সূফী সম্রাটের দেশব্যাপী মানবিক সহায়তা

4
236
সমগ্র বাংলাদেশে সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলার পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত।

প্রবাদ আছে- মানুষ মানুষের জন্য। মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ব্যবধান ও বৈষম্য। আমরা যদিও বলে থাকি, সকল মানুষ সমান। কিন্তু বাস্তবে দেখি এর বিপরীত চিত্র। আমাদের বাংলাদেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে গরিব-ধনী সকলে সমান হলেও অন্য কোনো ক্ষেত্রে এই সমতা লক্ষ্য করা যায় না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একজন শিক্ষক অন্য একজন ছাত্রকে শিক্ষা দেন। ফলে ঐ ছাত্র শিক্ষককে সম্মান করে থাকে। অনুরূপভাবে, একজন গরিব লোক একজন ধনী লোকের বাড়ীতে অথবা অফিসে কাজ করে। আর সে কারণেই ঐ ধনী লোকটি গরিব লোকটির কাছ থেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা পেয়ে থাকেন। তবে হ্যাঁ, ইসলামের বিধান মোতাবেক কোনো গরিব লোককে অর্থ সম্পদ নেই বলে অসম্মান ও অমর্যাদা করা যাবে না। কারণ আল্লাহর সৃষ্টি মানুষ হিসেবে তাকে মূল্যায়ন করতে হবে। শুধু তাই নয়, বয়সে বড়ো হলে একজন গরিব লোকও ধনী ব্যক্তির কাছে সম্মানের অধিকারী। আমাদের প্রিয় নবি হযরত রাসুল (সা.) এই শিক্ষাই তাঁর অনুসারীদেরকে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- ‘‘যে বড়োকে শ্রদ্ধা ও ছোটোকে স্নেহ করে না, সে আমার উম্মত নয়।’’ গরিব ও ধনী আল্লাহরই সৃষ্টি। ধন-সম্পদের মালিক হয়েও আত্মঅহংকারী হওয়াকে আল্লাহ্ দারূনভাবে অপছন্দ করেন। হযরত রাসুল (সা.) যেমন মানুষের মধ্যে বৈষম্য দূরিভূত করার শিক্ষা দিয়েছেন, অনুরূপভাবে রাসুল (সা.)-এর পরবর্তী বেলায়েত বা বন্ধুত্বের যুগেও তাঁর সিরাজাম মুনিরার ধারক ও বাহক অলী-আল্লাহ্গণও ধনী-দরিদ্র ব্যক্তিদের আলাদাভাবে দেখেন না। তাঁরা মানুষকে বিচার করেন তাদের আচরণ ও কর্ম দিয়ে। হযরত রাসুল (সা.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানও মানুষকে ধন-সম্পদ দিয়ে বিচার করেন না। তিনি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মানুষকেই সমান চোখে দেখেন। তার প্রমাণস্বরূপ সকল শ্রেণীর মানুষকেই তিনি আল্লাহ্ ও রাসুলের পরিচয় লাভের জন্য ক্বালবে আল্লাহর জ্বিকির জারি করে দিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয়, যে কেনো মানুষ বিপদে পড়ে তাঁর কাছে সাহায্য চাইলে, তিনি তাঁকে সাহায্য করেন এবং বালা মুছিবত দূর করে দেন। এক্ষেত্রে কে ধনী আর কে দরিদ্র, তিনি তা বিচার করেন না। আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান স্পষ্ট করেই বলে থাকেন- আল্লাহ্ তায়ালা ইবাদত বন্দেগি দিয়ে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের বিচার করেন না, মানব প্রেমই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আল্লাহর প্রিয় হাবিব হযরত রাসুল (সা.) বলেছেন- ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মানুষের ধন-সম্পদ ও চেহারা সুরত দেখেন না, তিনি দেখেন মানুষের নিয়ত ও নেক আমল।” আল্লাহর প্রিয় নবি হযরত মোহাম্মদ (সা.) তাঁর লঙ্গরখানায় সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ লোককে প্রতিদিন খাওয়াতেন। হযরত রাসুল (সা.)