সূফী সম্রাটের শিক্ষাই আল্লাহর নৈকট্য লাভের শিক্ষা

1
440

সূফী সম্রাটের শিক্ষাই আল্লাহর নৈকট্য লাভের শিক্ষা
এস এ সুলতান

সৃষ্টির আদি হতে অদ্যাবধি স্রষ্টার সাথে মানুষের যোগাযোগের পদ্ধতি রয়েছে। যেমন করে আদি পিতা হযরত আদম (আ.) মহান আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, ঠিক তেমনি বর্তমান যুগের মানুষের পক্ষেও তা সম্ভব এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আর এ সম্পর্কে এ যুগের মহান ইমাম মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) তাঁর বাণী মোবারক এবং পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে রচিত বিভিন্ন কিতাবে বিশদ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “একটি নিকৃষ্ট কুকুর যদি তার মালিককে চিনতে পারে ‘তবে সৃষ্টির সেরা মানুষ কেন মহান প্রভুর সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না।” বস্তুত মানুষ যদি তার সৃষ্টিকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারে তবে সে নিজের ইচ্ছাধীন স্বেচ্ছাচারী জীবন অতিবাহিত করার ফলে ব্যক্তি, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনে চরম অশান্তি বয়ে আনে। আমরা যদি সমাজের দিকে তাকাই তবে দেখতে পাব জগতময় কত অশান্তি। মানুষে মানুষে মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি। হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মানুষ অবলীলায় আরেকজন মানুষের ক্ষতি সাধন করে, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করে। এতো গেল সাধারণ মানুষের কথা, আর যারা শুধুমাত্র পুঁথিগত জ্ঞানকে পুঁজিকরে ধর্মের কাণ্ডারি সেজে বসে আছে, তারা সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে আপন স্বার্থ সিদ্ধিতে ব্যস্ত। যাদের ভ্রান্ত দিকনির্দেশনায় সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা, দ্বিধাগ্রস্ত; ফলে তারা সহজ সরল সুন্দর পথ আজ খুঁজে পাচ্ছে না।


কিন্তু এমন অবস্থার জন্য সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হয়নি। মহান আল্লাহ যখন মানুষ সৃষ্টির অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন তখন ফেরেস্তারা বললেন- হে দয়াময়! আপনি কি এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করতে চান, যারা সর্বদা মারামারি কাটাকাটি করে ফেতনায় লিপ্ত থাকবে; তখন মহান প্রভু বললেন- আমি যা জানি, তোমরা তা জান না। নিশ্চয় আমি জগতে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করব। মানুষ মহান আল্লাহর প্রতিনিধির মর্যাদা পাবে, এ লক্ষ্যে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন মানুষ সৃষ্টি করেছেন। এখন এ কথাটি বিচার্য, যে মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার কথা, সে কি তার প্রভুর সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না? যদি যোগাযোগ করতে না পারে, তবে তার মালিকের ইচ্ছা কীভাবে বাস্তবায়ন করবে? কোন কাজে মালিক রাজি-খুশি, কোন কাজে মালিক অখুশি সে তা বুঝবে কীভাবে? আর সে যদি তা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে নিশ্চিতভাবে সে তার মালিকের ইচ্ছার পরিপন্থি কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে এবং সে নিজে স্বেচ্ছাচারী হয়ে জগত সংসারে অশান্তির বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিবে। সমস্যা হচ্ছে সমাজে কিতাবধারী আলেমরা ধর্মের কাণ্ডারি সেজে বসে আছে, তারা কখনও সৃষ্টিকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি এবং স্বীয় স্বার্থ হাসিল করার জন্য তারা বলে থাকেন জীবিতাবস্থায় আল্লাহর সাথে যোগাযোগ সম্ভব নয় এবং কেবলমাত্র মৃত্যুর পরই মানুষ আল্লাহর সাক্ষাত পাবে। এ বদ্ধমূল ভ্রান্ত ধারণার কারণে সরলমনা মানুষ সৃষ্টিকর্তার সাক্ষাত ও যোগাযোগের রাস্তা ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র পরকালের আশায় সওয়াব হাসিলে ব্যস্ত এবং তাদের স্বার্থান্বেষী ধর্মগুরুরা মানুষের এই উদাসিনতার সুযোগ নিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।


পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামের মধ্যে এই ভ্রান্ত ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্যই জগতময় ইসলামের তথাকথিত পণ্ডিতদের নিরন্তর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তারা বলে বেড়ায় হজরত মুসা (আ.)-ই আল্লাহর সাক্ষাত পায়নি, আর সাধারণ মানুষ তা কী করে পাবে? তারা বলে আমাদের নবি হযরত রাসুল (সা.) আল্লাহর সাথে যোগাযোগের জন্য হযরত জিব্রাইল (আ.)-এর শরণাপন্ন হতেন। মূলত তাদের কোনো ধারণা নাই যে, আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা যায়। তাই তাদের এই প্রলাপ বাক্যগুলো অসাড় ভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ এবং কুরআন ও হাদিস বিরোধী। তারা নিজেরা কখনও আল্লাহর সাথে যোগাযোগের চিন্তা করেনি, কিন্তু তারা অবলীলায় বলে বেড়ায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত ও যোগাযোগ অসম্ভব। মূলত তারা সঠিক পথে নেই। আমি যে কাজটা করতে পারিনি কী করে বলি তা অন্য কারো পক্ষে করা সম্ভব। যে জানে, আর যে জানে না, দুজন কখনোই সমান নয়। কথায় আছে যার কাজ তারই সাজে, অন্য লোকের লাঠি বাজে।
এমতবস্থায় মহান রাব্বুল আলামিন বিংশ শতাব্দীতে এমন এক জ্যোতির্ময় প্রতিশ্রুত মহামানবকে প্রেরণ করেছেন। যিনি আবহমান কালের বদ্ধমূল ভ্রান্ত ধারণাকে সমূলে উৎপাটন করেছেন এবং পবিত্র কুরআন ও সহি হাদিস দ্বারা প্রমাণ করেছেন জগতে থাকতেই আল্লাহর সাক্ষাত সম্ভব, যোগাযোগ সম্ভব, আল্লাহর সাথে কথা বলাও সম্ভব। তিনি আল্লাহর স্বরূপ পরিষ্কারভাবে জগতের মাঝে প্রকাশ করেছেন, যা ইতঃপূর্বে কেউই এত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেননি। এই সর্বশ্রেষ্ঠ অলি-আল্লাহ্ হচ্ছেন আমাদের মহান মোর্শেদ এ যুগের মহান ইমাম, মোহাম্মদী ইসলামের পুনর্জীবনদানকারী সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (রহ.) হুজুর কেবলাজান। তিনি আবহমান কালের বদ্ধমূল ভ্রান্ত ধারণাকে তাঁর বলিষ্ঠ প্রচেষ্টায় চুরমার করে দিয়ে প্রকৃত সত্য
সুনিপুণভাবে জগদ্বাসীর কছে তুলে ধরেছেন। যার ফলশ্রুতিতে মানুষ আজ জানতে পারছে যে, আল্লাহ্ নিরাকার নন, তাঁর নুরের আকার আছে।

তাঁর আকার মানুষের অনুরূপ অর্থাৎ তিনি নিজরূপে তাঁর প্রতিনিধি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তবে তিনি নুরের, আর মানুষ রক্ত মাংসের দেহের অধিকারী। সূফী সম্রাট হুজুর কেব্লাজান প্রণীত ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী’ অমূল্য তাফসির কিতাবে পবিত্র কুরআনের আয়াত ও সহি হাদিস দ্বারা প্রমাণ করেছেন অতীতে সকল নবি-রাসুল এবং অলী-আল্লাহ্গণ আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতে পারতেন এবং বর্তমানেও তা করা সম্ভব এবং আল্লাহর সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ধর্ম-কর্ম সঠিকভাবে করা সম্ভব। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের মহান আল্লাহ্ বলেন: “মুমিনগণ বিশ্বাস করে তারা (দুনিয়াতে) তাদের প্রতিপালকের দিদার লাভ করবে এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন করবে।” (২:৪৬) (সূরা বাকারাহ ২: আয়াত ৪৬)
অর্থাৎ যারা বিশ্বাস করে যে, তারা দুনিয়াতে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, তারাই প্রকৃত মু’মিন এবং তাদের জন্য ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা কঠিন নয়। আল্লাহ্্্ বলেন, “আল্লাহ্্ মোমিনের অভিবাবক।” (জবভ দিতে হবে)


