মোবাইলেই করুন ভিডিও এডিটিং

1
217

লুৎফুল্লাহিল মাজিদ পরাগ
প্রযুক্তি ডেস্ক : হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে অস্থির হয়ে গেছেন? আপনার কি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের জন্য কনটেন্ট নির্মাণের ঝোঁক আছে? বাহিরের বিনোদন উপভোগ না করে নিজেই বিনোদনের কনটেন্ট বানানোর মাধ্যম হয়ে যেতে পারেন। মজার মজার ভিডিও করে মোবাইলেই এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতে পারেন । ইউটিউবের জন্য ভিডিও নির্মাণে অনেকেই এখন স্মার্টফোনে নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে থাকে।

স্মার্টফোনে ব্যবহারযোগ্য বর্তমান সময়ের সেরা কিছু ভিডিও এডিটিং অ্যাপস সম্বন্ধে জেনে নিনঃ
Filmora Go
অনেক পেশাদার ইউটিউবার-ও এই শক্তিশালী এপ্লিকেশনটি ব্যবহার করছেন। এটি এন্ড্রয়েড অ্যাপ হলেও অনেক অ্যাডভান্সড ফাংশন যুক্ত আছে। যেমন ভিডিওর সাথে মিউজিক ইফেক্ট যোগ করা, টাইটেল এড করা, ভিডিওর জন্য বেছে নেওয়া যায় থিম। ভিডিও কাটিং, ট্রিমিং এর মত সাধারণ এডিটিং ফিচারতো আছেই। এডিটের সময় রিয়েলটাইম ভিডিও প্লে করা যায়। অনেক টেমপ্লেট ও ভিডিও ইফেক্ট পাবেন। Filmora Go অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবেন এবং বেশির ভাগ ফিচারস আপনারা ফ্রি ভার্সনে (free version) পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, Filmora Go app-এ ভিডিও বানিয়ে আপনি অনেক সহজে নিজের মোবাইলের গ্যালারিতে ভিডিও সেভ করতে পারবেন।

Adobe Premiere Clip
এটি একটি দ্রুত গতির নির্ভরযোগ্য ভিডিও এডিটিং অ্যাপ। এটি সম্পুর্ণ ফ্রি এবং প্রফেশনাল মাপের অ্যাপস। এর অটোমেটিক ভিডিও ক্রিয়েশন অপশনের মাধ্যমে আপনি ভিডিও এডিট করতে পারবেন। এতে রয়েছে অ্যাডভান্সড ভিডিও এডিটিং টুলস। ভিডিও কাটিং, ট্রিমিং, ট্রানজিশন, এডিং মিউজিক, ফিল্টার, ইফেক্ট ফটোমোশন ফিচারগুলোর জন্য এই অ্যাপসটি অনেক প্রফেশনালেরই পছন্দ ।

Power Director    
অন্যসকল ভিডিও এডিটরের মতই এই এডিটরটি সাধারণ ভিডিওকে আকর্ষণীয় ও প্রফেশনাল মানে করে তোলে। তবে এই অ্যাপসে আপনি কিছু অ্যাডভান্সড অপশন পাবেন যেগুলো অন্য এডিটিং এপ্লিকেশনে পাবেন না। এর দ্বারা ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড বদলানো, ভিডিও কাট, জোড়া লাগানো, স্লো-মোশন, বিভিন্ন ধরনের প্রফেশনাল টুল, ভিডিও ইফেক্টস, ছবি দিয়ে ভিডিও বানানো যায়। আরো একটি মজার ব্যাপার এই অ্যাপস এ এডিটিং শেষে ভিডিও ফাইলকে ফুল এইচডি (১০৮০ পি) এমনকি ৪ কে রেজুলুশনে সেইভ করতে পারবেন। এটিকে অনেকেই মোবাইলে ভিডিও এডিটিং-এর সেরা অ্যাপ বলে থাকে ।

VivaVideo – editor and photo movie
অনেক জনপ্রিয় ব্লগার, ইউটিউবার এই এপসকে এন্ড্রয়েড মোবাইলের সেরা অ্যাপ বলে বিবেচিত করেন। এই অ্যাপ ব্যবহার করে আপনারা নিজের মোবাইল থেকেই প্রফেশনাল মানের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। অন্যান্য অ্যাপসের মতো কিছু দরকারি এডিটিং ফাংশন যেমন, ভিডিও কাটা এবং জোড়া দেওয়া, ট্রিমিং, মার্জিং, সাবটাইটেল, ভিডিও ইফেক্টসসহ আরো অনেক ফিচার এখানে পাবেন।

Quik video editor
এই অ্যাপটি একটি আলাদা রকমের মোবাইল ভিডিও এডিটিং এপ। এটা অনেক ফাস্ট এবং পুরোটাই ফ্রি। আপনি নিজের মোবাইল গ্যালারি থেকে যে কোনো ফটো বা ভিডিও ক্লিপ বেঁছে নিয়ে তাকে এডিট করতে পারবেন। Quik দ্বারা আপনারা যে কোনো ক্লিপ এডিট করতে পারবেন এর অটোমেটিক ভিডিও ক্রিয়েশন ফাংশন দ্বারা। কিছু সাধারণ এডিটিং টুল যেমন, ভিডিও ক্রপ করা, এফেক্টস দেওয়া, টেক্সট-এর ব্যবহার করা এবং আরো অনেক টুলস আপনারা এখানে পাবেন।

Kinemaster – Pro
এটি এমন একটি এপ্লিকেশন যেটা এডভান্সড ও প্রফেশনাল ভিডিও তৈরি করার জন্য সব দিক দিয়ে সক্ষম। এই অ্যাপ ব্যবহার করে আপনারা মোবাইলেই কম্পিউটারের মতো ভিডিও বানাতে বা এডিট করতে পারবেন। এই এন্ড্রয়েড সফটওয়্যার অনেক অনেক শক্তিশালী। এর ইউজার ইন্টারফেস আপনাকে দারুণভাবে সহজে ভিডিও এডিট করতে সাহায্য করবে। এর অ্যাডভান্সড ফাংশনগুলো ব্যবহার করতে পারবেন খুব সহজেই। অন্য সব ধরনের ফিচার-এর সাথে কিছু আলাদা এডিটিং অপসন যেমন, ভিডিওর মাঝে মাঝে টেক্সট লিখা, ইফেক্ট দেওয়া, সাবটাইটেল দেওয়া ইত্যাদি ।

Magisto – editor & slideshow maker
এটি এওয়ার্ড উইনিং ফ্রি ভিডিও এডিটর অ্যাপ। এর ব্যবহার করে কেবল ৩টি স্টেপ পার করেই আপনারা আকর্ষণীয় প্রফেশনাল ভিডিও বানিয়ে নিতে পারবেন নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য। ইতোমধ্যেই প্রায় ১০০ মিলিয়ন লোকেরা এই অ্যাপ নিজের মোবাইলে ইনস্টল করেছেন। এই ফাংশন ব্যবহার করে আপনারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই, কিছু না করেই ভিডিও বানিয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু আগে আপনার একটি ভিডিও বা ফটো নিজের মোবাইল থেকে বেঁছে নিতে হবে। তারপর, একটি ভিডিও স্টাইল (video style) বেছে নিতে হবে। এরপর সবটাই অ্যাপ নিজে থেকে করে নেবে ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here