মোহাম্মদী ইসলামের রক্ষাকারী ইমাম হোসাইন (রা.) : একটি পর্যালোচনা ড. সৈয়দ মেহেদী হাসান

0
222

আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর সুমহান মর্যাদা ও তাঁর শাহাদত সম্পর্কে গরিবে নেওয়াজ হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) ফারসি ভাষায় সুন্দরভাবে একটি গজলের মাধ্যমে তা বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেন-
শাহ্ আস্ত হোসাইন, বাদশাহ আস্ত হোসাইন
দ্বিন আস্ত হোসাইন, দ্বিনে পানাহ আস্ত হোসাইন
সার দাদ, না দাদ দাস্ত, দার দাস্তে ইয়াজিদ
হাক্বাক্বি বিনায়ে লা ইলাহা আস্ত হোসাইন
অনুবাদ:
হোসাইন রাজা হোসাইন বাদশাহ
হোসাইন দ্বিন হোসাইন ধর্মের রক্ষাকারী
মাথা দিয়েছে দেয়নি তো হাত ইয়াজিদের হাতে
প্রকৃতপক্ষেই হোসাইন লা-ইলাহার বুনিয়াদ।
এ গজল থেকেই স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম হোসাইন (রা.) শুধু রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর ধর্ম-মোহাম্মদী ইসলামের রক্ষাকারী ছিলেন না, তিনি মোহাম্মদী ইসলামের একজন প্রকৃত বুনিয়াদ বা স্তম্ভ।
পবিত্র আশুরা বা দশই মহররম-পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শাহাদতের মর্যাদা লাভকারী হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)Ñএর শাহাদতের তথা মানবজাতির ইতিহাসের সর্বাধিক হৃদয় বিদারক ঘটনার দিবস। আজ থেকে প্রায় ১৪শত বছর পূর্বে কারবালার মরুপ্রান্তরে তিনি তাঁর ৭২ জন সঙ্গী-সাথী নিয়ে দুরাচার ইয়াজিদের হাতে শাহাদত বরণ করেন।
ইমাম হোসাইন (রা.) হচ্ছেন রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র। খাতুনে জান্নাত হযরত মা ফাতেমা (রা.) ও শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু-এর নয়নের মণি এবং আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য। এছাড়া ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.) হলেন বেহেশতের যুবকদের সরদার। যার কারণে মোহাম্মদী ইসলামে আহলে বাইতের গুরুত্ব অপরিসীম। যতদিন পৃথিবীতে আহলে বাইত থাকবে ততদিন হযরত রাসুল (সা.)-এর উম্মতের উপর ধ্বংস নেমে আসবে না।
বিশ^নবি হযরত রাসুল (সা.) আহলে বাইত সম্পর্কে এরশাদ করেন- ‘‘আমার আহলে বাইত দ্বারা আমার উম্মতের নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে। সুতরাং যখন আমার আহলে বাইত থাকবে না, তখন আমার উম্মতের ধ্বংস নেমে আসবে।’’ হাদিস শরীফের এ বাণী রহস্যে পরিপূর্ণ, যা ব্যাখ্যার দাবী রাখে। প্রথমেই পরিস্কার হওয়া দরকার, আহলে বাইত কারা? বিষয়টি হযরত রাসুল (সা.) নিজেই অসংখ্য হাদিসে পরিস্কার করে গেছেন।
সে সকল হাদিসের সারমর্ম হচ্ছে, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর আহলে বাইত হলেন- হযরত রাসুল (সা.)-সহ শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু, হযরত ফাতেমা (রা.), হযরত ইমাম হাসান (রা.) ও হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)। এ পাঁচজনকে পাকপাঞ্জাতনও বলা হয়। একটি হাতের পাঁচটি অঙ্গুলি নিয়েই যেমন পরিপূর্ণ হাত, তেমনি এ পাঁচজনকে নিয়েই আহলে বাইত তথা নবি পরিবার। আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- ‘‘আমি আদম সন্তানদের প্রত্যেক যুগের উত্তম শ্রেণীতে যুগের পর যুগ প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর ঐ যুগে প্রেরিত হয়েছি, যে যুগে আমি বর্তমান আছি। (বুখারী শরীফ ১ম খন্ড : পৃষ্ঠা ৫০৩, মেশকাত শরীফ পৃষ্ঠা ৫১১, মুসনাদে আহমদ ৯ম খন্ড পৃষ্ঠা ২৫ ও ১৯৬, তাফসীরে মাজহারী ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৩৬)
রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর পাক জবান নিঃসৃত এ বাণীতে বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় পরিস্কার যে, হিদায়েতের কর্তৃত্ব নুরে মোহাম্মদী। যুগপরিক্রমায় মানব জাতির উত্তম শ্রেণীতে তিনিই বারবার জগতের বুকে তশরিফ গ্রহণ করে রহমত বিতরণ করেছেন, করছেন এবং করবেন। আর এজন্যই তিনি রাহমাতুল্লিল আলামিন তথা সমগ্র সৃষ্টির রহমত। আর মানবজাতির উত্তম শ্রেণী হলো- নবি, রাসুল ও আওলিয়ায়ে কেরাম। নবুয়তের যুগে এ নুরে মোহাম্মদী আম্বিয়ায়ে কেরামের পৃষ্টদেশ হয়ে জগতের বুকে তশরিফ নিয়ে সমকালীন যুগের মুক্তিকামী মানুষকে আল্লাহর আলো দ্বারা আলোকিত করেছে। অতঃপর নবুয়তের সিলসিলার সর্বশেষ তিনি স্বনামে তশরিফ নিয়ে ধর্মকে পরিপূর্ণ রূপ দিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত মানবমুক্তির সংবিধান দিয়ে গেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগে এ নুরে মোহাম্মদী পুনরায় মোজাদ্দেদ, যুগের ইমাম ও আওলিয়ায়ে কেরামের পৃষ্ঠদেশ হয়ে জগতের বুকে তশরিফ গ্রহণ করে নবুয়তের যুগে রেখে যাওয়া ধর্মকে বিকৃতির হাত থেকে উদ্ধার করে পুনরুজ্জীবিত করবেন। বিষয়টি আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজেই বলে গেছেন এভাবে- ‘‘নিশ্চয় মহিমাময় আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে এই উম্মতের জন্য এমন এক ব্যক্তি প্রেরণ করেন, যিনি ধর্মকে সজীব ও সতেজ করে তোলেন।’’(আবু দাউদ শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৩৬) আর এ বিষয়টি জ্ঞানী মাত্রেই উপলব্ধি করবেন যে, হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া ধর্মকে সংস্কার করা, বিকৃতির হাত থেকে উদ্ধার করা, সজীব ও সতেজ করে পুনর্জীবিত করা- কোনো উম্মতের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কাজ স্বয়ং নুরে মোহাম্মদীর। কেন না মূল ধর্ম কি ছিল, সময়ের ব্যবধানে কতটুকু বিকৃত হয়েছে-এ কেবল তাঁরই জানার কথা, যিনি এ নুরে মোহাম্মদী লাভ করেন, তিনিই অলীদের বাদশাহ হিসেবে মোজাদ্দেদ ও যুগের ইমামের দায়িত্ব লাভ করেন। মূলে মোজাদ্দেদ বা মহান সংস্কারক নামে স্বয়ং নুরে মোহাম্মদী জগতের বুকে বিরাজমান থেকে তাঁর ধর্মকে তিনি নিজেই পুনর্জীবিত করেন এবং আশেকে রাসুল সৃষ্টি করেন। আর এ মোজাদ্দেদই হলেন- যুগের ইমাম।
হযরত রাসুল (সা.) ইমামুল মুরসালিন হিসেবে নবুয়তের যুগ সমাপ্ত করত বেলায়েতের যুগের সূচনা করে ইমামতের যে ধারা চালু করেছিলেন, সে ইমামতের সিলসিলা মানবজাতির উত্তম শ্রেণীতে কায়েম থাকবে। এজন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) ইমাম হোসাইন (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন- ‘‘ইমাম হোসাইন আমার থেকে, আর আমি ইমাম হোসাইন থেকে।’’ (তিরমিযী শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ৪৭১) আর হাদিসের মর্ম হচ্ছে, নবুয়তের যুগে হযরত রাসুল (সা.) থেকে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর যেমন আবির্ভাব ঘটেছে, তেমনি নবুয়ত পরবর্তী বেলয়েতের যুগে এ ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বংশ পরম্পরায় মানবজাতির উত্তম শ্রেণী তথা সৈয়দ বংশ হতে পুনরায় নুরে মোহাম্মদীর আবির্ভাব ঘটবে। এ নুরে মোহাম্মদীই যুগের ইমাম নামে পরিচিত হবেন। এজন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজেই বলে গেছেন- ‘‘যে ব্যক্তি তার জামানার ইমামকে চিনতে পারে না এবং এ অবস্থায় মৃত্যু ঘটে তবে তার মৃত্যু অন্ধকারে নিমজ্জিত ও নিপতিত হবে।’’ (সূফী সম্রাটের যুগান্তকারী অবদান : আল্লাহ্ কোন পথে? পৃষ্ঠা ১৯৬)
