাণ সামগ্রী নিজেই বিতরণ করেছেন। অপরদিকে তাঁর ধনশালী ভক্তদেরকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মহান মোর্শেদের নির্দেশ পেয়ে সূফী সম্রাটের ধনশালী ভক্তবৃন্দ নগদ অর্থ ও বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেছেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান নিজে ট্রলারে তার সাহেবজাদাগণকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানবাগ-সহ অর্ধ শতাধিক গ্রামের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজ হাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। সেসময়ে মানুষের মুখে মুখে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের প্রশংসা শুনা গেছে। তারা বলেছেন- দেওয়ানবাগী হুজুর একজন মহান অলী-আল্লাহ্ হয়েও নিজে মানুষের বাড়ীতে বাড়ীতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

আল্লাহ্র মহান বন্ধু, সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান তাঁর সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি আল্লাহর রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সা.) পরিচালিত মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের জন্য ট্রাস্ট করে দিয়েছেন। তাঁর সুযোগ্য সন্তানগণও পিতার এই অমূল্য দানকে গ্রহণ করে ওয়ারিশ হিসেবে তাদের প্রাপ্য পৈত্রিক সম্পত্তির সকল দাবী ছেড়ে দিয়ে ট্রাস্ট দলিলে স্বাক্ষর করে সুযোগ্য পিতার সুযোগ্য সন্তানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সূফী সম্রাট বলেন- আমি মোহাম্মদী ইসলাম প্রচার করি, কোনো তরিকা নয়। সুতরাং আমার পরে আর কেউ পির হবে না। আমার ছেলেরা ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ঠিকই সূফী সম্রাটের ৪ সাহেবজাদা নিজেদের সকল সম্পদ মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের জন্য যেমন উৎসর্গ করে দিয়েছেন, সাথে সাথে তাঁরা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বিপদ আপদেও তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁরা সূফী সম্রাটের পক্ষ থেকেই মানুষকে দান করে থাকেন।

সাম্প্রতিককালে করোনা ভাইরাস নামক যে মারাত্মক ব্যাধি বিশ্বের ২১০টি দেশের মানুষকে চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করতে বাধ্য করেছে, গোটা বিশ্বের রাজা, বাদশাহ এবং প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ভয়ে থর থর করে কাঁপছে। সেই চরম ও ভয়াবহ মুহূর্তে আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান মানুষকে জানিয়ে দিলেছেন যে, আপনারা নামাজের পরে মোহাম্মদী ইসলামের ওয়াজিফা পালন করে পরিবারের লোকজন নিয়ে সকাল-বিকাল দুবার রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরূদ-সালাম ও মিলাদ শরীফ পাঠ করবেন। সেই সাথে এই চরম বিপদের জন্য আল্লাহর কাছে একটা মানত করে সাহায্য কামনা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত পাবেন। কেননা, যেখানে রহমত থাকে, সেখানে গজব আসতে পারে না। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের এই নির্দেশনা যারাই মেনে চলবেন, ইনশাল্লাহ্ তারাই আল্লাহ্র রহমত লাভ করবেন। আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান আশেকে রাসুলদের মোহাম্মদী ইসলামের বিধান যেমন মেনে চলতে বলেছেন, সেই সাথে তিনি বিত্তশালী ভক্তদেরকে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশও দিয়েছেন। তাছাড়া সূফী সম্রাট হজুর কেবলাজান নিজ তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী সর্বস্তরের অসহায় বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করেছেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সাহেবজাদাগণ তাঁর নির্দেশে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে চলেছেন। ফলে বিপদগ্রস্ত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের এই মানবপ্রেম সত্যিই এক অনন্য দৃষ্টান্তের সূচনা করেছে। মানবদরদী সূফী সম্রাটের আদর্শ ও নির্দেশনা মেনে চললে আমরা আল্লাহ্র রহমত লাভ করে ধন্য হবো ইনশাল্লাহ্।

যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান এমনই মানবদরদী যে, তাঁর দরবার শরীফে কোনো লোক আসলে তিনি সর্বপ্রথম তার খাওয়ার ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে থাকেন। তিনি জানতে চান লোকটি খেয়েছে কিনা? না খেয়ে থাকলে কোনো কথা বলার আগেই তিনি বলেন- যান, খেয়ে আসেন। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান মানুষকে সবচেয়ে দামী জিনিস দিয়ে মেহমানদারী করেন। তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ২০১৮ সালে কোরবানির সময় ঢাকার গাবতলীর হাটে সবচেয়ে যে বড়ো গরুটি উঠেছিল, তার দাম হাকানো হয়েছিল ১৪ লক্ষ টাকা। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এত দামের গরুটা কেউ কিনতে পারেনি। কোরবানির পরে সেই বড়ো গরুটা আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান ক্রয় করলেন। পরবর্তীতে তাঁর প্রিয় মোর্শেদ পিরানে পির দস্তগির, সুলতানুল মাশায়েখ, সুলতানিয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার ইমাম হযরত সৈয়দ আবুল ফজল সুতলান আহমদ (রহ.)-এর ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে জবেহ করে আশেকে রাসুল ও উপস্থিত সকল মানুষকে বিরিয়ানির তাবারুক রান্না করে আপ্যায়ন করেছেন। সূফী সম্রাটের সাহেবজাদাগণের অবস্থাও তদ্রূপ। বাদশাহর সন্তানের যেমন বাদশাহি নজর থাকে, সূফী সম্রাটের সন্তানগণেরও তেমনি বাদশাহি নজর। তাঁরাও মানুষকে খাওয়ানোর ব্যাপারে পিতার মতো উদার ও সহনশীল। উপযুক্ত পিতার কাছ থেকে শিক্ষা পেয়ে তাঁরাও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেমন পিতার ন্যায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, বর্তমান এই করোনা ভাইরাসের চরম দুর্যোগেও তাঁরা পিতার পক্ষ থেকে সারা বাংলার আনাচে কানাচে অসহায় চরিদ্র ও অনাহারী মানুষের পাশে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সাগম্রী নিয়ে উন্মুক্ত হস্তে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের এই মানবদরদী কার্যকলাপ এবং অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা সত্যিই এই বাংলার অভাবগ্রস্থ অসহায় মানুষদের মনে মোহাম্মদী ইসলামের প্রতি আনুগত্য ও মানবতার বিজয়ের পথ উন্মুক্ত করে।

উল্লেখ্য যে, আল্লাহ্র মহান বন্ধু যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান মানবজাতির কাছে আল্লাহর প্রকৃত রূপ তুলে ধরে ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ নামক ৮ খণ্ড বিশিষ্ট মহামূল্যবান তাফসীর প্রনয়ণ করে পবিত্র কুরআন ও হাদিস দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহ্ নিরাকার নন, তিনি আকার। তবে আল্লাহ্ মানুষের মতো রক্ত মাংসের দেহধারী নন, তিনি নুরের। সূফী সম্রাটের এই তাফসীর শরীফ অধ্যয়ন করে মানুষ মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাচ্ছেন। তারাও আজ ঘোষণা করছেন- আল্লাহ্ নিরাকার নন, তিনি আকার।

পরিশেষে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান মানুষের কাছে যেমন আল্লাহ্র সঠিক পরিচয় তুলে ধরে তাদেরকে প্রকৃত ইমানদার হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, তদ্রূপ অসহায় দুর্গত মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য ত্রাণ সাহায্য দিয়ে সম্পদশালী ব্যক্তিদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, মানুষকে ভালোবাসুন। আর মানুষকে ভালোবাসলেই আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা সম্ভব হবে, অন্য কোনো উপায়ে নয়।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here