সুফিবাদ বিজ্ঞান নয়, মহাবিজ্ঞান

9
1113

আ. রা. মাসুদ করিম
শাব্দিক অর্থে, বিজ্ঞান বলতে সাধনালব্ধ বিশেষ জ্ঞানকে বুঝায়। বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জে. আর্থার থমসন বিজ্ঞানকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, ‘‘অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ভাণ্ডার যা সহজ ও জোড়ালোভাবে উপস্থাপিত, পর্যবেক্ষিত এবং যা গোছালোভাবে ও সূত্রবদ্ধভাবে উপস্থাপিত হয়।’’

বিজ্ঞানকে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা যায়- প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করা এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক খুঁজে বের করে সাজিয়ে সুশৃঙ্খল উপস্থাপনই হলো বিজ্ঞান। এর পরিসমাপ্তি হলো- এর সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রয়োজনীয় যুক্তিগুলোকে প্রযুক্তিতে পরিণত করে মানব কল্যাণে ব্যবহারযোগ্য করা। এ হিসেবে সুফিবাদ শুধু বিজ্ঞানই নয়, সুফিবাদ হলো সৃষ্টির আদিমতম বিজ্ঞান। মহামানবগণের সাধনালব্ধ মহাজাগতিক জ্ঞান সুফিবাদ, যা যুগে যুগে পথহারা মানুষকে পথের সন্ধান দিয়েছে। সুফিবাদের উৎপত্তি মানবজাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর সময় থেকে। মহান আল্লাহ্ হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর ফেরেশতাদের সামনে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে যে বিশেষ জ্ঞান দান করেছিলেন, যে জ্ঞানের দ্বারা হযরত আদম (আ.) বিভিন্ন বস্তুর নাম বলে দিয়ে ফেরেশতাদের সামনে শ্রেষ্ঠ প্রমাণিত হয়েছেন, তা ছিল সুফিবাদের জ্ঞান। সুফিবাদের জ্ঞানের কারণেই সমস্ত ফেরেশতারা হযরত আদম (আ.)-কে সেজদা করেছিলেন।

আল্লাহ্ তায়ালা হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার পরে তাঁকে যে বিশেষ জ্ঞান দান করেছিলেন এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘‘ওয়া আল্লামা আদামা আছমাআ কুল্লাহা ছুম্মা আরাদাহুম আলাল মালাইকা’’ অর্থাৎ-‘‘আর তিনি (আল্লাহ্) আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তৎপর সে সমুদয় ফেরেশতাদের সামনে প্রকাশ করলেন।’’ যে বিশেষ জ্ঞান লাভ করে হযরত আদম (আ.) আল্লাহর প্রতিনিধির মর্যাদা লাভ করেছিলেন; অতঃপর ফেরেস্তারা তাঁকে সেজদা করেছিল- সেই বিশেষ জ্ঞানকেই তাসাউফ বা সুফিবাদ বলে।

