যে ৪ নারী আন্দোলন বদলে দিয়েছে পৃথিবী

0
322

নারী ও শিশু ডেস্ক: অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তবেই আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে নারীদের। প্রতিবাদ, মিছিল, সংগ্রাম একের পর এক চলেছে দিনের পর দিন, তারপরই না এসেছে নারীদের অধিকার।

ভার্সাইয়ের মিছিল ও প্রতিবাদ সভা
১৭৮৯ সালের ফ্রেঞ্চ রেভ্যুলেশনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের ফলে তখন চাপা উত্তেজনা বিরাজমান। সেই গ্রীষ্মে, কারাকক্ষে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেবার ফলন কম হওয়ায় খাদ্যাভাব দেখা দেয়, যার ফলে খাবারের মূল্য প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। ৫ অক্টোবরে প্রতিবাদ জানাতে প্যারিসের অধিবাসী নারীরা ভার্সাইতে জমায়েত হয়, যেখানে রাজা চৌদ্দতম লুইর কোর্ট বসতো। নারীদের এই আন্দোলনে পুরুষরাও যোগদান করে, যেখানে আন্দোলনকারীর সংখ্যা হাজারের ঘরে ছিল বলে শোনা যায়। এরা রাজার রয়েল এপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন এবং তাঁদের দাবী তুলে ধরেন। প্রতিবাদের মুখে রাজা রাজ পরিবারকে প্যারিসে, জনগণের সন্নিকটে সরিয়ে নেয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে মহিলাদের ভোটাধিকার প্যারেড
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও অধিকার আদায়ের জন্য নারীদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। কোনো কিছুই নারীরা সহজে পাননি। তেমনি ভোটাধিকারও! ১৯১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মহিলাদের ভোটাধিকার আন্দোলন একটি মাইলফলক সৃষ্টি করেছিল। নিউইয়র্কের সেনেকা ফলসে কয়েক দশক আগে ১৮৪৮ সালে নারী অধিকার সম্মেলন সংগঠিত হয়েছিল যেখানে নারীদের অনুভূতি, অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়। তারপরেই মুলত নারীদের ভোটাধিকার নিয়ে বেশ আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াশিংটন ডিসিতে সর্বোচ্চ মনোযোগ পাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের অভিষেক হওয়ার আগের দিন কংগ্রেস লাইব্রেরিতে হয়েছিল।

সংবিধানের একটি সংশোধনী চেয়ে সেদিন হাজার হাজার মানুষ প্যারেডে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই আন্দোলনে প্রায় ১০০ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মহিলাদের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য বছরের পর বছর ধরে মিছিল এই আন্দোলনের অংশ ছিল এবং ১৯১৫ সালে নিউইয়র্কের একটি বেশ বড়সড় আন্দোলনের মাধ্যমে সেটি আরও একধাপ এগিয়ে যায়। অবশেষে ১৯২০ সালে সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার পায় নারীরা।

প্রিটোরিয়ায় নারীদের মিছিল
১৯৫৬ সালের ৯ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটেরিয়ায় ২০ হাজার নারী জমায়েত হন একটি আইন পাশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, যে আইনের উদ্দেশ্য ছিল কালো লোকদের প্রতিবাদের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এই আইনের বিরুদ্ধে পিটিশন করেন, যদিও প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করার জন্যে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা সেখানে ৩০ মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারপর একটি গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান, “তোমরা নারীকে আঘাত করেছ, তোমরা পাথরকে আঘাত করেছ।”

এই আন্দোলন আরও অনেকদিন পর্যন্ত চলে। চার বছর পর ১৯৬০ সালের এক প্রতিবাদে পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালায়। শেষ পর্যন্ত প্রবল দাবীর মুখে ১৯৮৬ এই আইন সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়। এই দিনটি এখন সেখানে জাতীয় নারী দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় এবং আগস্ট মাস ওমেন্স মান্থ হিসেবে পরিচিত।

আইসল্যান্ডিক নারীদের ধর্মঘট
নারীরা বঞ্চিত ছিল সেই আইসল্যান্ডেও। তারপর তারা সংগ্রাম করেছে, নিজের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য লড়েছে, এখনো লড়েই চলেছে। সেই আইসল্যান্ড এখন নারী-পুরুষের মজুরী বৈষম্য সবচেয়ে কম। কিন্তু ১৯৭৫ সালে নারীরা ভীষণ কম মজুরি পেতো এবং সরকার তাদের দাবিয়ে রাখতো। ধীরে ধীরে তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিল।

সমাজে যে তাদের তাদের গুরুত্ব প্রকট, তা তারা বোঝানোর জন্য ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর, ২৫০০০ নারী রিকজাভিকের রাস্তায় মিছিল করে এবং মহিলা জনসংখ্যার ৯০% কোনো কাজে অংশগ্রহণ করেনি, এমনকি নিজের ঘরের কাজ যেমন- রান্নাবান্না, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, শিশুদের দেখভাল কিছুই করেনি! ২০০৯ সালে ভিগদিস ফিনবগাদত্তির জাতির প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর পচাত্তরের সেই আন্দোলনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন সেখান থেকেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here