আর এটি এজন্য যে, যে ব্যক্তি বিশ^াসের সাথে যুগের ইমামের সহবত লাভ করে, সে রাসুলের আলো দ্বারা আলোকিত হয়ে মু’মিন হওয়ার গৌরব লাভ করে। আর যে এ শ্রেষ্ঠ নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়, নিজের হৃদয়কে রাসুলের আলো দ্বারা আলোকিত করতে পারে না, সে দুনিয়াতে যেমন অন্ধকারে ডুবে থাকে, তেমনি তাঁর মৃত্যুও অন্ধকারেই হয়। আর এটিই আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ঐ বাণীর রহস্য, যেখানে তিনি বলেছেন- যখন আমার আহলে বাইত থাকবে না, তখন আমার উম্মতের ধ্বংস নেমে আসবে।
নুরে মোহাম্মদীর ধারক ও বাহকগণই হলেন সত্যিকার ধর্মের রক্ষাকারী। সে কারণে তাঁদের সান্নিধ্যে গিয়ে বায়েত গ্রহণ করে একজন মানুষকে মু’মিন হতে হয়। নবুয়তের যুগে নবি-রাসুল এবং বেলায়েতের যুগে অলী-আল্লাহগণের সান্নিধ্যে গিয়ে মানুষকে বায়েত গ্রহণ করে ইমানের নুর নিজ হৃদয়ে ধারণ করে মু’মিন হতে হয়েছে। কারণ এই বায়াত প্রথা সৃষ্টির শুরু থেকে কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এটাই মু’মেন হওয়ার পদ্ধতি।
তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’’ গ্রন্থের (১ম খন্ডে) বায়েত সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে, ‘‘এতে বর্ণিত হয়েছে, বায়েত শব্দের অর্থ মুরিদ হওয়া, আত্মসমর্পণ করা, শপথ করা, আনুগত্যের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ- মহান রাব্বুল আলামিনকে পাওয়ার জন্য মোর্শেদের কাছে আনুগত্যের শপথ করে যাবতীয় পাপ কর্ম হতে বিরত থেকে মোর্শেদের মাধ্যমে আল্লাহতে আত্মসমর্পিত হওয়া।
সৃষ্টির আদি থেকে সকল যুগে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য মানুষকে সমকালীন যুগের মোর্শেদ তথা নবি-রাসুল ও আউলিয়ায়ে কেরামের কাছে আনুগত্যের শপথ নিয়ে বায়েত গ্রহণ করে ইমানদার বা মু’মেন হতে হয়েছে। আর এটিই আল্লাহকে পাওয়ার একমাত্র বিধান। যার ফলশ্রুতিতে, হযরত রাসুল (সা.)-এর হাতে হাত দিয়ে সাহাবায়ে কেরাম বায়েত গ্রহণ করে পূর্ণ আনুগত্যের শপথ করেছিলেন। কেননা, নবি-রাসুল এবং আউলিয়ায়ে কেরামের মাধ্যমেই আল্লাহকে পেতে হয়।
এজন্য বায়েতের বিধান সৃষ্টির আদি হতে অদ্যাবধি চলে আসছে এবং কিয়ামত অবধি চলতে থাকবে। মোহাম্মদী ইসলামে বায়েতের গুরুত্ব এত বেশি যে, হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর সকল সাহাবি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর হাতে হাত দিয়ে বায়েত গ্রহণ করেছেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর পরে যথাক্রমে হযরত ওমর ফারুক (রা.), হযরত ওসমান (রা.) ও আহলে বায়েতের অন্যতম সদস্য হযরত আলী (রা.)-সহ হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.)-এর হাতে হাত দিয়ে বায়াত গ্রহণ করেন।
