যুগের ইমামকে চেনার গুরুত্ব

1
257

যিনি সমগ্র মানবজাতির মাঝে জ্ঞানে-গুণে, বিবেক-বুদ্ধিতে ও চরিত্রে সমকালীন সময়ের সকল মানুষের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিগণিত, তিনিই যুগের ইমাম। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আল্লাহ তায়ালা যুগের ইমামের উপর মানুষকে হেদায়েতের পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করে থাকেন। ওহির বাণী আল কুরআনে মহান আল্লাহ একে একে বিষয়টি বলে দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে এরশাদ হচ্ছে- “আমি ইব্রাহীম (আ.)-কে দান করলাম পুত্র ইসহাক (আ.) এবং আরো দান করলাম নাতী ইয়াকুব (আ.)। আর তাঁদের প্রত্যেককে করলাম সৎকর্মপরায়ণ। আমি তাঁদেরকে করেছিলাম (যুগের) ইমাম, তাঁরা আমার আদেশ অনুসারে হেদায়েত করতেন। আমি তাঁদের (ক্বালবে) ওহি করেছিলাম- নেক কাজ করতে, নামাজ কায়েম করতে, যাকাত প্রদান করতে। আর তাঁরা আমারই ইবাদত করতেন।” (সূরা আল আম্বিয়া ২১ : আয়াত ৭২ ও ৭৩)
এমনিভাবে মহান আল্লাহ ওহির বাণী আল কুরআনের অন্যত্র এরশাদ করেন- “আমি তো মুসা (আ.)-কে কিতাব দিয়েছি। অতএব [হে রাসুল (সা.)] আপনি তাঁর সাক্ষাত সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ করবেন না। আমি তাঁকে বনী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক করেছিলাম। আর আমি তাদের (বনী ইসরাঈলের) মধ্য থেকে (যুগের) ইমাম মনোনীত করেছিলাম, যাঁরা আমার আদেশ অনুযায়ী হেদায়েত করতেন, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলো।” (সূরা আস সাজদাহ ৩২ : আয়াত ২৩ ও ২৪)
প্রকৃতপক্ষে প্রত্যেক যুগেই হেদায়েতকারী মহামানব থাকেন, যারা মানুষকে হেদায়েতের পথপ্রদর্শন করেন। আল্লাহ বলেন- “হে রাসুল (সা.)! আপনি তো সুস্পষ্ট সতর্ককারী। আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আছে হাদী তথা পথপ্রদর্শক।” (সূরা আর রা’দ ১৩ : আয়াত ৭)
যুগ পরিক্রমাম যুগের ইমামরূপে যাঁরাই হেদায়েতের মহান কাজ করেন, তাঁদের মাঝেই নুরে মোহাম্মদী বিদ্যমান থাকে। এজন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন- “আমি আদম সন্তানদের প্রত্যেক যুগের উত্তম শ্রেণীতে যুগের পর যুগ প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর ঐ যুগে প্রেরিত হয়েছি, যে যুগে আমি বর্তমানে আছি।” (বোখারী শরীফ ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২ ও ৫০৩)
এমনিভাবে যুগের ইমাম প্রসঙ্গে হযরত রাসুল (সা.) ফরমান- “যে ব্যক্তি তার জামানার ইমামকে চিনতে পারে না, এবং এ অবস্থায় যদি মৃত্যু ঘটে, তবে তার মৃত্যু অন্ধকারে নিমজ্জিত ও নিপতিত হবে।” (মুসনাদে ইমাম সাদেক ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫১৯ ও ৫৩৩)
মূলে ইমামগণের মাঝে নুরে মোহাম্মদী বিরাজিত থাকায়, তাঁদের অনুসরণ করলে কুল-কায়েনাতের রহমত হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর দিদার লাভ হয়। ইমামগণ তাঁদের ফায়েজের দ্বারা সমগ্র জগতকে পরিচালিত করে থাকেন এবং জগতের সকল হাদী শ্রেণীর অলী-আল্লাহগণও যুগের ইমামের ফায়েজের দ্বারা হেদায়েতের কাজ করে থাকেন। সুতরাং যিনি ‘নুরে মোহাম্মদী’র ধারক ও বাহক, তিনি সমকালীন সময়ের ইমাম। এজন্য যুগের ইমামের পরিচয় লাভ করে, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা সকলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
(‘শান্তি কোন পথে?’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত)

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here