সকল ইবাদতের মূল ধ্যান বা মোরাকাবা।
-ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা

0
343

বিশেষ সংবাদদাতা: কালেমা হচ্ছে বিশ্বাসের নাম। আল্লাহর উপরে বিশ্বাস, নবি-রাসুলগণের উপরে বিশ্বাস, বিভিন্নভাবে কালেমার পুরো ব্যাখ্যাই হচ্ছে আল্লাহতে বিশ্বাস করা। বিশ্বাস জিনিসটা বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। এটা মূল্য দিয়ে পরিশোধ করা যায় না। বিশ্বাস অন্তর থেকে আসে। আর এই অন্তর পবিত্র না হলে বিশ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়, আল্লাহ্ আছেন এবং আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর কাছে আমাকে ফেরত যেতে হবে। অতএব আমাকে সৎ কাজ করতে হবে। কিন্তু আমরা কি সৎ কাজ করি? কিন্তু এক আল্লাহকে নিজের ভিতর দেখতে না পারলে আল্লাহর প্রতি মহব্বত তৈরি হবে না। আর নিজের ভিতরে আল্লাহকে দেখতে হলে মোরাকাবা ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই।


গত ২৭ মে, শুক্রবার দিবাগত রাতে বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী মহামানব ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুরের অনুমতিক্রমে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক আশেকে রাসুল (সা.) মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।


ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা বলেন, আমি বিশ্বাস করি আসমানি কিতাবের ওপরে। এখন আসমানি কিতাবে বলা আছে, তুমি পাপাচার, অন্যায়, অত্যাচার থেকে দূরীভূত থাকবে; এটা করলে আল্লাহ্ খুশি হন এবং ঐটা করলে আল্লাহ্ বেজার হন। এগুলো শুধু বিশ্বাস করলে হবে, না-কি তা পালন করতে হবে? কিভাবে সেটা পালন করবেন? মিথ্যা বলা মহাপাপ; একদিন পরেই মিথ্যা কথা বলি; তার পরদিন আরও বেশি করে মিথ্যা কথা বলি। এই যে বিশ্বাস, এই বিশ্বাস ধরে রাখতে বা এই বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে অথবা এই বিশ্বাসকে নিজের ভিতরে প্রতিস্থাপন করতে মোরাকাবা ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে তা সম্ভব নয়। তাই সকল ইবাদতের মূল উৎস হচ্ছে ধ্যান বা মোরাকাবা। সাধক যখন ধ্যান বা মোরাকাবার মাধ্যমে আস্তে আস্তে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে তখন তার বিশ্বাস প্রতিস্থাপিত হয় এবং তার নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত এই সবকিছু তখন আস্তে আস্তে সহিহ হতে শুরু করে। ইবাদত হয়ে গেছে বেহেশতের জন্য অথচ যে মালিক আপনাকে সৃষ্টি করেছেন; যে মালিকের কাছে আপনি পুনরায় ফেরত যাবেন; যে মালিক দয়া, মায়া, মহব্বত করে আপনাকে তৈরি করেছেন এবং আপনার প্রতি এখনও দয়া করছেন তাঁকে ভুলে গিয়ে এখন শুধুমাত্র বেহেশতের আশায় ইবাদত করলেন। আপনি কি বলেন, আল্লাহ্ কি আপনাকে ভালো জানবেন?

