সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগীর সহবতে আল্লাহ্ ও রাসুল (সা.)-এর সন্ধান পাওয়া যায়

6
633
সূফী সম্রাট হযরত মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মাঃ আঃ) হুজুর কেবলাজান ।

আশেকে রাসুল এম. মুহিউদ্দীন খান ফারুকী
মহান রাব্বুল আলামিনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, সকল নবি ও রাসুলের ইমাম, রাহমাতুল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ্ বলেছেন- ‘‘আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারা আমার এতো নিকটবর্তী হয়ে যায় যে, আমি তাকে ভালোবাসতে বাসতে তার কর্ণ হয়ে যাই, যে কর্ণ দ্বারা সে শুনে; চক্ষু হয়ে যাই, যে চক্ষু দ্বারা সে দেখে; হাত হয়ে যাই, যে হাত দ্বারা সে ধরে এবং পা হয়ে যাই, যে পা দ্বারা সে হাটে। এমন বান্দা কোনো বিষয়ে প্রার্থনা করা মাত্র আমি তা দান করে থাকি এবং কোনো বিষয়ে আমার কাছে আশ্রয় চাওয়া মাত্র তাকে আশ্রয় দিয়ে থাকি।’’ (তাফসীরে মাজহারী- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৫৮; মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক- ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ১৯৮; বোখারী শরীফের সূত্রে মেশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা-১৯৭)

মহান রাব্বুল আলামিনের এ বাণীর বাস্তবতা নবি, রাসুল ও আওরিয়ায়ে কেরাম দেখিয়ে গেছেন। এ সকল মহামানব মহান আল্লাহর সাথে ফানা হয়ে নুরের সত্তা নুরের আলো দ্বারা পরিপূর্ণরূপে আলোকিত থেকে খলিফা বা আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এ সকল মহামানবের মাধ্যমে মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, করণীয়-বর্জনীয় তথা শান্তি ও মুক্তির পথ নির্দেশনা প্রকাশ পেয়েছে। মূলে আল্লাহর মনোনীত এ সকল মহামানবের মাধ্যমে নুরময় সত্তা মহান আল্লাহর নুরের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটেছে। উপমাস্বরূপ বলা যায়, বিদ্যুতের আলো দানকারী বাল্ব, এ বাল্বের সৃষ্টিই হয়ে আলো দানের জন্য। ফলে জন্ম থেকেই এ বাল্বের মাধ্যমে কেবল আলোই প্রকাশ পায়। এ জন্য জ্বালানো বাতির দিকে তাকালে শুধু আলো আর আলোই দেখা যায়, এখানে কোনো অন্ধকারের কল্পনাও করা যায় না। মহান আল্লাহ নিজেই বলেন- ‘‘আল্লাহ্ আসমান ও জমিনের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির দৃষ্টান্ত যেন একটি তাক, তাতে আছে একটি প্রদীপ, সেই প্রদীপটি একটি কাঁচের ফানুসের মধ্যে রয়েছে, কাঁচের ফানুসটি যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, সেই প্রদীপ জ্বালানো হয় পূত-পবিত্র জয়তুন বৃক্ষের তৈল দিয়ে, যা পূর্বমুখীও নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়; অগ্নি তা স্পর্শ না করলেও যেন তার তেল নিজেই উজ্জ্বল আলো দিচ্ছে; জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ্ যাকে চান নিজের জ্যোতির দিকে হিদায়েত দান করেন। আল্লাহ্ মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন।’’ (সূরা আন নুর ২৪ : আয়াত ৩৫) অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে দুররে মানছুরের ১৮নং খণ্ডের ১৯৮ পৃষ্ঠায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন- ‘‘অত্র আয়াতে তাক বা প্রদীপদানী বলতে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর বক্ষদেশের কথা বলা হয়েছে, আর কাঁচের ফানুস বলতে রাসুল (সা.)-এর বক্ষদেশের ক্বালব মোবারকের সাতটি স্তরের কথা বলা হয়েছে। আর প্রদীপ বলতে নুরময় সত্তা আল্লাহর ঐ নুরের কথা বলা হয়েছে, যে নুর হযরত রাসুল (সা.)-এর ক্বালবের সপ্তম স্তর নাফসির মোকামে প্রজ্বলিত রয়েছে।’’ এমনিভাবে হযরত রাসুল (সা.)-এর ক্বালবে প্রজ্বলিত ঐ প্রদীপ আল্লাহর প্রেমের ফায়েজে নিজেই উজ্জ্বল আলো দিচ্ছে। এটি পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ তথা পৃথিবীর কোনো তৈল নয় বরং এটি আল্লাহর প্রেমের ফায়েজ নামক তৈল। এ জন্য আল্লাহর রাসুল (সা.) আরো এরশাদ করেন- ‘‘মু’মিনের হৃদয় আল্লাহর আরশ।’’ (তথ্যসূত্র : তাফসীরে ইবনে আরাবী- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৯) এমনিভাবে আল্লাহর রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ বলেন- ‘‘আমার জমিন আমাকে ধারণ করতে পারে না, আমার আসমানও আমাকে ধারণ করতে পারে না। কেবল আমার মু’মিন বান্দার ক্বালব আমাকে ধারণ করে থাকে।’’ (তথ্যসূত্র : তাফসীরে মাজহারী-৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬০)