যে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করলে বান্দা আল্লাহর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, তাঁর পরিচয় লাভ করতে পারে, তাঁর সংবাদ পেতে পারে, মহান প্রভুর অস্তিত্ব বাস্তব জীবনে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়, তাঁর প্রতিনিধির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারে, তাই এলমে তাসাউফ বা সুফিবাদ। হযরত আদম (আ.)-এর বাহ্যিক অবকাঠামো তৈরীর পর তার মধ্যে প্রাণের সঞ্চার ঘটালেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘‘নাফাকতু ফিহি মির রূহি।’’ অর্থাৎ- আমার (আল্লাহর) রূহ থেকে রূহ্ তোমার (আদমের) ভিতরে ফুঁকে দিলাম। মহান রাব্বুল আলামিনের সত্তা হযরত আদম (আ.)-এর ভিতরে প্রবেশের সাথে সাথে তিনি হয়ে উঠলেন প্রাণ সঞ্জীবিত পৃথিবীর প্রথম মানব এবং আল্লাহর প্রতিনিধি। আল্লাহর সত্তা ধারণের সঙ্গে সঙ্গে হযরত আদম (আ.) হলেন আল্লাহর জ্ঞানে জ্ঞানী। প্রকৃতপক্ষে মহান মালিক তাঁর প্রতিনিধির ভিতরে প্রবেশ করেই ফেরেশতাদের হুকুম করলেন- ‘উছজুদুলি আদামা’। অর্থাৎ- হে ফেরেশতারা! তোমরা আদমকে সেজদা করো। মহাসত্তা ধারণকারী হযরত আদম (আ.)-কে সমস্ত ফেরেশতা সেজদা করেছিলেন। একমাত্র ফেরেশতাদের নেতা আল্লাহর অবাধ্য হয়ে হযরত আদম (আ.)-কে সেজদা করেনি। পরবর্তীতে সে আল্লাহর অভিশাপে শয়তানে পরিণত হয়েছিল।
সুফিবাদ সম্পর্কে হযরত ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, ‘‘আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করে সর্বপ্রকার বাতিল ধ্যান-ধারণা হতে মনকে মুক্ত করে নিষ্ঠার সাথে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর প্রেম অর্জন করাকে সুফিবাদ বলে।’’
হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহ.) বলেন, ‘‘সুফিবাদ হলো পবিত্রতার জন্য মনোনীত হওয়া এবং হওয়ার পর অন্তর হতে গায়রুল্লাহর (আল্লাহ্ ভিন্ন যাবতীয় বস্তু) প্রভাবমুক্ত হওয়া।’’

হযরত যাকারীয়া আনসারী (রহ.) বলেন, ‘‘ সুফিবাদ মানুষের আত্মা বিশোধনের শিক্ষা দেয়, আর নৈতিক চরিত্রকে উন্নত করে এবং স্থায়ী নিয়ামতের অধিকারী করার উদ্দেশ্যে মানুষের ভেতর ও বাইরের জীবনকে উন্নততর করে গড়ে তোলে। এর বিষয়বস্তু হলো-চিরন্তন সুখ-শান্তি অর্জন।’’

মহান সংস্কারক, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান সুফিবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘যে মহাবিজ্ঞান স্রষ্টার সাথে সৃষ্টিকে, স্রষ্টার সাথে বান্দাকে যোগাযোগ করে দেওয়ার কৌশল শিক্ষা দেয় এবং আল্লাহর অস্তিত্ব নিজের হৃদয়ে বাস্তবায়িত করার শিক্ষা দেয়, তা-ই তাসাউফ বা সুফিবাদ।’’ সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান বলেন, ‘‘সুফিবাদের বিদ্যা চর্চা করলে আত্মার সাথে যোগাযোগ করা যায়, আত্মার পরিচয় জানা যায়, আত্মার সাথে কথা বলা যায়, আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যায়, আল্লাহর রহমতের নীচে আশ্রয় লাভ করা যায়, আল্লাহর অভিভাবকত্বে থাকা যায়। তিনি আরো বলেন- ‘‘এলমে তাসাউফ সাধনা ও রিয়াজতের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিনিধির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়া যায়, আল্লাহর অস্তিত্ব বাস্তবে উপলব্ধি করা যায়, অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্বন্ধে জানা যায়।”
আদি পিতা হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে বিশ্ব নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত এ পৃথিবীতে যত নবি-রাসুল, অলী-আল্লাহ্গন আগমন করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই এ বিশেষ জ্ঞান তথা তাসাউফের বিদ্যায় বিদ্বান ছিলেন। তাঁরা সেই বিশেষ জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিনিধিগণকে এক বিশেষ শক্তি দান করেন। নবুয়্যতের যুগে সেই শক্তিকে মোজেজা এবং বেলায়েতের যুগে অলৌকিক কারামত বলা হয়।

