মোহাম্মদী ইসলামের অতীত ও বর্তমান: একটি পর্যালোচনা

0
316

ড. সৈয়দ মেহেদী হাসান

হযরত রাসুল (সা.) সুদীর্ঘ ১৫ বছর হেরাগুহায় ধ্যান সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করে যে ধর্ম লাভ করেছিলেন, সেই ধর্মই হচ্ছে মোহাম্মদী ইসলাম। মোহাম্মদী ইসলাম হচ্ছে রূহের ইসলাম তথা এলমে তাসাউফের ইসলাম। যাকে সুফিবাদ (Sufism), এলমে লাদুন্নি, এলমে মোকাসিফা, মরমিবাদ (Mysticism)  বলা হয়। যখন এই তাসাউফ মোহাম্মদী ইসলাম হতে হারিয়ে গেছে তখন থেকেই সমাজে প্রাণহীন ইসলাম তথা দ্বিন ইসলাম চালু হয়।

হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নাম অনুযায়ী তাঁর ধর্মের নাম ছিল ইব্রাহিমী ইসলাম। হযরত মুসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্ম ছিল মুসায়ী ইসলাম। হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রচারিত ধর্ম ছিল ঈসায়ী ইসলাম। আর একইভাবে হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রবর্তিত পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান-এর নাম হচ্ছে মোহাম্মদী ইসলাম। রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর এলমে শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের শিক্ষা সম্বলিত ইসলামই হচ্ছে মোহাম্মদী ইসলাম। আল্লাহর রাসুল (সা.) ফরমান- “শরিয়ত হচ্ছে আমার কথা, তরিকত আমার কাজ, হাকিকত হচ্ছে আমার অবস্থা এবং মারেফত হচ্ছে আমার নিগূঢ় রহস্য (Profound Mystery)।

যুগের ইমাম, মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বলেন, ইসলামের স্বর্ণযুগে মুসলমানগণ উম্মতে মোহাম্মদী এবং মুসলমানদের জীবন বিধান গড়যধসসবফধহ খধি হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে কারবালায় নবি দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.)-কে শহিদ করার মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের ধ্বংস সাধন করা হয়। পরবর্তীতে উমাইয়া শাসন আমলে চক্রান্তের মাধ্যমে ইসলাম থেকে রাসুল (সা.)-এর নাম মোবারক বাদ দিয়ে কাণ্ডারী বিহীন ইসলামে পরিণত করা হয়েছে। তখন থেকে সমাজে মোহাম্মদী ইসলামের বদলে তাসাউফ বিহীন ধর্ম দ্বিন ইসলাম চালু হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “আল ইয়াওমা আকমালতু লাকুম দিনাকুম ওয়া আতমামতু আলাইকুম নিয়্যিমাতি ওয়া রাদিতু লাকুমুল ইসলামা দ্বিনা।” (সূরা মায়িদা ৫ : আয়াত ৩) অর্থাৎ- আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বিন হিসেবে পছন্দ করলাম। এখানে দ্বিন বলতে ইমামুল মুরসালিন হযরত রাসুল (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান মোহাম্মদী ইসলামকেই বোঝানো হয়েছে।