মহান সংস্কারক সূফী সম্রাট হযরত সৈয়দ মাহ্বুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী (মা. আ.) হুজুর কেবলাজান নবুয়ত ও বেলায়েতের এ চিরন্তন ধারাবাহিকতায় আল্লাহর আরশরূপী মহামানব। তিনি নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বন্ধু। আল্লাহর আলো দ্বারা আলাকিত অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত জগৎশ্রেষ্ঠ মহামানব। এ মহামানবের হৃদয়ে মহান আল্লাহ্ বিরাজিত এবং প্রকাশিত। উপমাস্বরূপ বলা যায়, গ্যাসের খনি, মাটির নিচে শত শত মাইল জুড়ে এ অবস্থান থাকলেও এ গ্যাসকে যে নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে উত্তোলন করা হয়, এ গ্যাসে যেমন ঐ স্থানের নামেই পরিচিত হয়, তেমনি যে কাউকে গ্যাস পেতে হলে গ্যাসের মূল উৎস ঐ জায়গা থেকেই পেতে হবে। ঠিক তদ্রূপ, নুরময় সত্তা আল্লাহ্ পৃথিবীর সকল মানুষের অন্তরের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জগতে বিরাজমান থাকলেও তিনি প্রেরিত মহামানবদের অন্তরে যেমন বিরাজিত, তেমনি তাদের মাধ্যমে প্রকাশিত। এরই ধারাবাহিকতায় যুগের ইমাম বাবা দেওয়ানবাগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ নিজেকে প্রকাশ করেছেন।

সূফী সম্রাট আল্লাহ্ ও রাসুল (সা.)-এর পরিচয় দানকারী মহামানব
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ নিজের পরিচয় যেমন দিয়েছেন, তেমনি তাঁর পরিচয় জেনে তাঁকে কিভাবে পেতে হবে, তিনি দয়া করে সে পথও বাতলে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ্ বলেন- “তিনি এমন সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে আসমান, জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত সবকিছু, তারপর তিনি সমাসীন হন আরশে। তিনিই পরম দয়ালু আল্লাহ্, তাঁর সম্পর্কে জানতে হলে এবং তাঁকে লাভ করতে হলে যে খবর রাখে, তাঁকে জিজ্ঞেস করো।” (সূরা আল ফুরকান ২৫ : আয়াত ৫৯)

বর্তমান বিশ্বের সাতশ কোটি মানুষের জন্য এটি একটি মহা সুসংবাদ যে, সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান মহান আল্লাহর খবর নিয়ে বিশ্বের বুকে তশরিফ গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ্ দেখতে কেমন? মহান প্রভুর অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত রূপের যে বর্ণনা, তিনি কোথায় বিরাজ করেন, তাঁকে কিভাবে পাওয়া যায়- এ সমুদয় প্রশ্নের জবাব তিনি দিয়েছেন। পাশাপাশি মহান আল্লাহ্কে লাভ করার শিক্ষা তিনি প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন। সূফী সস্রাট দয়াল বাবাজান পাক জবানে ফরমান- “আমি আল্লাহ্কে দেখেছি। তিনি দয়া করে আমাকে বহুবার আমাকে তাঁর দিদার দিয়েছেন। আমি আল্লাহ্কে এমনভাবে চিনি, সন্তান যেমন তার পিতাকে চেনে। আল্লাহ্ দেখতে অবিকল মানুষের মতো। তবে তিনি মানুষের মতো রক্ত মাংসের দেহধারী নন, তিনি নুরের।”

