মেধাবী সন্তান পেতে মায়েদের করণীয়

2
525

নারী ও শিশু ডেস্ক: সব মা চান তার সন্তান যেন মেধাবী ও বুদ্ধিমান হয়। আর এটা নির্ভর করে অনেকটা মায়ের সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর। যদি একজন মা পুষ্টিকর খাবার না খান তাহলে তার শরীরে যে ঘটাতি তৈরি হয় সেটা সন্তানের ওপর গিয়ে পড়ে।

মায়ের সঠিক খাবারের অভাবে শিশুর মানসিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় মা কী খায় সেটা সন্তানের শারীরিক ও মানসিক গঠনে বড় ভূমিকা পালন করে। গর্ভাবস্থায় আপনি এমন কিছু খাবার খেতে পারেন যা আপনার বাচ্চার আইকিউ (ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট) বাড়াতে পারে।

বুদ্ধিমান সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পুষ্টিবিদরা কিছু খাবারের সুপারিশ করেছেন যেগুলো আসলে খুব দামি নয়:

মাছ: টুনা বা সুরমা মাছ সহ সাগরের মাছ, কার্প মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিডে সমৃদ্ধ। এগুলো বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুবই জরুরি। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় সপ্তাহে দুবারের বেশি মাছ খায় তাদের সন্তানের বুদ্ধি বা আইকিউ বেশি হয়।

ডিম: ডিম এ্যামিনো এ্যসিড কোলিন সমৃদ্ধ, যাতে মস্তিষ্কের গঠন ভালো হয় ও স্মরণশক্তি উন্নতি হয়। গর্ভবতী নারীদের দিনে অন্তত দুটো করে ডিম খাওয়া উচিত যার থেকে কোলিনের প্রয়োজনের অর্ধেক পাওয়া যায়। ডিমে থাকা প্রোটিন ও লোহা জন্মের সময় ওজন বাড়িয়ে দেয়।

দই: সন্তানের স্নায়ু কোষগুলো গঠনের জন্য আপনার শরীর প্রচুর পরিশ্রম করে। এ জন্য আপনার বাড়তি কিছু প্রোটিন লাগবে। আপনাকে প্রোটিনযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে যেমন : দই। দইয়ে ক্যালসিয়াম আছে যেটা গর্ভাবস্থায় লাগে।

আয়রন: আয়রন খুবই দরকারি একটি উপাদান। যা সন্তানকে বুদ্ধিমান হতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো গর্ভাবস্থায় অবশ্যই খাওয়া উচিত। আয়রন আপনার গর্ভের সন্তানের কাছে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। ছোলা, কলিজা, সিদ্ধ আলু, পালংশাক, যে কোনো ডাল, কুমড়ার বিচি প্রভৃতি উচ্চমাত্রার আয়রনের প্রাকৃতিক উৎস। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট: কাঠবাদাম, গ্রিন টি, আঙুর, ভুট্টা, লাল আটা, বাদাম তেল, জলপাই, খেজুর, উদ্ভিজ তেল, ব্রোকলিতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় এই ফলগুলো আপনার সন্তানের মস্তিষ্কের টিস্যুকে রক্ষা করে ও বিকাশে সাহায্য করে।

ভিটামিন-ডি: এটা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুব দরকার। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মায়েদের ভিটামিনের মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে কম থাকে তাদের বাচ্চার মস্তিষ্ক দুর্বল হয়। ডিম, পনির, গরুর মাংস, কলিজা ইত্যাদি খাবারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এছাড়া ভিটামিন-ডি ফ্রি ভাণ্ডার সূর্যের আলো তো আছেই।
আয়োডিন: আয়োডিনের অভাব, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহে সন্তানের আইকিউ কম করে দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় আয়োডিনযুক্ত লবণ খান। এছাড়া সামুদ্রিক মাছ, টকদই, কলা, ভুট্টা, ডিম, চিংড়ি আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ করে।

ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট: মস্তিষ্কের কোষ গঠনে ফলিক অ্যাসিড খুব প্রয়োজনীয়। একটা গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীরা গর্ভবস্থায় সন্তান প্রসবের চার সপ্তাহ আগে ও আট সপ্তাহ পর অবধি ফলিক অ্যাসিড নিয়ে থাকে তাদের ৪০ শতাংশ অটিস্টিক সন্তান জন্ম দেওয়ার আশংকা কম থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here