যুগের ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী

0
301


মুহাম্মদ জহিরুল আলম
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি তথা মানুষ প্রেরণ করেছেন। আদি পিতা হযরত আদম (আ.) থেকে শরু করে শেষ নবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত যুগে যুগে পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্যের সন্ধান দেওয়ার জন্য অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন। হযরত রাসুল (সা.)-এর ওফাতের সাথে সাথে নবুয়তের যুগের অবসান ঘটেছে। হযরত রাসুল (সা.) ফরমান- “আমিই নবিগণের সর্দার, আমার পরে আর কোনো নবি আসবেন না।”
নবুয়তের যুগ সমাপ্ত হলে পরবর্তী বেলায়েতের যুগে ‘নুরে মোহাম্মদী’র ধারক ও বাহক মহামানবগণ হযরত রাসুল (সা.)-এর উত্তরসূরী হিসেবে হেদায়েতের কাজ পরিচালনা করে থাকেন এবং দয়াল রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ পৃথিবীর মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরেন। এসব মহামানবকে অলী-আল্লাহ বলা হয়। নবিগণের কাছ থেকে মানুষের যে শিক্ষা লাভ হতো, নবির উত্তরসূরী কামেল অলীর কাছ থেকেও অনুরূপ শিক্ষা লাভ করা সম্ভব। বেলায়েতে যুগে আর কোনো নবি-রাসুল আগমন করবেন না বিধায়, ইসলামের সুমহান আদর্শকে সজীব, সতেজ ও যুগোপযোগী করার জন্য প্রত্যেক শতাব্দীতে একজন সংস্কারকের আবির্ভাব ঘটে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে- “নিশ্চয়ই মহান মহিমাময় সম্ভ্রান্ত আল্লাহ প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে এ উম্মতের জন্যে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যিনি দ্বীন (ধর্মকে) সজীব ও সতেজ করে তোলেন।” (আবু দাউদ শরীফ) তিনি এমন একজন মহামানব হবেন যার সাহায্যে মানুষ হেদায়েত লাভ করবে, আত্মশুদ্ধির শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে চরিত্রবান করতে সক্ষম হবে, ইসলামের শান্তি বাস্তব জীবনে উপলদ্ধি করেত সমর্থ হবে এবং দয়াল রাসুল (সা.)-এর প্রকৃত শিক্ষা আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তিনিই হলেন যুগের ইমাম (ওসধস ড়ভ ঊৎধ)।
ইমাম আরবি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে নেতা। পবিত্র কুরআনের ১২টি স্থানে ইমাম শব্দ ব্যবহার হয়েছে। যথাক্রমে ‘ইমামিন’ ২ স্থানে, ‘ইমামান’ ৪ স্থানে, ‘ইমামিহিম’ ১ স্থানে, ‘আইম্মাহ’ ৫ স্থানে। এটি একটি সম্মানিত পদবী। সম্মানিত ব্যক্তিগণ তাদের কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মানিত পদবী অর্জন করে থাকেন। কয়েক স্থানে এ পদবীটি ব্যবহার হয়।
১। মাযহাবের ইমাম, ২। তরিকতের ইমাম, ৩। মসজিদের ইমাম, ৪। জাতি বা সম্প্রদায়ের ইমাম, ৫। নবি-রাসুলগণের ইমাম, ৬। যুগের ইমাম, ৭। হাদিদের ইমাম।
ইমাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল পদবী। প্রত্যেক যুগে ইমামের আগমন ঘটেছে। যিনি মানবজাতির মাঝে জ্ঞানে-গুণে, বিবেক-বুদ্ধিতে সমকালীন সময়ের সকল মানুষের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর সর্বাধিক প্রিয়প্রাত্র হিসেবে পরিগণিত, তিনিই যুগের ইমাম। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আল্লাহ তায়ালা যুগের ইমামের উপর মানুষকে হেদায়েতের দায়িত্ব অর্পণ করে আসছেন। তাই তাঁর মাঝেই ‘নুরে মোহাম্মদী’ বিদ্যামান থাকে। তাঁর মাধ্যমেই সমগ্র সৃষ্টিজগতের প্রাণ শক্তি তথা ফায়েজ বিশ^জাহানে অহর্নিশ অবতীর্ণ হয়। সমকালীন যুগের সমস্ত অলী-আল্লাহ তাঁর রূহানি শক্তিতেই আপন কার্য সম্পাদন করে থাকেন। যুগের ইমামের পরিচয় লাভ করে তাঁর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হযরত রাসুল (সা.) এ সম্পর্কে ফরমান- “যে ব্যক্তি তার জামানার ইমামকে চিনতে পারল না এবং এ অবস্থায় যদি তার মৃত্যু ঘটে, তবে তার মৃত্যু অন্ধকারে নিমজ্জিত ও নিপতিত হবে।”