এমনকি ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কুফায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল- ‘হাজার হাজার মুসলমান কুফায় ইমাম হোসাইন (রা.)-এর নিকট বায়াত গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করছেন।’ এ সংবাদ পেয়েই তিনি কুফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে কারবালার প্রান্তরে হযরত রাসুল (সা.)-এর ধর্মের জ¦লন্ত প্রদীপ ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কাফেলাসহ গতিরোধ করা হয়। কারবালার প্রান্তরে তাঁকে নির্মমভাবে শহিদ করার পর রাজতন্ত্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এজিদ ইবনে মাবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান। আর তখন থেকেই হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলাম চক্রান্তের বেড়াজালে আটকে পড়ে।
তখন থেকেই ইসলাম দু’টি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১. হেরা গুহা হতে উৎসারিত তাসাউফ ও বায়েত নির্ভর হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া শান্তির ধর্ম মোহম্মদী ইসলাম। ২. তাসাউফ ও বায়েত বিবর্জিত এজিদের ক্ষমতা নির্ভর রাষ্ট্রীয় ইসলাম।
এজিদের ক্ষমতা নির্ভর রাষ্ট্রীয় ইসলামে শপথের যে প্রচলন ছিল, তাতে সরকার ও সংবিধানের পরিপূর্ণ আনুগত্যের উপর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে দেখা যায়। অথচ তাসাউফের বিধান মতে, প্রত্যেক যুগে মুক্তিকামী মানুষকে তার যুগের মোর্শেদ তথা নবি-রাসুল ও আউলিয়ায়ে কেরামের সান্নিধ্যে গিয়ে ইমানের নুর স্বীয় ক্বালবে ধারণ করে মু’মেন হতে হয়। নচেৎ তার ইমানের দাবী আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
এজন্য ইসলামে বায়েত হওয়াকে ফরজ করা হয়েছে। কেননা, বই-পুস্তক কিতাবাদি পড়াশুনা করে ধর্মীয় ব্যাপারে পান্ডিত্য অর্জন করা যায়, মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও মুফতি হওয়া যায় কিন্তু মু’মেন হওয়া যায় না। মু’মেন হওয়ার জন্য মোর্শেদের সহবতে গিয়ে ক্বালবে আল্লাহর নুর ধারণ করে ইমানদার হতে হয়। যেভাবে হযরত রাসুল (সা.)-এর সহবতে এসে বায়েত গ্রহণ করে মক্কা ও মদিনার অগণিত মানুষ মু’মেন হয়ে সাহাবির মর্যাদা লাভ করেছেন।
এ বায়েত প্রথা সৃষ্টির শুরু থেকে মহামানবগণের মাধ্যমে কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। বিশ^নবি হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগেও এ বায়েত প্রথা চালু ছিল। পরবর্তীতে কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদত বরণের পর থেকে কুখ্যাত এজিদ ক্ষমতায় আসার পর তাঁর অনুসারীদের প্রতি অত্যাচার শুরু করে দেয়। কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.)-সহ নবি পরিবারকে হত্যার মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামকে কবরস্থ করা হয়। তখন থেকেই বায়েত প্রথা বিলুপ্ত হয়।
পরবর্তী আব্বাসীয় শাসকবৃন্দ ও তৎকলীন যুগের স্বনামধন্য অলী-আল্লাহগণের উপর নানাবিধ অত্যাচার চালায়। মূলত ইসলাম যতটুকু প্রসার লাভ করেছে তা অলী-আল্লাহগণের মাধ্যমেই। ফলে অলী-আল্লাহগণের অনেকেই বিশে^র বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন এবং বিধর্মীদেরকে মুসলমানে পরিণত করেন। তাঁরা বায়েতের মাধ্যমে মানুষকে ইমানদার তথা মু’মেন বানিয়েছিলেন।

ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগ
