মারাত্মক করোনা ঝুঁকিতে ৫ লাখ পথশিশু

0
262
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পথশিশুরা রয়েছে মারাত্নক ঝুঁকিতে।

নারী ও শিশু ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সব মানুষ যখন ঘরে, তখন ঘরহীন পথশিশুরা দল বেঁধে ঘুরছে, খেলছে। রেলস্টেশন বাস টার্মিনাল, কোনো ভবনের নিচে জটলা করছে, পাশাপাশি ঘুমাচ্ছে। সবকিছু বন্ধ বলে নিয়মিত খাবার জুটছে না তাদের।

ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস ঝুঁকির কারণে লকডাউন করা হয়েছে বাংলাদেশের অর্ধেক জেলা ও উপজেলা। কিন্তু করোনার লকডাউনে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের ছিন্নমূল পথশিশুরা।

শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, এরা নিজেরা যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে, তেমনি এদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথশিশুদের সংঘবদ্ধ চলাফেরা ও রাতযাপনের কারণে করোনাভাইরাসের বাহক হিসাবে খুব ঝুঁকির মধ্যে আছে এরা। সংক্রমণ ঠেকাতে এই পথশিশুদের নিরাপদ স্থানে রাখার পরামর্শ তাদের।

সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক আবদুল্লা আল মামুন বলেন, পথশিশুদের সংক্রমণের হার কম। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঝুঁকিতে আছে এরা। এরা ভাইরাসটির বাহক হিসেবে কাজ করতে পারে। কেননা এই সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। ফলে এদের মাধ্যমে সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে। নিজেদের কমিউনিটিতে এরা ঝুঁকি তৈরি করবে। এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, রাতের বেলা একসঙ্গে থাকে।

সরকারের বাজেটে পথশিশু পুনর্বাসন কার্যক্রম আছে। অন্তত মেগা সিটিগুলোতে যে শিশুরা আছে তাদের জন্য করোনায় বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের পরিচালক। পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

আবদুল্লা আল মামুন বলেন, এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। পথশিশুদের আশ্রয় হিসেবে অস্থায়ীভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক এটা করা সম্ভব। স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া যাবে, অবকাঠামো প্রস্তুত, শুধু সঠিক পরিকল্পনা দরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণপূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. মোজাহেরুল হক বলেন, করোনা মহামারিতে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছিন্নমূল মানুষ। তারা গাদাগাদি করে অনেকে একসঙ্গে থাকে। বস্তির রাস্তাগুলো অনেক সরু হওয়ায় তাদের একজন অপরজনের শরীরের সংস্পর্শে আসতেই হচ্ছে।

ত্রাণ বিতরণের যেকোনো অব্যবস্থাপনাও অসহায় মানুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হচ্ছে বলে জানান ডা. মোজাহেরুল। স্বল্প আয়ের এসব মানুষ ত্রাণের আশায় বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে আসছে। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে তারা মৃত্যুঝুঁকি নিচ্ছে। কেউ সচেতন নন, কেউ বা করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার বিষয়টি পাত্তাই দিচ্ছেন না। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here