যুক্তরাষ্ট্রে অতি ধনীরা আয়কর দেন না!

0
30

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেররা যে কত সামান্য আয়কর দিয়েছেন সে বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে একটি সংবাদ ওয়েবসাইট। তারা দাবি করছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবা ব্যবস্থার নথি থেকে তারা এই তথ্য পেয়েছে।


প্রোপাবলিকা সংবাদ ওয়েবসাইটটি বলছে, বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ ধনীর আয়কর রিটার্ন তারা দেখেছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন জেফ বেজোস, ওয়ারেন বাফেট ও ইলন মাস্ক।


এই ওয়েবসাইটে অভিযোগ করা হয়েছে অ্যামাজনের জেফ বেজোস ২০০৭ এবং ২০১১ সালে কোনোই আয়কর দেননি। আর টেসলার মালিক ধনকুবের ইলন মাস্ক কোনো আয়কর দেননি ২০১৮ সালে।


হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র এই তথ্য ফাঁস করাকে ‘অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং এফবিআই ও কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।


প্রোপাবলিকা বলছে, কোটিপতি ধনকুবেরদের দেওয়া আয়কর বিষয়ে তাদের বর্ণনায় ‘রাজস্ববিষয়ক অভ্যন্তরীণ বিপুল তথ্যভাণ্ডার’ তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহে আরো বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করবে।


বিবিসি এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এই অভিযোগ ফাঁস করা হয়েছে এমন একটা সময়ে, যখন বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কর দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে এবং বিশ্বে ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে ব্যবধান আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রোপাবলিকা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ জন সবচেয়ে বিত্তশালী কর দেন খুবই কম-গড় হিসাবে তাঁদের মোট আয়ের মাত্র প্রায় ১৫.৮ শতাংশ। দেশটির মূলধারার বেশির ভাগ কর্মীর থেকে তাঁদের দেওয়া করের পরিমাণ অনেক কম।


ওয়েবসাইটের সিনিয়র রিপোর্টার এবং সম্পাদক জেস আইসিঙ্গার বিবিসির টুডে প্রোগ্রামকে বলেছেন, “আমরা বিস্মিত হয়েছি দেখে যে আপনি যদি কোটিপতি হন, তাহলে আপনার করের অঙ্ক কিভাবে শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। সত্যি বলতে কি, একজনের দেয় করের অঙ্ক ‘শূন্য’ হতে পারে, এটাতে আমরা হতবুদ্ধি হয়ে গেছি। যাঁরা অতিশয় ধনী ব্যক্তি, তাঁরা পদ্ধতিকে কিভাবে পুরোপুরি আইনি পথে পাশ কাটিয়ে যেতে পারেন।”


প্রোপাবলিকা ওয়েবসাইট বলেছে, ‘পুরো আইনি কর কৌশল ব্যবহার করে বহু বিপুল বিত্তশালী তাঁদের কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয় ট্যাক্সের পরিমাণ হয় একেবারে নগণ্য পরিমাণে নামিয়ে আনছেন অথবা শূন্যের কোঠায় নিয়ে যাচ্ছেন।’ অথচ গত কয়েক বছরে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে বিপুল পরিমাণে।


বহু সাধারণ জনগণের মতোই বিত্তশালীরাও দাতব্যকাজে অর্থ দান করার মাধ্যমে করে ছাড় পাচ্ছেন এবং তাঁরা দেখাচ্ছেন তাঁদের উপার্জনের অর্থ বেতন থেকে আসছে না, আসছে বিনিয়োগ থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here