মোর্শেদের সান্নিধ্য লাভের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর নৈকট্য লাভ করা যায়

4
510

-সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী
বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, সারা পৃথিবীর জন্য চাঁদ একটাই। সুতরাং পৃথিবীর যে কোনো স্থান থেকে এই চাঁদ দেখা গেলে মানুষের জন্য হজ, কোরবানি, রমজান পালন করা ফরজ হয়ে যায়। যেহেতু চাঁদ একাধিক নয়, সেহেতু এই চাঁদকে পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চল থেকে দেখুক, পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সে মোতাবেক রোজা ও ঈদ পালন করা ফরজ হয়ে যায়। আমাদের দেশ-সহ আরো কয়েকটা দেশে চাঁদ দেখে ঈদ ও কোরবানি করে।

তিনি গত ৩১ জুলাই, শুক্রবার রাজধানী ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগস্থ বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে হাজার হাজার আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক দিচ্ছিলেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মহান আল্লাহ ও রাসুলকে পাওয়ার ধর্ম জগতে দিয়ে গেছেন নবি ও রাসুলগণ। নবি-রাসুলদের অবর্তমানে অলী-আল্লাহগণ। অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, অলী-আল্লাহদের বিরোধিতা করে, এক শ্রেণীর আলেম, ফতোয়াবাজ মনে করে তারাই ধর্ম জানে। অথচ তাদের কারো সাথে কী আল্লাহ ও রাসুলের যোগাযোগ আছে? এরা যদি আল্লাহ ও রাসুলের সাথে নিজেরা যোগাযোগ করতে না পারে, তাহলে তারা জাতিকে কীভাবে আল্লাহ ও রাসুলের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিবে? সুতরাং এদের কথা মতো চলতে গিয়ে জাতি নির্দ্বিধায় বিপথগামী হচ্ছে। সুতরাং সুপথে আসতে হলে নায়েবে রাসুল অলী-আল্লাহদের পরামর্শ মতো চলতে হবে। অলী-আল্লাহরাই পারেন আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে। অলী-আল্লাহরাই পারেন মানুষকে রাসুলের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিতে। হুজুরদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কী রাসুল (সা.)-কে দেখেছেন? বলবে না, আমিতো দেখিনি। আপনি দেখেননি তাহলে নায়েবে রাসুল হলেন কীভাবে? নায়েবে রাসুল হলে আপনাকে অবশ্যই রাসুল (সা.)-কে চিনতে হবে, জানতে হবে এবং রাসুলের বিধান মেনে চলতে হবে। মনগড়া ধর্ম করে আল্লাহ ও রাসুলকে পাওয়া যাবে না।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, ৯ জিলহজ, পবিত্র হজ। ইসলামি বিধান মতে হজের পরের দিন কোরবানি। তাহলে আমাদের আজ কোরবানি। সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য আজ কোরবানি। হজতো গতকালকে হয়ে গেছে। সত্য নয় কি? চাঁদ দেখার অজুহাত দেখিয়ে এই আলেমগণ বলেন- সৌদি আরবের একদিন পরে ঈদ করতে হবে। একদিন পরে রোজা রাখতে হবে। কিন্তু চাঁদতো পৃথিবীতে একটা। চাঁদ একটা হলে ঐ ৯ জিলহজ আরাফাতের মাঠে হাজিরা হজ করেছে। আমরা ১০ জিলহজ সারা বিশ্বে মুসলমানরা কোরবানি করবো। কিন্তু আমাদের কেন অপেক্ষা করতে হবে কোরবানির তারিখের জন্য? বিশ্বে এমন কোনো মাঠ আছে, যেই মাঠে হজ হয়? আরাফাতের মাঠ ব্যতীত আর কোথাও কি হজ করার মাঠ আছে? তাহলে আমরা এই ব্যাতিক্রম ধর্ম করে কিভাবে আল্লাহকে পেতে চাই? কিভাবে আল্লাহ ও রাসুলের সাথে যোগাযোগ করতে চাই? রাসুলের পরে হাদিস সংকলন করা হয়েছে। অনেক আছে জাল হাদিস। এই জাল হাদিস মতো চলে রাসুলকে কী পাওয়া যাবে? রাসুলকে পেতে হলে, যিনি সাধনা করে রাসুলকে পেয়েছেন, তাঁর সাথে যোগাযোগ করে তাঁর পরামর্শে সাধনা করে আল্লাহ ও রাসুলকে পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, তাকবিরে তাশরিক হজের দিন ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত। এখনো এরা তাকবির শুরু করেনি। তাকবির দেওয়া ওয়াজিব। তাহলে তাদের এই তাকবির যাবে কোথায়? সুতরাং ধর্ম না জেনে কাণ্ডজ্ঞানহীন হুজুর সেজে মানুষকে বিপথগামী করে এই অবস্থা করে রেখেছে। আজ সারা বিশ্বে করোনা মহামারি। কিন্তু কোনো হুজুর বলতে পারে না, কি করলে করোনার হাত থেকে বাঁচা যাবে? সেটা বলার যোগ্যতা তো তাদের নেই। কারণ তারাতো আল্লাহ ও রাসুলের সাথে যোগাযোগ করতে পারে না। সুতরাং এরা মনগড়া ধর্ম করে এবং মনগড়া ফতোয়া দিয়ে থাকে।