শিশু অধিকার ও ইসলাম (পর্ব-১৭): স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া শিশুর অধিকার

0
232

শিশু ডেস্ক: বিশ্বের প্রতিটি শিশুরই স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদেও স্পষ্টভাবে এ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সনদের ২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শিশুকে সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য মানের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হবে, তার রোগের চিকিৎসা করতে হবে, স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সুবিধা দিতে হবে৷ এ ধরনের সেবা থেকে কোনো শিশু যাতে বঞ্চিত না হয় তা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বে শিশু মৃত্যুর ৫০ শতাংশের বেশি ঘটে পুষ্টিহীনতার কারণে। এছাড়া অপুষ্টিতে ভোগার পরও যেসব শিশু বেঁচে থাকে তারা নানা জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে জন্মের পর দুই বছর বয়স পর্যন্ত- জীবনের প্রথম এই ১০০০ দিনের অপুষ্টি সারা জীবনের জন্যই স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।

এ কারণে শিশুর স্বাস্থ্যসেবা শুরু হতে হবে ভ্রূণ অবস্থা থেকে। মনে রাখতে হবে, যে মা অপুষ্টিতে ভোগেন, সেই মা অপুষ্ট শিশুর জন্ম দেন। এ কারণে শিশুর স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়ন করতে হলে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জন্মের পর খেয়াল রাখতে হবে, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে শাল দুধ পান করানো হলো কিনা। এরপর ছয় মাস নিরবচ্ছিন্ন বুকের দুধ পান করাতে হবে। গর্ভবতী মা যদি অপুষ্টিতে ভোগেন অথবা জন্মের পর প্রথম দুই বছর যদি শিশু অপুষ্টিতে ভোগে তাহলে তার শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ও বিকাশ বিলম্বিত হয়। এ ধরনের শিশু জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ে।

শুধু শিশু নয়, প্রত্যেক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষ তার স্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সরকারের পক্ষ থেকে তার নাগরিকদের উপযুক্ত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

১৯৪৬ সালে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে স্বাস্থ্যের একটি সংজ্ঞা তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মানে শুধু কোনো রোগ এবং দুর্বলতার অনুপস্থিতি নয় বরং পরিপূর্ণ দৈহিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকা। এই সংজ্ঞা থেকে এটা স্পষ্ট যে, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে একজন মানুষকে সার্বিকভাবে ভালো থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশু তথা নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এখনও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নবজাতকের অত্যাবশ্যকীয় সেবা নেওয়ার হার এখনও অনেক কম। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটু সচেতন হলেই শিশু স্বাস্থ্যসেবা অনেকাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব। তাদের মতে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বুকের দুধ পান করানো, জন্মের পাঁচ মিনিটের ভেতর নবজাতকের শরীর মুছে শুকিয়ে রাখা, জন্মের পরের তিন দিন নবজাতককে গোসল না করানো, নবজাতকের নাভিতে কোনো কিছু না লাগানো এবং প্রসব ও নাভি কাটার ক্ষেত্রে নিরাপদ সামগ্রী ব্যবহার এই পাঁচটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা নিশ্চিত করতে পারলে নবজাতকের মৃত্যু অনেক ক্ষেত্রেই ঠেকানো সম্ভব। এই সেবাগুলো বাসায় নবজাতকের বাবা মা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের দিয়েই সম্ভব। সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলেই এই ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here