মোহাম্মদী ইসলামের প্রচার ও প্রসারে নেতৃত্বপ্রদানকারী ইমামের বাবে মোর্শেদ সফর

0
6859

বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেবলাজানের ওফাতের পূর্বেই তিনি পরিবারবর্গের উদ্দেশে অসিয়তের মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব মেজো সাহেবজাদা ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুরের কাঁধে অর্পণ করেন। পাশাপাশি মোহাম্মদী ইসলামের বাকি তিন সম্মানিত ইমাম ও পরিবারের সদস্যদেরকে নির্দেশ দেন মেজো হুজুরকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য এবং এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকারও গ্রহণ করেন। এর প্রেক্ষিতে সম্মানিত তিন সাহেবজাদা ও দুই সাহেবজাদীর সার্বিক সহযোগিতায় মোহাম্মদী ইসলামকে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর। হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের জন্য নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাবে মোর্শেদ দরবার শরীফ সফর করেন ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।

তিনি গত ৬ অক্টোবর বুধবার রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলাধীন বাহাদুরপুরে অবস্থিত বাবে মোর্শেদ দরবার শরীফের উদ্দেশে। মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী ইমামের আগমনের সংবাদে বাবে মোর্শেদ জোনের আশেকে রাসুলদের মনে খুশির বন্যা বয়ে যায়। এই মহামানবকে বরণ করে নেওয়ার জন্য তারা ফুলে ফুলে সুসজ্জিত করে তোলে দরবার শরীফ। মেজো সাহেবজাদা হুজুর দরবার শরীফে পৌঁছালে উপস্থিত আশেকে রাসুলগণ মুহুর্মুহু স্লোগানে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী ইমামকে বরণ করে নেন। তিনি উপস্থিত আশেকে রাসুলগণের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন।

পরদিন ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে দরবার শরীফ লাগোয়া আফতাব উদ্দিন মুন্সি ওয়াকফ এস্টেট-এর নবনির্মিত বহুতল জামে মসজিদ পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি মসজিদের সংস্কারমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং যেসব সমস্যা ছিল, তা সমাধানের নির্দেশনা দেন। প্রসঙ্গত, ইমাম ড. কুদরত এ খোদা হুজুর আফতাব উদ্দিন মুন্সি ওয়াকফ এস্টেট এর মুতাওয়াল্লীর দায়িত্বে রয়েছেন।

মসজিদ পরিদর্শন শেষে তিনি সপরিবারে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের ‘মা-বাবার বাসভবন’ পরিদর্শন করেন। এই বাসভবনেই ১৯৪৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান জন্মগ্রহণ করেন। এরপর নিজের প্রতিষ্ঠিত বাহাদুরপুর উত্তরপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনুরোধে সপরিবারে স্কুল পরিদর্শনে যান ইমাম ড. কুদরত এ খোদা হুজুর। স্কুল পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানের সভাপতির অনুরোধে তাদের বাড়িতে যান তিনি। এসময় মহান মোর্শেদ কেবলাজান ছাত্র থাকা অবস্থায় যে বাড়িতে আবাসিক শিক্ষক ছিলেন, সেই বাড়ি পরিদর্শন করেন সম্মানীত মেজো হুজুর। এরপর দরবার শরীফে ফিরে এসে মোহাম্মদী ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রমে মনোনিবেশ করেন তিনি।

করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য ওই অঞ্চলের দশটি জেলার আশেকে রাসুলদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দুই দিন ধার্য করেন ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর। গত ৮ অক্টোবর শুক্রবার দিন ধার্য ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশেকে রাসুলদের জন্য। এছাড়া ওইদিন সারাদেশের প্রতিটি জেলার সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়কদের সভা ডেকেছিলেন তিনি। আর ৯ অক্টোবর শনিবার ধার্য করা ছিল বাবে মোর্শেদ জোনের বাকি নয় জেলার (কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার) আশেকে রাসুলদের সঙ্গে সাক্ষাৎ দেওয়ার জন্য।

ইমাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুরের আগমনের সংবাদে শুক্রবার সকাল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নানা প্রান্ত থেকে আশেকে রাসুলগণ ছুটে আসতে শুরু করেন। এসময় আগত আশেকে রাসুলদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হয় আশেকে রাসুলগণ জামে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব মেনে সমবেত হন। গ্রামবাসীও জুমার নামাজের উদ্দেশে মসজিদে আসেন।

সকলকে নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর। নামাজ শেষে সবার উদ্দেশে বাণী প্রদান ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। বাণীতে আশেকে রাসুলদেরকে সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সম্মানীত মেজো সাহেবজাদা হুজুর।

জুমার নামাজ শেষে ৬৪ জেলা থেকে আগত সকল জেলা সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়কদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় বসেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম। প্রতিটি জেলার সমন্বয়কের কাছ থেকে ওই জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন এবং সুবিধা-অসুবিধা শোনেন। প্রত্যেক জেলার জন্য আলাদা করে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় মোহাম্মদী ইসলামের চারজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আশেকে রাসুল মোহাম্মদ লিয়াকত খান, আশেকে রাসুল মিজানুর রহমান, আশেকে রাসুল মাসুম ও আশেকে রাসুল আমিনুল ইসলাম রানাকে সারাদেশের সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়কদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। সবশেষে সারাদেশে মোহাম্মদী ইসলাম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর। এই সভা শেষে আরও কিছু সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি।


পরেরদিন ৯ অক্টোবর শনিবার বাবে মোর্শেদ জোনের বাকি নয়টি জেলার আশেকে রাসুলগণ দরবার শরীফে হাজির হন। তাদেরকে নিয়ে ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর আসরের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে বাণী মোবারক প্রদান করেন এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি পুরো দরবার চত্বর ঘুরে ঘুরে উপস্থিত সকল আশেকে রাসুলকে সাক্ষাত দেন। ওই দিন রাতে আলেম-ওলামা ও আইনজীবীদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসেন ড. কুদরত এ খোদা হুজুর। এরপর সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের জন্মস্থান বাহাদুরপুর গ্রামের নেতৃস্থানীয় লোকদের সাক্ষাৎ দেন তিনি। গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী এই ইমামের কাছে।

সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সঙ্গে থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এমন কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের বীরত্বগাঁথা তুলে ধরেন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি রোমন্থন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের হেজামারায় অবস্থিত ৩নং সেক্টরের ক্যাম্পে ঈদুল ফিতরের নামাজের খুতবায় সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেটাও তুলে ধরেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া গ্রামবাসীদের প্রতি মহান মোর্শেদের আন্তরিকতা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপস্থিত গ্রামবাসী। আলোচনা শেষে গ্রামবাসীকে আন্তরিক আতিথেয়তার মাধ্যমে বিদায় দেন তিনি।

পরিশেষে ৯ অক্টোবর রাতে বাবে মোর্শেদ অঞ্চলে সফর শেষ করে ঢাকার বাবে রহমতে ফিরে আসেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here