শিশু-কিশোরদের প্রতি মহানবি (সা.)-এর আচরণ

1
268

মুহাম্মাদ আলী চানারানী

শিশুর যেমন খাবার ও পানির প্রয়োজন রয়েছে তেমনি তার যত্ন ও আদরেরও প্রয়োজন রয়েছে এবং তার সাথে স্নেহ ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ করা উচিত- যা শিশুর মনের জন্য সর্বোত্তম খাবারস্বরূপ। যেসব শিশু শৈশবকাল থেকেই তাদের পিতা-মাতার নিকট হতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভালোবাসা পেয়েছে তারা সাধারণত হাসি-খুশি স্বভাবের হয়ে থাকে। আমাদের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অনেক বক্তব্যে শিশুদের প্রতি স্নেহ ও ভালোবাসার দিকটি আলোচিত হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে তাদেরকে স্নেহের উপদেশও দেওয়া হয়েছে। এখানে তার মধ্য থেকে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো :

‘খুতবায়ে শা’বানীয়া’ নামে প্রসিদ্ধ বক্তব্যে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন বিভিন্ন দায়িত্ব সম্পর্কে সাহাবিদেরকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন সেখানে তিনি উপদেশ দেন : ‘তোমরা বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করো এবং ছোটদের প্রতি দয়াশীল হও।’ উয়ুনু আখবারির রিযা, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৯৫

মহানবি (সা.) অন্যত্র বলেন : ‘যে শিশুদের প্রতি স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ আল মুহাজ্জাতুল বাইদা, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৬৫

শিশুদের প্রতি রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা

হযরত আলী (রা.) বলেন : ‘যখন আমি শিশু ছিলাম তখন মহানবি (সা.) আমাকে তাঁর কোলে বসাতেন, বুকে জড়িয়ে ধরতেন এবং কখনও কখনও তাঁর বিছানায় ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। তিনি পরম মমতায় তাঁর মুখমণ্ডল আমার মুখের ওপর রাখতেন এবং তাঁর শরীরের সুঘ্রাণ নেওয়াতেন।’ নাহজুল বালাগা

যখন মহানবি (সা.) আনসার সাহাবিদের শিশুদেরকে দেখতেন তখন তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, তাদেরকে সালাম দিতেন এবং তাদের জন্য দোয়া করতেন। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন : ‘আমি হযরত রাসুল (সা.) ছাড়া আর কাউকে নিজ পরিবারের প্রতি এত বেশি দয়াশীল দেখি নি। সীরাতুন নাবাবীয়্যাহ, ইবনে কাসীর, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৬১২

প্রতিদিন তিনি তাঁর সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের মাথায় চুম্বন করতেন। বিহারুল আনওয়ার, ১০৪তম খণ্ড, পৃ. ৯৯

ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের প্রতি মহানবি (সা.)-এর ভালোবাসা

ইমাম হাসান (রা.) ও ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি মহানবির গভীর ও ভীষণ ভালোবাসা ছিল। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন : ‘মহানবি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো : ‘আপনার পরিবারের মধ্য থেকে কোন্ ব্যক্তিকে আপনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।’ মহানবি জবাব দেন : ‘আমি হাসান ও হোসাইনকে অন্যদের চেয়ে বেশি ভালোবাসি।’ ইহকাকুল হক, ১০ম খণ্ড, পৃ. ৫৯৫

ইমাম হাসান (রা.) বলেন : “মহানবি (সা.) আমাকে বলেন : ‘হে আমার সন্তান! তুমি আমার শরীরের অংশসদৃশ; তাদের ভালো হোক যারা তোমাকে এবং তোমার সন্তানদেরকে ভালোবাসবে এবং তাদের জন্য আফসোস যারা তোমাকে হত্যা করবে।’” ইহকাকুল হাক এর পরিশিষ্ট, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৩১১-৩১৪

ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি মহানবির ভালোবাসা এত বেশি ছিল যে, তিনি তাঁর ক্রন্দন সহ্য করতে পারতেন না।

