যেভাবে শিশুকে ঘরের কাজ শেখাবেন

0
28


শিশু ডেস্ক: সন্তানের মানসিক বিকাশে বাড়ির কাজকর্মে যুক্ত করা জরুরি। আপনার শিশু এমনিতে হয়তো বেশ চটপটে, দুরন্ত। কিন্তু সংসারের ছোটখাটো দায়িত্ব নিতে বললেই ওর হয়তো মুখ ভার হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ওকে দোষ দিয়ে লাভ নেই! একবার ভেবে দেখুন, আপনি একটি শিশুকে ছোটবেলা থেকে যেভাবে গড়ে তুলবেন, সেভাবেই সে বেড়ে উঠবে। সারাদিন বাসায় বসে ভিডিও গেম, সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগৎ কিংবা অনলাইন ক্লাস- অনেক কিছুই থাকে ওদের। এর মধ্যেও আপনার সন্তানকে সংসারের কাজে হাত লাগানোর অভ্যাসের শিক্ষা দিতে হবে।


বাচ্চাকে স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর করে তোলার দায়িত্ব শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই। এতে ওর মধ্যে ছোট থেকেই একটা দায়িত্ববোধ গড়ে উঠবে। সে যে আর ছোট নেই; বাড়ির টুকটাক কাজ করার জন্য মা-বাবা ওর ওপর ভরসা রাখেন- এই বোধটুকু ওকে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করবে। তবে ধমকের সুরে নয়, তাকে ধৈর্য এবং আদরের সঙ্গে এ অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। লেখাপড়া কিংবা খেলাধুলার পাশাপাশি সংসারের কাজের ভার নেওয়ার অভ্যাস থাকা দরকার। ফলে একটি শিশু ছোট থেকেই সময়জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হবে, যা তার কর্মজীবনেও সাহায্য করবে। শুধু মানসিক বিকাশই নয়, সংসারের কিছু কাজ বাচ্চার শারীরিক বিকাশ ঘটাতেও সাহায্য করে।


দায়িত্ব দিন বয়স অনুযায়ী:
বয়স বুঝে সন্তানকে কাজ দিন। একদম ছোট্ট শিশুকে (২ থেকে ৩ বছর) খেলাচ্ছলেই খেলনা গুছিয়ে রাখার শিক্ষা দিন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কত দ্রুত খেলনাগুলো গুছিয়ে ফেলা যায়, সেটাই মজার খেলা হতে পারে। এতে নতুন কাজ শেখার প্রতি উৎসাহী হবে। একটু বড় হলে (৬ থেকে ৮) ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা গোছানো, টেবিল মুছে রাখা, কলিং বেল বাজলে দরজা খুলে দেওয়া ইত্যাদি কাজের দায়িত্ব ওকে দিতে পারেন। প্রথমে এই কাজগুলো হয়তো করতে চাইবে না। তাতে গুরুত্ব না দিয়ে শিশুকে বোঝান, প্রিয় খেলনা বা প্রিয় কমিকসের বইয়ের মতোই বিছানাপত্রও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব ওর আছে। এ ছাড়াও বাগান পরিচর্যায় শামিল করে নিতে পারেন শিশুকে। এতে শিশুর মধ্যে কর্তব্যবোধ গড়ে উঠবে সহজেই।

টিমওয়ার্ক করুন:
ছেলেবেলা থেকে একটা প্রবাদ শুনে আসছি- দশে মিলি করি কাজ, হারি-জিতি নাহি লাজ। দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার যে অনেক সুবিধা, এটি সন্তানকে শেখানোর দায়িত্ব আপনার। এতে কাজ শেখার ধরনটা সে উপভোগও করবে এবং সহযোগিতার মূল্য শিখবে। সপ্তাহে অন্তত একটা কাজে ওকে শামিল করুন। সেটা হতে পারে সপরিবারে বাগান পরিচর্যা; একসঙ্গে বাজার করাও। শিশুকে বিভিন্ন রকম ফল বা সবজি এবং তার দামের সঙ্গে পরিচয় করান। ফিরে আসার সময় বাজারের ছোট ব্যাগটি বয়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব দিন।


শিশুকে সময় দিন:
মনে রাখতে হবে, ও ছোট। তাই ওর কাজ আপনার মতো নিখুঁত নাও হতে পারে। আস্তে আস্তে কাজ করার অভ্যাস গড়ে উঠলে এমনিই দক্ষতা চলে আসবে। শিশুটির কাজের জন্য ওর প্রশংসা করতে ভুলবেন না। মনে রাখবেন, আপনার থেকে উৎসাহ পেলেই কিন্তু কাজের প্রতি ওর আগ্রহ ও ভালোবাসা জন্মাবে। কেউ খুব দ্রুত শেখে, কেউ একটু দেরিতে। তাই কোনো রকম তুলনায় যাবেন না।


কাজের প্রতি সম্মান:
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে এটা বোঝান- কোনো কাজই ছোট নয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি অন্যান্য কাজও যে ও পারে, সেটাই ওর কৃতিত্ব। যারা দিনমজুর খেটে জীবন যাপন করেন, তারা যে উপেক্ষার নন- সেটা ওকে বুঝতে হবে। সংসারের যাবতীয় কাজে সাহায্য করার জন্য যে বা যারা নিয়োজিত, তাদেরকে সম্মান করতে শেখান।


কাজে কোনো ভেদাভেদ করবেন না:
জেন্ডারের ওপর ভিত্তি করে কাজ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। একজন ছেলে রান্নার কাজে দক্ষ হতেই পারে। আবার একজন মেয়েও জিনিসপত্র মেরামত কাজে হতে পারে পারদর্শী। তাই এটা মেয়েদের কাজ বা এটা ছেলেদের কাজ- এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here