শয়তান বিতাড়িত করার উপায়

0
110

শয়তান বিতাড়ন বলতে মানুষের নফস থেকে শয়তানের প্রবৃত্তি দূরীভূত করাকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ নফসে আম্মারা বা অসংযমী নফস পরিশুদ্ধ হয়ে যখন স্রষ্টার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করে, তখন সে শান্তি লাভ করে। মহান আল্লাহ্ বলেন “হে মু’মিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তো তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (সূরা আল বাকারাহ ২: আয়াত ২০৮)


হযরত রাসুল (সা.) সাহাবাদের লক্ষ্য করে এক পর্যায়ে বলেছেন তোমাদের ভেতর যেরূপ শয়তান আছে, আমার ভেতরও তদ্রুপ শয়তান আছে। আমার শয়তানকে আমি মুসলমান করেছি, কিন্তু তোমাদের শয়তান এখনো মুসলমান হয়নি। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন “তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই শয়তান নিযুক্ত রয়েছে। এ কথা শ্রবণ করে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! আপনার সাথেও কি আছে? আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন হ্যাঁ, আমার সাথেও। তবে মহান আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন, ফলে শয়তান আমার অনুগত হয়ে গেছে। সে কেবল ভালো কাজেরই পরামর্শ দিয়ে থাকে।” (বোখারী ও মুসলিমের সূত্রে তাফসীরে ইবনে কাছীর ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮১২)


শয়তানকে মুসলমান করা বলতে সাধনার মাধ্যমে নফস পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা বুঝায়। আল্লাহ বলেন “যেদিন ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি কোনো কাজে আসবে না, সেদিন উপকৃত হবে কেবল সে, যে আল্লাহর নিকট আসবে পরিশুদ্ধ ক্বালব বা অন্তর নিয়ে।” (সূরা আশ শু‘আরা ২৬: আয়াত ৮৮ ও ৮৯) এমনিভাবে ওহির বাণী আল কুরআনের অন্য আয়াতে এরশাদ হয়েছে “নিশ্চয় নূহ (আ.)-এর অনুগামীদের মধ্যে ছিলেন ইব্রাহিম (আ.)। স্মরণ করুন, তিনি তার প্রতিপালকের কাছে পরিশুদ্ধ ক্বালব বা অন্তর নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন।” (সূরা আস সাফফাত ৩৭: আয়াত ৮৩ ও ৮৪)


বিশ্বমানবতার মহান শিক্ষক, কুল-কায়েনাতের রহমত হযরত রাসুল (সা.)-এর সুমহান শিক্ষা (শরিয়ত ও মারেফাত) বাস্তবায়ন এবং অনুশীলনের মাধ্যমে নফসকে অবশ্যই মুসলমান করা যায়। অর্থাৎ শয়তানের প্রবৃত্তি মুক্ত করা যায়। বিষয়টি মহান আল্লাহ তাঁর জবানেই পরিষ্কার করেছেন। এরশাদ হচ্ছে “অবশ্যই আল্লাহ মু’মিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, তিনি তাদের কাছে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন। তিনি আল্লাহর আয়াত তাদের পাঠ করে শুনান, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত; যদিও তারা পূর্বে প্রকাশ্য গোমরাহীতে ছিল।” (সূরা আলে ইমরান ৩: আয়াত ১৬৪)


প্রকৃতপক্ষে নফস থেকে শয়তান বিতাড়িত করতে হলে সর্বপ্রথম অন্তরে আল্লাহর জিকির জারি করতে হয় এবং সাধনার মাধ্যমে নফসকে শয়তানের প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত করে নিয়ে, নিজেকে হাকিকতে মুসলমান করতে হয়। এ প্রসঙ্গে হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন “নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের ক্বালবে ঠোঁট বসিয়ে অবস্থান করে থাকে। অতঃপর ক্বালব আল্লাহর জিকিরে মশগুল হলে, শয়তান সরে যায়। আর ক্বালব আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হলে, শয়তান ক্বালবের উপর পুরোপুরি ক্ষমতা বিস্তার করে (ক্বালবকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে) যায়। আর এটিই আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতা শয়তান।” (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৩)


নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগে রাসুলের হিদায়েতের নুরের উত্তরাধিকারী অলী-আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে, তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুশীলনের মাধ্যমে শয়তানকে বিতাড়িত করা সম্ভব। অর্থাৎ শয়তানের কু-প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here