লালনের ভাব-তরঙ্গে রবীন্দ্রনাথ

0
20

জামিরুল ইসলাম শরীফ
পূর্ব প্রকাশিতের পর

রবীন্দ্রনাথ যখন শিলাইদহে জমিদারির কাজে আসেন, তখন তিনি লালনের সন্ধান পান এবং লালনকে কুঠিবাড়িতে আমন্ত্রণ করে তার বাউল গান শোনেন। যদিও এর সমর্থনে কোন অকাট্য তথ্য আমার গোচরে নেই। তবে রবীন্দ্রনাথ বরাবরে লালনের শিষ্য মনিরুদ্দীন সাহা ফকির তাঁর এক দরখাস্তে লালনকে জমিদারির নিষ্কর পাওয়ার আন্তরিক আবেদনের সুস্পষ্ট স্বাক্ষর পওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লালনের পরিচয় বা দেখা সাক্ষাতের কোনো উল্লেখ বা ইঙ্গিত সেখানে নেই। বরং দরখাস্তটি থেকে নিঃসংশয় হওয়া যায় যে, তাঁদের মধ্যে প্রত্যক্ষ কোনো যোগাযোগ ঘটেনি। এখানে দরখাস্তের প্রাসঙ্গিক অংশটুকুর হুবহু উদ্ধৃতি দিচ্ছি:
‘মহামহিম মহিমার্নব।
শ্রীল শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
জমিদার মহাশয় সমীপেষু’।
দরখাস্ত শ্রী মনিরুদ্দীন সাহা ফকির,
সাং-ছেঁউড়িয়া।


কৃতাঞ্জলি পূর্বক অধীনের নিবেদন এই যে, অনেকদিন পূর্বে ছেঁউড়িয়ার স্বর্গীয় লাল সাহা ছাহেবের আখড়া নিষ্কর করিয়া লইবার জন্য আমি মোকাম শিলাইদহার কাছারিতে যে আবেদন করিয়াছিলাম, তাহা বোধ হয় হুজুরের স্মরণ আছে। উহা স্বর্গীয় মহারাজ জ্যোতীন্দ্রমোহন ঠাকুর মহোদয়, (এখানে হবে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর) লালন সাহা ছাহেবকে নিষ্কর দিতে প্রতিশ্রুত ছিলেন, কিন্তু সাহা ছাহেব লোকান্তর হওয়ায় তাঁহার সে আশা পূর্ণ হইয়াছিল না। তদপরি হুজুরও নিষ্কর করিয়া দেওয়ার বাসনা করিয়াছিলেন। কিন্তু সাহা ছাহেবের অপর দুই শিষ্য শীতল শাহ্ ও ভোলাই শাহ্ মুখপাত্র হইয়া আরও কয়েকজন শিষ্যকে সমভিব্যাহারে সেই সময় হুজুরের জলযান, বজরায় যাইয়া প্রতিবাদ করে যে আমরা উক্ত আখড়ার জমি নিষ্কর লইতে ইচ্ছা করি না। কারণ নিষ্করভোগীদের অন্ন হয় না। তখন আমি হৃদয়ের দারুণ মর্মপীড়ায় অস্থির ও অজ্ঞান প্রায় হইয়া বিদায় লইয়া আসিয়াছিলাম। হুজুর দয়া করিয়া আমাকে বিদায়কালে অনুমতি করিয়াছিলেন যে, তোমার কখনও কোনো অভাব হইলে আমাকে জানাইও।’


