সাধারণ মানুষই অর্থনীতি চালায় ধনীরা নয়

0
149
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ।

দেওয়ানবাগ ডেস্ক: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দরিদ্র মানুষজনের হাতে এখন অর্থ নেই। সেজন্য তাদের ক্রয়ক্ষমতা একেবারেই দুর্বল। এসব সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছানো উচিত সরকারের। কারণ তারাই অর্থনীতি চালায়, ধনীরা নয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টিভি চ্যানেল ‘এবিপি আনন্দ’-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এ তার ভাষ্য প্রকাশও করা হয়।

ভারতের এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, তিন থেকে ছয় মাসে ধাপে ধাপে গরিব মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছানো উচিত। আর তারা যদি ওই অর্থ ব্যয় না-ও করে, সেটি কোনো সমস্যা নয়। অভিজিৎ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত এরই মধ্যে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন রুপি বা ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুপির ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তা কিন্তু মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশেরও কম। আমাদের ত্রাণ সহায়তায় জিডিপির অনুপাতে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা উচিত।’ অভিজিৎ বলেন, ‘ভারতে মানুষের প্রধান সমস্যা হলো তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেশি নয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো দেশগুলো ত্রাণ সহায়তায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তা জিডিপির অনুপাতে অনেক ভালো।’

২০১৯ সালে স্ত্রী এস্থার দুফলোর সঙ্গে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে বিনিয়োগ-ব্যবসায় স্থানান্তর শুরু হবে। তবে এই সুযোগ ভারত নিতে পারে কিনা, সেটি আমি নিশ্চিত নই।’

অভিজিৎ করোনা মোকাবিলায় একটি রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের গঠিত বৈশ্বিক উপদেষ্টা পর্ষদেরও একজন সদস্য। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে চীন থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া শুরু হলে ভারত সেই সুযোগ নিতে পারে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘চীন থেকে করোনা ভাইরাস শুরু হয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেই দেশের বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগ তুলছেন। মানুষ বলছেন, চীন থেকে ব্যবসায় স্থানান্তর শুরু হলে তা ভারতে আসতে পারে। কিন্তু এই ধারণা সত্য নয়।’ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে অভিজিতের যুক্তি হলো, ‘চীন তার মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময় হার কমায় কিনা, সেটিও একটি বিবেচ্য। ইউয়ানের বিনিময় হার কমানো হলে চীনা পণ্যে দাম কম পড়বে। তখন মানুষ সস্তায় চীনা পণ্য কিনবে।’

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের (এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে যারা কাজ করেন) দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘তারা কী রকম সমস্যার মুখে পড়তে পারেন, তা আমরা চিন্তা করিনি। তাদের কোনো আশ্রয় নেই, পকেটও পুরো খালি। এই অবস্থায় তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তিন কি ছয় মাসের রেশন কার্ড চালু করা উচিত।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here