কারবালায় ৬১ হিজরিতে ১০ মহররম এজিদ বাহিনীর ২২ হাজার সৈন্যের সাথে লড়াই করে ৭২ জন সৈন্য সঙ্গী-সাথী আশেকে রাসুলকে নিয়ে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন ইমাম হোসাইন (রা.)। তার শাহাদতের মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলাম ধ্বংস সাধিত হয়। গত ১০ মহররম ছিল ইমাম হোসাইন (রা.)-এর ১৩৮১তম শাহাদত বার্ষিকী। সেদিন ইমাম হোসাইন শহিদ হওয়ার পূর্বে তাঁর পুত্র নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহক জয়নাল আবেদিনকে ইমামতের দায়িত্ব প্রদান করেন এবং বলেন, আমার এই পুত্রের মাধ্যমেই মোহাম্মদী ইসলাম জগতের বুকে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। সত্যি সত্যিই পরবর্তীতে আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমাম হোসাইনের বংশধারার মাধ্যমেই মোহাম্মদী ইসলাম জগতের বুকে আজও টিকে আছে। প্রকৃতপক্ষে ইমাম হোসাইন হচ্ছে একটি আদর্শের নাম। ইমাম হোসাইন-ই হচ্ছে ধর্ম, ইমাম হোসাইন হচ্ছে ইমান। ইমাম হোসাইন হচ্ছে- আসল ও নকলের পার্থক্যকারী। তিনি ছিলেন, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও আত্মত্যাগের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত। তিনি আদর্শহীন ইয়াজিদের হাতে বায়াত গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি তো ছিলেন তাঁর নানাজীর মোহাম্মদী ইসলামের রক্ষাকারী। মূলত মোহাম্মদী ইসলাম হচ্ছে বায়েতের ইসলাম। যে বায়েত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন- “হে রাসুল (সা.)! নিশ্চয়ই যারা আপনার হাতে হাত দিয়ে বায়েত গ্রহণ করেছে, তারা আল্লাহর হাতে হাত দিয়ে বায়েত গ্রহণ করেছে। তাদের হাতের উপর আল্লাহর হাতই ছিল।” (সূরা আল ফাতহ ৪৮ :আয়াত ১০) মূলত বায়েত প্রথা ইসলামের শুরু থেকে আজ অবধি চালু রয়েছে। এই বায়েত গ্রহণের মাধ্যমেই একজন সাধারণ মানুষ মুমেনে কামেলে পরিণত হয়। যুগে যুগে এরই ধারাবাহিকতায় নবুয়তের যুগে নবি-রাসুল এবং বেলায়েতের যুগে অলী-আল্লাহগণের মাধ্যমে এই বায়েতের প্রথা চালু রয়েছে।

ইমাম হোসাইন (রা.)-এর সুমহান মর্যাদা ও তাঁর শাহাদত সম্পর্কে গরিবে নেওয়াজ হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) ফারসি ভাষায় একটি গজলের মাধ্যমে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেন-

শাহ্ আন্ত হোসাইন, বাদশাহ আস্ত হোসাইন

দ্বিন আন্ত হোসাইন, দ্বিনে পানাহ আন্ত হোসাইন

সার দাদ, না দাদ দাস্ত, দার দাস্তে ইয়াজীদ

হাক্বাক্বি বিনায়ে লা ইলাহা আস্ত হোসাইন

অর্থাৎ- হোসাইন রাজা, হোসাইন বাদশাহ্; হোসাইন দ্বিন, হোসাইন ধর্মের রক্ষাকারী; মাথা দিয়েছে দেয়নি তো হাত ইয়াজিদের হাতে; প্রকৃতপক্ষেই হোসাইন লা-ইলাহার বুনিয়াদ। অর্থাৎ তিনি ছিলেন মোহাম্মদী ইসলামের বুনিয়াদ (স্তম্ভ)।

ইমাম হোসাইন ছিলেন সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। তাঁর দর্শন ছিল প্রেম, ভালোবাসা, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও আত্মত্যাগের। যার জন্য তিনি এজিদের হাতে বশ্যতা স্বীকার করেননি। তিনি মাথা দিয়েছিলেন কিন্তু এজিদের হাতে বায়েত হননি। তিনি ছিলেন নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহক এবং আহলে বায়েতের অন্যতম সদস্য। মহামানবগণ সত্যিকার আদর্শের জন্য, সত্যের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করতে ভীত হয় না।

