শুধু ধর্ম নয়, মানবসেবায়ও শাহ দেওয়ানবাগী বিরল ইতিহাস -ইমাম ড. কুদরত এ খোদা

0
1640


বিশেষ সংবাদদাতা: মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেবলাজানের মেজো সাহেবজাদা, মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী মহামানব ইমাম ড. আরসাম কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর বলেন, সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.) শুধু মানুষকে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে পাওয়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, মানবসেবায়ও তিনি এক বিরল ইতিহাস। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় যতদূর প্রভাব বিস্তার লাভ করেছেন অন্য কোনো অলী-আল্লাহ তাঁদের জীবদ্দশায় এত বিস্তার লাভ করেননি। শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর সঙ্গে কাউকে তুলনা করা যায় না। শাহ দেওয়ানবাগীর তুলনা শাহ দেওয়ানবাগী নিজেই।


গত ১৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের শুভ জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফ থেকে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত বিশেষ আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনে এ কথা বলেন দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক, সমন্বয়ক ও সমস্যার ফয়সালাকারী ইমাম ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।


আশেকে রাসুলদের উদ্দেশে ইমাম ড. কুদরত এ খোদা হুজুরের দেওয়া বাণীটি নিম্নে তুলে ধরা হলো:
আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে আজ মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। যার কারণে আজ আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি। যার কারণে আমরা নিজের দেশকে নিয়ে গর্ব করি। বাঙালি জাতি বাঙালির সন্তান আমরা। এই বাংলা মায়ের বাঙালি জাতির গর্বের আরও একটি বিষয় হলো, এই বাংলার জমিনে আজ থেকে ৭২ বছর আগে আগমন করেছিলেন আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.)। যার জন্ম না হলে আপনি আমি আশেকে রাসুল হতে পারতাম না। যার জন্ম না হলে আজ আপনি আমি নিজেদের রাসুল (সা.)-এর প্রেমিক বলার সুযোগ পেতাম না। যার জন্ম না হলে মোহাম্মদী ইসলামের নামকরণ হতো না। তিনি এই জগতের বুকে না আসলে লক্ষ কোটি মানুষ মুক্তির দিশা পেতো না। যার আবির্ভাব না হলে আজ পাপ পঙ্কিলতায় লিপ্ত মানুষ তার চরিত্রকে সংশোধনের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যেত। সেই মহামানব আল্লাহর মহান বন্ধু মহান সংস্কারক মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী, যুগের ইমাম, আম্বিয়ায়ে কেরামের ধর্মের দায়িত্ব ও বেলায়েত লাভকারী, আল্লাহর দেওয়া পুরষ্কার: পুর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি- সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর ৭২তম শুভ জন্মদিন স্মরণে বিশেষ আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন উদযাপন করা হচ্ছে।

জিয়ারত এর সময়


আমি শুকরিয়া জানাই মহান রাব্বুল আলামিনের কদম মোবারকে, যিনি দয়া করে গোলামদের সৃষ্টি না করলে তাঁর প্রেম তাঁর ভালবাসা, তাঁর মহব্বত সম্পর্কে ধারণা পেতাম না, তাঁর দাসত্ব করার সুযোগ পেতাম না। শুকরিয়া জানাই রাহমাতুল্লিল আলামিন দয়াল রাসুল (সা.)-এর কদম মোবারকে। তিনি যদি এসে আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা না দিতেন, তাহলে আজ আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ পেতাম না। শুকরিয়া জ্ঞাপন করি আমাদের মোর্শেদ কেবলাজানের নুরানিময় কদম মোবারকে যিনি এক আল্লাহর আকারের প্রমাণস্বরূপ আমাদেরকে দিলেন ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’। যিনি লক্ষ কোটি আশেকে রাসুলের অন্তরের জ্বালা নিবারণ করলেন, লক্ষ কোটি আশেকে রাসুলকে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর পথে ধাবিত করলেন।