ইয়াযীদ বিন আবি যিয়াদ বলেন : ‘মহানবি (সা.) হযরত আয়েশা (রা.)-এর ঘর থেকে বের হয়ে হযরত ফাতিমা (রা.)-এর ঘর অতিক্রম করছিলেন। তিনি হোসাইনের ক্রন্দনধ্বনি শুনলেন এবং ফাতিমাকে বললেন : ‘তুমি কি জান না, হোসাইনের ক্রন্দন আমাকে ব্যথিত করে?’ ইহকাকুল হাক এর পরিশিষ্ট, ১১তম খণ্ড, পৃ. ৩১১-৩১৪

শিশুদেরকে সহ্য করা

হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের স্ত্রী উম্মে ফযল বলেন : “যখন ইমাম হোসাইন একজন দুগ্ধপোষ্য শিশু তখন একদিন মহানবি (সা.) তাকে আমার কাছ থেকে নিয়ে কোলে নেন এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। ইমাম হোসাইন তাঁর কোলে প্রস্রাব করে দিলে আমি তাকে মহানবির কোল থেকে দ্রুত নিয়ে নিলাম আর সে ক্রন্দন করা শুরু করল। মহানবি আমাকে বললেন : ‘তাড়াহুড়া করো না। আমার কাপড় তো পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যাবে, কিন্তু আমার সন্তান হোসাইনের মন থেকে এই ব্যথার স্মৃতি কী করে দূর হবে?’”

শহিদদের শিশুদের সাথে মহানবির আচরণ

বাশীর বিন আকরিয়া বিন যাহনী বলেন : “উহুদের যুদ্ধের দিন আমি মহানবিকে জিজ্ঞেস করলাম, আমার পিতা কীভাবে শহিদ হয়েছেন?’ হযরত রাসুল (সা.) বললেন : ‘সে আল্লাহ্র রাস্তায় শহিদ হয়েছে। তার ওপর আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হোক!’ তখন আমি কেঁদে ফেললাম। রাসুল (সা.) আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমাকে তাঁর ঘোড়ার ওপর বসিয়ে বললেন : ‘তুমি কি আমাকে তোমার পিতার মতো হওয়া পছন্দ করো না?’ মাজমাউল জাওয়ায়েদ, ৮ম খণ্ড, পৃ. ১৬১

ইবনে হিশাম লিখেছেন : আবুদল্লাহ ইবনে জাফরের স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস বলেন : “যেদিন মুতার যুদ্ধে জাফর শহিদ হন, সেদিন মহানবি (সা.) আমাদের বাড়িতে আসেন। আমি সবেমাত্র ঘরের কাজগুলো শেষ করে ছেলেমেয়েদেরকে পরিপাটি করছিলাম। মহানবি (সা.) আমাকে বললেন : ‘জাফরের সন্তানদেরকে আমার কাছে নিয়ে আস।’ আমি সন্তানদেরকে তাঁর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তাদেরকে বুকে টেনে নিলেন এবং আদর করতে থাকলেন, তখন তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল।”

“আমি জিজ্ঞেস করলাম : ‘হে আল্লাহ্র রাসুল (সা.)! আপনি কাঁদছেন কেন? জাফর ও তাঁর সঙ্গী-সাথিদের কোনো খবর এসেছে কি?’ তখন মহানবি বললেন : ‘তারা আজকে শহিদ হয়েছে।’” সিরাতে ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ২৫২

অন্য শিশুরাও মহানবির এমন দয়া ও পিতৃসুলভ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ছিল না। বর্ণিত হয়েছে যে, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) শিশুদেরকে জড়িয়ে ধরতেন এবং কাউকে কাউকে তাঁর ঘাড়ে ও পিঠে উঠাতেন। তিনি তাঁর সাথিদের বলতেন, শিশুদেরকে জড়িয়ে ধর এবং তাদেরকে তোমাদের কাঁধে নাও। শিশুরা তাঁর এমন আচরণকে খুবই পছন্দ করত, এতে তারা অপরিসীম আনন্দ পেত এবং কখনই এরকম মধুর মুহূর্তগুলোকে ভুলে যেত না। পরবর্তীকালে কেউ কেউ গর্ব করে বলতেন : ‘মহানবি (সা.) আমাকে তাঁর পিঠে নিয়েছেন।’ আবার কেউ বলতেন : ‘মহানবি (সা.) তাঁর সাহাবিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তোমাকে পিঠে নেওয়ার জন্য।’ আল মাহাজ্জাতুল বাইদা, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৬৬