কারবালায় ইমাম হোসাইনকে শহিদ করার পর এজিদ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শুরু হয় রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামের ইমামতের ধারার পরিবর্তে এজিদ বিন মোয়াবিয়ার রাজতন্ত্রের বা সালতানাতের শোষণ ও নিপীড়ন। রক্ত পিপাসু এজিদ বাহিনী মদীনা আক্রমণ করে ৭০০ সাহাবিসহ ১০ হাজার সুফি সাধক মুসলমানকে হত্যা করে মদীনা শরীফকে তছনছ করে দেয়। এমনকি মোহাম্মদী ইসলামের সর্বশেষ চিহ্নটুকুও বিলীন করে দেয়। শুধু তাই নয়, কুখ্যাত এজিদ বাহিনী রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারকের পবিত্রতা বিনষ্ট করে। মসজিদে নববিকে আস্তাবলে পরিণত করা হয়। এসময় নিষ্ঠুর এজিদ বাহিনী মক্কানগরী আক্রমণ করে বায়তুল্লাহ শরীফের গিলাফে অগ্নি সংযোগ করে এবং তিন দিন ব্যাপী মক্কা-মদীনা জুড়ে হত্যা, লুন্ঠন, রাহাজানি, ধর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের ইতিহাসে নজিরবিহীন তাণ্ডবলীলা চালাতে থাকে। (তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৪৩)

ইমাম হোসোইন সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছিলেন, “আল হোসাইনু মিন্নী, ওয়া আনা মিনাল হোসাইন।” অর্থাৎ হোসাইন আমা হতে আর আমি হোসাইন হতে। প্রথম অংশটি হচ্ছে হোসাইন আমা হতে- কথাটি রাসুল (সা.)-এর পবিত্র বংশ আহলে বাইত হতে ইমাম হোসাইনকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় অংশ- “আমি হোসাইন হতে”-এ প্রসঙ্গে হযরত সালমান ফারসি (রা.) বলেন- মহানবি (সা.) হোসাইনকে লক্ষ্য করে আমাদেরকে বলেছিলেন, তিনিই সাইয়্যেদ, তিনিই সাইয়্যেদের পুত্র, তিনিই ইমাম, তিনিই ইমামের পুত্র, তিনিই ইমামের পিতা। জমিনের বুকে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিটিকে দেখতে চাও, তাহলে হোসাইনকে দেখে নাও। তাই আল্লাহর রাসুল (সা.) আরও বলেছেন- “আহাব্বাল্লাহ মান, আহাব্বা হোসাইন” অর্থাৎ যিনি হোসাইনের সাথে মহব্বত রাখে, আল্লাহও তার সাথে মহব্বত রাখেন।

ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালার প্রান্তরে তাঁর নানাজীর মোহাম্মদী ইসলামকে রক্ষা করতে গিয়ে মাথা দিয়েছেন, কিন্তু কুখ্যাত ইয়াজিদের হাতে হাত দেননি। তিনি সেদিন মোহাম্মদী ইসলামকে রক্ষা করার জন্য শহিদি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন।

ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কারবালায় শহিদ করার পর আহলে বায়েতের সদস্য ইমাম জয়নুল আবেদিনের মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের ধারাবাহিকতা তাঁর পুত্র ইমাম বাকের (রহ.) এবং তাঁর পুত্র ইমাম জাফর সাদেক (রহ.)-এর মাধ্যমে পৃথিবীতে বজায় থাকে। এভাবে নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহক এবং আহলে বাইতের সদস্যের মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলাম কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে টিকে থাকবে। ইহাই ইসলামের চিরন্তন ধারা।

নাসর ইবনে আবদুর রহমান কূফী (র.)… জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি হজের সময় আরাফা দিবসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করে খুৎবারত অবস্থায় দেখেছি। তাঁকে তখন আমি বলতে শুনেছি: হে লোকসকল! আমি এমন জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি তা যদি তোমরা ধারণ করো, তবে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না। আল্লাহর কিতাব এবং আমার আহলে বাইত। (তিরমিজি শরীফ ইফাবা কর্তৃক অনূদিত ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদিস নং ৩৭৮৬)