সুফিবাদের সাধনার মাধ্যমে অলৌকিক শক্তির অধিকারী হয়েছিলেন বলেই হযরত দাউদ (আ.) পশু-পাখির ভাষা বুঝতেন; হযরত সোলায়মান (আ.) তক্তে চড়ে আকাশে উড়ে বেড়াতেন; হযরত মুসা (আ.)-এর হাতের লাঠি ছেড়ে দিলে সাপ হয়ে যেতো; হযরত নূহ্ (আ.) আল্লাহর কাছ তেকে সরাসরি নির্দেশ লাভ করেছিলেন; হযরত ইব্রাহীম (আ.) অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েও অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেয়েছিলেন; হযরত ঈসা (আ.) মৃতকে জীবিত করেছেন, হযরত লোকমান (আ.) গাছের ভাষা বুঝতেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ হযরত মুহাম্মদ (সা.) অন্ধকার যুগে আরবজাতিকে আলোর পথ দেখিয়ে সুসভ্য ও সমৃদ্ধশালী জাতিতে পরিণত করেছিলেন; তিনি শাহাদাৎ অঙ্গুলী মোবারকের ইশারায় চাঁদকে দ্বি-খণ্ডিত করেছিলেন।

সুফিবাদ তথা এলমে তাসাউফের জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন বলেই হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু খামিস দুর্গের সাড়ে আটশত মণ ওজনের ফটককে ঢাল বানিয়ে হাতে নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন; হযরত ওমর ফারুক (রা.) মসজিদে নববীতে খুৎবারত অবস্থায় সাড়ে নয়শত মাইল দূরে সেনাপতি সারিয়াকে নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, “ইয়া সারিয়া-আল-জাবাল, আল-জাবাল।” অর্থাৎ-“হে সারিয়া! পাহাড়! পাহাড়!” সেনাপতির মাধ্যমে নীল নদের বুকে চিরকুট দিয়ে পানি প্রবাহ বইয়ে ছিলেন।

সুফিবাদের সাধনার ফলশ্রুতিতেই বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) বারে বছর পূর্বে নৌকা ডুবে নদীতে মৃত্যুবরণকারী বরযাত্রীসহ বর-বধুকে জীবিত করেছিলেন; হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) এক ঘটি পানি তুলে ‘আনাসাগর’ শুকিয়ে দিয়েছিলেন; হযরত মুজাদেদ্দ আল-ফেসানী (রহ.) বাদশাহ আকবরের দীন-এ-ইলাহীকে তছনছ করে দিয়েছিলেন; হযরত শাহ্‌ জালাল (রহ.) জায়নামাজ বিছিয়ে সুরমা নদী পাড়ি দিয়েছিলেন; ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.) ফাঁসির আসামীকে খালাস দিয়েছিলেন; মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানাগী হুজুর কেবলাজান অন্ধের চোখের জ্যোতি ফিরিয়ে দিয়েছেন, বোবার জবান খুলে দিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করেছেন; চন্দ্রপৃষ্ঠে তাঁর প্রতিচ্ছবিসহ অসংখ্য অলৌকিক ঘটনা সংঘটিত করেছেন।

নবি-রাসুলগণ ও আওলিয়ায়ে কেরাম সুফিবাদের জ্ঞানের আলোতে উদ্ভাসিত বিধায় মহামানবগণের নিকট সময়, দূরত্ব বা গতি বলে কিছু নেই। তাঁরা সাধনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার সাথে বিলীন হয়ে যান। এমনকি নিজেদের দেহকে সৃষ্টি উপাদানে বিভক্ত করে আলাদাভাবে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পারেন। প্রখ্যাত সুফি হযরত রাবেয়া বসরি (রহ.) এভাবেই নিজেকে অদৃশ্য করে হযরত হাসান বসরি (রহ.)-এর কাছ থেকে লুকিয়েছিলেন। তাঁরা মুহুর্তের মধ্যেই সৃষ্টিজগতের যে কোনো স্থানে যেতে সক্ষম। আমরা দেখতে পাই, আলোর গতি জাগতিক সকল বস্তুর চয়ে বেশি হলেও এর একটি পরিসীমা রয়েছে। এর বেশি অতিক্রম করা সম্ভব হয়না। করণ, মহাকাশ গবেষকরা দেখেছেন, এমন অনেক নক্ষত্র রয়েছে যার আলো এতো দ্রুতগতিতে চললেও এখনও আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌছতে পারেনি। তবে ক্বালবের বিদ্যাচর্চার মাধ্যমে শুধু এই পরিসীমাই নয়, স্থান, কাল, সময় সবকিছুই অতিক্রম করা সম্ভব।

অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ অর্থাৎ- স্থান ও কালের বিষয়টি সুফিবাদের বিজ্ঞান জগতে অচল। সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.) মেরাজে গমনের মাধ্যমে গতির বিষয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত রেখেছেন। তিনি মেরাজে ২৭ বছর অতিক্রম করেন এবং সমগ্র সৃষ্টিজগত পরিভ্রমণ করেন। পবিত্র কুর’আনে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তিনি জাগতিক দেহ নিয়ে মেরাজে পরিভ্রমণ করেছেন। অথচ তিনি ফিরে এসে দেখতে পান, তার ওজুর পানি তখনো গড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি পৃথিবীর সময়ের হিসাবে অতি অল্প সময়ে (পৃথিবীর সময় অনুযায়ী) সমগ্র সৃষ্টিজগত ভ্রমণ করে মহান রাব্বুল আলামিনের সাথে সাক্ষাত লাভ করে ফিরে এসেছিলেন। এর মধ্যে ২৭ বছর তিনি অতিক্রম করে এসেছেন। সুতরাং সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান এলমে তাসাউফ নিজেকে ও সৃষ্টিজগতকে চিনার বিজ্ঞান। এই পথে ধাপগুলো অতিক্রম করলে সময় ও দুরত্বকে জয় করে গতির জগত তেকে বেড়িয়ে অসীম জগতে পা রাখা সম্ভব। আর তাই সাধকের নিকট সমগ্র সৃষ্টি জগতের কোনো কিছুই আর অজানা থাকে না। সুতরাং এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে- সুফিবাদ শুধু বিজ্ঞানই নয়, ‘মহাবিজ্ঞান’।

এলমে তাসাউফ বা সুফিবাদে সাধনার একটি স্তর হলো ছায়ের বা পরিভ্রমণ। এই ছায়ের বা পরিভ্রমণ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত যেমন- ‘ছায়েরে আনফুছি ছায়ের’ অর্থাৎ- ‘সমস্ত আত্মিক জগৎ পরিভ্রমণ’, ‘ছায়েরে আফাকিয়ার ছায়ের’ অর্থাৎ- ‘সমস্ত মহাশুন্য পরিভ্রমণ’ ইত্যাদি। এই পরিভ্রমণের মাধ্যমে সুফিবাদের সাধনায় মাকামে উত্তীর্ণ মহামানবগণ মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে চলে যেতে সক্ষম। মহামানবগণ একই সাথে রূহানি শক্তির দ্বারা জাগতিক দেহ নিয়ে একাধিক স্থানে উপস্থিত হতে সক্ষম হন। বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) একই সাথে অনেক ভক্তদের বাড়িতে ইফতার করেছিলেন। কিন্তু এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে তারা এর সমাধানের জন্য হযরত আবুদল কাদের জিলানি (রহ.) এর শরণাপন্ন হলে তিনি বললেন, এ বিষয়ে তোমাদের কি সন্দেহ হয়? তাহলে ঐ গাছের দিকে তাকাও। বিতর্কে জড়ানো ব্যক্তিরা গাছের দিকে তাকালে দেখতে পায় গাছের প্রতিটি পাতায় পাতায় হযরত আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) বসে আছেন।
ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (রহ.)-এর ভক্ত মাঠে কর্মরত অবস্থায় মোর্শেদের দোহাই দিয়ে আকাশের উড়ন্ত পাখির ঝাঁক জমিতে নামিয়ে আনেন। পাখির ঝাঁক জমিনে নামার পর মাঠে কর্মরত উপস্থিত সবাই প্রত্যেক পাখির সামনে ইমাম হুজুরকে দেখতে পান।

মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট প্রতিদিন একই সাথে একই সময়ে লক্ষ লক্ষ আশেকদের সামনে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। আর তা সম্ভব হচ্ছে- সুফিবাদ নামক মহাবিজ্ঞানের মাধ্যমেই। আজকের বিজ্ঞানের এ চরম উন্নতির যুগেও মানুষ শান্তির অন্বেষায় ব্যাকুল। জড় জগতের কোনো বস্তু হয়তো মানুষকে সাময়িক তৃপ্তি দিতে সক্ষম কিন্তু আত্মিক শান্তি দিতে পারে না। কারণ মানুষ যেহেতু আত্মিক জগৎ তথা রূহানি জগত থেকে এসেছে, সেহেতু শান্তি পেতে হলে জড় জগত অতিক্রম করে আত্মিক জগত তথা অন্তরজগতে প্রবেশ করেই শান্তি লাভ করতে হবে। আর তা সম্ভব কেবলমাত্র আল্লাহর প্রতিনিধি তথা অলী-আল্লাহর সংস্পর্শ লাভ করে, তাঁর নির্দেশানুয়ায়ী সুফিবাদ সাধনার মাধ্যমে। জড় জগতের কোনো বিজ্ঞানই মানুষকে আল্লাহময় জগতে প্রবেশের দিক নির্দেশনা দিতে পারে না।

বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা যেমন-পদার্থ বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান, সমস্ত বিজ্ঞানের একটি নির্দিষ্ট গন্ডী বা সীমানা রয়েছে। প্রতিটি বিজ্ঞানই নিজস্ব সীমারেখা অতিক্রম করে কোনো বিষয়ে ফলপ্রসূ কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। কিন্তু সুফিবাদ এমনি একটি বিজ্ঞান, যার নির্দিষ্ট কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। সকল বিজ্ঞানের সমষ্টি হলো সুফিবাদের জ্ঞান। সুফিবাদের জ্ঞানের মাধ্যমে মুহুর্তের মধ্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত এমনকি পৃথিবীর বাইরের অন্য কোনো গ্রহের খবর নেওয়া সম্ভব। সুফিবাদ এমন এক বিজ্ঞান, যা সাধনা ও চর্চার মাধ্যমে মৃত অথবা জীবিত সকল মানুষের আত্মিক খবরও নেওয়া সম্ভব। সুফিবাদ ছাড়া বিজ্ঞানের সকল শাখা-প্রশাখা এ বিষয়ে একেবারেই নিষ্ফল।

মহান রাব্বুল আলামিনের মানব সৃষ্টি কৌশল, নবি-রাসুল ও অলি-আল্লাহগণের সাধনালদ্ধ আবিষ্কার, সব ধরনের সাধকের সাধনা পদ্ধতি ও তাঁর অর্জনই ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে একথা যথার্থই প্রমাণিত হয় যে, সুফিবাদ শুধ বিজ্ঞানই নয়, ‘মহাবিজ্ঞান’। আর সুফিবাদের জ্ঞানে যারা মহাজ্ঞানী তাঁরা শুধু বিজ্ঞানীই নন ‘মহাবৈজ্ঞানিক’। সুতরাং বিজ্ঞানের আশির্বাদ কিংবা বিজ্ঞানীর স্পর্শে নয়, বরং সুফিবাদের জ্ঞানের অধিকারী মাহবিজ্ঞানীর পরশে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে মহাবিশ্বকে শান্তিময় করে গড়ে তোলা সম্ভব।

পরিশেষে মহান রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে ফরিয়াদ! তিনি যেন দয়া করে আমাদেরকে সুফিবাদের মহা বৈজ্ঞানিকদের সংস্পর্শ লাভের মাধ্যমে জাগতিক জ্ঞান লাভের পাশাপাশি মহান আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর নৈকট্য লাভ করার সুযোগ করে দেন। আমিন।

9 COMMENTS

  1. এই পত্রিকা অনলাইনে পেয়ে আমরা অনেক খুশি হইছি এবং আমরা ধন্যবাদ জানাই যারা অন্তত পরিসরমের মাধ্যমে অনলাইনে সবার মাজে পৌঁছে দিয়েছেন সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ নামের পত্রিকাটি এবং পরার সুযোগ করে দিয়েছেন

  2. এই পত্রিকা অনলাইনে পেয়ে আমরা অনেক খুশি হইছি এবং আমরা ধন্যবাদ জানাই যারা অন্তত পরিসরমের মাধ্যমে অনলাইনে সবার মাজে পৌঁছে দিয়েছেন সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ নামের পত্রিকাটি এবং পরার সুযোগ করে দিয়েছেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here