আশুরার দিনে কারবালায় ফোরাত নদীর কূলে নবি বংশের যে রক্তধারা ঝরেছে তা মরুভুমি শুষে নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত দ্বিন ইসলামকে যে কীভাবে পানি সিঞ্চন করেছে তা স্বয়ং হযরত রাসুল (সা.)-এর হোসাইন আমার হতে ও আমি হোসাইন হতে’- এ অমর বাণীর মধ্যে প্রতিফলিত হয়।
যে জিহাদ ও শাহদত দ্বিনকে বাঁচনো এবং মুসলমানদের রক্ষা করার জন্য হয়, সেটা আল্লাহর রাহে সবচেয়ে বড়ো একটি আত্মত্যাগী পদক্ষেপ। পক্ষান্তরে নিজেকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করা অন্য বিষয়। কথাটা আরো একটু খুলে বলা যায়। এভাবে যে, মানবজাতীর হেদায়েত তথা সুপথ প্রাপ্তির জন্য একদিকে যেমন হেদায়েতের ‘উৎপত্তি তথা সৃষ্টিকারণ’ আবশ্যক, অপরদিকে তেমনি হেদায়েত ‘বজায় থাকা কারণ’ও আবশ্যক। প্রথম কারণটি বাস্তবায়ন হয় আম্বিয়াগণের নবুয়ত ঘোষণার মাধ্যমে। আর দ্বিতীয় কারণটি বাস্তবায়িত হয় ‘বেলায়েতে কোবরা’র মাধ্যমে। ইমাম হোসাইন (রা.) হলেন আম্বিয়াগণের সেই দাওয়াতের স্থায়িত্ব বজায় থাকার কারণ ও রহস্যকথা। ইমাম হোসাইন (রা.) তাঁর ইমামতের জ্ঞানের স্থান থেকে যেমন অবগত ছিলেন যে, শাহাদত বরণ করবেন, একইভাবে এটাও জানতেন যে, তাঁর শাহাদত বরণের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানরা রক্ষা পাবে। তাইতো তিনি বলেছিলেন, ‘আমার কতল ব্যতীত যদি মুহাম্মদের দ্বিন রক্ষা না পায় তাহলে এসো হে তরবারিসমূহ! আমাকে গ্রহণ করো।’ (নাসেখুত তাওয়ারিখ: ৩/১১৯) এভাবেই তিনি ইসলামের জীবনকে নিজ জীবনের উপর অগ্রগণ্য করেছিলেন। অন্যত্র ইমাম বলেন: ‘সম্মানের পথে মৃত্যু আসলে চিরন্তন জীবন বৈ নয় আর অপমানের সাথে বেঁচে থাকা আসলে সেই মৃত্যু বৈ নয় যার সাথে কোনো জীবনই নেই।’ (মাওসুআতু কালিমাতিল ইমাম আল-হোসাইন : ৩৫৬)
অর্থাৎ ইমাম হোসাইন (রা.)-এর দ্বিনি দৃষ্টিকোণ ও শিক্ষায় জীবনের যৌক্তিকতা নিহিত রয়েছে সম্মান আর ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষা পাওয়ার মধ্যেই এবং এটাই শেষ কথা। একজন ইমাম ও দ্বিনের নেতা হিসাবে তাঁর ভূমিকা কেবল দ্বিন ও ইসলামি আদর্শকে রক্ষা ছাড়া আর কী হতে পারে? আশুরার রক্তরঞ্জিত স্মৃতিকথা এই সত্যেরই প্রতিরূপ মাত্র যে, দ্বীনের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ বিপদের সম্মুখীন হলে দ্বিনের নেতা প্রয়োজনে শুধু নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে হলেও দ্বিন রক্ষায় এগিয়ে আসবেন এবং যে কোনো মূলে দ্বিনের প্রদীপকে নিভে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাবেন। ইসলামের গোড়াপত্তন মুহাম্মদ কর্তৃক আর বেঁচে থাকা হোসাইন কর্তৃক।
ইমামাত ও সালতানাত প্রসঙ্গ
ইয়াযিদ ইবনে মুয়াবিয়া যখন মদীনার গভর্নর ওয়ালিদকে ইমাম হোসাইন (রা.) হতে বায়েত আদায়ের নির্দেশ পাঠাল এবং তিনি উক্ত বায়েতে অস্বীকৃতি জানালেন তখন ওয়ালিদকে উদ্দেশ্য করে ইমাম বলেন, হে আমীর! আমরা হলাম নবুওয়াতের পরিবার ও রেসালাতের খনি। আর ফেরেশতা দলের গমনাগমনের ঠিকানা। আল্লাহ আমাদের (খান্দান) মাধ্যমেই (রাসুলের ইসলামের) শুভ সূচনা করেছেন এবং শেষ অবধি আমাদের মাধ্যমেই এর পরিসমাপ্তি ঘটাবেন। কিন্তু ইয়াযিদ-যার জন্য আপনি আমার নিকট থেকে বায়েত আদায়ের অপেক্ষা করছেন- একজন ফাসেক ও মদ্যপ ব্যক্তি। যার হাত নিরপরাধ মানুষদের রক্তে রঞ্জিত। সে আল্লাহর হুকুম বিধানের সীমাকে চুরমার করে দিয়েছে এবং প্রকাশ্যে জনসম্মুখে অনাচারে লিপ্ত হয়। তাই আমার মতো কেউ তার মতো কারো কাছে বায়েত হতে পারে না। তবুও আপনি রাতটা অতিবাহিত করুন, আমরাও রাতটা অতিবাহিত করি। সকাল হোক। আমাদের ও আপনাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং ভবিষ্যতকে বিবেচনা করতে হবে। তাহলে দেখবেন আমদের মধ্যে কে খেলাফত ও ইসলামি উম্মাহর নেতৃত্ব দানে অধিকতর যোগ্যতা সম্পন্ন আর কে জনগণের বায়েতের উপযুক্ত।’ (আল লুহুফ : পৃষ্ঠা ২৩)
