সূফী সম্রাটের সংস্কার: বিশ্বে একই দিনে ঈদ-সহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের পথে

0
266
সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান ।

ড. সৈয়দ মেহেদী হাসান

বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল এবং সেই অনুযায়ী ইসলামে চান্দ্রবর্ষ পঞ্জিকা ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চান্দ্রবর্ষ পঞ্জিকা ব্যবহারের গুরত্ব যুগের ইমাম মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজান আজ থেকে ৪০ বছর পূর্বেই মুসলিম উম্মাহর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি পবিত্র কুরআন, হাদিস এবং বৈজ্ঞানিক যৌক্তিক ও নির্ভুল প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্বে একই দিনে ঈদ-সহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার জন্য চান্দ্রবর্ষ পঞ্জিকা আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ওআইসির মাধমে উপস্থাপন করা হয়। ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)-এর সদস্যভুক্ত মুসলিম বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেব্লাজানের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের ভুয়সী প্রশংসা করে তারা সারা বিশ্বে ঈদসহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান একই তারিখে পালনের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ২১ অক্টোবর হতে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)-এর আংকারা ভিত্তিক “অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ও সামাজিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” (Statistical Economic And Social Research & Training Center)-এর উদ্যোগে ১৫তম বিনিয়োগ বিশ্লেষণ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা” (15th Seminar on Investment Analysis And Economic Management) শীর্ষক এ সেমিনার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে অনুষ্ঠিত হয়। পাঞ্জাবের গভর্নর জেনারেল এস খান সেমিনারের উদ্বোধনী ভাষণে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতির উপর গুরুত্বারোপ করে সমস্ত মত পার্থক্য ভুল গিয়ে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার আহ্বান জানান। এ সেমিনারে বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. ফিরোজ আই ফারুকীসহ চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল যোগদান করেন। এছাড়াও পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, তুরস্ক, তাজাকিস্তান, আজারবাইজান, মরক্কো, নাইজেরিয়া, মিশর, আবুধাবি, বাহরাইন, ওমান, কাতার তানজানিয়া, লিবিয়া, সিরিয়া, আলজেরিয়া, মৌরীতানিয়া, আফগানিস্তানসহ পঞ্চাশটি মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতিনিধিবৃন্দ সেমিনারে যোগদান করেন।

প্রফেসর ড. ফারুকী সেমিনারে বলেন, এ যুগের মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান হযরত ওমর (রা.)-এর পঞ্জিকা অনুসরণের অষ্টবর্ষ চক্র চান্দ্র পঞ্জিকার উদ্ভাবন করেছেন। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব যদি এ পঞ্জিকার অনুসরণ করে তবে আমাদের চান্দ্র বর্ষ গণনার বিভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে। এ কথা বলে তিনি সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের অষ্টবর্ষ চক্র চান্দ্র পঞ্জিকার গণনা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর বর্ণনা শুনে সবাই বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়েন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। ড. ফারুকী মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পারস্পারিক ঐক্য, সংহতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আবেদন জানান।

প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীগণ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ একটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচির মধ্যে পালন করে থাকে। তেমনি ইসলাম ধর্মেও ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ নির্দিষ্ট তারিখে পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সঠিক সময়ে অনুষ্ঠানাদি পালন না করতে পারলে এর ফল লাভ করা কি সম্ভব? এমনকি কখনো কখনো হারাম হয়ে থাকে। যেমন- ইসলাম ধর্ম মতে শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে। কোথাও শনিবার কিংবা সপ্তাহের অন্যান্য দিন জুমার নামাজ পড়ার হুকুম নেই। তাই আমরা যদি সঠিক তারিখ না জেনে ইবাদত বন্দেগি করি, তবে তা নিস্ফল হবে এবং তাতে পূণ্যের আশা করা অনর্থক হবে।

ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, একই ধর্মানুষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন দেশে এমনকি একই দেশে সময়সূচির পার্থক্যের নানারূপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ প্রতিবছরই দেখা যায় যে, ঈদুল ফিতরের দিনে অনেকে রোজা রাখে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে দিন তারিখ সম্পর্কে সর্বসম্মত চান্দ্র মাস গণনার অভাব। কিন্তু দুঃখের বিষয় ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা (Complete Code of life) হলেও মুসলমানরা আজ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এমতাবস্থায় বাঙালি জাতির মহাসম্পদ যুগের ইমাম মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজানের একটি অষ্টবর্ষ পঞ্জিকা অনুসরণের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ সারাবিশ্বে একই তারিখে হওয়ার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে প্রায়শই মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে মুসলমানগণ। কারণ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবগুলোর তারিখ নির্ধারিত হয় নতুন চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। মুসলমানরা যে হিজরি সন ব্যবহার করে, তা চন্দ্রবর্ষপঞ্জী নির্ভর। কিন্তু আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের মাধ্যমে কোনো দেশে কখন নতুন চাঁদ দেখা যাবে তা বহু আগে থেকেই হিসেব করে বলে দেওয়া সম্ভব।

বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের একজন নামকরা পদার্থবিজ্ঞানী এবং ইসলাম ও বিজ্ঞান বিষয়ক বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক ড. শমসের আলীর সঙ্গে। তার মত হচ্ছে, ধর্মীয় উৎসবের তারিখ নির্ধারণের জন্য ইসলামে যে বিধান আছে, তার সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো বিরোধ নেই। কাজেই আধুনিক জ্যোর্তিবিজ্ঞান প্রয়োগ করে খুব সহজেই বলে দেওয়া সম্ভব কখন হিজরি সনের নতুন চান্দ্র মাস শুরু হচ্ছে। ফলে সারা বিশ্বের মুসলমানরা চাইলে একই দিনেই পালন করতে পারেন তাদের ধর্মীয় উৎসব, এ নিয়ে এত বিভ্রান্তি বা সংশয় থাকে না।

ড. শমসের আলী বলছেন, তারিখ নির্ধারণ নিয়ে এক সময় যে বিতর্ক হতো, তার একটা যুক্তি ছিল। কারণ তখন চাঁদ খালি চোখেই দেখতে হতো। কোন পাহাড়ের এক দিক থেকে চাঁদ দেখা যেত, অন্যদিক থেকে দেখা যেত না। মুসলমানদের যে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, সেগুলো ছিল বিচ্ছিন্ন, যোগাযোগ এত তড়িৎ এবং ঘনিষ্ঠ ছিল না। কিন্তু এখন এসব অজুহাত দেয়ার আর সুযোগ নেই।

“পৃথিবী তো একটাই। চাঁদও একটি। প্রতি মাসেই চাঁদ ওঠে। কোথাও চাঁদ দেখা যাওয়ার মানে হচ্ছে সেই চন্দ্র মাস শুরু হয়ে গেল। পুরো বিশ্ব এখন তাৎক্ষণিক এবং ব্যাপক যোগাযোগের আওতায়। কাজেই এখন কোনো একটি জায়গায় চাঁদ দেখা যাওয়ার পর একই দিনে উৎসব না করার বিরুদ্ধে কোনো ওজর আপত্তি থাকতে পারে না।”

ড. শমসের আলী বলেন, বিশ্বের নামকরা সব ধর্মীয় পন্ডিতরা পরামর্শ করে ঠিক করেছিলেন একটা দেশে চাঁদ দেখা গেলে, অন্যদেশেও সেটা মানা হবে। সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজনের প্রণিত চান্দ্রবর্ষ পঞ্জিকার অনুসরণে ওআইসির এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের অনেক দেশই গ্রহণ করেছে, কিন্তু বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো শুধু মেনে নিচ্ছে না।

তিনি বলেন, ওআইসির সদস্য হিসেবে, অন্য কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে, সেটিকে আমরা দেখা গেছে বলে গণ্য করবো। এই সিদ্ধান্ত নিলেই কিন্তু আর সমস্যা থাকে না।”