তিরমিজি শরীফে এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে- আলী ইবনে মুনযির কুফি (র.)… যায়দ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি (সা.) বলেছেন: আমি তোমাদের কাছে এমন কিছু বস্তু রেখে যাচ্ছি তোমরা যদি সেসব ধারণ করে রাখ, তবে আমার পরে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না তোমরা। এর একটি আরেকটির চেয়ে মহান- তা হলো আল্লাহর কিতাব। আকাশ থেকে জমিন পর্যন্ত এক সুদৃঢ় রজ্জু; আর আমার পরিবার- আমার আহলে বাইত। হাওযে কাওছারে আমার কাছে আগমন করা পর্যন্ত এরা আর বিচ্ছিন্ন হবে না কখনও। তোমরা লক্ষ্য রাখবে এতদুভয়ের ব্যাপারে তোমরা আমার পর কিরূপ ব্যবহার করছ। (তিরমিজি শরীফ ইফাবা কর্তৃক অনূদিত ৬ষ্ঠ খণ্ড, হাদিস নং ৩৭৮৮)

উল্লিখিত দুটি হাদিসে বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, আল্লাহর কুরআন ও হযরত রাসুল (সা.)-এর আহলে বাইতের কথা বলা হয়েছে এবং এ আহলে বাইতের মাধ্যমেই পৃথিবীতে মোহাম্মদী ইসলামের ধারা জারি থাকবে।

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) বিদায় হজ সম্পন্ন করে মদীনায় ফেরার পথে গাদিরে খুম নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানে সোয়া লক্ষ সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশে বিশেষ দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করে বলেন, “আমি যার মাওলা (অভিভাবক), আলীও তার মাওলা।” (তিরমিজি শরীফ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১২) তখন থেকেই হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুকে ইমামতের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। অতঃপর হযরত রাসুল (সা.) মদীনায় ফিরে আসেন। ঐ অনুষ্ঠানে রাহমাতুল্লিল আলামিনের সম্মুখে সেদিন হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত ওমর ফারুক (রা.)-সহ সকল সাহাবায়ে কেরাম ইমাম আলীকে দায়িত্ব প্রদান করায় তাঁকে সাদর সম্ভাষণ জানান। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরবর্তীতে ইসলামের প্রায় সকলেই এই ইমামতের ধারাকে উপেক্ষা করেছে।

পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে হযরত রাসুল (সা.) ওফাতের পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক ইন্তেকাল করেন। তারপর ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.) আততায়ি কর্তৃক শহিদ হন। পরবর্তীতে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) দীর্ঘ ১২ বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করে ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্রোহীদের হাতে শহিদ হন। এরপর মুসলিম জাহানে চরম অরাজগতা সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় বিশিষ্ট্য সাহাবিদের অনুরোধে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁকে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তাঁকে উষ্ট্রের যুদ্ধ এবং সিফফিনের যুদ্ধের মতো দুটি যুদ্ধ করতে হয়। অবশেষে ৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে খারিজি আবদুর রহমান ইবনে মুলজামের বিষাক্ত ছুরির আঘাতে কুফার মসজিদে ফজরের নামাজরত অবস্থায় শেরে খোলা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আহত হন এবং দুই দিন পর তিনি শাহাদত বরণ করেন।

শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু এর শাহাদতের পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইমাম হাসান খলিফা নিযুক্ত হন। ইমাহ হাসান মুসলিম উম্মাহকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে রক্ষার লক্ষ্যে আমিরে মুয়াবিয়ার সাথে কয়েকটি শর্তে একটি সন্ধি করেন। কিন্তু মুয়াবিয়া সেই সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করে তার মৃত্যুকালে ইমাম হোসাইনের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিবর্তে কুখ্যাত এজিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এজিদের পরামর্শে  ইমাম হাসান (রা.)-কে তাঁর স্ত্রী জায়েদা কৃর্তৃক বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে শহিদ করা হয়।

পরবর্তীতে ৬১ হিজরির ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে রাসুলে করিম (সা.)-এর বায়েতের ইসলাম তথা মোহাম্মদী ইসলামকে রক্ষা করার জন্য এজিদের ২২ হাজার সৈন্যের সাথে ইমাম হোসাইন ৭২ জন সঙ্গীসাথী আশেকে রাসুলকে নিয়ে অসম যুদ্ধে নির্মমভাবে শহিদ হন। তিনি এজিদের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শাহাদত বরণের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করার এক মহান আদর্শ স্থাপন করে যান।