ইমাম হোসাইন (রা.)-এর যুক্তিপূর্ণ এ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের উপসংহারে এসে যে সিদ্ধান্তমূলক কথাটি বলেছেন, তা আর তাঁর মহান বিপ্লবের বার্তাকে দেশকালের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন নি। অনাগত কালের সত্যাগ্রহী মানুষদের জন্য তিনি এমনি এক মাপকাঠি হাতে তুলে দিয়ে গেছেন। যা ইসলামকে রক্ষার যেমন অটুট ঢাল হয়ে থাকবে, সত্যাগ্রহী প্রতিটি মানুষকেও তেমনি স্বীয় পথ খুঁজে পেতে এবং স্বীয় কর্তব্য পালনের জন্য চির অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে। কারণ, তিনি বলেছেন : ‘আমার মতো কেউ তার (ইয়াযিদের) মতো কারো কাছে বায়েত হতে পারে না।’ একজন পবিত্রতা ও ধার্মিকতার প্রতীক। অন্যজন পাপাচার ও খোদাদ্রোহিতার প্রতীক। একজন দ্বিনদার ও দ্বিন রক্ষায় প্রাণোৎসর্গকারী। আরেকজন দ্বিন ধ্বংসকারী ও দ্বিনদারের প্রাণ হন্তা। এখন আমাদের কর্তব্য ঠিক করে নিতে হবে। হয় হোসাইনী পথ ধরে বেহেশতের সরদারের নেতৃত্বে বেহেশতবাসী হওয়া। নয়তো ইয়াযিদের পথ ধরে জাহান্নামের পথকে পরিস্কার করা- যা ইসলামের শিক্ষা ছিল না। ইমাম মূসা কাযিম (রহ.) হিশামের উদ্দেশ্যে এক অসিয়তে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর উদ্বৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন : ‘তোমাদের জীবনের মূল্য জান্নাত ছাড়া কিছুই নয়। সুতরাং ঐ মূল্যে ছাড়া তা বিক্রি করবে না।’ (আল আনওয়ারুল বাহিয়্যাহ ফি তাওয়ারিখিল হুজাজিল ইলাহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৪৫)
কারবালার যুদ্ধ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ‘গিবন’ বলেন- ‘‘সেই যুগেও আবহাওয়ায় হোসাইনের মৃত্যুর বিয়োগান্ত দৃশ্য কঠিনতম পাঠকের অন্তরেও সমবেদনার সঞ্চার করবে। মুসলমানদের দৃষ্টিতে এ যুদ্ধে ইমাম হোসাইন (রা.) পরাজিত হলেও ধর্মনিষ্ঠ মুসলমানদের দৃষ্টিতে ইহা বস্তুত একটি আদর্শবাদেরই জয় ছিল।’’
ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদত
ইমাম হোসাইন (রা.) যখন বুঝতে পারলেন যে, শত্রুদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, তাঁকে হত্যা করা। তখন মহিলা ও শিশুদের কি অবস্থা হবে ভেবে তিনি রণক্ষেত্রে গিয়ে শেষবারের মতো এজিদ সমর্থকদের লক্ষ্য করে বললেন, ‘‘হে প্রতিপক্ষ দল! জেনে রাখ, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হারাম। তাতে আল্লাহ অসস্তুষ্ট হন। আমি তোমাদের কারো কোনো ক্ষতি করিনি এবং তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতেও আসিনি এবং তোমাদের সাথে আমার কোনো শত্রুতাও নেই। আামাকে হত্যা করে তোমাদের কি লাভ। এ কাজ করলে পরকালে আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। তোমাদের আহ্বানেই আমি এখানে এসেছিলাম। আমার আগমনে তোমরা সন্তুষ্ট না হলে আমি যেখান থেকে এসেছি, আমাকে সেখানে ফিরে যেতে দাও। অথবা ইয়াজিদের সাথে সরাসরি আলাপ করার সুযোগ দাও।’’ কিন্তু হায়! ইমাম হোসাইন (রা.)-এর কোনো উপদেশ বাণীতেই কুচক্রীরা কর্ণপাত করলো না। তিনি তাবুতে ফিরে এসে সঙ্গী ও পরিবারবর্গকে লক্ষ্য করে বললেন- ‘‘শত্রুদের একমাত্র উদ্দেশ্য আমাকে হত্যা করা। আপনারা এখান থেকে চলে যান। কেউ আপনাদেরকে বাধা দিবে না।’’
