মুক্তিযুদ্ধে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী

3
480

এ আর মাসুদ করিম

স্বাধীনতার প্রতি গভীর মমত্বে কবি রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায় লিখেছেন-
‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়?’

পাকিস্তান সরকার ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বাঙালীদের উপর শাসনের নামে শোষণ চালায়। নির্বাচনে বাঙালীদের বিজয় হওয়ায় ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাক সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালীদের উপর। ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা আশ্রয়হীন, খাদ্যহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবতার মুক্তির দূত, স্বাধীনতার আধ্যাত্মিক স্থপতি সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান ছুটে এলেন সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে। নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। এদেশের আলেম সমাজ তখন ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ বলে পাক প্রেমে উদ্বেলিত হয়ে আল বদর, আল সামসসহ নানা বাহিনী গঠন করে আত্মঘাতি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। অথচ হযরত রাসুল (সা.) বলেন, “হুব্বুল ওয়াতানে মিনাল ঈমান” অর্থাৎ- দেশকে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। আর এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তালশহর আলীয়া মাদ্রাসার ভিপি, তৎকালীন ছাত্র নেতা হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান মাতৃভূমির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিলেন। মাদ্রাসার ছাত্র হয়েও তিনি দেশমাতৃকার প্রয়োজনে ১৯৭১ সালে ১১ এপ্রিল ৭২ জন সঙ্গী নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। যা ছিল এক দুর্লভ ঘটনা। যুদ্ধ মানেই জীবন মৃত্যুর লড়াই। যুদ্ধ যাত্রার প্রাক্কালে তিনি পরিবারের সবাইকে বললেন, “যদি পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে দেশ স্বাধীন করতে পারি, তবেই আমি আপনাদের কোলে ফিরে আসবো, আর তা না হলে এটাই আপনাদের সাথে আমার শেষ দেখা।” ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২১ জুন পর্যন্ত সময়ে তিনি শাহবাজপুর, মাধবপুর, মনতলা, বাগসাইরে সরাসরি যুদ্ধ, সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া অ্যাম্বুশ, তেলিয়াপাড়া ভয়াবহ যুদ্ধসহ অসংখ্য যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেন। ২১ জুন বাংলাদেশের মনতলা ঘাঁটি পতনের পর ৩নং সেক্টর হেডকোয়ার্টার ভারতের মনতলা চা বাগানে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিন ২২ জুন থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বহু অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন।

তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লা ৩নং সেক্টর হেডকোয়ার্টারে কর্তব্যরত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের শপথ বাক্য পাঠ করানো, তাঁদের দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করে রণাঙ্গণে প্রেরণ করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতা করা ইত্যাদি কাজে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতেন। বীর মুক্তিযোদ্ধারা তখন প্রাণপণে যুদ্ধ করে চলেছে। কিন্তু কবে বিজয় আসবে কিংবা অদৌ বিজয় আসবে কি-না, তা কেউ বলা তো দূরের কথা, কল্পনাও করতে পারতো না। তিনি বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ বিহীন ছাত্র-যুবকরা অসংঘটিত অবস্থায় যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রতি পদে পদে মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছি। অস্ত্রবিহীন, খাদ্যবিহীন চরম অবস্থায়ও মাতৃভূমির স্বাধীনতার চেতনায় আমরা ইমানের বলে বলীয়ান ছিলাম। সেই চরম অবস্থায়ও আমরা সবসময় আমাদের প্রতি আল্লাহ্র অবারিত রহমত বর্ষণের প্রমাণ পেয়েছি। ফলে পাহাড়-পর্বতে, বনে-জঙ্গলে দিনের পর দিন অনাহারে থেকে বৃষ্টিতে ভিজেও আমরা দুর্বল হইনি, অসুস্থ হইনি, আমাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়েনি। বরং আমরা প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছি। এরই মধ্যে একদিন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানী সাহেব ৩নং সেক্টর পরিদর্শনে আসেন। তিনি তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সুফী সম্রাট হুজুর কেব্লার হাতে হাত মিলিয়ে বললেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ যদি ভিয়েতনামের মতো ২০ বছর হয় আপনারা তা করতে পারবেন তো? জবাবে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লা বলেছিলেন, “শুধু বিশ বছর নয়, প্রয়োজনে সারা জীবন যুদ্ধ করতে হলেও দেশ স্বাধীন না করে দেশে ফিরবো না।” এ কথা শুনে ওসমানী সাহেব সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আপনার মতো সাহসী যোদ্ধা থাকতে এদেশ কখনো পরাধীন থাকতে পারে না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ছিনিয়ে আনবোই, ইনশাল্লাহ্।”