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও শিশুদের চুমু দিতেন

মহানবি (সা.) বলেন : ‘যে কেউ তার সন্তানকে চুমু দেয় সে একটি সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং যে কেউ তার সন্তানকে খুশি করে আল্লাহ্ পুনরুত্থান দিবসে তাকে খুশি করবেন।’ মাকারিমুল আখলাক, পৃ. ১১৩

হযরত আয়েশা (রা.) বলেন : “এক ব্যক্তি মহানবি (সা.)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন : ‘আপনি কি শিশুদেরকে চুম্বন করেন? আমি কখনও তা করি নি।’ মহানবি (সা.) জবাব দিলেন : ‘যখন আল্লাহ্ তোমার হৃদয় থেকে তাঁর মায়া-মমতা উঠিয়ে নিয়েছেন তখন আমি কী করতে পারি?” সহীহ বুখারী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৯

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন : ‘আমি মহানবি (সা.)-এর সাথে ছিলাম। তাঁর পুত্রসন্তান ইবরাহীম তাঁর বাম ঊরু এবং ইমাম হোসাইন ডান ঊরুর ওপর ছিলেন। মহানবি (সা.) কোনো সময় ইবরাহীমকে আবার কোনো সময় হোসাইনকে চুম্বন করছিলেন।’ মানাকিবে ইবনে শাহর আ’শুব, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৩৪

শিশুদের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন : ‘একদিন মহানবি (সা.) তাঁর কন্যার বাড়িতে গেলেন। হযরত আলী (রা.) বিছানায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং তাঁর সন্তানদ্বয় হাসান এবং হোসাইন তাঁর পাশে ছিল। তারা পানি চাইল। মহানবি (সা.) তাদের জন্য পানি আনলেন। হোসাইন প্রথমে সামনে এলো। মহানবি (সা.) বললেন : “হাসান প্রথমে পানি চেয়েছিল।’ হযরত ফাতিমা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন : ‘আপনি কি হাসানকে বেশি ভালোবাসেন?’ মহানবি (সা.) জবাব দিলেন : ‘দুজনই আমার নিকট সমান। [কিন্তু ন্যায়পরায়ণতা এটাই দাবি করে যে, প্রত্যেকে পর্যায়ক্রমে পানি পান করবে।]’” মাজমাউল জাওয়ায়েদ, ৯ম খণ্ড, পৃ. ১৭১

শিশুদের খেলাধুলা করার প্রবণতা

হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন : ‘এমন ব্যক্তি যার সাথে একটি সন্তান আছে তার সাথে শিশুর মতো আচরণ করো।’ কানযুল উম্মাল, বক্তব্য ৪৫৪১৩

মহানবি (সা.) আরো বলেন : ‘সেই পিতার ওপর আল্লাহ্র কৃপা বর্ষিত হোক যে উত্তম নিয়্যতে তার সন্তানকে সাহায্য করে, তার সাথে সদাচরণ করে, তার বন্ধু এবং তাকে ভালোভাবে শিক্ষিত করে।’ মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬২৬

