সর্বকালের নারীদের জন্য বিশ্বনবি (সা.)-এর অনন্য বাণী

0
146

নারী ডেস্ক: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : ‘নর হোক অথবা নারী- যে কেউ সৎকর্ম করে এবং সে বিশ্বাসী হয়, আমরা তাকে পবিত্র (অনাবিল) জীবন দান করব এবং অবশ্যই আমরা তাদেরকে তারা যে উত্তম কর্ম সম্পাদন করত তদনুযায়ী প্রতিদান দেব।’ (সূরা নাহল ১৬ : আয়াত ৯৭)

যখন সমাজ নারী হওয়াকে বিব্রতকর মনে করত এবং নারীর প্রতি ঘৃণা এমন এক পর্যায়ে ছিল যে, তারা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিত, সেই পরিবেশে ইসলাম কন্যা সন্তানের মর্যাদাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে এবং তাকে ‘রায়হানা’ নামে পরিচিত করিয়েছে- যার অর্থ গোলাপ কলি। মহানবি (সা.)-এর অন্যতম উপহার হলো নারীর ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন। এ প্রসঙ্গে মহানবি (সা.)-এর নিকট  হতে কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করা হলো :

কন্যা সন্তানরা আশীর্বাদস্বরূপ এবং সুন্দর।

তোমাদের সবচেয়ে উত্তম সন্তানরা হলো তোমাদের কন্যা সন্তান।

কোনো নারীর সৌভাগ্যের একটি নিদর্শন হলো তার প্রথম সন্তান কন্যা হওয়া। কন্যা সন্তান হলো সেই কন্যা যে দয়ালু, সাহায্যকারী, বন্ধুভাবাপন্ন, সৌভাগ্যবান এবং দুঃখ-কষ্ট দূরকারী।

যেসব পিতামাতার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে তাদের জন্য আল্লাহর সাহায্য, আশীর্বাদ ও অনুগ্রহ রয়েছে।

যখন মহানবি (সা.)-কে কোনো কন্যা সন্তানের জন্ম গ্রহণের সংবাদ দেওয়া হতো তখন তিনি বলতেন : ‘সে একটি ফুল, যাকে আল্লাহ রিজিক দেন।’

পুরুষের সঙ্গে নারীদেরও জ্ঞান অর্জনে উৎসাহ দিয়েছেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ব্যক্তির চারটি বিষয়ের প্রতি অবশ্যই অনুগত থাকতে হবে: জ্ঞান অর্জন, একে সংরক্ষণ, এর প্রচার প্রসার ও তা অনুশীলন করা।’

‘সকল পাত্রই ধারণক্ষমতা হারায় যখন সেটার মধ্যে কিছু রাখা হয়, কেবল জ্ঞানের পাত্র ছাড়া, যখন এতে কিছু যোগ করা হয় তখন তা আরো ধারণক্ষমতা অর্জন করে।’

মহানবি (সা.) বলেন : ‘আনসার নারীরা উত্তম। লজ্জাশীলতা তাদেরকে ধর্মের ব্যাপারে জ্ঞান অর্জনে বাধা দেয় না।’

একদিন মহানবি (সা.)-এর দুধ বোন তাঁর কাছে এলেন। যখন তিনি তাঁকে দেখলেন তখন আনন্দিত হলেন এবং একটি চাদর বিছিয়ে দিয়ে তাঁকে সেটার ওপর বসালেন। এরপর তিনি তাঁর দিকে ফিরে তাঁর সাথে কথা বললেন ও স্মিত হাসলেন। সেই বোনটি তাঁর নিকট থেকে চলে যাওয়ার পর তাঁর ভাই সেখানে আসলেন। কিন্তু মহানবি (সা.) তাঁর বোনের সাথে যেরূপ আচরণ করেছিলেন, তাঁর ভাইয়ের সাথে সেরূপ আচরণ করলেন না। সাহাবিগণ তাঁকে এই আচরণগত পার্থক্যের কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তিনি জবাব দিলেন : ‘কারণ, সে তার ভাইয়ের চেয়ে তার পিতামাতার প্রতি অধিকতর দয়ালু।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here