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লা বলেন, একদিন ৩৩ জন যোদ্ধাকে নিয়ে অ্যাম্বুশে যাচ্ছি। এমন সময় একটি আর্টিলারি সেল এসে আমাদের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়। এতে তৎক্ষণাৎ ৬জন যোদ্ধা শহীদ হন এবং আরো বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়। এ ধরনের ঘটনা দেখেও আমরা ভেঙ্গে পড়িনি বরং আল্লাহ্র উপর ভরসা করে দৃঢ় মনোবল নিয়ে যুদ্ধ করে এগিয়ে গেছি। আল্লাহ্র খাছ রহমত থাকায় আমরা একটি শক্তিশালী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশ ও জাতিকে শত্রুমুক্ত করে অর্জন করেছি স্বাধীনতা। তবে এর জন্য আমাদেরকে চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে এক সময় একাধারে ১৭ দিন শুধু গাছের পাতা খেয়ে আমাদেরকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে এবং রাতে জঙ্গলে থেকে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি। অনেক সময় ভাতের সাথে শুধু ডাল দেয়া হতো। আর সেই ডাল ছিল শুধু গরম পানির সাথে হলুদের মিশ্রণ। তাও আবার লুঙ্গির মধ্যে ঢেলে দেয়া হতো। অনেক সময় দিনের পর দিন পানির মধ্যে কচুরিপানা মাথায় দিয়ে যুদ্ধ করতে হয়েছে। যেহেতু ঐ সময়টা ছিল বর্ষাকাল। তখন শরীরের নিম্নাংশে পানি জোঁক কত যে ধরেছে তা হিসাব কষার সময় ছিল না। এভাবে আশা-নিরাশার দোলাচলে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন অতিবাহিত হতে লাগলো। আমরা তখন ধরেই নিয়েছি যদি আমরা দেশ স্বাধীন করতে না পারি, তবে দেশে ফিরলে আমাদের নিশ্চিত ফাঁসি হবে। সুতরাং বাঁচি অথবা মরি দেশকে স্বাধীন করেই ছাড়বো।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা হেজামারা ৩নং সেক্টর হেডকোয়ার্টার। যুদ্ধের মাঝেও মুক্তিযোদ্ধারা রমজান মাসে রোজা পালন করছেন। ঈদুল ফিতরের দু’দিন আগে সেক্টর কমান্ডার কে এম শফিউল্ল্যাাহ সাহেব সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাকে বলেন, হুজুর! ১৯ নভেম্বর পবিত্র ঈদুল ফিতর। আপনি ঈদের জামাতের প্রস্তুতি নিন। আপনাকে নামাজ পড়াতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ানবাগী হুজুর কেব্লাজান আগরতলার মার্কেটগুলোর কোনটিতে খুৎবার বই খুঁজে পাননি। তিনি যেহেতু একজন উচ্চ শিক্ষিত আলেম তাই নিজেই হাতে লিখে একটা খুৎবা তৈরি করে নিলেন। সেদিন ছিল ১৯ নভেম্বর। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যে ভারতের হেজামারার ১১তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট দফতরে ঈদের নামাজের জামাতের আয়োজন করা হয়। মুক্তিবাহিনীর সমস্ত কর্মকর্তা ও সৈনিকরা বিষণ্ন মন নিয়ে ঈদের জামাতে যোগ দেন। সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান বলেন- “তখন মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে দেখে কাঁদতে লাগলো। কারণ কারো মনে তো সুখ ছিল না। ভাই-বোন, বাবা-মা বাড়িতে আছে এবং এখান থেকে শুনতে পাচ্ছে তারা সেখানে অত্যাচারিত হচ্ছে। সুতরাং কারো মনে কোনো আনন্দ ছিল না। নামাজের পর খুৎবা দিতে গিয়ে আমি প্রচণ্ড আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলাম, “ঈদের চাঁদ ফিরে যাও তাদের কাছে যারা আমাদের মা বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আমাদের আবার কিসের ঈদ?” আমার এ আবেগপূর্ণ ভাষণ শুনে মুক্তিযোদ্ধারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলো। খুৎবার এক পর্যায়ে আমি সবার উদ্দেশ্যে বললাম, “আল্লাহ্র কসম! আপনারা সাক্ষী থাকেন, আগামী বকরা ঈদের আগে দেশ স্বাধীন হবে। আমি আপনাদের নিয়ে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঈদের জামাত আদায় করবো।” সেই দিনই আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বিকেলে পাক হানাদার বাহিনীর মুকুন্দপুর ঘাঁটি দখল করে বহু সৈন্য হতাহত করে ১৯ জন পাক সৈন্যকে ধরে নিয়ে আসে। এরপর থেকে প্রতিটি স্থানেই মুক্তিযোদ্ধারা যেদিকেই গিয়েছে সেদিকেই পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে। আল্লাহ্ দয়া করে আমার সেই দিনের কথা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করেছেন এবং সত্যি সত্যি দেশ স্বাধীনের পরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সেই রোসকোর্স ময়দানে জামাত হয়েছিল। আমি তাতে ইমামতি করেছি।”

পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা যে মুক্তিযোদ্ধাদের খাস সহায়তা দান করেছেন, সে কথা বলতে গিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লা বলেন, “তাঁবুতে বসে প্রাত্যহিক নিয়মে আমি এক রাতে (শেষ রাতে) মোরাকাবা করছিলাম। এমন সময় শীতল কিছু আমার হাত দ্বারা অনুভব করে চমকে উঠলাম। ছোট টর্চ দিয়ে দেখি আমার পাশে একটি গোখরা সাপ ফনা ধরে ফোঁস ফোঁস করছে। আমি উপায়ান্তর না দেখে মনে মনে আল্লাহ্র সাহায্য চাইলাম আর সাপটিকে উদ্দেশ্য করে বললাম- ‘হে সাপ! তুমি যাঁর সৃষ্টি আমিও তাঁরই সৃষ্টি। তোমার কাজে তুমি যাও, আমার কাজ আমাকে করতে দাও।’ এ কথা বলা মাত্রই সাপটি মাথা নীচু করে তাঁবু থেকে বের হয়ে গেল।’’

জাতির এ শ্রেষ্ঠ সন্তান বলেন, এ কথা সত্য যে, মহান আল্লাহ্র বিশেষ দয়া ব্যতীত আমাদের ক্ষুদ্র শক্তির সাহায্যে এ দেশেকে আমরা স্বাধীন করতে পারতাম না। সৃষ্টিজগৎ দু’ভাগে বিভক্ত। একটি হচ্ছে স্থুল জগত, আরেকটি হচ্ছে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জগত। পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশ আছে। সেগুলো রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে বিভক্ত হয়েছে। রাজনৈতিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশের প্রশাসন আছে। তেমনিভাবে মহান রাব্বুল আলামিনেরও সৃষ্টিজগত পরিচালনার জন্য একটি প্রশাসন আছে। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন দয়া করে তাঁর প্রসাশনেরর মাধ্যমে আমাদেরকে সাহায্য করেছেন বিধায় আমরা স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে- “সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহ্র দলই জয়ী” (সূরা মুজাদালাহ : আয়াত ২২)। অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- “নিশ্চয় আল্লাহ্র দল বিজয়ী” (সূরা মায়িদা : আয়াত ৮৬)। আসলে শুধু বাংলাদেশ নয়, অতীতে যত জাতি মুক্তি পেয়েছে, স্বাধীন হয়েছে, প্রত্যেক জাতির পেছনে অলী-আল্লাহ্গণের ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের সাহায্য না থাকলে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা যায় না। আল্লাহ্ আমাদেরকে তাঁর অবারিত রহমত দিয়ে হেফাজত করে পরম বিজয় এনে দিয়েছেন। ফলে আমাদের এ দেশ বিশ্বের দরবারে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে সগৌরবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। সুতরাং সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি যুগের ইমাম হিসেবে আধ্যাত্মিকভাবে দেশের মুক্তি সংগ্রাম তরান্বিত করে জাতির স্বাধীনতার জন্য প্রয়াস চালিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তা না হলে দুর্ধর্ষ এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সুসজ্জিত প্রশিক্ষিত একটি সেনাবাহিনীর সাথে লাঠি আর অল্প কিছু সরঞ্জাম নিয়ে মাত্র নয় মাসে দেশ স্বাধীন করা কোনো জাতির পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব নয়। অতীত ইতিহাস তার সাক্ষী বহন করছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট বলেন, জীবনবাজি রেখে, বহু প্রাণ উৎসর্গ করে ৯ মাসে আমরা ৫৫ হাজার বর্গমাইল স্বাধীন করেছি কিন্তু ৫৫ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে কোথাও মহান রাব্বুল আলামিনকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ তিনি বিরাজ করেন মানব দেহের মাঝে। আমাদের দেহের ভিতরে যেমন রূহ্ আছে তেমনি ষড়রিপুও আছে। আমরা যদি সাধনা করে ষড়রিপুর বেড়াজাল থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে পারি তাহলেই সত্যিকারের স্বাধীনতা লাভে সক্ষম হবো। আজ স্বাধীন দেশে আমরা বসবাস করলেও আমাদের মূলসত্তা মানবাত্মা নফসের অধীন বন্দী হয়ে আছে। নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমাদের বিজীয় হতে হবে। এখন আত্মনিয়োগ করেছি কিভাবে মানুষকে নফসের বেড়াজাল থেকে স্বাধীন করা যায়। ৫৫ হাজার বর্গমাইল স্বাধীন করতে ৯ মাস সময় লেগেছে। কিন্তু মানুষের সাড়ে ৩ হাত দেহ মানব জমিন স্বাধীন করাটা সত্যিই কঠিন। নিজের মাত্র সাড়ে ৩ হাত দেহের উপরই আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আর এ সাড়ে ৩ হাত দেহকে স্বাধীন করতে পারলেই আমরা আল্লাহ্র নির্দেশে নিজেদেরকে পরিচালিত করতে পারবো। সেজন্য আমাদেরকে আল্লাহ্র মনোনীত শিক্ষক অলী-আল্লাহ্র সান্নিধ্য গ্রহণ করতে হবে। তাঁদের হৃদয়ের আলো দ্বারা নিজের হৃদয়কে প্রজ্বলিত করতে হবে। সাধনার মাধ্যমে যিনি নিজেকে আল্লাহ্র আলোতে আলোকিত করতে সক্ষম হয়েছেন, তিনিই পরিপূর্ণ স্বাধীন। তিনিই মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতিনিধি। আর যিনি প্রতিনিধির মর্যাদা লাভে সক্ষম হয়েছেন, তিনি সমগ্র সৃষ্টির উপর প্রভুত্ব করতে সক্ষম। শত্রুর সাথে যুদ্ধ করে আমরা দেশকে স্বাধীন করেছি। নফসের সাথে যুদ্ধ করে আত্মাকে মুক্ত করতে পারলেই আমাদের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে। তবেই আসবে প্রকৃত স্বাধীনতা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট বলেন, কোনো জাতি ততদিন উন্নত হতে পারে না, যে পর্যন্ত জাতি চরিত্রবান হতে না পারে। চরিত্রবান লোক ছাড়া সমাজে শান্তি আসে না। সমাজের সাধারণ মানুষের শিক্ষা মানুষকে চরিত্রবাণ করতে পারে না। এজন্য আল্লাহ্ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল, মহামানব পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। যাঁরা সমাজের অসভ্য এবং বর্বর জাতিকে আদর্শ চরিত্রে চরিত্রবান করে আলোকিত করেছেন। কারণ প্রত্যেক মহামানবই আল্লাহ্র নুরে নুরানি। কিতাবের বিদ্যা দিয়ে কেউ মানুষকে চরিত্রবান করতে পারে না। চরিত্রবান করতে গেলে নুরের (আলো) জ্ঞান প্রয়োজন। কেননা, কিতাবে লিখিত আলো দ্বারা রাতের অন্ধকার দূর করা যায় না। জ্বালানো বাতি দ্বারা অন্ধকার দূর করা সম্ভব। অলী-আল্লাহ্গণের সোহবতে থেকেই তা সম্ভব।

সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান বলেন, আমি ঐ কোর্স শিক্ষা দেই, যেই কোর্স শিক্ষা করলে একজন মানুষ আল্লাহ্র বন্ধু হতে পারে। তাঁর মানব মুক্তির এ মহান আদর্শ সারা বিশ্বে সাদরে গৃহীত। আজ তিনি শুধু বাঙালী জাতির জন্যই নয়, সারা বিশ্বের মানবতার মুক্তির কাণ্ডারী। তাঁর এ মহান শিক্ষা এবং আদর্শ ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের ১৩২টি দেশে সমাদৃত। তিনি বাংলার মানুষকে আদর্শ চরিত্রবান করে সোনার বাংলা গড়ার পাশাপাশি সারাবিশ্বের মানুষকে রাসুলের আদর্শে আদর্শবান করে শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য মহান প্রয়াস চালাচ্ছেন, আশেকে রাসুল তৈরি করে যাচ্ছেন। বিজয়ের মাসে এ মহান বীর মুক্তিযোদ্ধার সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘয়ূ কামনা করে পরশময় কদম মোবারকে জানাই লাখো কদমবুসি।
তথ্যসূত্র :
১. আল কুরআন
২. আল হাদিস
৩. সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ
৪. সূফী সম্রাট স্মরণিকা
৫. আমি বিজয় দেখেছি, এম আর আখতার মুকুল
৬. মুক্তিযুদ্ধে আনসার কর্মকর্তা শাহ মো. আনসার উদ্দীন, শাহ মো. আনসার উদ্দীন

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here