এরই ধারাবাহিকতায় হযরত রাসুল (সা.)-এর নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহক হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কারবালার প্রান্তরে সপরিবারে নির্মমভাবে শহিদ করে মোহাম্মদী ইসলাম বিলুপ্তির মাধ্যমে উমাইয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করে। উমাইয়াদের ৮৯ বছর ও আব্বাসীয়দের ৫০৮ বছরের শাসনামলে নানা ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতিতে মোহাম্মদী ইসলামের আদর্শ বিকৃত হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদী ইসলামের অভ্যুদয় ও পতন সম্পর্কে বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিক ও সমাজ বিজ্ঞানী দার্শনিক ইবনে খালদুন তার ইবর গ্রন্থে লিখেন, “ইসলামের অভ্যুদয় ঘটেছে মক্কায়, পরিপূর্ণতা লাভ করেছে মদীনায়, রোগাগ্রস্থ হয়েছে কুফায়, মৃত্যুবরণ করেছে দামেস্কে এবং কবরস্থ হয়েছে বাগদাদে।” এই উক্তিটির মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট যে, রাসুলে করিম হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর মক্কায় ইসলাম ধর্মের উৎপত্তি হয়। তারপর মদীনায় ইহার পরিপূর্ণতা লাভ হয়। পরবর্তীতে মোহাম্মদী ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর ইমাম হোসাইনকে কারবালায় নির্মমভাবে শহিদের মাধ্যমে এজিদের হাতে মোহাম্মদী ইসলামের পতন হয় এবং কুফায় এজিদের সালতানাত প্রতিষ্ঠা লাভ করে ইসলাম রোগাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তারপর সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইসলামের মৃত্যু ঘটে এবং কবরস্থ হয় বাগদাদে।

পরবর্তীতে ইরাকের বাগদাদে আব্বাসীয়দের শাসনামলে তৎকালীন যুগের ইমাম ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী বড়ো পির মহিউদ্দিন হযরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.)-এর মাধ্যমে হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের ৫০০ বছর পর মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবন লাভ হয়। হযরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) ইসলাম ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী প্রসঙ্গে ‘বাহজাতুল আসরার নামক কিতাবে বড়ো পির হযরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) কিভাবে মহিউদ্দীন অর্থাৎ ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী খেতাব লাভ করেছিলেন, সেই বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে- “এক রাতে হযরত বড়ো পির (রহ.) স্বপ্নে দেখেন যে, হযরত রাসুল (সা.) অসুস্থ। তাঁর শরীর মোবারকে ঘা রয়েছে। আর ঐ ঘায়ের উপর মাছি বসে আছে। হযরত বড়ো পির (রহ.) তাঁর শরীর মোবারক থেকে মাছি তাড়িয়ে দিলেন। অতঃপর হযরত রাসুল (সা.) সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠে তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, “ইয়া আব্দুল কাদির! আনতা মুহিউদ্দীন”- “হে আব্দুল কাদের! আপনি ‘মহিউদ্দীন’ অর্থাৎ- ‘ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী।” মহান আল্লাহ এ স্বপ্নে হযরত রাসুল (সা.)-এর মাধ্যমে হযরত বড়ো পির (রহ.)-কে ‘মহিউদ্দীন’ খেতাবে ভূষিত করেছিলেন। এ রহস্যপূর্ণ স্বপ্নের ব্যাখ্যায় সুফি সাধক ও অলী-আল্লাহগণ বলেন, হযরত রাসুল (সা.)-এর শরীর মোবারকে ঘা হতে দেখার অর্থ হলো- তৎকালে ইসলাম ধর্মে নানাবিধ কুসংস্কার প্রবেশ করার কারণে প্রকৃত ইসলাম কলুষিত হয়ে পড়েছিল। আর হযরত বড়ো পির (রহ.) হযরত রাসুল (সা.)-এর দেহ মোবারকের উপর বসা মাছি তাড়িয়ে দেওয়ার অর্থ হলো- তৎকালে তিনি ইসলাম ধর্মে প্রবিষ্ট কুসংস্কার তথা কুফুরি আকিদাসমূহকে দূর করে প্রকৃত মোহাম্মদী ইসলামকে সজীব ও সতেজ করেছিলেন। যেহেতু বড়ো পির মহিউদ্দীন হযরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) তৎকালীন জামানার সংস্কারক ছিলেন, সেহেতু তিনি ‘মহিউদ্দীন’ অর্থাৎ- ‘ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী’ এই দুর্লভ সম্মানের অধিকারী হয়েছিলেন।  বড়ো পির হযরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) যেহেতু আরবি ভাষী ছিলেন সেহেতু রাসুল (সা.) তাঁকে আরবিতে সম্বোধন করেছিলেন ‘মহিউদ্দীন’ অর্থাৎ ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী। 

