রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প: নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি

0
337

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: পরমাণু বিদ্যুতের ইতিহাসে সফলতার পাশাপাশি রয়েছে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনাও। পরিচালনগত ব্যর্থতায় চেরনোবিল ও ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপর্যয় এখনো ভোলেনি বিশ্ববাসী। পাবনায় নির্মিতব্য দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় গড়ে তোলা হচ্ছে বলে দাবি সরকারের। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য এখানে বাইরে আসার ঝুঁকি যেমন থাকবেনা এটাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

পারমাণবিক নিরাপত্তা বিধানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলায় এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির উত্তরোত্তর অগ্রগতি সাধনে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উপযুক্ত তা সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণরূপে সচেতন। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরের প্রযুক্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। বর্তমান সরকার রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের যে চুক্তি করেছে তাতে ভিভিইআর টাইপ রিঅ্যাক্টর পরিবারের সর্বশেষ সংস্করণ স্থাপনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রযুক্তি বাছাই এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারণের পর পারমাণবিক নিরাপত্তার বৈশিষ্ট্যসমূহও কাস্টমাইজ করার স্বাধীনতা বাংলাদেশের রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার রূপপুরে ভিভিইআর পরিবারের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উক্ত প্রযুক্তিতে রাশিয়ান ফেডারেশন কর্তৃক উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক যে কোনো পারমাণবিক নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করে যথাযথ উপায়ে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পাদনের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন থেকে শুরু করে রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন। দেশের স্বার্থে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত সকল ব্যক্তিবর্গ, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী মহল এবং সর্বস্তরের পেশাজীবীদের মাঝে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে এবং সততার সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে উদ্যোগী হলেই যথাসময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাবে।

রূপপুরে নির্মিতব্য ভিভিইআর টাইপ রিঅ্যাক্টর-এর নিম্নবর্ণিত (ছবি) পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে।
ফলে রিঅ্যাক্টরটি মনুষ্যসৃষ্ট কোনো দুর্ঘটনা এবং প্রাকৃতিকভাবে ঘটতে পারে এমন যে কোনো প্রকার বিপর্যয় যেমন- শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, ভুমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি মোকাবিলায় সক্ষম থাকবে। রূপপুরে নির্মিতব্য রিঅ্যাক্টরটি এসব দুর্ঘটনা মোকাবিলা করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম থাকবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্বাচিত পারমাণবিক চুল্লির পাঁচস্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন করা হয়েছে বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে নিরাপদ ও সর্বাধুনিক রিঅ্যাক্টর-ভিভিইআর-১২০০(AES 2006)।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল বাধ্যবাধকতা প্রতিপালন এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। মানব সম্পদ উন্নয়ন, রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণ প্রভৃতি কাজ যথাযথ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পারমাণবিক চুল্লির পাঁচস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ।

এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নির্বাচিত পারমাণবিক চুল্লিতে নিম্নবর্ণিত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে:

১. ফুয়েল পেলেট:
নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথমটি হচ্ছে ফুয়েল পেলেট, যা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় তার জ্বালানী বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে পারে। ফুয়েল পেলেট সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরী করা হয়, ফলে তেজস্ক্রিফিশন প্রোডাক্টসমূহ পেলেটের ভেতরে অবস্থান করে।

২. ফুয়েল ক্ল্যাডিং:
ফুয়েল পেলেটগুলো জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের তৈরী ফুয়েল ক্ল্যাডিং দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। বিশেষ কোনো কারণে সামান্য পরিমাণ ফিশন প্রোডাক্ট ফুয়েল পেলেট থেকে বের হয়ে আসলেও তা এই ক্ল্যাডিং এ ভেদ করতে পারবে না।

৩. রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল:
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের জন্য বিশেষ মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পুরু ইস্পাতের প্রেশারভেসেল তৈরী করা হয় যা, উচ্চ তেজষ্ক্রিয় অবস্থাতেও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৪. প্রথম কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং:
রিইনফোর্সড কনক্রিট দিয়ে ১.২ মিটার পুরুত্বের প্রথম কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং তৈরী করা হয়, যা যে কোনো পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখে।

৫. দ্বিতীয় কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং:
নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করার জন্য আধুনিক নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টগুলোতে প্রথম কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং-এরপর আরও ০.৫ মিটার পুরুত্বের আরও একটি কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং যুক্ত করা হয় যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিমান দুর্ঘটনা ইত্যাদি থেকে প্লান্টকে সুরক্ষা করে।

এই পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন- শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, ভুমিকম্প, বন্যা ইত্যাদিও প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষম থাকবে এই পারমাণবিক চুল্লি।