প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা বলেন, নামাজ হচ্ছে আনুগত্য করার নাম। দিনে ৫ বার বান্দা আল্লাহর কাছে দণ্ডায়মান হয়ে রুকু এবং সিজদা করে বলে, আমি শিরক করি না, আমি তোমার সামনে হাজির হই, আমি তোমাকে সিজদা করি; আমি তোমার চরিত্রে চরিত্রবান হতে চাই, আমি তোমার আনুগত্য করতে চাই; আমি তোমার দাসত্ব গ্রহণ করতে চাই এবং সেজন্যে আমরা নামাজে দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহকে সিজদা করি। সেই আনুগত্যর নাম হচ্ছে সালাত। এবার আসুন, আমরা সালাতে আনুগত্য কিভাবে করবো? এখন আপনাদের কারো দুনিয়ার চিন্তা মাথায় নেই। আছে না-কি! কিন্তু দেখবেন আপনি যখন নামাজে দাঁড়ান দুনিয়ার সকল চিন্তা আপনার মধ্যে হাজির হয়। কি বলেন, সত্য না মিথ্যা? কেন হাজির হয়? কারণ আপনি তো সালাত পড়েন। আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করি, সালাত কি একটি বই যেটা আপনি পড়বেন? শুধু আশেকে রাসুল নয়, সারা বিশ্বের মুসলমান এখন সালাত পড়া শুরু করেছে। প্রথমে আপনাকে সালাত পড়া রেখে কায়েম করা শিখতে হবে। সালাত কিভাবে কায়েম করতে হয়? সালাত কায়েম করতে হয় সালাতের মধ্যে মোরাকাবা করে। আল্লাহর বন্ধু শাহ্ দেওয়ানবাগী (রহ.) আমাদের সালাতের নিয়ম দিয়েছেন। আল্লাহকে হাজির, নাজির, ওয়াহেদ জেনে সিজদা করা। তাহলে আমরা আল্লাহকে হাজির জানবো, নাজির জানবো তারপরে আল্লাহকে সিজদা করবো। তাহলে প্রত্যেক আশেকে রাসুল যখন সলাত আদায় করবেন, তিনি শুধু সালাত আদায় করেবেন না, চোখটা বন্ধ করে মোরাকাবায় নিমগ্ন হবেন; মোরাকাবায় নিমগ্ন হয়ে খেয়াল করবেন, আল্লাহ্ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, আমি আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান আছি।


ড. কুদরত এ খোদা বলেন, ঐ নামাজে মোরাকাবা আছে যে নামাজ আপনাকে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান করে। যেজন্যে আশেকে রাসুলদের নামাজ আর দুনিয়ার মানুষের নামাজের মধ্যে অনেক বড়ো একটি পার্থক্য আছে। আশেকে রাসুলের সালাতে আশেকে রাসুল আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হয় এবং আল্লাহর কাছে নিজের আনুগত্য স্বীকার করে। দুনিয়ার মানুষ সেই আনুগত্য স্বীকার করে বা করে না, দণ্ডায়মান হয় বা হয় না, তিনি আল্লাহকে খেয়াল করতে পারে না। কিন্তু আশেকে রাসুলের সালাত এরকম হবে না। আশেকে রাসুলের সালাত হবে আল্লাহকে হাজির, নাজির, ওয়াহেদ জেনে সিজদা করা। এজন্যে সালাতে মোরাকাবার বিকল্প নেই। এই পৃথিবীতে যত নবি-রাসুল এবং বেলায়েতের যুগে যত অলী-আল্লাহ এসেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই মানুষকে চরিত্রবান বানানোর জন্যই এসেছেন। তাঁরা এসেছেন মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে; আল্লাহর পথে ধাবিত করার জন্যে; চরিত্রবান বানানোর জন্যে। এখন আমরা যদি সেই চরিত্রবান না হয়ে, নিজেকে চরিত্রবান না বানিয়ে অপপ্রচার, ফেৎনাবাজি, নিজেকে জাহির করা, নিজের প্রশংসার দাবি করা এই কাজগুলো নিয়ে তরিকাতে থাকি তাহলে আমার মনে হয় ঐসকল আশেকে রাসুলদের তরিকায় সামিল না থাকা ভালো। আমার দেহে যতক্ষণ একফোঁটা রক্ত আছে আমি আল্লাহর বন্ধু শাহ্ দেওয়ানবাগীর আদর্শ থেকে সরবো না। যদি এতে আমার মৃত্যু হয়। আমি প্রস্তুত আছি। যেদিন আমার ডাক আসবে আমি আমার মালিকের সাথে মিলনের জন্য প্রস্তুত আছি এবং হাসি-মুখে যেতে রাজি আছি। কারণ দুনিয়ার মায়া টেনে আমার লাভ নেই। আমি জানি, এই ৬০/৭০ বছরের পরে আবার ঐ মালিকের সামনে আমাকে দন্ডায়মান হতে হবে; আমাকে আমার কৃতকর্ম এবং দায়িত্বের জবাব দিতে হবে। আমি আপনার কথা, দোয়া, ফেতনার ভয়ে আমার দায়িত্ব থেকে সরে যাবো, আল্লাহর কসম তা হবে না। সারা দুনিয়া যদি বিরোধিতা করে আমি শাহ্ দেওয়ানবাগীর আদর্শে কায়েম থাকবো।


ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা বলেন, আমি সার্থক সেদিন যেদিন আপনি চরিত্রবান হবেন; আমি সার্থক সেদিন যেদিন আমি আপনাকে আল্লাহকে পাওয়াতে পারবো; আমি সার্থক সেদিন যেদিন আপনি নিজের ভিতরে মালিকের নুরময় চেহারা মোবারকের প্রজ্বলিত নুর দেখতে পারবেন। আর যদি আমি সেটা না পারি আমার এই বক্তব্য, চেষ্টা, কষ্ট, এতো স্ট্রাগ্যাল সবকিছু বৃথা যাবে। আমার কাজ ভাষণ দেওয়া নয়; আমার কাজ নেতাগিরি করা নয়। আমার কাজ আপনাকে আল্লাহকে পাওয়ানো, ইমানদার বানানো। আমি আপনাকে আল্লাহর পথে আহ্বান করছি; আমি আপনাকে রাসুলের পথে আহ্বান করছি; আমি আপনাকে শাহ্ দেওয়ানবাগীর পথে আহ্বান করছি। আসুন না, আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আল্লাহ্ ও রাসুলের পথে নিজেকে ধাবিত করি। সেই পথে চলি যেই পথে আল্লাহ এবং রাসুলের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।


ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা বলেন, আজকে আমরা দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো, যথা- কালেমা এবং নামাজে মোরাকাবার গুরুত্ব। আশেকে রাসুলেরা আমার কথা শুনে এখন নামাজ আদায় করছেন। যেহেতু নামাজ আদায় করছেন, মোরাকাবা করতে দোষ আছে? আমি কি প্রথম দিন নামাজে বসেই আল্লাহকে দেখবো? পারবো না, আমি জানি। এই গোলামকে ভালোবেসে একটু কি চেষ্টা করা যায়? একটু চোখ বন্ধ করে আল্লাহকে হাজির, নাজির করে আমি দেখছি না অন্ধকার দেখছি; অসুবিধা নেই, আল্লাহ্ তো আমাকে দেখছে। এভাবে একটু নামাজ আদায় করা যায়? আজকে থেকে একটু চেষ্টা করুন, এই গোলামকে একটু সুযোগ দিন। আমি জানি কোন পথে আপনার ঐ অন্ধকার কবরকে আলোকিত করা যায়। আমি আপনাকে অন্ধকার কবরে একা ছাড়তে চাই না। আমাকে একটু সুযোগ দিন আমি যাতে আপনাকে আলোকিত করে দিতে পারি। আমাকে একটু সুযোগ দিন আমি গোলাম যাতে আপনার ঐ অন্ধকারের ভয়কে দূর করতে পারি। আমি যাতে দুনিয়ায় বসে মালিকের সম্মান, মালিকের ইজ্জত, মালিকের নুর আপনার ভিতরে ধারণ করাতে পারি এই গোলামকে একটু সুযোগ দিন এই কামনাই করি। মহান মালিকের কাছে সকল আশেকে রাসুলদের জন্য দয়া চাই, তিনি যেন দয়া করেন এবং আমাদের সুযোগ দেন আমরা যাতে সবাই মিলে সৎ চরিত্রবান আশেকে রাসুল সারাবিশ্বে তৈরি করতে পারি এবং আমরা যাতে চরিত্রবান হয়ে আল্লাহ ও রাসুলের পথে ধাবিত হতে পারি। আজকে থেকে যারা সালাত আদায় করবেন, আল্লাহকে হাজির, নাজির করে সালাত আদায় করতে চেষ্টা করবেন এই কামনা করে আমি আমার আলোচনা শেষ করছি।
পরিশেষে মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্বপ্রদানকারী মহামানব, ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা (মা. আ.) হুজুর তাঁর বাণী মোবারক প্রদান শেষে আখেরি মোনাজাত প্রদান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here