একইভাবে বর্তমান যুগের ইমাম মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান একটি স্বপ্নে দেখেন। ১৯৮৯ সালের ৫ এপ্রিল, রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.) সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানকে মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী খেতাবে ভুষিত করেন। তিনি স্বপ্নে দেখেন “আমি দেখি- ঢাকা ও ফরিদপুরের মধ্যবর্তী স্থানজুড়ে এক বিশাল মনোরম বাগান। ফুলে-ফলে সুশোভিত ঐ বাগানে আমি একা একা হেঁটে বেড়াচ্ছি। হঠাৎ বাগানের এক স্থানে শুকনো পাতা ও ফুলের পাঁপড়ির স্তুপ আমার চোখে পড়লো। আমি দেখতে পেলাম, হযরত রাসূল (সা.)-এর প্রাণহীন দেহ মোবারক (অর্থাৎÑ ইসলাম ধর্ম) ঐ স্তুপের ওপর খালি গায়ে পড়ে আছে। তাঁর মাথা মোবারক দক্ষিণ দিকে, আর পা মোবারক উত্তর দিকে প্রসারিত। বাম পা মোবারক হাঁটুতে ভাঁজ হয়ে খাড়া অবস্থায় রয়েছে।

হযরত রাসূল (সা.)-কে এ অবস্থায় দেখে আমার ভীষণ কষ্ট লাগলো। আমি তাঁকে উদ্ধার করার জন্য পেরেশান হয়ে গেলাম। সেখানে আমাকে সাহায্য করার মতো আর কোনো লোক খুঁজে পেলাম না। তখন আমি নিজেই হযরত রাসূল (সা.)-কে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে গিয়ে তাঁর বাম পায়ের হাঁটুতে আমার ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করলাম। সাথে সাথেই হযরত রাসূল (সা.)-এর দেহ মোবারকে প্রাণ ফিরে এলো। তিনি চোখ মেলে আমার দিকে তাকালেন। মুহূর্তের মধ্যেই হযরত রাসূল (সা.) সুন্দর পোষাকে সুসজ্জিত হয়ে উজ্জ্বল নুরানিময় চেহারায় পরিণত হলেন। তিনি উঠে বসে হাসি মুখে আমার দিকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘হে ধর্মের পুনর্জীবনদানকারী! ইতিপূর্বে আমার ধর্ম আরো পাঁচবার পুনর্জীবন লাভ করেছে।’ এ কথা বলে হযরত রাসুল (সা.) উঠে দাঁড়িয়ে আমার সাথে হেঁটে হেঁটে চলে আসলেন। এরপর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল।” এখানে প্রাণহীন দেখার অর্থ হচ্ছে ইসলামের প্রাণ এলমে তাসাউফ আজ সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেই প্রাণ হচ্ছে হযরত রাসুল (সা.)-এর আদর্শ মোহাম্মদী ইসলাম। ইসলাম ধর্মের প্রাণশক্তি হলো এলমে তাসাউফ, যার সাহায্যে হযরত রাসুল (সা.) বর্বর আরবজাতিকে আদর্শ চরিত্রবান করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতিতে রূপান্তর করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মোহাম্মদী ইসলাম থেকে তাসাউফ বিহীন ইসলামের কারণে মানুষ রাসুলের আদর্শ থেকে দূরে সরে যায়।