দরখাস্তের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের সঙ্গে এবং রবীন্দ্রনাথ লালন শিষ্যদের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। লালন-শিষ্যদের মধ্যে ভোলাই শাহ, শীতল শাহ, পাঁচু শাহ, মনিরুদ্দীন শাহ প্রমুখের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ছিল। লালন শিষ্যরা শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে ও পদ্মার বোটে তাঁর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতেন। এদের কাছ থেকেই রবীন্দ্রনাথ লালনের গান ব্যাপকভাবে শুনেছেন। এরা একটি বিশেষ সম্প্রদায়, বাউল নামে বিখ্যাত। শিলাইদহের অপর একজন বাউল কবি যিনি রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত হয়েছিলেন তিনি গগন হরকরা। রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে এসে এই গগন হরকরার কাছ থেকেই প্রথম লালনের গান শোনেন। অবশ্য এর আগেও তিনি কলকাতা ও শান্তিনিকেতনে লালনের গান শুনেছেন; তার উল্লেখ কবির রচনাতেই পাওয়া যায়। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লালনের সাক্ষাৎ আলাপ-পরিচয় না ঘটলেও রবীন্দ্রনাথ লালনের গানের অন্তরঙ্গ অনুপ্রাণে মুগ্ধ হয়েছিলেন, এটুকু বললে যথার্থ হয় না, বরং রবীন্দ্রনাথ তার সংগীত রচনায় সত্যসন্ধানী লালনের বাউলাদর্শকে গ্রহণ করেছিলেন অকৃপণভাবে। লালনের গানের সরল সুর ও আধ্যাত্মিক চেতনাসমৃদ্ধ কথা তাকে নতুন আত্মচেতনাবোধে ও সংগীত রচনায় সমীকরণ এনে দেয়। লালনের মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর রবীন্দ্রনাথ ছেঁউড়িয়ার আখড়া থেকে লালনের গানের খাতা আনিয়ে ঠাকুর এস্টেটের কর্মচারী বামাচরণ ভট্টাচার্যকে দিয়ে ২৯৮টি গান নকল করিয়ে নেন। আজও সেই খাতাটি শান্তিনিকেতনের ‘রবীন্দ্রভবন’-এ সংগৃহীত আছে। এই সংগ্রহ থেকেই রবীন্দ্রনাথ বাংলা ১৩২২ সালের আশ্বিন থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত কয়েক কিস্তিতে লালনের মোট ২০টি গান প্রবাসী পত্রিকার ‘হারামণি’ বিভাগে প্রকাশ করেন। প্রবাসীতে রবীন্দ্রনাথের সংগৃহীত গানগুলো প্রকাশের পরপরই লালন সম্পর্কে সমাজের ঊর্ধ্বতন স্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসার সৃষ্টি হয়। মূলত রবীন্দ্রনাথ যখন কুষ্টিয়ায় আসেন তখনই তিনি এ অঞ্চলের বাউলদের গান শোনেন এবং বাউল গানের সুর ও ভাবের ধ্বনিতরঙ্গের সহায়তায় যে প্রতীক ফুটে ওঠে, ভাবের একাগ্রতায় সে প্রতীকের ধ্যানস্থ মনে স্বপ্নাবস্থার সৃষ্টি রবীন্দ্রনাথের পক্ষেই সুসাধ্য। সে ভাবের প্রণোদনা একের ভোগে এসে দশের মনে সহজ গভীরতা বাড়ায়। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভাষ্য ‘আমার লেখা যারা পড়েছেন তারা জানেন বাউল পদাবলীর প্রতি আমার অনুরাগ আমি অনেক লেখায় প্রকাশ করেছি। শিলাইদহে যখন ছিলাম, বাউল দলের সঙ্গে আমার সর্বদাই দেখা সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনা হতো। আমার অনেক গানেই আমি বাউলদের সুর গ্রহণ করেছি এবং অনেক গানে অন্য রাগ-রাগিণীর সঙ্গে আমার জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে বাউল সুরের মিলন ঘটেছে। এর থেকে বোঝা যাবে বাউলদের সুর ও বাণী কোনো এক সময়ে আমার মনের মধ্যে সহজ হয়ে মিশে গেছে।’


রবীন্দ্রনাথ বাউল গানের মধ্যে আধ্যাত্মিক সহৃদয় হৃদয়সংবেদ্যতায় সন্ধান পেয়েছিলেন ধর্মের সত্যস্বরূপ। তিনি মানুষের ধর্ম গ্রন্থে এ বিষয়ে তাঁর উপলব্ধি জানিয়েছেন এভাবে
“মানুষের দেবতা মানুষের মনের মানুষ, জ্ঞানে কর্মে ভাবে যে পরিমাণে সত্য হই সে পরিমাণেই সেই মনের মানুষ পাই- অন্তরে বিকার ঘটলে সেই আমার আপন মনের মানুষকে মনের মধ্যে দেখতে পাইনে। মানুষের যত কিছু দুর্গতি আছে সেই আপন মনের মানুষকে হারিয়ে তাকে বাইরের উপকরণে খুঁজতে গিয়ে, অর্থাৎ আপনাকেই পর করে দিয়ে।… সেই বাইরে-বিক্ষিপ্ত আপনহারা মানুষের বিলাপগান একদিন শুনেছিলাম পথিক ভিখারির মুখে
‘আমি কোথায় পাবো তারে
আমার মনের মানুষ যে রে।
হারায়ে সেই মানুষের তার উদ্দেশে
দেশ-বিদেশ বেড়াই ঘুরে।’
সেই নিরক্ষর গাঁয়ের লোকের মুখেই শুনেছিলাম
‘তোরই ভিতর অতল সাগর।’
সেই পাগলই আবার গেয়েছিল
‘মনের মধ্যে মনের মানুষ করো অন্বেষণ।’”


