মুক্তির পাথেয় মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ

11
1066

আশেকে রাসুল আল-আমিন ভূঁইয়া
আরবি অভিধানে মিলাদের তিনটি শব্দের ব্যবহার পাওয়া যায়। মিলাদ, মাওলেদ এবং মাওলুদ এ তিনটি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো জন্মদিন, জন্মকাল এবং জন্মস্থান প্রভৃতি। তাই শাব্দিক অর্থে বলতে পারি, ‘‘যে কোনো মু’মিন ব্যক্তির জীবন বৃত্তান্ত সুন্দর ও শ্রদ্ধার সাথে স্মৃতিগ্রন্থ করাকে মিলাদ বলা যায়।’’ আর আরবি সালাত শব্দের সমার্থক শব্দ হলো ‘দরূদ’। ‘দরূদ’ শব্দের অর্থ হলো, ‘‘শুভ কামনা বা কল্যাণ কামনা করা।’’ তাই দরুদ ও মিলাদ শব্দদ্বয়ের মর্মার্থ হলো, কল্যাণ কামনার নিমিত্তে জীবন বৃত্তান্ত আলোচনা ও শ্রদ্ধার সাথে তাজিম করা।
মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘‘নিশ্চয় মহান আল্লাহ্ স্বয়ং ও তাঁর ফেরেশতারা নবির উপরে দরূদ পাঠ করেন, হে মু’মিনগণ! তোমারাও তাঁর উপর দরূদ পড় এবং শ্রদ্ধার সাথে সালাম পেশ করো।’’ (সূরা আল আহযাব ৩৩ : আয়াত ৫৬)। তিনি আরও বলেন, ‘‘হে হাবিব! আমি আপনাকে জগৎসমূহের রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।’’ তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত পেতে হলে হযরত রাসুল (সা.)-এর উপর দরুদ ও মিলাদ পাঠ করা অতিব গুরুত্বপূর্ণ।

মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ প্রণয়ন করেছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, মিলাদ শরীফ পাঠ করতে গিয়ে পড়া হয় ‘ইয়া নবি সালামু আলাইকা’। অথচ হযরত রাসুল (সা.) মেরাজে গিয়ে সকল নবি-রাসুলকে নিয়ে ২ রাকাত নামাজ আদায় করেছেন। দয়াল রাসুল (সা.) সেই জামাতের ইমামতি করেছিলেন। আমরা কালেমা পাঠ করতে গিয়েও বলি, ‘ইমামুল মুরসালিনা খাতামুন নাবিয়্যিন’। তাই মিলাদে ‘ইয়া নবি’ বলার চেয়ে ‘ইয়া ইমাম’ বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা অতিব মর্যাদাপূর্ণ। ফলে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফে ‘ইয়া ইমাম সালামু আলাইকা’ বলা হয়।

সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান এতো সুন্দরভাবে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ প্রণয়ন করেছেন, যা হযরত রাসুল (সা.)-এর সম্মান ও মর্যাদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে বিশ্বের বুকে আমাদের এই মাতৃভাষা বাংলাকে করেছে অনন্য মর্যাদাসম্পন্ন। বর্তমান বিশ্বের ১৩২টি দেশে আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলায় মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ পাঠ করা হয়। আল্লাহর মহান বন্ধু অত্যন্ত সুন্দর ও ধারাবাহিকভাবে এমন মিলাদ শরীফ প্রণয়ন করেছেন, যা মোহাম্মদী ইসলামকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত।

হযরত রাসুল (সা.) হলেন ‘নুরে মোহাম্মদী’ তথা হেদায়েতের নুর। নুরে মোহাম্মদীকে সম্মানের সাথে শ্রদ্ধা ও তাজিম করার জন্য সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান মিলাদে পাঠ করতে বলেন, ‘‘নূর নবীজির আগমনে জগৎ হলো উজালা, পড় দরূদ তাঁর উপরে ওহে আশেকে নিরালা।’’

অপরদিকে মহান রাব্বুল ইজ্জত সমস্ত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃজন করার পূর্বে নুরে মোহাম্মদীকে সৃজন করেছেন। আর নুরে মোহাম্মদী থেকে সমস্ত সৃষ্টিজগত সৃজন করেছেন। তাই মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফে আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা বর্ণনা করতে পাঠ করা হয়, ‘‘আপনার এশকে সকল সৃজন ঐ আকাশ আর এই জমিন, সকল সৃষ্টির মূলে আপনি রাহমাতাল্লিত আলামিন।’’

মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী সাধনা করলে একজন মানুষ তাঁর হায়াতে জিন্দেগিতে মহান মালিকের দিদার লাভ ও কথা বলতে পারে। যেমন : ‘‘হযরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে তাঁর প্রভুর দর্শন লাভ করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথোপকথন করেছিলেন।’’ সেই ঘটনা পবিত্র কুরআনে বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ‘‘মহান আল্লাহর নুরের রূপ আছে, তিনি নিরাকার নন।’’ তাই মিলাদ শরীফে পাঠ করা হয়, তুর পাহাড়ে মুসা নবি জুতা খোলার আদেশ পায়, দয়াল রাসুলের জুতার ধূলায় আল্লাহর আরশ ধন্য হয়।’’
এই বিশ্ব ব্রম্মাণ্ডের সকল কিছুর শুরু যেমন আছে তেমনি তাঁর শেষও আছে। তদ্রূপ মানুষের যেমন জন্ম আছে তেমনি মৃত্যুও আছে। তাই মহান আল্লাহ্ বলেন, তোমরা মৃত্যুকে ভয় করো ও আখিরাতের কথা চিন্তা করো। একজন মানুষ যাতে মৃত্যুর কথা চিন্তা করে আল্লাহর নির্দেশিত পথে নিজেকে পরিচালিত করতে পারে। সেই জন্য সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফে মৃত্যুর পূর্বেই হযরত রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং মৃত্যুর পরে গোসল, জানাজা, কবরে শায়িত করা ইত্যাদি ঘটনাসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। ফলে একজন নিকৃষ্ট চরিত্রের মানুষও যদি খালেছ নিয়তে এই মিলাদ শরীফ পাঠ করে তাহলে তাঁর মাঝে আল্লাহ্ তায়ালা ও হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রেম সৃষ্টি হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই প্রেমই তাকে মনজিলে মকসুদে পৌঁছে দিতে সক্ষম।

অপরদিকে আমাদের সমাজের এক শ্রেণির লোক বলে থাকেন, হযরত রাসুল (সা.)-এর পিতা-মাতা মুসলমানই ছিলেন না। একথাটা সম্পূর্ণ ভুল। অথচ তাঁরা প্রথম শ্রেণীর মুসলমান ছিলেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান হযরত রাসুল (সা.)-এর পিতা-মাতাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে বলেছেন, যে সম্মানিত পিতা-মাতার অসিলায় আমরা আমাদের প্রিয় রাসুল (সা.)-কে পেয়েছি তাঁদেরকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে। একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আপনার পিতা-মাতাকে যদি সম্মান প্রদর্শন করে, তাহলে অবধারিতভাবে আপনিও তাকে সম্মান করবেন ও ভালোবাসবেন। তেমনি দয়াল রাসুল (সা.)-এর পিতা মাতাকে সম্মান করলে ও ভালোবাসলে তিনিও আমাদেরকে ভালোবাসবেন। তাই সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন, হযরত রাসুল (সা.)-এর পিতা-মাতার নাম বলার সময়, ‘‘হযরত আব্দুল্লাহ্ (আ.), হযরত আমিনা (আ.) ও দুধমা হযরত হালিমা (আ.)’’ বলে সম্মান করা অধিক ফজিলতপূর্ণ। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান হযরত রাসুল (সা.)-এর জীবন বৃত্তান্ত অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও তাজিমের সাথে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফে ধারাবহিকভাবে সংযোজন করেছেন।

পরিশেষে বলতে পারি যে, মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ পাঠের মাধ্যমেই আমরা বিভিন্ন প্রকার বিপদ আপদ ও মহামারি থেকে মুক্তি পেতে পারি। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন, আমরা যদি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফ পাঠ করি, তাহলে আমাদের অভাব অনটন, বালা-মসিবতের মাঝে মহান রাব্বুল আলামিনের সাহায্য পাব। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি নামে যে খোদায়ি গজব নাজিল হয়েছে, তা জনজীবনকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই ভাইরাসের কোনো ঔষধ এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এই অবস্থায় আমাদের সকলের একটাই করণীয় হলো সকাল-সন্ধ্যা রাহমাতুল্লিল আলামিনের শানে মিলাদ পাঠ করা। দরূদ ও মিলাদ পাঠের মাধ্যমেই রহমত লাভ করা সম্ভব। আর রহমত যেখানে থাকে গজব সেখানে থাকতে পারে না। তাই যুগের ইমাম সূফী সম্র্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের পরামর্শ অনুযায়ী বেশি বেশি করে মিলাদ পাঠ করলে ‘করোনা’ নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমাদের সকলের উচিৎ বেশি বেশি করে দয়াল রাসুল (সা.)-এর শানে মিলাদ পাঠ করা এবং রাসুল (সা.)-এর অসিলা ধরে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে সাহায্য চাওয়া। তাহলেই আমরা এই মহামারি থেকে রক্ষা পাব। ওগো দয়াল মওলা! দয়াল খোদা!! আমাদের সকলকে যুগের ইমামের নির্দেশ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন

11 COMMENTS

  1. আলহামদুলিল্লাহ্, আমাদের মহান মোর্শেদ যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীর পরশময় নূরের পবিত্র কদম মোবারকে কোটি কোটি শুকরিয়া ও কদম বুচি জানাই।

  2. আলহামদুলিল্লাহ্‌! মিলাদ সম্পর্কে বিশদ বিদরন জানতে পারলামা। এবং বুঝলাম মহান আল্লাহ তাবারক তায়ালার শোকর গোজার করার এক অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে মিলাদ । ভালো কাজ করলে যেমন শান্তি পাওয়া যায় ঠিক তেমনি মোহাম্মদি ইসলামের মিলাদ শরিদ পাঠ করলেও এক স্বর্গীয় ফায়েজ পাওয়া যায় । যেই ফায়েজের মাধ্যমে পাপের কালিমায় কুলষিত আত্মার পাপ মোচন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here