এই পাঁচস্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ছাড়াও এই প্লান্টের ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও প্লান্ট নিরাপদ থাকবে। এছাড়া ৫.৭ টন পর্যন্ত ওজনের বিমানের আঘাতেও এটি অক্ষত থাকবে।
সর্বশেষ প্রজন্মের অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্বলিত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং থেকে ৮০০ মিটারের (এক্সক্লুসিভ জোন) বাইরেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করা যাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভৌত নিরাপত্তা
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা (Security) নিশ্চিতকরণ এবং চযুংরপধষ ঢ়ৎড়ঃবপঃরড়হ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা করা একটি অতীব গুরূত্বপূর্ণ বিষয়। এসকল বিষয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মত অতীব গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার ভৌত নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এক্সপার্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য Design Basis Threat (DBT) বিশ্লেষণের মাধ্যমে Physical Protection System (PPS)-প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে Conceptual design of  PPS for Rooppur NPP-i ড্রাফট প্রস্তুত করেছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণুশক্তি সংস্থা (ওঅঊঅ)-র গাইড লাইন ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA)-i আইনী বাধ্যবাধকতা ও বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক স্থাপনার ভৌত নিরাপত্তা পদ্ধতির অনুসরণ করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদানের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং টীম গঠন করা হয়েছে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি
মাত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের ছোট্ট বাংলাদেশে প্রায় ১৬২.৫ মিলিয়ন মানুষ (এপ্রিল ২০১৬) বসবাস করে, যা বিশ্বের ২.১৯ শতাংশ। কৃষিনির্ভর এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। এর জিডিপি ৬ শতাংশের কিছু ওপরে। দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অধ্যুষিত বাংলাদেশের প্রধান জ্বালানি মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন থেকেই এর বিকল্প খুঁজছে ।

এটি অনস্বীকার্য যে পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পারমাণবিক শক্তি নির্ভর, নিরন্তর গবেষণা এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলার সামর্থ্য ও দক্ষতা তাদের এই ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। তবুও বিশ্বের বিখ্যাত পদার্থবিদেরা এই পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছেন প্রতিনিয়ত। এর কারণগুলোও যথেষ্ট যুক্তিসংগত। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে হঠাৎ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার পরিকল্পনা কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়।

পরিচালনায় অদক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অভাব
যেখানে আমরা প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতেই হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে তেজস্ক্রিয়তা যুক্ত পারমাণবিক শক্তি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সঠিক এই জোরালো প্রশ্ন থেকেই যায়! পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের উপজাত সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো প্রতিনিয়ত এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, পারমাণবিক শক্তি পরিচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত বর্জ্য যদি সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা না যায় তাহলে সেটি দুর্যোগে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট হয়ে ওঠে।

মানূষের জীবনের জন্য মারাত্নক ঝুঁকি
যেহেতু বাংলাদেশ ঘন বসতিপূর্ন দেশ সেহেতু রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ব্যর্থতা টেনে নিয়ে আসতে পারে হিরোশিমার মতো অভিশাপ, সামান্য ভুলের মাশুল দিতে হতে পারে লাখো প্রাণের বলি দানে। কারণ, পারমাণবিক ফিউশন ইমপ্যাক্ট অনেক দীর্ঘস্থায়ী এবং যুগে যুগে এর ক্ষত বহন করতে হতে পারে বাংলার নিরীহ মানুষের।

অর্থনৈতিক ঝুঁকি
এটি পরিচালনা করতে যদি ভুল হয়ে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক ক্ষতিটা কেমন হতে পারে তার ছোট্ট একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ২০১৪ সালে আমেরিকার নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে একটি পারমাণবিক কেন্দ্রের নিউক্লিয়ার উপজাত দুর্ঘটনার বর্জ্য সরাতে খরচ পড়েছে মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার। এমন অনেক উদাহরণ গুগলে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে; প্রশ্ন হচ্ছে এই ঘোড়া রোগ বহনের ক্ষমতা আমাদের দেশের আছে কিনা? এছাড়া রূপপুরের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল। আমাদের অর্থমন্ত্রী অনেক আগে থেকেই বলছেন যে এর অনেক লুক্কায়িত ব্যয় আছে। কয়েকদিন আগের সংবাদ হচ্ছে এই যে, প্রাক্কলিত ১৩ বিলিয়ন ডলারের সঙ্গে আরও ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে এই প্রকল্পে, যার ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেবে রাশিয়া। সুদে-আসলে জনগণকে কী এটি শোধ করতে হবে না একদিন? প্রকল্পটির বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা
আমাদের দেশে নিউক্লিয়ার বর্জ্য পরিচ্ছন্ন করার অভিজ্ঞতা নেই। মাটির অনেক গভীরে পুঁতে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা অনেক কষ্টসাধ্য। এটি আবার তেজস্ক্রিয়তাকে কতটা দমন করতে পারবে সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গবেষণা বলছে, ১০০০ মেগাওয়াটের একটি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট ৩০০ টন রেডিও অ্যাকটিভ বর্জ্য উৎপাদন করবে, ০.২০ টন প্লুটোনিয়াম নির্গত করবে, যার ব্যবস্থাপনা ব্যয় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অনেক অনেক বেশি।

অনেক প্রশ্ন রয়ে যায় এই বিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে, তবে বিশ্ব আর আগের জায়গায় থেমে নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি, অতীত থেকে নেওয়া শিক্ষার ও কাজের অভিজ্ঞতার সমন্বিত শক্তি রুপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আস্থাশীল করে তুলেছে গবেষকদের কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here