স্মরনিকা উদ্বোধনের মুহূর্ত


আমরা এমন একটি সময় এসে পৌঁছেছি, আজ প্রথম বছর আমরা শাহ দেওয়ানবাগীকে ছেড়ে তাঁর শুভ জন্মদিন উদযাপন করছি। জীবনে কখনও এই দিন আসবে, কখনও এই দিন দেখতে হবে আমি অন্তত ভাবিনি। আজও আমার কাছে এটা মেনে নেওয়া অনেক কঠিন। আমরা হতভাগা, আমরা নালয়েক। আমরা পরশ পাথর পেয়েছি কিন্তু পরশ পাথরের মূল্যায়ন করতে শিখিনি। আমরা অলীদের বাদশা শাহ দেওয়ানবাগীকে পেয়েছি, এমন দয়াল মহামানব সারা বিশ্বে এক বিরল ঘটনা। দেওয়ানবাগীর জীবনী মোবারক পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তাঁর মতো এত বড়ো মহামানব এই যুগে আর একজনও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে ২০২১ সন পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৬ বছরে ১১টি দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেছেন, দুই শতাধিক খানকা শরীফ প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাঁচ শতাধিক জাকের মজলিশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। কোনো অলী-আল্লাহর আদর্শ তাঁর জীবদ্দশায় এতদূর বিস্তার লাভ করেছে বলে আমি কুদরত এ খোদা আগে শুনিনি। বলতে হবে শাহ দেওয়ানবাগীর তুলনা শাহ দেওয়ানবাগী নিজেই। তার তুলনা আসলে অন্য কেউ করতে পারে না।


শুধু দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করাই নয়, তিনি ৩ কোটি আশেকে রাসুল তৈরি করেছেন। মানুষের কলুষিত অন্তরে নিজের শাহাদাত আঙুলের স্পর্শে আলোকিত করে মানুষকে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর পথে ধাবিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি শুদ্ধ হলেই সমাজ শুদ্ধ হয়’। তিনি ব্যক্তিকে শুদ্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন, যাতে আমরা ব্যক্তি শুদ্ধ হয়ে সমাজকে পরিশুদ্ধ করতে পারি। এই শাহ দেওয়ানবাগী তাঁর জীবনের পুরোটা সময় অতিবাহিত করেছেন আপনার আমার মতো হতভাগা মানুষকে মহান আল্লাহ ও হযরত রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার জন্য।


শুধু তাই নয়, তিনি একদিকে যেমন ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস, ভালোবাসা দৃঢ়তা থেকে মানুষকে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার শিক্ষা দিয়েছিলেন, অপরদিকে তিনি সামাজিক পৃষ্ঠপোষকতায় দাঁড়িয়ে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন। মানুষের জন্য আল্লাহকে পাওয়ার স্থান তৈরি করে দিয়ে গেছেন। এমন একজন মহামানবকে আমরা পেয়েছি। তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, গরিব অভাবীদের জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, চোখের অপারেশন করার ব্যবস্থা করে ফ্রি ঔষধ দান করেছেন। শুধু তাই নয়, শীতের সময় শীত বস্ত্র বিতরণ, বন্যার সময় বন্যার্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানোসহ প্রত্যেকটি সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি অগ্রগামী ভ‚মিকা পালন করেছেন। এখানেই শেষ নয়, যখন এই মহামারি করোনায় সারা বিশ্ব থেমে গেল, শাহ দেওয়ানবাগী ব্যতি-ব্যস্ত হয়ে গেলেন মানুষকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় তা নিয়ে। মোর্শেদের অপার দয়ার বদৌলতে তাঁর ইচ্ছায়, তাঁর আশেকানরা, তাঁর মুরিদানরা মোর্শেদের নির্দেশ অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে এমনকি বহির্বিশ্বে প্রায় অর্ধ শতাধিক দেশে এই মহামারি করোনায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন। যেই ত্রাণের টাকার পরিমাণ দুই কোটি টাকারও বেশি।


আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ সনে ওফাত লাভ করেন। ওফাত পরবর্তীতে তিনি চারজন সাহেবজাদা এবং দুই জন সাহেবজাদীকে রেখে যান এই মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
মোর্শেদের ওফাতের পর আমাদের মনটা অনেক ব্যকুল হয়ে পড়েছে। আমি বুঝতে পারি, মোর্শেদের বিয়োজনের যন্ত্রণা আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের উপরে এক কঠিন ইমানি পরীক্ষায় ফেলেছে। তিনি তার সন্তানদেরকে বলে গেছেন মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমাদের বড়ো সাহেবজাদা হুজুর আজকে বাবে জান্নাত দরবার শরীফে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর শুভ জন্মদিন উদযাপন করছেন।

কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই বড়ো সাহেবজাদা হুজুরকে এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি আমাদের সেজো সাহেবজাদা হুজুরকে যিনি গত ১৪ ডিসেম্বর বাবে রহমত, দেওয়ানবাগ শরীফে এক বিশেষ উৎসবের আয়োজন করেছেন। শত সহ¯্র আশেকে রাসুলের মিলন মেলা সেখানে হয়। আমি নিজেও সেই মেলায় থেকেছি এবং আমি নিজে অনুভব করেছি আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.) অনেক খুশি হয়েছেন। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি আমাদের ছোটো সাহেবজাদা হুজুরকে যিনি বাবে মদীনায় গত ১ ডিসেম্বরে আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর শুভ জন্মদিনে এক আনন্দ মেলার আয়োজন করেছেন। যেখানে শত সহস্র আশেকে রাসুল এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মোহাম্মদী ইসলামকে ভালোবেসে শাহ দেওয়ানবাগীর রওজায় বসে উদযাপন করেছে, যেটা আসলেই প্রশংসার দাবীদার।