ড. শমসের আলী বলেন, ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের শুরুটা ধর্মীয়, কিন্তু গণনার পদ্ধতি তো বৈজ্ঞানিক। চাঁদ ওঠা, সূর্য ওঠা, এগুলো তো বৈজ্ঞানিক। বাংলাদেশ এখন কক্ষপথে স্যাটেলাইট ছেড়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের বেশ আগ্রহ। তাহলে কেন আমরা এটা মেনে নেব না।”

২০১৬ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়েছিল তুরস্কের উদ্যোগে। সেখানে তুরস্ক, কাতার, জর্ডান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরোক্কো-সহ ৫০টি দেশের ধর্মীয় পন্ডিত এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। ইন্টারন্যাশনাল হিজরি ক্যালেন্ডার ইউনিয়ন কংগ্রেস নামে পরিচিত এই সম্মেলনে হিজরি ক্যালেন্ডার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের মধ্যে যে বিভক্তি সেটা নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সম্মেলনে দুটি প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল। প্রথমত সারা বিশ্বের জন্য দ্বৈত বর্ষপঞ্জী চালু করা, পূর্ব গোলার্ধের জন্য একটি, আর পশ্চিম গোলার্ধের জন্য একটি। আর দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল, সবাইকে একটি বর্ষপঞ্জীর মধ্যে নিয়ে আসা। শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞ একটি বর্ষপঞ্জীর পক্ষেই মত দেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্সি অব রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের সেসময়ের প্রেসিডেন্ট মেহমেট গোরমেজ তখন একটি তুর্কী সংবাদপত্র ডেইলি সাবাহ’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নতুন বর্ষপঞ্জী মেনে নিতে কিছু দেশ হয়তো অসুবিধায় পড়বে, কিন্তু এটি যাতে বিশ্বজুড়ে গৃহীত হয় সে ব্যাপারে ওআইসি তাদের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে।

মিস্টার গোরমেজ আরও বলেন, “বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্পর্কে ইসলামী দুনিয়ায় এক ধরনের ভুল ধারণা আছে। আজকের যুগে, যখন মানুষ চাঁদে যেতে পারে এবং চাঁদ-সূর্যের প্রতি মূহুর্তের গতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে, তখন পাহাড় বেয়ে উঠে খালি চোখে চাঁদ দেখতে হবে বলে গোঁ ধরে থাকাটা ভুল।”

১৯৮৬ সালে স্থায়ী সদস্যভুক্ত দেশগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ উঠলেই স্থানীয় সময় অনুযায়ী একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় ওআইসি। সংস্থাটির সদস্যভুক্ত বেশিরভাগ দেশ সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলেও বাংলাদেশ তা মানতে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে দাবি হিজরি ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. শমশের আলীর।

তিনি জানান, এই দাবি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে একাধিকবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-ও দাবির বিপক্ষের আলেম সমাজের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনো সমাধান দিচ্ছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ড. শমশের আলী বলেন, আমরা যে যুক্তিতর্ক দিলাম, তার একটি সারমর্ম ভিডিওসহ প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো হবে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সভার সভাপতি ছিলেন, তিনি পাঠাবেন বলেছিলেন। কিন্তু তিনি দেননি।

তবে সদ্য প্রয়াত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি খুবই বিতর্কিত দাবি করে বলেন, এটি বাস্তবায়ন করতে গেলে দেশের বেশিরভাগ মানুষ তা মানবেন না।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টা এতই বিতর্কিত যে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগই মানবে না। তাছাড়া বেশিরভাগ আলেম ওলামাদের মতবিরোধী। তাদের কাছে এটার ভিত্তি নেই।

এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি পাকিস্তানেও ঈদ ও রোজার তারিখ নির্ধারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

গত ২০ জুলাই সময় টিভিতে ‘এবার বিশ্বজুড়ে কোরবানি একই দিনে হতে পারে’ প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণের ভিত্তিতে সারাবিশ্বে একই দিনে কোরবানি ঈদ হওয়ার কথা বলেছেন বৈজ্ঞানিকগণ।