হযরত রাসুল (সা.)-কে স্বপ্নে খালি গায়ে দেখার অর্থ হচ্ছে, মুসলিম জাতি হযরত রাসূল (সঃ)-এর আদর্শচ্যুত হয়ে এক মুসলমান অপর মুসলমানের বিরুদ্ধে ফতোয়াবাজী করে ইসলাম ধর্মকে কলংকিত করে ফেলেছে। অন্যদিকে হযরত রাসুল (সা.)-কে শুকনো পাতা ও ফুলের পাঁপড়ির স্তুপের উপর পড়ে থাকতে দেখার অর্থ হচ্ছে, বর্তমান বিশ্বে হযরত রাসুল (সা.)-এর আদর্শের অনুসারী আওলিয়ায়ে কেরাম স্বধর্মীদের অজ্ঞতা ও বিধর্মীদের চক্রান্তের কারণে সমাজে চরমভাবে অবহেলিত, অপমানিত ও ফতোয়ার শিকার হচ্ছেন।

মোহাম্মদী ইসলামী বিধান মোতাবেক আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তির মাথা উত্তর দিকে ও পা দক্ষিণ দিকে রেখে কবরস্থ করা হয়। অথচ স্বপ্নে হযরত রাসুল (সা.)-এর মাথা মোবারক দক্ষিণ দিকে এবং কদম মোবারক উত্তর দিকে দেখার অর্থ হলো- সমাজের মানুষ হযরত রাসুল (সা.)-এর আদর্শ ছেড়ে দিয়ে ইসলাম ধর্মের প্রকৃত আদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে পরিচালিত হচ্ছে।

স্বপ্নে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের স্পর্শে হযরত রাসুল (সা.)-কে সজীব, সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত হতে দেখার অর্থ হচ্ছে- মহান আল্লাহ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলার মাধ্যমে বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রকৃত আদর্শ মোহাম্মদী ইসলাম সমাজে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবেন।

হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলাম বিশ্বময় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান ১৯৮৫ সালে ১০ মহররম আশুরার দিবসে দেওয়ানবাগ শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। এই মহামানবের প্রচারিত মোহাম্মদী ইসলাম আজ বিশ্বের ১৩২টি দেশে ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে বিশ্বময় প্রচারিত হচ্ছে। সুতরাং নুরে মোহাম্মদী এবং আহলে বাইতের সদস্যের মাধ্যমেই পৃথিবীতে মোহাম্মদী ইসলাম টিকে থাকবে। বর্তমান জামানার ইমাম হোসাইনের ২১তম মহাপুরুষ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের প্রচারিত মোহাম্মদী ইসলাম আজ বিশ্বের ১৩২টি দেশে প্রচারিত হচ্ছে। বিশ্বনবি হযরত রাসুল (সা.) ছিলেন ইমামুল মুরছালিন। বর্তমান বেলায়েতের যুগে সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজানকে মহান আল্লাহ ইমামুল হাদি হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন।

নবুয়্যতের যুগে নবি-রাসুলগণ যুগে যুগে ইমাম হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছেন এবং বেলায়েতের যুগে এই ধারা নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহক ও আহলে বাইতের সদস্য হতেই ইমাম হিসেবে অলী-আল্লাহগণ প্রেরিত হয়ে আসছেন। যেমন- আমরা দেখতে পাই মোজাদ্দেদ আল ফেসানী (রহ.)-এর ৪ সাহেবজাদা ইমাম ছিলেন এবং এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ইমামুল হাদি সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লানের ৪ সাহেবজাদা ইমাম হিসেবে মোহাম্মদী ইসলামের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে গত ২১ আগস্ট সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন, আমি আমার চার ছেলেকেই দায়িত্ব দিয়েছি। আর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মেজো ছেলেকে বলেছি তুমি এগিয়ে যাও আমিতো আছিই।

