মানুষ আলেমদের উপর শ্রদ্ধা হারায় কেন?

0
403


মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন- “তোমরা কি মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো। তবে কি তোমরা (সত্য) উপলব্ধি করবে না?” (সূরা আল বাকারাহ ২ : আয়াত ৪৪)
সমাজের প্রচলিত অর্থে আলেম বলতে বিশেষ এক শ্রেণীর লোককে বুঝায়, যারা কিতাবভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা লাভের মাধ্যমে তথা মাদরাসার ডিগ্রি অর্জন করে নিজেদেরকে নায়েবে নবি এবং ইসলামের হেফাজতকারী বলে মনে করে থাকেন।
সূক্ষ্মভাবে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিচার করলে দেখা যায়, অনেকে ডিগ্রিধারী আলেম নিজেরাই গোমরাহীতে ডুবে আছে। ধর্ম বিষয়ে তাদের জ্ঞান যেমন সংকীর্ণ, জাগতিক বিষয়েও তাদের জ্ঞান তেমনি সংকীর্ণ। অথচ তাদের অজ্ঞতাকে তারা কৃত্রিমভাবে ঢেকে রাখে। আলেমের পরিচয়ে তারা অনেক সময় ভ্রান্ত ফতোয়া দেয়। এদের প্রসঙ্গেই আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- “আলা ইন্না শাররাশ শাররি শিরারুল ‘উলামাই।” অর্থাৎ- জেনে রেখো, নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক হচ্ছে আলেমদের মধ্যে যারা নিকৃষ্ট, তারা। (দারেমী শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৩৭)
হযরত উমর (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন- “ইসলাম ধ্বংস হবে আলেমদের পদস্খলনে, মুনাফিকদের কুরআন নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়ায় এবং গোমরাহ শাসকদের শাসনের মাধ্যমে।” (দারেমী শরীফের সূত্রে মেশকতা শরীফ, পৃষ্ঠা ৩৭)
একই সাথে আমীরুল মু’মেনীন, শেরে খোদা হযরত আলী কারামাল্লাহু ওয়াজাহাহু হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন “শীঘ্রই মানবজাতির সামনে এমন এক জামানা আসবে, যখন নাম ব্যতীত ইসলামের কিছুই বাকী থাকবে না, অক্ষর ব্যতীত কুরআনের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। তাদের মসজিদসমূহ হবে সুন্দর সুন্দর অট্টালিকা সমৃদ্ধ, অথচ এগুলোর ভেতর হবে হিদায়েতশূন্য। তাদের আলেমরা হবে আকাশের নিচে সর্বপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক, তাদের নিকট থেকে ফেতনা প্রকাশ পাবে, অতঃপর সে ফেতনায় তারা নিজেরাই জড়িয়ে পড়বে।” (বায়হাকীর শু‘আবুল ঈমান কিতাবের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৩৮)
সুতরাং কি করে এ সকল আলেম মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিবে? বর্তমান বিশ্বে মানুষের জীবন নানাবিধ জটিল সমস্যায় জর্জরিত। এ সকল সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য মানুষ যখন কোনো নামধারী আলেমের শরণাপন্ন হয়, তার ভুল পরামর্শে মানুষের সমস্যা দূরীভূত হয় না। বরং অনেক সময় এর জটিলতা বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে সমস্যা নিয়ে মানুষ যখন কোনো অলী-আল্লাহর শরণাপন্ন হয়, তখন ঐ সমস্যার সমাধান পাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহ ও রাসুলের নৈকট্য লাভের পদ্ধতির সন্ধান পায়। অলী-আল্লাহগণ আল্লাহর ঐশী জ্ঞান ও শক্তির অধিকারী হন, ফলে কি করলে মানুষের সমস্যা দূর হবে, সে বিষয়ে তাঁরা পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকেন। সুতরাং বিশ্বাসের সাথে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী চললে, এমন কোনো সমস্যা নেই, যা দূরীভূত হয় না। আল্লাহ বলেন, “আর রাহমানু ফাসআল বিহী খাবীরা।” অর্থাৎ- তিনিই রাহমান, তাঁর সম্বন্ধে যিনি অবগত আছেন, তাঁকে জিজ্ঞেস করে দেখো। (সূরা আল ফুরকান ২৫ : আয়াত ৫৯)
এমনিভাবে আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন “মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ একশ’ রহমত সৃষ্টি করেন। এর মধ্য থেকে একটি রহমত তিনি পৃথিবীবাসীর মাঝে বন্টন করে দেন। আর তিনি তাদের মাঝে এটি ছড়িয়ে দেন নির্ধারিত এক সময়ের জন্য। অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমত সুমহান আল্লাহ আওলীয়ায়ে কেরামের জন্য সঞ্চিত রেখেছেন। অতঃপর মহামহিম আল্লাহ পৃথিবীবাসীর মাঝে যে একটি রহমত বন্টন করেছেন, কিয়ামত দিবসে তা গুটিয়ে নেবেন এবং নিরানব্বইটি রহমতের সাথে তা সংযুক্ত করে সর্বমোট একশ’ রহমতই আওলীয়ায়ে কেরামের জন্য নির্ধারণ করে দেবেন।” (মুসনাদে আহমদ ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৩)
সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত এ অপরিসীম রহমতের কারণে মানুষ আওলীয়ায়ে কেরামের সহবতে গিয়ে হৃদয় মাঝে স্বর্গীয় প্রশান্তি লাভ করে এবং আল্লাহর অলীর নিকট গিয়ে মানুষের মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এ কারণে অলী-আল্লাহর প্রতি মানুষের ভক্তি শ্রদ্ধা দিন দিন বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে নামধারী আলেমের এ বিষয়ে অজ্ঞতা ও অক্ষমতার কারণে মানুষ তাদের প্রতি ভীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়াও তাদের এলেম (জ্ঞান) এবং আমলের (কাজ) মাঝে যে তারতম্য, তা দেখেও মানুষ তাদের প্রতি শ্রদ্ধা হারায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here