আমাদেরকে যুগের ইমামের পরিচায় লাভ করতে হবে। যিনি সমসাময়িক হেদায়েতকারী অলী-আল্লাহদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, দয়াল রাসুল (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় তিনি অলী-আল্লাহগণের সর্দার ও যুগের ইমাম। পিরানে পির, দস্তগির, সুলতানুল মাশায়েখ, সুলতানিয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) বলেন- যিনি যুগের ইমাম বা যুগশ্রেষ্ঠ মহামানব, তিনি তাওয়াজ্জোহ এত্তেহাদির অধিকারী হবেন। ফলে তাঁর সাহচর্য লাভকারী ব্যক্তিগণের মাঝে হযরত রাসুল (সা.)-এর সাহাবাগণের মতো চারটি হালত পরিলক্ষিত হয়। যথা: সালেক, মাজ্জুব, সালেক-মাজ্জুব, মাজ্জুব-সালেক। বিভিন্ন গবেষণা কার্য হতে যুগের ইমামের যে বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় তা হলো:
১। যুগের ইমামের হেদায়েতের কাজ, হযরত রাসুল (সা.)-এর হেদায়েতের কাজের অনুরূপ হবে।
২। তাঁর এত্তেহাদি তাওয়াজ্জোহর ক্ষমতায় মানুষের কলুষিত আত্মা দ্রুত ও সহজ উপায়ে পরিশুদ্ধ হয়ে আল্লাহর দিকে আকৃষ্ট হবে।
৩। মানুষ তাঁর সান্নিধ্যে যাওয়া মাত্র তাঁর ফায়েজে প্রভাবান্বিত হবে এবং মনের অবস্থার পরিবর্তন অনুভব করবে।
৪। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে অসংখ্য লোক হযরত রাসুল (স.)-এর দিদার লাভ করবেন।
৫। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে রাসুল (সা.)-এর সাহাবাগণের ন্যায় চার প্রকার হালতের যথা- সালেক, মাজ্জুব, সালেক-মাজ্জুব, মাজ্জুব-সালেক লোক থাকবেন।
৬। তিনি বাহ্যিক আচার অনুষ্ঠানের চেয়ে ধর্ম পালনের মূল উদ্দ্যেশের উপর অধিক গুরুত্বরোপ করেন।
৭। তিনি তাঁর সময়ে ধর্মে অনুপ্রবেশকারী ভুল ধারণাগুলি চিহ্নিত করে তা সংশোধন করেন।
৮। তিনি মারেফতের সাধনা পদ্ধতি সংস্কার সাধন করে যুগোপযোগী করেন।
৯। তিনি আল্লাহর পরিচয় প্রদানকারী হাদি হবেন।
১০। ‘মুজাদ্দেদ’ নামক উচ্চ মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী হবেন। তাঁকে সূফী সম্রাটও বলা হয়।
বিশ্ববাসীর শান্তির দূত হয়ে হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতিশ্রুত এবং তাঁর হেদায়েতের নুরের ধারক ও বাহক হিসেবে সফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান এ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম সংস্কারের জন্য তিনি প্রতিশ্রুত মহামানব। তিনি ১৯৮৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর, রহমতের সময় মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘মহান সংস্কারকের’ দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে বিশ্বনবী হযরত রাসুল (সা.) তাঁকে ১৯৮৯ সালের ৫ এপ্রিল, বুধবার রহমতের সময় মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী’ খেতাবে বিভূষিত করেন।
আল্লাহর মহান বন্ধু সিরাজাম মুনিরার ধারক ও বাহক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকাী সুফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বর্তমান যুগের মহান সংস্কারক। তিনি কালের অতল তলে হারিয়ে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামের বহুবিধ সংস্কার করেছেন, যা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- পবিত্র কাবা ও হযরত রাসুল (সা.)-এর রওজা শরীফের ছবি সম্বলিত জায়নামাজে নামাজ পড়া বেয়াদবি; ১৯৯১ সাল থেকে তাঁর প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে জমি রেজিস্ট্রেশন চালু হয়েছে; পবিত্র কুরআনের সঠিক আয়াত সংখ্যা- ৬২৩৬; সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করলে দ্বীন জয়ী থাকবে; বান্দার নামে নয়, বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে কোরবানি করুন; আল্লাহকে জানার বিজ্ঞান এলমে তাসাউফ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবর্তন; বিম্বনবী হযরত রাসুল (স.) ধনী ছিলেন, গরিব