শিশু অধিকার ও ইসলাম (পর্ব ৯) : সৎ ও যোগ্য জীবনসঙ্গী আবশ্যক

0
266

নারী ও শিশু ডেস্ক: শিশুর দৈহিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং সক্ষমতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইসলাম ধর্ম জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ তুলে ধরেছে। নিজের বংশের কাউকে বিয়ে করার বিষয়ে ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মধ্যে কিছুটা মতভিন্নতা রয়েছে। ধর্মীয় চিন্তাবিদদের কেউ কেউ একই বংশ বা রক্তের সম্পর্কের কাউকে বিয়ে করাকে ভালো কাজ হিসেবে বিবেচনা করলেও ধর্মীয় চিন্তাবিদদেরই অনেকেই মনে করেন, সুঠাম ও সুস্থ সন্তান পেতে চাইলে একই বংশে বিয়ে না করা উত্তম। অন্য পরিবার বা বংশে বিয়ে করলে সুস্থ সন্তান লাভের সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য চিকিৎসা বিজ্ঞানও বলছে, একই বংশের সদস্যের মধ্যে বিয়ে হলে বংশগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্ম সৎ ও যোগ্য মানুষকে বেছে নিতে বলেছে। একইসঙ্গে হবু জীবনসঙ্গীর পরিবার কেমন, কোন পরিবেশে সে বেড়ে উঠেছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সৎ ও সম্মানিত পরিবারের সদস্যকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ বাবা-মায়ের সততা ও যোগ্যতা স্বাভাবিকভাবেই সৎ ও যোগ্য সন্তান গড়ে তোলার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা থেকেই শিশুর মনোবল, সাহস, মেজাজ ও ব্যক্তিত্ব গঠন হতে শুরু করে। বাবা-মায়ের আচার-আচরণও এক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

সূরা বাকারার ২২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ না তারা ইমান আনে। নিশ্চিতভাবে মুমিন ক্রীতদাসী, মুশরিক নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও তার (সৌন্দর্য) তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ইমান আনে। নিশ্চিতভাবে একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহবান করে, আর আল্লাহ্ তাঁর নিজের হুকুমের মাধ্যমে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন এবং মানুষের জন্য তার আয়াতসমূহ স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।”

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) নারী ও পুরুষ উভয়কে সৎ ও ধার্মিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে বলেছেন। সর্বশেষ্ঠ এই মহামানব একজন সাহাবিকে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, বাহ্যিক সৌন্দর্যের কারণে খারাপ পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করো না। একবার এক ব্যক্তি চিঠি লিখে তার মেয়েদের বিয়ের বিষয়ে আহলে বাইতের ইমাম হযরত বাকের (রহ.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি প্রশ্নটি ছিল এরকম, কেমন পুরুষের কাছে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া উচিত? জবাবে ইমাম বাকের (রহ.) লিখেছিলেন, কোনো পুরুষ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলে তার আচার-আচরণ, নৈতিকতা ও ধার্মিকতার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে, এ বিষয়গুলো সন্তোষজনক পর্যায়ের হলে তার কাছে মেয়েকে বিয়ে দেবেন। অন্যথায় ওই বিয়ে পৃথিবীতে বড় ধরনের বিবাদ ও অন্যায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

কিছু মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বাছাই না করতে ইসলাম ধর্মে নির্দেশনা রয়েছে। বিভিন্ন ইসলামি বর্ণনায় এসেছে, বাবা-মায়ের কিছু কাজ ভ্রূণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এর একটি হলো, মদ পান। মদ পান করে এমন পুরুষ বা নারীকে বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে ইসলামে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার সুযোগ্য কন্যাকে মদ্যপায়ীর কাছে বিয়ে দিল সে তার মেয়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করল না।
কোনো কোনো ইসলামি বর্ণনায় চরিত্রহীন ব্যক্তিকে বিয়ে না করতে বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও বিভিন্ন ইসলামি বর্ণনায় এসেছে, অসৎ, বদমেজাজি, জেনাকারী ও বিবেকহীন নারী-পুরুষকে বিয়ে করা যাবে না। আহলে বাইতের কোনো কোনো ইমাম বিয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছেন অনাগত সন্তানের কথা চিন্তা করে। আসলে অসৎ নারী ও পুরুষের মধ্যে বিয়ে হলে অনাগত সন্তানেরও একই পথে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। ভালো পথে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। কারণ বাবা-মা অসৎ হলে শিশুর সামনে অসৎ পথটিই বেশি উন্মুক্ত থাকে। এ ধরনের পরিবারের সন্তানরা স্বেচ্ছায় নিজের পথ বাছাইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

একজন স্বামী ও স্ত্রীকে সন্তান নেওয়ার আগে মানসিক ও শারীরিক দিক থেকেও প্রস্তুতি নিতে হবে। তাদেরকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, তাদের ঘরে নতুন একজন অতিথি আসছে। নতুন এই অতিথিকে আপ্যায়ন করতে হবে। বড় না হওয়া পর্যন্ত তার সব দায়িত্ব পালন করতে হবে। পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার। শিশুর মধ্যে আল্লাহ্ তায়ালা সঠিকভাবে বেড়ে উঠার এবং সঠিক পথ বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের দায়িত্ব হলো শিশুর সব ধরনের বিকাশের উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here