লকডাউনে শিক্ষার্থীদের শেয়ার করুন ডিজিটাল কনটেন্ট

0
308

প্রযুক্তি ডেস্ক : ডাউন পরিস্থিতিতে অন্যন্য শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে সাথে শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন ঝামেলায়। দিনের পর দিন টানা ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষাজীবনে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হলেও অনেকেই সময় মতো উপস্থিত থাকতে না পেরে বা লোডশেডিংয়ের কারণে ক্লাস মিস করছেন। অনলাইনে ডিজিটাল কনটেন্ট শেয়ার করে শিক্ষার্থীদের সবসময়ের জন্য ক্লাসের ব্যবস্থা করে রাখা যায় অনায়াসেই। এক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই রয়েছে নানান সুবিধা।

ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে প্রচলিত ধারণা
ডিজিটাল কন্টেন্ট সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান স্বল্পতা কিংবা যথাযথ নিয়ম অনুসারে কন্টেন্ট না বানানো বা এ সম্বন্ধে ভুল উপস্থাপনের কারণে অনেকের কাছেই ডিজিটাল কনটেন্ট এর ধারণা পরিষ্কার নয়।
অনেকেই ধারণা করে থাকে ডিজিটাল কন্টেন্ট হলো, পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইড দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা দেওয়া থেকে শুরু করে ধন্যবাদ দিয়ে ক্লাস শেষ করা পর্যন্ত শিক্ষকের সকল কর্মকান্ড ক্লিক করে উপস্থাপন করা। আবার অনেকেরই ধারণা, ভিডিও, এনিমেশন কিংবা পিকচার দেখিয়ে ক্লাস রুমকে সিনেমা হল বানানোর নামই হলো ডিজিটাল কন্টেন্ট উপস্থাপন।

ডিজিটাল কনটেন্ট কী?
একটি-দুটি স্লাইড, ছোট্ট একটি ভিডিও ক্লিপ, অডিও ক্লিপ, একটি ছবি, ২D ৩D এনিমেশন, একটি পিডিএফ ফাইল, টেক্স ফাইল, কোনো ওয়েব সাইটইত্যাদি সব কিছুই মূলত এক একটি ডিজিটাল কন্টেন্ট।
শিক্ষা বিজ্ঞানের ভাষায় একটি ছবি হাজারো শব্দের চেয়ে উত্তম। উদাহরণস্বরূপ ক্লাস রুমে মাল্টিমিডিয়া বা হাতে ড্র করে অথবা পোস্টারে একজন শিক্ষক একটি জবা ফুলের বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করে দেখালেন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ছবি দেখেই বিষয়টি বুঝে নিবে এবং শিক্ষার্থীর কাছে বিষয়টি উপভোগ্য হবে। আবার শিক্ষকের হাতে ছবি আঁকা বা পোস্টার পেপারে অঙ্কিত ছবির ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ধরুন একজন শিক্ষার্থী পলাশ ফুলের চিহ্নিত চিত্র দেখতে চাইল যা শিক্ষকের কাছে তৎক্ষণাৎ দেখানো সম্ভব নয়, কিংবা সময় সাপেক্ষ। অন্যদিকে মাল্টিমিডিয়ায় ডিজিটাল কন্টেন্ট এর মাধ্যমে কয়েক মিনিটে হাজারো ফুল বা এর বিভিন্ন অংশ দেখানো সম্ভব। এখানেই হচ্ছে ডিজিটাল কন্টেন্ট বা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের জাদুকরী খেলা।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমে একজন শিক্ষক যে কোনো শিক্ষার্থীর সব ধরনের চাহিদা পূরণ হতে পারে। এতে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী পরিতৃপ্ত হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে। আর এই পরিতৃপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠের বিষয়কে আকর্ষণীয় করে তুলতে একটি ডিজিটাল কন্টেন্ট এর তথ্য ও প্রযুক্তির যে মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা হয় তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:

ডিজিটাল কন্টেন্ট বা শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমগুলো হলো-

ভিডিও উপকরণ
নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর উপর সেই বিষয়ের শিক্ষক মহোদয়ের বক্তব্য (লেকচার) ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ক্লিপ তৈরী করা। এই ভিডিও উপকরণ ডিজিটাল কন্টেন্টের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট, টিভি, সিডি ও ডিভিডি, মোবাইল, ট্যাব ইত্যাদি ব্যবহার করে আমরা আমাদের পাঠ সংশ্লিষ্ট ভিডিও ক্লিপ পেতে পারি বা সংগ্রহ করতে পারি।