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, হজের পরের দিন কোরবানি। যেহেতু নিয়ম হলো হজের পরের দিন কোরবানি। সুতরাং আজকে একটা কোরবানি দিচ্ছি। আর আগামিকালও একটা কোরবানি দেবো। আপনারাও হজের পরের দিন কোরবানি করেন এবং ইসলামি রীতি অনুযায়ী সেই পথে চলেন । বিধান হচ্ছে- আল্লাহর নামে কোরবানি দিতে হয়। সমাজের হুজুরেরা বলছে যে, সাত নামে কোরবানি দিতে হয়। অর্থাৎ একটি গরু সাত জনের পক্ষ থেকে কোরবানি করতে হয়। আর ছাগল, দুম্বা ও ভেড়া একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করতে হয়। আসলে কোরবানিটা এসেছে হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর কাছ থেকে। হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে তিনি আল্লাহর নামে কোরবানি করেছিলেন। হাজিরা হজ করতে যায়, ঐযুগে নবি-রাসুলগণ কে কি করেছিলেন, তাঁদের ঐ স্মৃতিকে অনুসরণ করা হয়। সাফা-মারওয়া পাহাড়, এখনো হাজিরা এক জায়গায় দৌড় দেয়, আরেক জায়গায় হেঁটে যায়। সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে মা হাজেরা দৌড়াদৌড়ি করছিলেন আর ফিরে ফিরে তাকাচ্ছিলেন তাঁর পুত্র আছে, নাকি বাঘে খেয়ে ফেলেছে। এখন যারা হজে যায়, সাফা-মারওয়া দৌড়ায় আবার ফিরে ফিরে তাকায়। এখন কি ইসমাঈল (আ.)-কে বাঘে খাওয়ার সম্ভাবনা আছে? তাহলে হাজিরা দৌড়াদৌড়ি করে কেন? এতে বুঝা যায় হজ করতে গিয়ে নবি-রাসুলেরা যে পদ্ধতিতে হজ করেছেন, তাদের অনুসরণ অনুকরণ করে। মূলত অলী-আল্লাহদের কাছে গিয়ে নবি-রাসুলদের অনুকরণের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসুলকে খুঁজে পায়।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, মাদ্রাসায় সিলেবাস পড়ায়। সিলেবাসে যতটুকু আছে ততটুকু। তার উপরে এই মাদ্রাসার সিলেবাস বানিয়েছে ব্রিটিশরা। এর আগে তো এই সিলেবাস ছিল না। এই বিপথগামীদের পরামর্শ মতো ধর্ম করে কারো মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ৯ জিলহজ থেকে তাকবির শুরু করেছি। ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত তাকবির দেবো। আমরা আজকে (শুক্রবার) কোরবানি করেছি। আগামিকালও (শনিবার) কোরবানি দেবো। কোরবানি তিন দিন করা যায়। কোরবানির মধ্যে একটা শান্তি আছে। আপনি কোরবানির পশুটাকে শুইয়ে রেখে, আপন ক্বালবে খেয়াল করে আল্লাহকে স্মরণ করে আল্লাহর নামে কোরবানি করলে, তখন আপনার মনে একটা পরম শান্তি অনুভূত হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, তোমাদের কোরবানির রক্ত মাংস আমার কাছে পৌঁছায় না। আমি দেখি তোমাদের অন্তকরণ। মূলত আমরাই খাই কোরবানি দিয়ে। কোরবানির শিক্ষাটা নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় পরিচালিত হবার কাজটা করতে হবে। প্রতি রমজান মাসে রোজা রাখি আমরা, তবে রমজান মাসের মতো অন্য মাসে আমরা একমাস রোজা রাখি না। সুতরাং নিয়ম মোতাবেক চলতে হবে। আল্লাহ একটা বিধি বিধান দিয়েছেন।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, আমরা চিন্তা করি আল্লাহ নিরাকার, আল্লাহকে দেখা যায় না। আমি যখন তাফসীরে লিখলাম- আল্লাহ আকার, তাঁর হাত আছে, পা আছে, চোখ আছে, চেহারা আছে, কদম মোবারক আছে। শুধু কুরআন দিয়ে লিখতে গিয়ে আট খণ্ড তাফসীর হয়েছে। এই তাফসীর পড়ে কোনো হুজুর আর মুখ খুলে না। কারণ সবইতো পবিত্র কুরআনের কথা। কুরআনে আল্লাহ ছিল আকার, সেই আল্লাহকে নিরাকার কে বা কারা বানিয়েছে? আল্লাহ সবকিছু দেখেন, শোনেন, কিন্তু তাঁকে নিরাকার কে বানিয়েছে? রাসুলকে বলা হয় গরিব। আমি পবিত্র কুরআন ও হাদিস দিয়ে প্রমাণ করেছি, রাসুল ধনী ছিলেন। ধনী রাসুলকে আপনি গরিব বললে আপনাকে শাফায়াত করবে কে? এখন যারা হজ করতে যায়, কাবাঘরের পাশে ঐ পাহাড়টায় যে ঘরে হযরত রাসুল (সা.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেটা দোতলা বিল্ডিং, চকচক করছে। এর পাশে তাঁর দাদা, চাচা এবং পরিবারের অন্যান্যদের যে বিশাল বাড়ি ছিল, তা এখনো বিদ্যমান। ভাঙ্গাচুড়া নয়, সবই স্বাভাবিক আছে। এগুলো দেখলে কি বুঝা যায় যে, রাসুল গরিব ছিলেন? যার এতগুলো বিল্ডিং, সে গরিব থাকে কীভাবে? আসলে আমাদেরকে ভুল বুঝানো হয়েছে। এই ভুলের উপরে আমরা প্রতিষ্ঠিত। হযরত রাসুল (সা.) ৭০ তালির জামা পরতেন। এটাইতো সমাজে বলা হয়। হযরত রাসুল (সা.) যত জামা ব্যবহার করেছেন, সবগুলো জামার ছবি আমি ভিডিওর মাধ্যমে আপনাদেরকে দেখিয়েছি। আমি একটা জামাতেও কোনো তালি পেলাম না। সবগুলো জামা অনেক উন্নত। তিনি একটা জামা ৩৩টা উট বিক্রি করে কিনেছিলেন। যার এত সম্পদ, সে কী গরিব হতে পারে? রাসুল (সা.)-এর প্রতি বিশ্বাস যদি ঠিক না হয়, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ঠিক না হয়, নামাজ পড়ে কী হবে? এই নামাজের মূল্য কী? সুতরাং আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি ইমান আনার পরে নামাজ পড়েন, বিশ্বাস করেন, এই বিশ্বাস আপনাকে সাহায্য করবে।

সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, একদল লোক মাদ্রাসা থেকে সিলেবাস পড়েই অলী-আল্লাহদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়া শুরু করে। মাদ্রাসায় তারা কি পড়েছে? ঐ সিলেবাস তো আমরাও পড়ে এসেছি। সিলেবাস পড়ে তো আল্লাহ রাসুলের সন্ধান পাইনি। কিন্তু মোর্শেদের দরবারে গোলামী করার পরে রাসুলকে পেয়েছি, আল্লাহকে পেয়েছি। সুতরাং আল্লাহ ও রাসুলকে পেতে হলে মোর্শেদের মাধ্যমে পেতে হবে। যারা আল্লাহ ও রাসুল সম্বন্ধে শিক্ষা দেন, তাঁদের কাছে গিয়ে নিয়ম কানুন শিখে আমল করবেন। তাহলে আল্লাহ ও রাসুলকে পাওয়া সম্ভব। আমি আপনাদের সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক!

বাদ জুমা সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহ্ফিলে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক প্রদান করে মুনাজাত পরিচালনা করেন।
মাহ্ফিলে বক্তব্য রাখেন মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) এবং কনিষ্ঠ সাহেবজাদা ইমাম ড. সৈয়দ এ.এফ.এম. মঞ্জুর-এ-খোদা (মা. আ.)।

অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.)।

4 COMMENTS

  1. আলহামদুলিল্লাহ্, যুগের ইমাম, মহান সংস্কারক বীর মুক্তিযুদ্ধা সূফী সম্রাট বাবা দেওয়ানবাগীর মহামূল্যবান ও মহাগুরুত্বপূর্ণ বাণী মোবারক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here