নন; ১২ তারিখ নয়, ১লা রবিউল আউয়াল হযরত রাসুল (সা.) ওফাৎ লাভ করেছিলেন; ১০ মহররম তথা আশুরা শিয়াদের অনুষ্ঠান নয়, এ দিবসে মহান আল্লাহ আরশ মোবারকে সমাসীন হয়েছিলেন; মাতৃভাষায় জুমার খুৎবার প্রচলন; ইসলামে ছবি তোলা নিষেধ নয়, ইহা জায়েজ; আল্লাহ নিরাকার নন, তাঁর নিজস্ব নুরের আকার রয়েছে। মুক্তি পেতে হলে মুক্তির পথ দেখাতে সক্ষম মহামানবের সংস্পর্শে যেতে হবে। তাঁর হৃদয়ের আলো দ্বারা অন্তরের অন্ধত্ব দূর করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি এ পৃথিবীতে অন্ধ রইল, সে ব্যক্তি পরকালেও অন্ধ থাকবে এবং পথভ্রষ্ট হবে।” (সূরা বনী ইসরাইল ১৭: আয়াত ৭২)। এই অন্ধের ব্যাখ্যা আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলেন, “চোখের অন্ধ নয় বরং দিলের অন্ধই প্রকৃত অন্ধ।” (সূরা আল হাজ¦ ২২: আয়াত ৪৬) সূফী সম্রাট হযরত মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের সান্নিধ্যে আমাদের মতো পাপী-তাপী মানুষ হুদয়ে আলো জ্বালাতে সক্ষম হয়। তাঁর ফায়েজে আত্মশুদ্ধি লাভ করে মানুষ শান্তি ও সুন্দর চরিত্রের অধিকারী হয়, অসংখ্য মানুষ আশেকে রাসুল হয়ে দয়াল রাসুল (সা.)-এর দিদার লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তাঁর অনুসারীদের মধ্যেও সালেক, মাজ্জুব, সালেক-মাজ্জুব, মাজ্জুব-সালেক তথা চার হালতের লোক রয়েছে। তিনি ইসলামের বাহ্যিকতা তথা লেবাসের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে ধর্ম পালনের মূল উদ্দেশ্য তথা একজন প্রতিনিধি হিসেবে প্রভুর সাথে কিভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে তার উপর অধিক গুরুত্বারোপ করেন। এজিদের চক্রান্তে হারিয়ে যাওয়া মোহাম্মদী ইসলামকে জগতের মানুষের কছে তিনি পুনরায় তুলে ধরেছেন। তিনি সর্বপ্রথম বলেন, “একটি নিকৃষ্ট কুকুর যদি তার মনিবকে দেখতে পারে, তবে আশরাফুল মাখলুকাত ও আল্লাহর প্রতিনিধি মানুষ তার মনিব আল্লাহ তায়ালাকে দেখতে পারবে না কেন?” সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের শিক্ষা লাভ করে অসংখ্য মানুষ আশেকে রাসুলে পরিণত হয়ে মহান আল্লাহর দিদার লাভ করেছেন। সমকালীন সময়ে তিনিই যুগের ইমাম, প্রতিশ্রুত মহামানব।
আজ শতাব্দীর এ শিরোভাগে সূফী সম্রাট হযরত মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান জগৎবাসীর নিকট আল্লাহর পচিয় তুলে ধরেছেন। মহান আল্লাহ সম্পর্কে যারা জানতে চায় তাদের উদ্দেশে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- “তিনিই রহমান, তাঁর সমন্ধে যে অবগত আছে তাঁকে জিজ্ঞেস করো” (সুরা ফুরকান ২৫: আয়াত ৫৯)। আল্লাহর মহান বন্ধু, যুগের ইমাম সুফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন- “আল্লাহ তায়ালার আকার অব্যশই রয়েছে এবং সে আকার দেখার জন্য ইমানের চোখ জাগ্রত করা প্রয়োজন। খাঁটি কামেল-মোকাম্মেল অলী-আল্লাহর সাহচর্যে গিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে যদি ইমানের নুর জাগ্রত করা যায় তাহলে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহকে তাঁর স্বরূপে দেখা সম্ভব।”
আসলে বিভ্রান্তির বেড়াজালে পড়ে আমরা ইমানহারা হচ্ছি। পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য নুরে মোহাম্মদীর আলোকবর্তিকা জগতের বুকে ছিল, আছে এবং থাকবে। শুধু দয়াময় প্রভুর কাছ থেকে তাঁর সন্ধান চেয়ে নিতে হবে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- “তিনি (আল্লাহ) যাকে পথভ্রষ্ট করেন, হে রাসূল! আপনি তার জন্য কোনো পথ প্রদর্শনকারী (মোর্শেদ) অভিভাবক পাবেন না।” (সূরা কাহাফ ১৮ : আয়াত ১৭)। যুগের ইমাম, মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান বর্তমান যুগের শ্রেষ্ঠ মহামানব। তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করে আমরা ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here