ইন্টারনেটে youtube, teachertube, e-how.com, discovery education ইত্যাদিতে আমাদের কন্টেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ভিডিও পাওয়া যায়। ক্লাসরুমে জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য খুবই কার্যকরী। এছাড়া বিভিন্ন লেকচারভিত্তিক ও টিউটোরিয়ালভিত্তিক ওয়েবসাইট থেকে ভিডিও সংগ্রহ করা যায়। অনেক সময় একটি সাধারণ ক্যামেরা বা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে কোনো বিষয়, ঘটনা, রোল প্লে, ইত্যাদি ভিডিও করে ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতেও পাঠ সংশ্লিষ্ট অনেক ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যায়।

অডিও উপকরণ
যেকোনো বিষয়ের উপর আলোচনা অডিও আকারে রেকর্ড করা ও শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া । ডিজিটাল কন্টেন্টে এই অডিও খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। প্রকৃতি, প্রাণী, বিশেষ ঘটনা, সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয় ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট অডিও ক্লিপ ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া রেকর্ডার দিয়ে গল্প, কবিতা, ছড়াকার ও সুমিষ্ট কণ্ঠ ও সুন্দর বাচনভঙ্গি রেকর্ড করে সাহিত্যের বিভিন্ন ক্লাসে ব্যবহার করা যায়। উচ্চারণ ও উপস্থাপন ক্লাসে অডিওএর কোনো বিকল্প নেই। আবৃত্তি-গান কিংবা কোনো কিছুর ধারা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের মুঠো ফোনের অডিও রেকর্ডারই যথেষ্ট। এছাড়া ইংরেজি বা অন্য ভাষার ভিডিও ক্লিপে বাংলা নেরেশন ডাবিং-এর ক্ষেত্রে মুঠো ফোনে অডিও রেকর্ড করা যায়।

পিকচার/ইমেজ

ছবির মাধ্যমে বিষয়বস্তু প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের বোধগম্য করা। ডিজিটাল কন্টেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো পিকচার বা ইমেজ। গুগল ইমেজ সার্চের মাধ্যমে GIF, PNG, JPEG ইত্যাদি ফরমেটের যেকোনো ইমেজ পাওয়া যায়। ছবি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভালো রেজুলেশনের দেশীয় প্রেক্ষাপট ও বয়স উপযোগী ছবি নির্বাচন করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে বা কারো ব্যক্তিগত স্বার্থে আঘাত হানে অথবা কোনো জাতিসত্তার অসম্মান হয় এমন ছবি ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যাবে না।

ওয়েবভিত্তিক উপকরণ
ওয়েবভিত্তিক উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে সরাসরি শ্রেণিকক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবে লিঙ্ক করে শিক্ষা দান করা যায়। শিক্ষার্থীরাও ওয়েবে নিজেরাও স্টাডি করতে পারে। যেমন-MOOC-Massive Open Online Course থেকে শিক্ষার্থীরা অনেক বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও ংsrijonshil.com, teacher.gov.bd, englishteststore.com, slideshare.net, slideworld.com, khanacademy.com, cambriantv.com ছোটদের ছড়া গানের জন্য এবং বিষয়ভিত্তিক (পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে) অসংখ্য ওয়েবসাইট থেকে ওয়েবভিত্তিক পড়াশুনা করা যায়।

মাল্টিমিডিয়া অ্যানিমেশন
ইন্টারনেট থেকে বিষয়ভিত্তিক অ্যানিমেশন ডাউনলোড করে ডিজিটাল কন্টেন্টে ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে GIF Image, Animation Factory, PowerPoint Animation, Phet Simulation ইত্যাদি মাল্টিমিডিয়া এনিমেশন ব্যবহার করে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করা যায়।

লকডাউনে ডিজিটাল কনটেন্ট কীভাবে সাহায্য করবে শিক্ষার্থীদের?
মহামারি করোনার প্রভাবে লকডাউন পরিস্থিতিতে শিক্ষকগণ নিজ নিজ বিষয়ের উপর ডিজিটাল কনটেনন্টের যেকোনো একটি মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড বা শেয়ার করতে পারে। শিক্ষার্থীরা ডাউনলোড করে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে দেখে নিতে পারবে। এতে লাইভ লেকচার মিস করার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here