শিশুদের সাথে মহানবী (সা.)-এর খেলা করা

মহানবি (সা.) ইমাম হাসান ও ইমাম হোসাইনের সাথে খেলা করেছেন।

ইয়ালা বিন মুররা বলেন : “মহানবি (সা.) দুপুরের খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন। আমরা তাঁর সাথে ছিলাম, হঠাৎ আমরা হাসানকে গলিপথে খেলতে দেখলাম। মহানবি (সা.) তাকে দেখলেন এবং তাকে ধরার জন্য দুই হাত প্রসারিত করে দৌড়ে গেলেন। হাসান তার থেকে পালানোর জন্য এদিক-ওদিক দৌড়াতে লাগল যা মহানবির হাসির উদ্রেক করল। মহানবি (সা.) হাসানকে ধরে ফেললেন। তিনি তার একটি হাত তার চিবুকের নিচে এবং অন্য হাত তার মাথার ওপর রাখলেন। তিনি তাঁর মুখ শিশুটির কাছে নিলেন এবং তাকে এই বলে চুম্বন করলেন : ‘হাসান আমার একটি অংশ এবং আমি তার অংশ। যারা তাকে ভালোবাসে আল্লাহ্ তাদেরকে ভালোবাসবেন।’ বিহারুল আনওয়ার, ৪৩তম খণ্ড, পৃ. ৩০৬

অনেক বর্ণনায় এসেছে যে, এটি ইমাম হোসাইন (রা.)-এর সাথে সম্পর্কিত একটি ঘটনা (অর্থাৎ ইমাম হাসানের সাথে সম্পর্কিত নয়)। সহীহ তিরমিযী, ৫ম খণ্ড, পৃ. ৬১৫

একটি বর্ণনায় এসেছে যে, মহানবি (সা.) ইবনে আব্বাসের সন্তানদেরকে ডাকতেন। তারা ছোটো ছিল এবং খেলাধুলা করতে ভালোবাসত। তিনি তাদেরকে বলতেন : ‘যে আমার কাছে সবচেয়ে দ্রুত আসতে পারবে সে পুরস্কৃত হবে।’

শিশুদের খাওয়ানো

সালমান ফারসি (রা.) বলেন : “আমি মহানবির গৃহে প্রবেশ করলাম। শিশু ইমাম হাসান ও শিশু ইমাম হোসাইন তাঁর সাথে খাবার খাচ্ছিল। মহানবি (সা.) কিছু খাবার হাসানের মুখে দিচ্ছিলেন এবং কিছু খাবার হোসাইনের মুখে দিচ্ছিলেন। যখন তাঁরা খাওয়া শেষ করলেন তখন মহানবি হাসানকে তাঁর কাঁধে নিলেন এবং হোসাইনকে তাঁর কোলে বসালেন। এরপর তিনি আমার দিকে মুখ করলেন এবং বললেন : ‘হে সালমান! তুমি কি তাদেরকে পছন্দ কর?’ আমি বললাম : ‘হে নবী (সা.)! কীভাবে আমি তাদেরকে পছন্দ করব না যখন আমি আপনার নিকট তাদের অবস্থান ও মর্যাদা প্রত্যক্ষ করি।’” বিহারুল আনওয়ার, ৩৬তম খণ্ড, পৃ. ৩০৪

শিশুদেরকে সালাম দেওয়া

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আরেকটি অভ্যাস ছিল শিশুদেরকে সালাম দেওয়া।

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন : ‘মহানবি (সা.) কয়েকটি শিশুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে সালাম দিলেন এবং তাদেরকে খাবার দিলেন।’ সুনানে ইবনে মাজাহ, ২য় খণ্ড, পৃ. ২২২০

ইমাম বাকির (রহ.) বলেন : “মহানবি (সা.) বলেছেন : ‘মৃত্যু পর্যন্ত আমি পাঁচটি জিনিস পরিত্যাগ করব না। এগুলোর অন্যতম হলো শিশুদেরকে সালাম দেওয়া।’ উয়ুনু আখবারির রিযা (আ.), পৃ. ২৩৫

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে যে, মহানবি (সা.) ছোটো-বড়ো সকলকে সালাম দিতেন। মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল, ২য় খণ্ড, পৃ. ৬৯ তিনিই প্রথমে অন্যদেরকে সালাম দিতেন, এমনকি শিশুদেরকেও। রাহমাতে আলামিন, পৃ. ৬৬৩

তিনি যাকেই দেখতেন, তাকেই প্রথমে সালাম করতেন এবং মুসাফাহা করতেন।’ মাকারিমুল আখলাক, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৩

সংকলন ও অনুবাদ : সরকার ওয়াসি আহমেদ

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here