রপ্তানি আদেশ আসতে শুরু করেছে

0
234

দেওয়ানবাগ প্রতিবেদক: রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা ভালো। বাতিল এবং স্থগিত করা অনেক রপ্তানি আদেশ ফিরে আসছে। নতুন রপ্তানি আদেশও আসতে শুরু করেছে। ফলে করোনার প্রভাব থেকে গেলেও আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি ব্যাপক হারে কমবে না।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কম হয়েছে ৮৫ শতাংশ। মাসটিতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫৫ কোটি ডলার। সাকুল্যে মাত্র ৫২ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে এপ্রিলে। গত বছরের এই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০৩ কোটি ডলার। এক মাসে এত কম রপ্তানি এর আগে দেখা যায়নি।

গত কয়েক বছর ধরে প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের হানায় বাংলাদেশ থেকেও রপ্তানি একদম কমে যায়।

করোনার প্রভাবে এপ্রিলের আগের মাস মার্চেও রপ্তানি কম হয়েছে। তবে মে মাসে করোানর প্রভাব পুরোপুরি বোঝা যায়নি। ফলে ওই মাসে রপ্তানি হ্রাসের হার ছিল মোটামুটি সহনীয়। মার্চে রপ্তানি কম ছিল ১৮ শতাংশ। তবে বিশ্ববাজারে করোনার হানা বাংলাদেশের আগেই শুরু হওয়ায় ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ থেকে রপ্তানি আদেশ কমতে শুরু করে। মার্চে নতুন রপ্তানি আদেশ প্রায়ই বন্ধ ছিল। এপ্রিলে বলতে গেলে পণ্য জাহাজিকরণ হয়নি । একারণে রপ্তানিতে কমেছে রেকর্ড অংকের।

অন্যদিকে সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরের জুন থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে রপ্তানি কম হয়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশের বেশি। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল তিন হাজার ৭৪৫ কোটি ডলার। রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ৯৪৯ কোটি ডলারের। গত বছরের একই সময়ের এই পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩৯৪ কোটি ডলার। প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকসহ ছোট বড় সব পণ্যের একই রপ্তানি চিত্র। ব্যাতিক্রম শুধু পাট। করোনাকালেও কাঁচাপাটসহ সব ধরনের পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে।

রপ্তানিকারকা জানিয়েছেন, করোনার কারণে বাতিল এবং স্থগিত হওয়া তৈরি পোশাকের রপ্তানি আদেশ ফেরত আসছে। এর বড় অংশই পুনর্বহাল করেছে বিদেশি ব্র্র্যান্ড এবং ক্রেতারা। এদিকে ইউরোপ আমেরিকায় ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে নেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশে নতুন রপ্তানি আদেশও আসতে শুরু করেছে। নতুন রপ্তানি আদেশের উল্লেখযোগ্য অংশ আগামী শীত মৌসুমের জন্য। অনেকে বলছেন, নানা কারণে চীন তৈরি পোশাকের বাজার কিছুটা হারাতে পারে। ফলে এটা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সুযোগ তৈরি করবে।

পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর পরিসংখ্যান বলছে, বাতিল এবং স্থগিত পোশাকের মূল্য অন্তত ৪০০ কোটি ডলারের মতো। এখনও রপ্তানি আদেশ বাতিলের ঘটনা ঘটছে, তবে তা খুবই কম।
সরকার এবং বিজিএমইএর তৎপরতার ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান এবং ব্র্যান্ড প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের রপ্তানি আদেশ বাতিল না করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। ইউরোপীয় কমিশন তৈরি পোশাকের বাণিজ্যকে টেকসই করতে একটি সমন্বিত নীতি কৌশল ঘোষণা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here