বাউলীয় জীবনবেদের এই ধারণার সঙ্গে বেদের নৈর্ব্যক্তিক তন্ময়ে অখন্ড উপলব্ধির মিল আছে। এই ‘অন্বেষণেরই’ প্রার্থনা বেদে আছে, ‘আবিরাবীর্ম এবি’ পরম মানবের বিরাটরূপে যার স্বতঃপ্রকাশ আমারই মধ্যে তাঁর প্রকাশ সার্থক হোক (তদেব)। আসলে উৎকর্ষের বিচারে রবীন্দ্রনাথ চিরদিনই অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং জীবনবেদের অন্বেষণে তার পদার্পণ আজও অব্যাহত। রবীন্দ্রনাথ ঠিকই লক্ষ্য করেছিলেন এই অন্বেষণ যখন অন্তরে নয় বাইরে তিমিরে সমাচ্ছন্ন তখন ‘পরম মানবের’ দেখা মেলে না। রবীন্দ্রনাথ রাজা নাটকে বাউলের দলের গানে এই সত্য প্রকাশ করলেন
‘কে তোরা খুঁজিস তারে
কাঙাল বেশে দ্বারে দ্বারে
দেখা মেলে না, মেলে না।
ও তোরা আয়রে ধেয়ে দেখরে চেয়ে
আমার বুকে
ওরে দেখরে আমার দুই নয়ানে ॥’

অর্থাৎ আমাদের মনের মানুষ রয়েছে আমাদেরই অন্তরে, বাইরের আকর্ষণে আমরা সে কথা ভুলে যাই। আমাদের আঘাতে, আশায় এবং ভালোবাসায় যে রয়েছে আমাদেরই কাছে, সেই ‘মনের মানুষ’-এর দিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি না। রবীন্দ্রনাথের একটি লিরিকে এই সত্যোপলব্ধির সহজ প্রকাশ অনবদ্য হয়ে উঠেছে:
‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
দেখতে আমি পাইনি।
বাহির পানে চোখ মেলেছি
হৃদয় পানেই চাইনি।
আমার সকল ভালোবাসায়
সকল আঘাত, সকল আশায়
তুমি ছিলে আমার কাছে
তোমার কাছে যাইনি।’
আর মধ্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলিও রচিত হয়েছে সেই পরম প্রেমিকের উদ্দেশে যার মোহনবাঁশি বিচিত্র সুরে মর্ত্যরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে প্রেমের বার্তা। যে বার্তা মানুষকে স্বার্থমগ্ন বিচ্ছিন্নতা থেকে প্রেম ও সত্যের অভিসারে প্রাণিত করে। অন্যদিকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যে দেবতাকে পাওয়া যায় না, বাউল সম্প্রদায়ের এই বিশ্বাসের প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছিল। তাই বাউল সাধকদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলনে মন্দিরে আগত পুণ্যার্থীর উদ্দেশ্যে লিখলেন
‘অন্ধকারে লুকিয়ে আপন মনে
কাহারে তুই পুজিস সংগোপনে
নয়ন মেলে দেখ দেখি তুই চেয়ে
দেবতা নাই ঘরে।’ (গীতাঞ্জলি/১১৯)
যে ঈশ্বরের অধিষ্ঠান হৃদয়ে তার আরাধনার জন্য মন্দিরে যাওয়া অর্থহীন; যেখানে প্রথাগত স্তরের বাণীর আড়ালে দেবতা ঢাকা পড়ে যায়। পূজার ছলে তাঁকেই আবার ভুলে থাকা। সুতরাং পুনরুচ্চারণ করে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,
‘কাজ কি আমার মন্দিরেতে আনাগোনায়
পাতব আসন আপন মনের একটি কোণায়’ (গীতিমাল্য/৮১)


