শিশুদের দাঁতের যত্ন

0
233

ডা. নাজিয়া মেহেনাজ জ্যোতি
দাঁত শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিশুদের দাঁত ওঠার সময়টি খুবই মূল্যবান। শিশুদের ৬ মাস বয়স থেকে ২ বছর পর্যন্ত দাঁত ওঠে, একে দুধ দাঁত বা Deciduous teeth বলে।

এই সময় সঠিক যত্নই পারে শিশুকে ভবিষ্যৎ সুন্দর ও রোগমুক্ত দাঁতের নিশ্চয়তা দিতে। অনেক বাবা-মা মনে করে থাকেন যে এই দুধ দাঁত তো কিছুদিন পর পড়ে যায়। তাহলে এতো যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন কী? এটা খুব ভুল ধারণা। এসময় দাঁতের যত্নে অবহেলা করলে দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ হয়ে দন্তক্ষয় বা Dental Caries এবং সেখান থেকে আরও জটিল প্রদাহ সৃষ্টি করে।

শুধু তাই নয়, সময়ের আগে যদি দুধ দাঁত পড়ে যায়, স্থায়ী দাঁত ওঠার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শিশুর স্থায়ী দাঁত আঁকাবাঁকা হয়ে ওঠে এবং শিশু কথা বলার ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দেয়। তাই শিশুর দাঁত ওঠা থেকে শুরু করে পড়ে যাওয়া পর্যন্ত ও ভবিষ্যতে স্থায়ী দাঁতের জন্য যত্নবান হতে হবে।

মায়ের জরায়ুতে শিশুর ৮ সপ্তাহ থেকে দাঁত গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। এসময় গর্ভবতী মায়েরা খাবারের সাথে ক্যালসিয়াম (Ca) সমৃদ্ধ খাবারও গ্রহণ করে থাকেন, যা তার গর্ভস্থ শিশুর দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিশুর নতুন দাঁত যখন উঠতে শুরু করে তখন মাড়ির জায়গাটা ফুলে লাল হয়ে যায়। এতে ভয়ের কিছু নেই। শিশুর মাড়িতে অস্বস্তিভাব বা ব্যথা হতে পারে। তবে দাঁত ওঠে যাওয়ার সাথে সাথে এ ব্যাপারগুলো আর থাকে না।

মায়েরা হাতের আঙ্গুল ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শিশুর মুখ ও মাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার রাখবেন। দাঁত ওঠে গেলে রাতে ঘুমাতে যাবার আগে ও সকালে খাবার পরে শিশুর দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করাতে হবে। শিশুকাল থেকে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিশুর বাবা-মা তার সামনে ব্রাশ করলে তার আগ্রহ অনেক বাড়ে আর অনুকরণ প্রিয় হওয়ার কারণে তারা জলদি শেখে। শিশুকে বেশি জেল বা পেস্ট সাথে নরম ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করাতে হবে। এই পেস্ট গিলে ফেললেও কোনো সমস্যা হবে না।

দুই বছর বয়স থেকে শিশুকে ব্রাশিং এর সময় থুথু ফেলতে শেখানো শুরু করতে হবে। ব্রাশ করতে হয় ১-২ মিনিট। সব দাঁতে যেন ব্রাশ পৌঁছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাড়ির উপর ও নীচে ব্রাশ করতে হবে। ব্রাশ করার পর সঠিকভাবে কুলি করতে হবে। বাবা-মা তিন বছর পর্যন্ত শিশুকে ব্রাশ করিয়ে দিবেন।

শিশুরা মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি পছন্দ করে। যেমন-চকলেট, কেক, সুইটস ইত্যাদি। এগুলো কিছুটা আঠালো। তাই দাঁত থেকে সহজে সরতে চায় না। এজন্য দাঁতের সঠিক যত্ন না নিলে শিশুদের দন্তক্ষয় বেশি হয়ে থাকে। এসব খাবার খেয়ে পানি দিয়ে কুলি করে অথবা ব্রাশ করে ফেলা শিখাতে হবে শিশুকে।

যেকোনো প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেকে বলেন দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই। তাই আজই আপনার সোনামণির দাঁতের যত্ন নিন। সুস্থ দাঁত মানেই সুন্দর হাসি। আর এই হাসি সর্বজনীন।

[লেখক: সহকারী অধ্যাপক; পেডোডন্টিকস্ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here