এ কথাশুনে ইমাম শিবিরে কান্নার রোল পড়ে গেল। ইমামকে ছেড়ে কেউই চলে যেতে রাজি হলেন না। বরং সকলেই ইমাম হোসাইন (রা.)-এর জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিলেন এবং সাথে সাথেই সকল বয়স্ক পুরুষ যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়ে গেলেন। কিন্তু বিরাট একটা সুসজ্জিত বহিনীর সাথে মুষ্টিমেয় কয়েক ব্যক্তির পক্ষে যুদ্ধ করে টিকে থাকা কোনো মতেই সম্ভবপর ছিল না। তাঁরা একে একে সকলেই শহিদ হলেন। সেদিন মহরম মাসের ১০ তারিখ। ইমাম শিবিরে একমাত্র অসুস্থ ইমাম জয়নাল আবেদিন ছাড়া যুদ্ধে যাওয়ার মতো কোনো পুরুষ ব্যক্তি ছিল না। এ সময়ে শিবিরে কান্নার রোল পড়ে গেল। তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউ সেখানে ছিল না। বীর পুরুষ ইমাম হোসাইন (রা.) যুদ্ধ ক্ষেত্রে গেলে তাঁর ভাবমূর্তি দেখে শত্রুদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো। কেউই তাঁর সামনে যেতে সাহস পেল না। এ সুযোগে তিনি ঘোড়া ছুটিয়ে ফোরাত নদীর তীরে উপস্থিত হলেন। ঘোড়ার পিঠ হতে নেমে নদী থেকে দুহাত ভরে পানি তুলে মুখে দিতেই তাঁর চোখের সামনে পূর্বের সকল স্মৃতি ভেসে উঠলো। কেননা, তাঁর কোলে বসেই তো একবিন্দু পানির জন্য শিশুপুত্র আলী আসগর শত্রুর তীরের আঘাতে শহিদ হলেন এবং একবিন্দু পানির জন্যই তো ইমাম পরিবারের সকল বীর সৈনিক শহিদ হলেন। এ কথা মনে পড়ার সাথে সাথেই তাঁর হাত হতে ঝর ঝর করে সমস্ত পানি পড়ে গেল।
ইমাম হোসাইন (রা.) পুনরায় ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করলেন। একদিকে আত্মীয়-স্বজনের বিয়োগ ব্যথায় ভারাক্রান্ত, অপরদিকে, ক্ষুধা ও পানির পিপাসায় কাতর হয়ে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে রওয়ানা হলেন। তাঁর করুণ অবস্থা দেখে এজিদ সৈন্যগণ পাগলা কুকুরের ন্যায় একযোগে তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়লো। একটি বিষাক্ত তীরের আঘাতে তিনি ধরাশয়ী হয়ে পড়লেন। পাষান্ড সীমার তখন তাঁর মাথা মোবারক কেটে নিয়ে গেল। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম, শুক্রবার ৫৫ বছর ৫ মাস ৫ দিন বয়সে কারবালা প্রান্তরে সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক, হযরত রাসুলে খোদা (সা.)-এর স্নেহের ধন, বিখ্যাত বীর যোদ্ধা শেরে খোদা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু ও রমণীকুল শ্রেষ্ঠ হযরত মা ফাতেমা (রা.)-এর নয়ন মণি, ইমাম হোসাইন (রা.) শাহাদত বরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। কারবালার যুদ্ধে ইমাম পরিবারের ১৭ জন এবং সঙ্গীদের ৫৫ জনসহ মোট ৭২ জন শহিদ হন।
কিন্তু একমাত্র ইমাম জয়নুল আবেদিন (রহ.) জীবিত ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) বলেছিলেন, আমার এ পুত্রের মাধ্যমেই মোহাম্মদী ইসলাম জগতে টিকে থাকবে। পরবর্তীতে ইমাম জয়নুল আবেদিন (রহ.)-ই মোহাম্মদী ইসলামের ঝান্ডা তুলে ধরেছিলেন। ইমাম জয়নুল আবেদিন (রহ.)-এর পুত্র ও কন্যা যথাক্রমে ইমাম বাকের (রহ.) ও হযরত নাফিসা (রহ.) মোহাম্মদী ইসলামের ঝান্ডা সমুন্নত রেখেছিলেন।