আল্লাহ পবিত্র কুরআনে আরো বলেন, “হে রাসুল (সা.) আপনি মুমিনদের সুসংবাদ দিন যে, জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমরা (এ দুনিয়াতে) আল্লাহর দিদার লাভ করবে”। (সূরা বাকারাহ ২: আয়াত ২২)
আল্লাহ্ বলেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহর দিদার লাভের আশা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে।” (সূরা কাহাফ ১৮: আয়াত ১১৩)
আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে আরও এরশাদ করেন, “হে রাসুল (সা.) আপনি মানব জাতিকে বলে দিন সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি অতিশীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন বা চেহারা মোবারক দেখাবেন। তখন তোমরা তাঁকে চিনতে পারবে।” (জবভ দিতে হবে)
আল্লাহ্্ আরো বলেন, “আমি তোমাদের মাঝে বিরাজ করি, তোমরা কি আমাকে দেখ না।” উল্লিখিত আয়াত ছাড়াও আরও অনেক আয়াত পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে, যা দ্বারা মহান রাব্বুল আলামিন মানুষকে তার সাথে যোগাযোগের আহ্বান করেছেন এবং তাঁর দিদার লাভ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ শুধু দিদারই দেননি, তিনি সরাসরি মানুষের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের পরিচালিত করেছেন। তিনি প্রত্যক্ষভাবে কথা বলেছেন হযরত রাসুল (সা.)-সহ সকল নবি ও রাসুলগণের সাথে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে- “আর তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের বলছেন যে, তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা করো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব।” অন্যত্র আল্লাহ্ বলেন, “তোমরা আমাকে স্মরণ করো আমিও তোমাদের স্মরণ করব।” সুতরাং এ সমস্ত আয়াত প্রমাণ করে আল্লাহ্ মানুষকে দিদার দিয়ে কথা বলতে ব্যাকুল, কিন্তু জ্ঞানের স্বল্পতায় মানুষ মনে করে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ, আল্লাহরসাথে সাক্ষাত, আল্লাহর সাথে কথা বলা ও আল্লাহর কথা শোনা অসম্ভব। তাই মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে সতর্কতামুলক আয়াত নাজিল করেছেন, “ঐ সকল মানুষ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়, যারা আল্লাহর নিদর্শন (মুজিজা) এবং (দুনিয়াতে) তাঁর দিদার লাভের প্রত্যাশা করে না। এরাই তারা, এদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সুরা আল আনকাবুত ২৯: আয়াত ২৩) বস্তুত যারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায় না, আল্লাহর দিদার লাভ করতে চায় না, আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করে ধর্ম পালন করতে চায় না, মূলত তারাই দুনিয়াতে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ লাভ অস্বীকার করে। কিতাবধারী আলেমরাও তাদের বলে বেড়ায় দুনিয়াতে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা যায় না, দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষাত সম্ভব নয়। এরা সাধারণ মানুষের ইমান নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তারা ভ্রান্ত ধারণা ও আকিদা দ্বারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে পথভ্রষ্ট করে দিচ্ছে।


অন্য দিকে আমাদের মহান মোর্শেদ, এ যুগের ইমাম সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান অহর্নিশি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে, মানুষ কীভাবে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করবে এবং আল্লাহর প্রতিনিধির মর্যাদা লাভ করে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী নিজেদের জীবন অতিবাহিত করবে। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী বলেন, “আল্লাহকে দেখলে যদি ইমান চলে যায়, তবে শয়তানকে দেখলে কি মানুষ ইমানদার হবে?” মানুষের এই ভ্রান্ত ধারণা তিনি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে, তা দূর করে দিচ্ছেন এবং অজ্ঞ ধর্মগুরুদের মুখোশ খুলে দিয়ে মানুষকে সত্য ও সরল পথ তথা মুস্তাকিমের দিকে আহ্বান করছেন। তিনি বরাবরই বলে থাকেন- সধর্মীদের অজ্ঞতা ও বিধর্মীদের চক্রান্তের কারণে মুসলিম জাতি প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। যার প্রতিফলন জগৎব্যাপি সুস্পষ্ট, সারা পৃথিবীতে মুসলমান আজ নির্যাতিত। ভ্রান্ত মূল্যবোধের কারণে মুসলিম জাতি আজ পর্যুদস্ত। কিন্তু একদল মুক্তির কাণ্ডারিকে চিনতে না পেরে, এই মহামানবের শান-মান মর্যাদা বুঝতে না পেরে, ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্ররোচনায় অবিবেচকের মতো সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের বিরোধিতা করে তাঁর নামে মিথ্যাচার করে। এরা একবারও চিন্তা করে না যে, জগৎশ্রেষ্ঠ এই মহামানব আমাদের কী অমূল্য নিয়ামত প্রদান করছেন এবং কী অমূল্য সম্পদ রেখে যাচ্ছেন। আমরা যত দ্রুত এই মহামানবকে চিনতে ও বুঝতে পারব, তত দ্রুত আমরা আমাদের পরিত্রাণের রাস্তা খুঁজে পাব।


পরিশেষে বলা যায়, সূফী সম্রাটের শিক্ষা আল্লাহর নৈকট্য লাভের শিক্ষা, আল্লাহর সাক্ষাত লাভের শিক্ষা, আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করার শিক্ষা। আল্লাহর কথা শুনে ও বুঝে জীবন অতিবাহিত করার শিক্ষা। মহান আল্লাহ্ আমাদেরকে সকল প্ররোচনা ম্ক্তু হয়ে ও সকল ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়ে এ মহামানবের সত্য সুমহান আদর্শে আমাদের জীবন পরিচালিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here