গত ২১ জুলাই মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের আকাশ থেকেও জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ স্পষ্ট দেখা যাবে এমনটাই বলছেন জোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষকগণ। চাঁদের অবস্থান জানানো ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, বিশ্বের সব মুসলিম দেশে একই দিনে রোজা শুরু বা ঈদ পালন নিয়ে বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে যে বিতর্ক চলছে, এবার সুযোগ হয়েছে তার অবসান হওয়ার। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আবেগ অনুভূতির বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

নাসা থেকে তথ্য নিয়ে প্রকাশিত চাঁদের অবস্থান জানানো ওয়েবসাইট মুন সাইটিং ডটকম বলছে, জুলাইয়ের ২০ তারিখ বিশ্বের কোনো জায়গা থেকেই জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাবে না। তবে ২১ জুলাই বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ থেকেই তা স্পষ্ট দেখা যাবে।

মুন সাইটিং ডটকম বলছে, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম দিকের দেশগুলো চাঁদ দেখবে খালি চোখেই। এছাড়া আকাশ পরিস্কার থাকলে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশ থেকেও স্পষ্ট চাঁদ দেখা যাবে।

সাইটটির তথ্য বিশ্লেষণ করে পরমাণু ও জোতির্বিজ্ঞানিরা বলছেন, ২১ জুলাই বাংলাদেশে যখন ২৮০ ডিগ্রি এঙ্গেলে সূর্য অস্ত যাবে, ঠিক একই সময় তার ১৩ ডিগ্রি উত্তরে অর্থাৎ ২৯৩ ডিগ্রি এঙ্গেলে পশ্চিম আকাশে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাবে। নতুন চাঁদটি বাংলাদেশের আকাশে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হবে বলেও জানাচ্ছেন তারা।

জোতির্বিজ্ঞানী ও গবেষক এয়ার কমডোর ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছর চাঁদের যে অবস্থান থাকে, চাঁদের বয়স থাকে; সেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ বছর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যাবে। কিন্তু কিছু আলেম মনে করে, সৌদি আরবের পরের দিন বাংলাদেশ ঈদ। এটা ভুল। কোনো দলিলে এর প্রমাণ যায় না। এই বৈজ্ঞানিক চার্ট অনুযায়ী ৩০ জুলাই হজের দিন। আর ৩১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আজহা।

পরমাণু বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ এম শমশের আলী বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছি, গত ৩০ বছর ধরে নাসার যে প্রেডিকশন আছে, তার ভিত্তিতে মুন সাইটিং ডট কমেও সেখানে চাঁদ দেখা দিয়েছে। চাঁদ উঠে গেলে আর বাকি কি থাকে?

তারা বলছেন, এর ফলে একই দিন রোজা শুরু ও ঈদ পালন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হবে। চাঁদ দেখা কমিটির অনেকে বিজ্ঞান মানতে চান না বলে রাষ্ট্র এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না বলেও দাবি তাদের।

ধর্ম সচিব বলছেন, ওআইসির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা অবগত নন। এছাড়া মঙ্গলবার বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই তারিখের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান তিনি।

হিজরি ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন পরিষদের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ১৯৫টির মধ্যে ১৮৯টি দেশই এ বছর একই তারিখে রোজা শুরু ও ঈদুল ফিতর পালন করেছে। একইভাবে ওআইসির সদস্যভুক্ত ৫৭টির মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া বাকি ৫৬ দেশই একই দিন রোজা ও ঈদ পালন করেছে।

উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এটাই প্রতীয়মান হয় যে, আজ থেকে ৪০ বছর পূর্বে যুগের ইমাম মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজান ঈদ-সহ মুসলমানদের যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সারা বিশ্বে একই তারিখে পালন করা সম্ভব। তাই সেই দিন আর বেশি দূরে নয় সূফী সম্রাট হুজুর কেবলাজানের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারটি বাস্তবায়ন হতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here