রিজার্ভ থেকে সরকারের ঋণ : দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0
238


অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অংশ ঋণ নিয়ে সরকারি খাতে গৃহীত লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী সরকার। এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি নীতিমালা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রিজার্ভের তদারকী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংককে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি লিখে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে এ বিষয়ে ধীরে চল নীতি অনুসরণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুরুতে রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংক আগ্রহী থাকলেও বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেখে-শুনে সিদ্ধান্ত নিতে চায় সংস্থাটি।


সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে দ্বিমত নেই অর্থনীতিবিদদের। তবে রিজার্ভ খরচ এবং ঋণের প্রকল্প নির্ধারণ দুই ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
অর্থমন্ত্রণালয় থেকে গভর্নরকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অংশ সরকারি খাতে গৃহীত লাভজনক প্রকল্পে ঋণ হিসেবে অর্থায়ন সম্ভব কি-না, এ বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি রূপরেখা বা নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ কতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এ বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এটা নিয়ে চিন্তা করতে পারে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক তা পর্যালোচনা করছে।’

তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ থাকে সেটা সাধারণত তিন মাসের বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটানোর জন্য মজুত থাকতে হয়। করোনার প্রভাবে আপাতত আমদানি-রফতানি উভয়ই কম। এজন্য রিজার্ভের ফিগারটা বেশ বড়ো দেখা যাচ্ছে । কিন্তু এ মহামারিটা কমে গেলে তখন কী হবে সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মুখপাত্র আরও বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে চলে এসেছেন। এর ফলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রায় কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সেসব বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ বিশ্ব ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রিজার্ভকে সামনে রেখেই বিভিন্ন ধরনের ঋণ দিয়ে থাকে। এজন্য হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।’

রফতানি, রেমিট্যান্স, বিদেশি বিনিয়োগে কোনো দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত তৈরি হয়, তাই রিজার্ভ। এই ভান্ডার থেকে আমদানি ব্যয় মেটানো হয়। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী, সাধারণত কোনো দেশের তিন মাসের বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটানোর মতো মজুত থাকতে হয়। এর কম থাকলে ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে গত এক দশকে রিজার্ভ বাড়তে বাড়তে গত ৩ আগস্ট ৩৭ বিলিয়ন (৩ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের প্রায় এক বছরের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
নানা টানাপোড়েনে পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন না আসার পর এর বিশাল নির্মাণ ব্যয় মেটাতে ২০১৫ সালে রিজার্ভ থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভেবেছিল সরকার। তখন কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও ২০১৬ সালের মার্চে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার চুরি হওয়ার পর রিজার্ভ থেকে আর ঋণ নেওয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here