এই তরিকাটাকে চালিয়ে নিতে হলে আমাদের প্রত্যেকের সাহায্য সহযোগিতা দরকার। আমি যদি একটা উৎসব করলাম, আর সেখানে যদি কোনো আশেকে রাসুল না আসে, তাহলে এই উৎসবের মূল্য কোথায়? সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মোহাম্মদী ইসলাম পরিচালিত হয়। সেটাই চলছে। আওলাদগণ প্রতিনিয়ত মোহাম্মদী ইসলামের কাজে নিজেকে অগ্রগামী ভুমিকায় রেখেছেন। আমি মোর্শেদের ওফাত পরবর্তীতে প্রথম বছরে সকল আওলাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জ্ঞাপন করি তাদের মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য।

মোর্শেদ কেবলাজান আমাকে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই মোহাম্মদী ইসলামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মোর্শেদ কেবলাজান তাঁর ওফাতের এক বছর আগে আমাকে দায়িত্ব অর্পণ করেন।


মোর্শেদের গোলামীতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি শাহ দেওয়ানবাগীর ইচ্ছায় আল্লাহ ও রাসুলের সন্তুষ্টিতে এই মোহাম্মদী ইসলামকে অগ্রসর করার জন্যে। আমি আওলাদগণের সাথে পরামর্শ করে, ইমামগণের সাথে পরামর্শ করে চেষ্টা করছি সারা বিশ্বে মোহাম্মদী ইসলামের জোয়ার আনার জন্য। আমরা সকলে পরামর্শ করেছি একটি আদর্শ দরবার শরীফ তৈরি করতে চাই। আমরা প্রত্যেকটি দরবার শরীফে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-কে পাওয়ার লক্ষ্যে মানুষকে মোরাকাবা শিক্ষা দেওয়ার জন্যে, সাধনা শিক্ষা দেওয়ার জন্যে খুব শীঘ্রই প্রতিষ্ঠান খুলতে চাচ্ছি। যেখানে এসে প্রতিনিয়ত মানুষ আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর দিদার পাবে। আগামী ২০২২ সনে আশা করছি মোহাম্মদী ইসলামের উন্নয়নের কার্যক্রমের জোয়ার আসবে।


শাহ দেওয়ানবাগীর মতো এতবড়ো আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন মহামানব কাল যুগে আর আসবেন কিনা জানা নাই। তবে তিনি তাঁর মুরিদ সন্তানকে রেখে গেছেন। এই মুরিদ সন্তানকে কিয়ামত পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলামকে ধরে রাখতে হবে। মোহাম্মদী ইসলামকে ধরে রাখতে হলে মুরিদের অন্তরে মোর্শেদের আদর্শকে জাগ্রত রাখতে হবে। আদর্শ বিহনে মোহাম্মদী ইসলাম ধরে রাখা যায় না। তাই আমি প্রত্যেকটি আশেকে রাসুলকে আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগীর শুভ জন্মদিনে উদাত্ত আহবান জানাই আপনারা নিজের অন্তরকে আলোকিত করুন। নিজের অন্তরের কলুষতা দূর করুন। আল্লাহ ও রাসুলের সন্তষ্টিতে বাকি জীবন অতিবাহিত করুন। মুরিদের মোর্শেদ কখনও মরে না। কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের মোর্শেদ থাকবেন বাবা দেওয়ানবাগী (রহ.)। মোর্শেদ আমাদের কাছে না থাকলেও, বাতেনি মোর্শেদতো আমাদের কাছে আছেন। বাতেনি মোর্শেদ আমাদের মাঝে থাকবেন। চোখ বন্ধ করে যে মোর্শেদকে আমরা মোরাকাবায় দেখি, তাকে বাতেনি মোর্শেদ বলে। বাতেনি মোর্শেদ হিসেবে হলেও কিয়ামত পর্যন্ত মোহাম্মদী ইসলামের মোর্শেদ থাকবেন আল্লাহর বন্ধু শাহ দেওয়ানবাগী (রহ.)। আমি চাই আমরা সকলে যেন সম্মিলিতভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই মোহাম্মদী ইসলামকে সামনে অগ্রসর করি নিয়ে যেতে পারি।


বাণী মোবারক দেওয়ার পর আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী মহামানব ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here