জ্ঞানী মাত্রেই এ বিষয়ে একমত হবেন যে, উপরোক্ত এ বাণী তিনিই দিতে পারেন, যিনি সাধনার মাধ্যমে নিজের ক্বালবকে আরশুল্লায় পরিণত করে আল্লাহর আলো দ্বারা নিজেক পরিপূর্ণ আলোকিত করতে পেরেছেন। এমনিভাবে সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান বলেন- “আল্লাহ্কে পেতে হলে মোরাকাবার মাধ্যমে পেতে হয়। রাহমাতাল্লিল আলামিন হযরত রাসুল (সা.) সুদীর্ঘ ১৫ বছর হেরাগুহায় ধ্যানমগ্ন থেকে আল্লাহর পরিচয় লাভ করেছেন এবং আপন ক্বালবে ওহি পেয়েছেন।”

আসলে দুধের মধ্য থেকে মাখন বের করতে হলে একনিষ্ঠ সাধনার দ্বারা লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়। আর সেই কর্মপ্রেচেষ্টা দুধকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। তদ্রূপ, মহান আল্লাহ্ মানুষের ক্বালবের সপ্তম স্তর নাফসির মোকামে বিরাজ করেন; আল্লাহ্কে পেতে হলে মোর্শেদের দেখানো পথে একনিষ্ঠভাবে মোরাকাবার মাধ্যমে নিজের ক্বালবেই আল্লাহ্কে দেখতে হয়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্ বলেন- “হে মানুষ! আল্লাহ্কে না দেখা পর্যন্ত কঠোর সাধনা করো। অতঃপর তুমি আল্লাহর দর্শন বা দিদার পাবে।” (সূরা ইনশিকাক ৮৪: আয়াত ৬) আর পথের একমাত্র পথ নির্দেশক মোর্শেদ। কেননা কোনো মানুষ মোর্শেদ বিহনে একা একা সাধনা করে পুরো জীবন পার করে দিতে পারবে কিন্তু সে আল্লাহ্কে পাবে না। এজন্য মহান আল্লাহ্ নবুয়তের যুগে এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবি ও রাসুল প্রেরণ করেছেন। একইভাবে নবুয়ত পরবর্তী বেলায়েতের যুগে-যুগের ইমাম, মোজাদ্দেদ ও আওলিয়ায়ে কেরামকে প্রেরণ করে চলেছেন।

সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান বেলায়েতের যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। এজন্য বিশ্বমানবতার মহান মোর্শেদ যুগের ইমাম সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজান বেলায়েতের যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। এজন্য বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত মহান মোর্শেদ যুগের ইমাম সূফী সম্রাট দয়াল বাবাজানের মহান শিক্ষা আত্মস্থ করতে পারলে হৃদয়ের অন্ধকার দূর হয়ে যায় এবং ক্বালবের পরিশুদ্ধ পর্দায় মহান আল্লাহ্ ও হযরত রাসুল (সা.)-এর সন্ধান পাওয়া যায়।

6 COMMENTS

  1. ar sonjoydas আলহামদুলিল্লাহ্, কোটি কোটি শুকরিয়া ও কদম বুচি জানাই মহান মোর্শেদ বাবা দেওয়ানবাগীর পরশময় নূরের পবিত্র কদম মোবারক।

  2. আলহামদুলিল্লাহ সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুরের কাছে গেলে আল্লাহ্‌ ও রাসুলকে পাওয়া যায় । আল্লাহওয়ালার কাছে গেলে আল্লাহ্‌ পাওয়া যাবে এটাই স্বাভাবিক ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here