হযরত ইমাম বাকের (রহ.)-এর সুযোগ্য পুত্র ছিলেন বিখ্যাত ইমাম হযরত জাফর সাদেক (রহ.)। এভাবে বংশপরম্পরায় আওলাদগণের মাধ্যমে হযরক রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলাম আজও জগতে টিকে আছে।
এভাবে রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.)-এর আহলে বাইতের মাধ্যমে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বংশধর যাঁর শিরায় তাঁর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে তিনি হলেন মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান। যিনি কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদত বরণের ১৪ শত বছর পর হযরত রাসুল (সা.)-এর রেখে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামের পতাকা এই বাংলার বুকে তুলে ধরেছেন। সে কারণে আজ থেকে ৩৫ বছর পূর্বে পবিত্র আশুরার দিবসে তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত দেওয়ানবাগ এলাকায় বাবে জান্নাতে দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাটের পূর্ব পুরুষগণ আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু এর সম্মানিত বংশধর। যাঁরা ইসলাম প্রচারের জন্য সুদূর মদীনা থেকে কাতার এবং পরবর্তীতে কাতার থেকে বাংলাদেশে আগমন করেন। সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের সাথে বিশ^নবি হযরত রাসুল (সা.)-এর রূহানিয়াতে যেমন রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, তেমনি বংশগত দিক থেকেও রয়েছে অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র। তিনি হলেন সৈয়দ বংশীয় তথা হযরত রাসুল (সা.)-এর আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমাম হোসাইন (রা.)-এর ২১তম বংশধর।
তথ্য সূত্র :
১. জেহাদুল ইসলাম ও ড. সাইফুল ইসলাম খান, দিওয়ান-ই-মুঈনুদ্দিন হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতী (র.), সদর প্রকাশনী, ১১/১ বাংলাবাজার, ঢাকা, পৃষ্ঠা ৪১৩
২. সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.), ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ ৫ম খন্ড, আল-কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, দেওয়ানবাগ শরীফ, ১৪৭ আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, পৃষ্ঠা ৩৩২
৩. সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.), ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ ১ম খন্ড, আল-কুরআন গবেষণা কেন্দ্র, দেওয়ানবাগ শরীফ, ১৪৭ আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, পৃষ্ঠা ১২৫৮-১২৬০
৪. ইমাম ড. সৈয়দ এ এফ এম কুদরত এ খোদা, মোর্শেদের দরবারে মুরীদের করণীয়, (২য় সংস্করণ), তাসাউফ পাবলিকেশন্স, বাবে রহমত কমপ্লেক্স (৩য় তলা), ১৪৭ আরাবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, পৃষ্ঠা ৯৫-৯৮
৫. নিউজ লেটার, ঠড়ষ, ৩৬, ওংংঁব-৫, ঝবঢ়ঃবসনবৎ-ঙপঃড়নবৎ ২০১৪, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
৬. সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.), এজিদের চক্রান্তে মোহাম্মদী ইসলাম (আধুনিক সংস্করণ ২০১২), সূফী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১৪৭ আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, পৃষ্ঠা ২৯-৩১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here