সুবিধাবঞ্চিত দেড় শতাধিক শিশুর জন্য দুপুরের খাবার

0
23

নাটোর সংবাদদাতা: ‘আমার বাবার কিডনি সমস্যা। আমার মা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করে, অনেক কষ্ট হইত যহন দেখতাম, আমার লগের সকলে স্কুলে যাইত, আমি যাইতে পারতাম না। কিন্তু এই স্বপ্নকলির স্যারেরা আমারে মাগ্না (বেতন ছাড়া) পড়ায়। স্যার-ম্যাডামেরা অনেক ভালো।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখ ভিজে আসছিল ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া তুহিনের। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ শুভসংঘের আয়োজনে নাটোর জেলার স্বপ্নকলি স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।


আয়োজনে উপস্থিত থেকে শুভসংঘ পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, ‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে যখন আসি তখন নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। এখানে দেড় শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু আছে, যাদের প্রত্যেকের জীবনের গল্পটা একেক রকম। আমি বিত্তবানদের কাছে আহবান জানাব, আপনারা এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুর পাশে দাঁড়াবেন, তাদের শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবেন। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারাই হবে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শুভসংঘ সদস্য তাকবীর হোসাইন মান্না, শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, রাফি, শাহীন শেখ, নাটোর জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত, বর্ণা খাতুন, মো. সোহেল রানা, বর্ষা খাতুন, স্বপ্নকলি স্কুলের শিক্ষক সুস্ময় দাস তনয়, আসলাম আলী সরদার, মো. সাজিদুল ইসলাম, রাশিদা খাতুন, শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।


অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে এই বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমাইয়া বলেন, ‘আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই, আপনাদের মতো করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমাদের লাইগ্যা আপনারা দোয়া করবেন।’ স্বপ্নকলি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত বলেন, ‘আমাদের এই স্কুলে প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যাদের আমরা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে বই, খাতা, কলম সরবরাহ করি এবং বিনা বেতনে পাঠদান প্রদান করে থাকি। বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। শুভসংঘের মতো সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষ যদি এই অসহায় শিশুদের পাশে এসে দাঁড়াতেন তাহলে আমাদের দেশে সুবিধাবঞ্চিত শিশু বলে কিছু থাকত না।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here