রাজশাহীর আম উৎপাদন নিয়ে সংকট

0
175

রাজশাহী সংবাদদাতা : প্রচুর মুকুল আসলেও প্রত্যাশিত আম উৎপাদন নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে আছেন রাজশাহীর আম চাষীরা। একদিকে বৈরি আবহাওয়া কারণে ঝড়ে যাচ্ছে আমের গুটি। অন্যদিকে দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে বাগানে গিয়ে কাজ করতে পারছেন না আমশ্রমিকরা। হাতের কাছে পাচ্ছেনা প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক।

লকডাউনের কারণে রাজশাহী অঞ্চলের প্রতিটি এলাকাতেই দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। স্থানীয় বাজারে দোকানপাট বন্ধ থাকছে। ফলে মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী সার ও কীটনাশক। এছাড়া মৌসুমের শুরু থেকেই আমগাছের পাতা ক্ষতিকর মিজ ও হপার পোকার আক্রমণের শিকার হয়েছে। সবমিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গাছের পরিচর্যা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বৃহত্তর রাজশাহীর চাষীরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ১৭ হাজার ৫৭৪ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন। গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ১৩ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন। কিন্তু চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।

চলতি মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলের অধিকাংশ গাছে ভালো মুকুল এসেছে। আগাম মুকুল আসা গাছগুলোতে এখন আমের কড়ালি বা গুটি শোভা পাচ্ছে। আর দেরিতে মুকুল আসা গাছে ‘মটরদানা গুটি’। এই দুই পর্যায়েই কীটনাশক স্প্রে করা জরুরি। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে বর্তমানে গাছের গোড়ায় পানি এবং বিভিন্ন প্রকারের সার দেওয়ার সময়। তা না হলে আমের ফলন বিপর্যয় হতে পারে।

তবে কৃষকরা বলছেন, লকডাউনে সার ও কীটনাশকের দোকানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে দেন-দরবার করে কীটনাশক ও সার মিললেও পরিচর্যায় এখন প্রধান প্রতিবন্ধকতা শ্রমিক সঙ্কট।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে পুঠিয়া, মোহনপুর, চারঘাট, বাঘা, বাগমারা, মোহনপুর ও পবায় এবার ৮৫ ভাগ আম গাছে ভালো মুকুল এসেছিল। এছাড়া কিছুটা কম হলেও তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম বাগানগুলোয় গাছে মুকুল ছিল। কিন্তু মুকুল আসার পর থেকে রাজশাহী অঞ্চলে বৃষ্টি হয়নি। ফলে টানা খরায় এখন গুটি ঝরে পড়ছে।

পুঠিয়ার শিলমাড়িয়া এলাকার বড় আমচাষী আবদুস সালাম। তার প্রায় দেড়শ বিঘার কয়েকটি বাগান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মৌসুমের শুরুটা ছিলো ভালো। গাছে মুকুলও এসেছিল প্রচুর। গুটিও টিকেছিল অনেক। কিন্তু গুটি আর গাছে থাকছে না। ব্যাপক হারে ঝরে পড়ছে। একটু বড় হয়ে ওঠা গুটিগুলোতে ছত্রাক লেগে খসে পড়ছে। এছাড়া গাছে প্রচুর পরিমাণে পোকাও রয়েছে। খরার কারণে এমনটি হচ্ছে। এখন বৃষ্টি হলে ভালো হতো। গাছের বেশি পরিচর্যা করা লাগতো না। পাশাপাশি গাছে অবশিষ্ট যে গুটি রয়েছে, তাও টিকে যেত।’’

আমচাষী আবদুস সালাম বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা কয়েকটি কীটনাশকের নাম লিখে দিয়েছেন। তিনদিন পর পর স্প্রে করতে হবে। কিন্তু আশপাশের স্থানীয় বাজারে কীটনাশক পাচ্ছি না। উপজেলা সদরের বাজারে গিয়েও দোকান বন্ধ। দোকান মালিককে ফোন দিয়ে ডেকে নিয়ে কিছু কীটনাশক কিনেছি। কিন্তু এটিও প্রয়োজনের তুলনায় কম। এর পাশাপাশি রয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। প্রয়োজন ৩০ জন শ্রমিকের। কিন্তু পাচ্ছি না। নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়েই এখন গাছে স্প্রে করতে হচ্ছে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের গবেষক ড. আলীম উদ্দিন বলেন, খরার কারণে গুটি ঝরে পড়া, পোকা ও ছত্রাক হওয়ার শঙ্কা থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার সময়ে পরিচর্যা বেশি প্রয়োজন। এখন গুটি ও পাতায় স্প্রে এবং গাছের গোড়ায় সার ও পানি দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here