তিনি বলেন, মোহাম্মদী ইসলামে কোনো পির হবে না। যদি পির হয় তাহলে মোহাম্মদী ইসলামের আদর্শ থাকবে না। আমার এখানে ইমাম হবে। যারা মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, কোনো ফেতনাকারীর ঠাই মোহাম্মদী ইসলামে হবে না। অতীতে ভুলের কারণে মোহাম্মদী  ইসলামের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি আর হবে না। তিনি বলেন, মোহাম্মদী ইসলামে কোনো পির হবে না। পির হলে আবার এটা তরিকায় চলে যাবে। ইসলাম হলো গাছ। আর তরিকা হলো গাছের শাখা প্রশাখা। যদি পির হয় তাহলে মোহাম্মদী ইসলামটা রক্ষা হবে কিভাবে? আমার এখানে ইমাম হবে। এখন ইমামতের যুগ। আমার ছেলেরা হচ্ছে ইমাম।

বর্তমানে যারা মোহাম্মদী ইসলামের রক্ষাকারী সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের বিরোধিতা করে ও ফেতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করছে মূলত তারাই মুনাফেক ও বিপথগামী। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন, যারা মোর্শেদের বিরোধিতা করে, যারা মোর্শেদ সম্পর্কে সমালোচনা করে তারা নিঃসন্দেহে বিপথগামী। বর্তমান ফেতনার যুগে যিনি মুরিদের ইমানকে রক্ষার জন্য ৭১ বৎসর বয়সেও দিবারাত্রি মানুষকে ইমানের পথে আহ্বান করছেন। এখনও মুনাফিক ও বিপথগামী সাঈদুর এবং তার দোসররা মানুষের ইমান নষ্ট করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে। অথচ যে মহামানবকে বিশ্বাস করলে, ভালোবাসলে মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বলে, ইমানদার হয় সেই মোর্শেদকে যারা পাগল, মিথ্যাবাদী বলে তাদের সাথে আশেকে রাসুলদের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।

১৯৮৮ সালে ১০ মহররম আশুরার দিবসে এই মহামানবকে মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে ইমামুল হাদি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) ফরমান- “যে ব্যক্তি যুগের ইমামের আনুগত্য না করে মৃত্যুবরণ করেছে, সে জাহেলি অবস্থা তথা ধর্মহীন বেইমান হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।”

পরিশেষে মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী যুগের ইমামের আনুগত্য এবং তাঁকে বিশ্বাসের মাধ্যমেই আশেকে রাসুলদেরকে ইমানে বলিয়ান হতে হবে। যাতে মৃত্যুর সময় ইমান নিয়ে কবরে যাওয়া যায়। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই মহামানবের সান্নিধ্যে থেকে যেন ইমানের নুর হৃদয়ে প্রজ্বলিত করে ইনসানে কামেল হতে পারি সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্র :

১.            তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী ১ম খণ্ড; সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, আল কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, দেওয়ানবাগ শরীফ, ঢাকা।

২.           মুক্তি কোন পথে? সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, আল কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, দেওয়ানবাগ শরীফ, ঢাকা।

৩.           শান্তি কোন পথে? সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, আল কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, দেওয়ানবাগ শরীফ, ঢাকা।

৪.           সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী অবদান: আল্লাহ কোন পথে? সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা।

৫.           বিশ্বনবীর স্বরূপ উদঘাটনে সূফী সম্রাট: রাসূল (সঃ) সত্যিই কি গরীব ছিলেন? সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা।

৬.           এজিদের চক্রান্তে মোহাম্মদী ইসলাম: সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা।

৭.           সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী ধর্মীয় সংস্কার ১ম খণ্ড: সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা।

৮.           সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী ধর্মীয় সংস্কার ২য় খণ্ড: সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী, সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা।

৯.           মোহাম্মদী ইসলাম: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ; ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা, মাসিক আত্মার বাণী: জানুয়ারি ২০২০, সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা।

১০.         শামে কারবালা: খতীবে পাকিস্তান আল্লামা মুহাম্মদ শফী উকারভী (রহ.), অনুবাদ: মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান, আ’লা হযরত ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।

১১.         কারবালা ও ইমাম বংশের ইতিবৃত্ত, মুহম্মদ বরকতুল্লাহ, ঢাকা।

১২.         কারবালা ও মুয়াবিয়া, সৈয়দ গোলাম মোরশেদ, সদর প্রকাশনী, বাংলাবাজার, ঢাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here