জন্মসূত্রে প্রাপ্ত কোনও ধর্মমতের প্রশ্নহীন অনুমোদনের পথ অনুসরণ করে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ধর্ম সম্পর্কিত বিশিষ্ট প্রত্যয়ে উপনীত হননি। তার আপন গোষ্ঠীর মানুষের কাছে পরম সত্য বলে প্রতিভাত কোনও ধর্মমতকেও নির্বিচারে অনুসরণ করেননি। উনিশ শতকে যে পরিবার উপনিষদে উচ্চারিত ঋষিবাক্য অনুসরণে ধর্মসংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, সে পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও তিনি ব্রাহ্মধর্মের আকর্ষণে শেষ পর্যন্ত আবদ্ধ থাকেননি। জীবনের প্রথম পর্বে বিশেষ উদ্যম নিয়ে তিনি এই নতুন ধর্মের আদর্শ প্রচারে অগ্রসর হয়েছিলেন, এক সময় আদি ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক পদও তিনি গ্রহণ করেছিলেন। কিছু দিন যেতেই তিনি অনুভব করলেন, ধর্ম নয়, অনুষ্ঠানগত আনুগত্যই তার ধর্মীয় কর্মকান্ডে মশ সত্য হয়ে উঠেছে। এইবার তিনি ব্রাহ্মসমাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন এবং শাস্ত্রীয় অনুশাসনের প্রথাসিদ্ধ পথ ত্যাগ করে মুক্তজ্ঞানের আলোয় ধর্মের মর্মানুসন্ধানে সয় হলেন। এই সময় বাউল সম্প্রদায়ের এক ভিক্ষার্থীর কণ্ঠে পরিবেশিত একটি গানের অন্তর-ভাবের অকৃত্রিম প্রকাশ লক্ষ্য করে রবীন্দ্রনাথ অন্য এক ভাবরাজ্যে অভিভূত হয়ে পড়েন। মসজিদে, মন্দিরে বা শাস্ত্রে, প্রতিমায় বা প্রতীকে স্রষ্টা দেবতার অন্বেষণ নিরর্থক, তিনি যে মানুষের মধ্যেই বিরাজমান, সেই উপলব্ধি ও বিশ্বাসই এই বাউল সংগীতে ব্যক্ত।

The Religion of men ’ The man of my heart শীর্ষক অধ্যায়ে রবীন্দ্রনাথ এই বাউল গানের ইংরেজি করেছিলেন:
Temples and mosques obstruct thy pathAnd I fail to hear thy call or to move, When the teachers and priest angrily crowd round me.
রবীন্দ্রনাথের ইংরেজিতে অনুবাদকৃত এই বাউল সংগীতটি অন্তরে অধিষ্ঠিত সেই মানব-দেবতার উদ্দেশ্যে বাউল বক্তব্য ছিল এই রকম:
‘মন্দির এবং মসজিদ তোমার পথকে করেছে অবরুদ্ধ, আমি তোমার আহ্বান শুনতে ব্যর্থ হই, ব্যর্থ হই সঞ্চরণে, যখন ধর্ম শিক্ষক আর পুরোহিতের দল সধে আমাকে ঘিরে দাঁড়ায়।’ রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করলেন, লালনের ভাব সংগীতে, বাউল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে নেই কোন মন্দির, নেই কোন মূর্তি, নেই কোন শাস্ত্র বা অনুষ্ঠান। তাদের কাছে মানুষই দেবতা, মানুষে মানুষে প্রেমই তাদের ধর্মের মূল কথা। আর এই মানবপ্রেমেই সকল ধর্মের সারকথা।
শিলাইদহের সেই মহৎপ্রাণ বাউলদের আজ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তাদের সেই মহান বাণী রবীন্দ্রনাথের কল্যাণে ধর্মের বুদ্ধিবিলাসের সংকীর্ণতা কাটিয়ে নতুন এক প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। সাধু-সাধকদের মুর্শিদী ও মারফতি গানে তারই জের বয়ে চলেছে। শুরুর দিকে বলেছিলাম, ‘মানুষের মধ্যেই যে প্রভূত্বের বিরাজ, তারই সার্বভৌম অভিব্যাপ্তিতে লালন আমাদের প্রত্যেককে মানব প্রতিমূর্তির এক ঐক্যসূচকে দাঁড় করিয়ে দেন। বাউল কবি লালনের বিশ্বাস সত্য ও প্রেমই সেই পরশ পাথর যার স্পর্শে মোহ থেকে মুক্তি এবং লোভ পরিবর্তিত হয় প্রেমে, আর এই প্রেমেরই আর্তিতে মর্ত্যরে জন্য স্বর্গের বাসনা, মানুষের জন্য দেবতার। এই সত্য ভাবতরঙ্গের মন্ত্রমূর্ছনায় রবীন্দ্রনাথ এই প্রত্যয়ই প্রকাশ করেছেন তার বহু রচিত কবিতা ও গানে, যা আমাদের অন্তর্লোকে প্রবেশের রুদ্ধ পথ খুলে দেয়, চিরবাঙালির আধুনিকতার অপরিহার্য রোমান্টিক বাউলীয় মন গেয়ে উঠে ‘তাই তোমার আনন্দ আমার পর
তুমি তাই এসেছ নীচে।
আমার নইলে ত্রিভুবনেশ্বর,
তোমার প্রেম হত যে মিছে।
মূর্তি তোমার যুগল সম্মিলনে
সেথায় পূর্ণ প্রকাশিছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here