-এর উত্তরসূরী সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানও প্রতিদিন তাঁর দরবার শরীফে সহস্রাধিক লোকের খাদ্যের ব্যবস্থা করে থাকেন। এতটুকুই শেষ নয়, যখনই দেশে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসে, আর মানুষ অর্থ ও খাদ্যাভাবে দারুন কষ্ট পায়, আল্লাহর মহান বন্ধু, সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান তখন আর নীরবে বসে থাকতে পারেন না। তিনি অসহায় মানুষকে খাদ্য ও অর্থসহ নানান ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করে থাকেন। তিনি নিজে যেমন সারা বাংলাদেশে তাঁর অসহায় গরিব ভক্তদেরকে ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকেন। অপরদিকে দেশের অন্যান্য গরিবদেরকেও তিনি মুক্ত হস্তে ত্রাণ সাহায্য করে থাকেন। হাদিস শরীফে আছে- ‘‘আল খালকু আয়ালুল্লাহ।” অর্থাৎ সকল সৃষ্টিই আল্লাহর পরিবার। তাই আল্লাহ্র মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান আল্লাহর সৃষ্টি মানুষের প্রতি অতীব দরদী হিসেবে তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে নিজে উপস্থিত হয়েছেন এবং স্বহস্তে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ১৯৮৮ সাল এবং ১৯৯৮ সালের দুটি বন্যার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। তখন সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান সারা বাংলাদেশে ত্রাণ সামগ্রী নিজের পক্ষ থেকে যেমন বিতরণ করেছেন, অপরদিকে তাঁর ধনশালী ভক্তদেরকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মহান মোর্শেদের নির্দেশ পেয়ে সূফী সম্রাটের ধনশালী ভক্তবৃন্দ নগদ অর্থ ও বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেছেন। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান নিজে ট্রলারে তাঁর সাহেবজাদাগণকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজ হাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। সেসময়ে মানুষের মুখে মুখে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের প্রশংসা শুনা গেছে। তারা বলেছেন- দেওয়ানবাগী হুজুর একজন মহান অলী-আল্লাহ্ হয়েও নিজে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। সাম্প্রতিককালে করোনা ভাইরাস নামক যে মারাত্মক ব্যাধি বিশ্বের ২১০টি দেশের মানুষকে চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করতে বাধ্য করেছে, গোটা বিশ্বের রাজা, বাদশাহ ও প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। সেই করুন ও ভয়াবহ মুহূর্তে আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আপনারা নামাজের পরে তরিকার ওয়াজিফা পালন করে পরিবারের লোকজন নিয়ে সকাল-বিকাল দুবার হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরূদ, সালাম ও মিলাদ শরীফ পাঠ করবেন। সেই সাথে এই চরম বিপদের জন্য আল্লাহর কাছে একটা মানত করে রাখবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত পাবেন। কেননা, যেখানে রহমত থাকে, সেখানে গজব আসতে পারে না। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের এই নির্দেশনা যারাই মেনে চলবে, ইনশাল্লাহ্ তারাই আল্লাহর রহমত লাভ করবেন। আল্লাহর মহান বন্ধু সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান আশেকে রাসুলদের তরিকার বিধান যেমন মেনে চলতে বলেছেন, সেই সাথে তিনি বিত্তশালী ভক্তদেরকে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান নিজ তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী সর্বস্তরের অসহায় বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করেছেন। তাঁর নির্দেশে সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের সাহেবজাদাগণ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক মানবিক ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। ফলে বিপদগ্রস্ত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের এই মানব প্রেম সত্যিই এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। মানব দরদী সূফী সম্রাটের আদর্শ ও নির্দেশনা মেনে চললে আমরা আল্লাহর রহমত লাভ করে ধন্য হবো, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

4 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here